তমাল-রহস্য

আমাদের প্রাচীন সাহিত্যে একসময় তমালের ছিল উজ্জ্বল উপস্থিতি—রামায়ণ, মহাভারত থেকে কালিদাস, জয়দেব, শ্রীহর্ষ পর্যন্ত। তার কালো-সবুজ পাতা, সুগন্ধ, কালো রস আর রাধা-কৃষ্ণের লীলার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা স্মৃতি তমালকে করে তুলেছিল এক বিশেষ পবিত্র বৃক্ষ। অথচ আজ সেই তমালই ঘিরেই ঘনিয়ে উঠেছে এক রহস্য—কোন গাছ ছিল প্রাচীন সাহিত্যের সেই তমাল? সাহিত্য, সংস্কৃত অভিধান, প্রাচীন নিঘণ্টু ও উদ্ভিদবিদ্যার সূত্র মিলিয়ে সেই হারিয়ে-যাওয়া বৃক্ষের খোঁজ করেছে এই লেখা।

রাজেন্দ্রপ্রসাদ দেের প্রতিকৃতি
১২ মিনিট পড়া
শেয়ার করুন
সাহিত্য, সংস্কৃত অভিধান, প্রাচীন নিঘণ্টু ও উদ্ভিদবিদ্যার সূত্র মিলিয়ে হারিয়ে-যাওয়া তমাল বৃক্ষের খোঁজ করেছে এই লেখা।সংখ্যা ১
লেখার আকার
লেখার অবস্থান
সূচিপত্র
  1. (১) বনগাব (Diospyros montana Roxb. Syn. D. cordifolia Roxb. গোত্র: Ebenaceae)
  2. (২) দাম্পল (Garcinia xanthochymus Hook.f. ex T. Anderson Syn. Xanthochymus pictorius Roxb. গোত্র: Cluisaceae)
  3. (৩) কেন্দু (Diospyros exculpta Buch.-Ham. Syn. D. tomentosa Roxb. গোত্র Ebenaceae)
  4. (৪) গাবজাতীয় কোনো গাছ (Diospyros sp. গোত্র Ebenaceae)
  5. উৎসপঞ্জি
  6. বাংলা গ্রন্থ
  7. ইংরেজি গ্রন্থ

একটা সময় ছিল যখন সাহিত্যে তমালের ছড়াছড়ি। সম্ভবত রামায়ণ (আরণ্য ১৫|১৬; কিষ্কিন্ধ্যা ২৭|১৭, ৪০|৫৬, ৫০|২৫) থেকেই এর সূচনা। পঞ্চবটীতে গোদাবরী তীরে অরণ্যে যে বৃক্ষগুলি ছিল তার মধ্যে একটি তমাল। মহাভারতে তমাল একটি উদ্যান বৃক্ষ (আদি ২০০|৫৫)। এখনও তমাল নামটি জনমানসে জাগ্রত কিন্তু সেটা যে কী গাছ তাই স্মৃতি থেকে হারিয়ে গেছে। তমাল শব্দটা শুনলেই রঘুবংশের সেই বিখ্যাত শ্লোকটি মনে ভেসে আসে: “দুরাদয়শ্চক্রনিভস্য তন্বী তমাল-তালীবনরাজি-নীলা।/ আভাতি বেলা লবণাম্বুরাশের্ধারানিবদ্ধেব কলঙ্করেখা॥” (রঘুবংশম্‌ ১৩|১৫) অথবা মনে পড়ে: “মেঘৈর্মেদুরমম্বরম্‌ বনভূবঃ শ্যামাস্তমালদ্রুমৈর্নক্তম্‌।” (গীতগোবিন্দম্‌ ১|১)

তমাল একটি বিতর্কিত উদ্ভিদ। এটা কোন গাছকে বলা হত তা বিস্মৃতির অন্তরালে চলে গেছে। কোলব্রুক (১৮০৭) এই গাছটির কোনও পরিচয় দিতে পারেননি, শুধু বলেছেন, “A tree noted for the dark hue of its blossoms.”। পরবর্তী কালে বেশ কিছু গাছকে তমাল মনে করা হয়। এগুলি হল: (১) বনগাব। (২) দাম্পল। (৩) কেন্দু। (৪) গাবজাতীয় কোনো গাছ। (৫) তেজপাতা। (৬) বরুণ।

প্রথমেই বরুণকে বাদ দিতে হবে। ধন্বন্তরি-নিঘণ্টুতে বরুণেরও একটি নাম তমাল। রাজনিঘণ্টুতেও তাই। পরিচিত বরুণ হল Crateva adansonii subsp. odora (Buch. -Ham.) Jacobs গোত্র Capparaceae। Crateva-র অন্যান্য প্রজাতিকেও বরুণ বলা হয়। অমরকোষে এর সমনামগুলি হল কুমারক, বরণ, বরুণ, তিক্তশাক ও সেতু। সেখানে একে তমাল বলা হয়নি। ধন্বন্তরি-নিঘণ্টুতে অতিরিক্ত নামগুলি হল গন্ধবৃক্ষ, তমাল, মরুতাপহ, শ্বেতদ্রুম ও শ্বেতপুষ্প। রাজনিঘণ্টুতে আর একটি অতিরিক্ত নাম সাধুবৃক্ষ।

চিত্র ১: বরুণ
চিত্র ১: বরুণ
চিত্র ২: তেজপাতা
চিত্র ২: তেজপাতা

তেজপাতাকে এই তালিকা থেকে বাদ দিতে হবে, কারণ এরও সংস্কৃত নাম তমাল এবং এটি স্বীকৃত, অমরকোষে না থাকলেও অষ্টাঙ্গনিঘণ্টু, মদনপাল-নিঘণ্টু, রাজনিঘণ্টু সর্বত্র উল্লেখ আছে। এর উদ্ভিদবিদ্যাসম্মত নামও সেজন্য Cinnamomum tamala (Buch. -Ham.) T. Nees & C. H. Eberm., গোত্র Lauraceae। একই নাম একাধিক গাছের হতে পারে। অর্থাৎ সংস্কৃতে তিনটি তমাল আছে। একটি তেজপাতা এবং দ্বিতীয়টি বরুণ, এদের কথা এখানে আলোচনা করা হচ্ছে না। তৃতীয়টি এই বিতর্কিত তমাল, যাকে এখন আর চেনা যাচ্ছে না। নীচের চারটি গাছকে এই তমাল বলে মনে করা হয়।

(১) বনগাব (Diospyros montana Roxb. Syn. D. cordifolia Roxb. গোত্র: Ebenaceae)

অনেক মন্দিরে এই গাছটিই তমাল বলে লাগানো আছে যেমন, কোচবিহারের মদনমোহন মন্দিরে বা পুরুলিয়ার বরাবাজারে রাধাবৃন্দাবনচন্দ্রজীউ মন্দিরে। দ্বিজেন শর্মা বর্ণিত ঢাকার রাম-সীতার আশ্রমের তমালগাছটিও এই বনগাব। এটি একটি পবিত্র বৃক্ষ। রক্সবার্গ ফ্লোরা অফ ইন্ডিকা (১৮৩২)-তে এর বাংলা নাম বনগাব ও সংস্কৃত নাম তমাল বলেছেন।

চিত্র ৩: বনগাব পুং গাছ
চিত্র ৩: বনগাব পুং গাছ
চিত্র ৪: বনগাব স্ত্রী গাছ
চিত্র ৪: বনগাব স্ত্রী গাছ
চিত্র ৫: কোচবিহার মদনমোহন মন্দির
চিত্র ৫: কোচবিহার মদনমোহন মন্দির
চিত্র ৬: মদনমোহন মন্দিরের তমাল গাছ
চিত্র ৬: মদনমোহন মন্দিরের তমাল গাছ
চিত্র ৭: বরাবাজার রাধাবৃন্দাবনচন্দ্রজীউ মন্দির
চিত্র ৭: বরাবাজার রাধাবৃন্দাবনচন্দ্রজীউ মন্দির
চিত্র ৮: রাধাবৃন্দাবনচন্দ্রজীউ মন্দিরের তমাল গাছ
চিত্র ৮: রাধাবৃন্দাবনচন্দ্রজীউ মন্দিরের তমাল গাছ

(২) দাম্পল (Garcinia xanthochymus Hook.f. ex T. Anderson Syn. Xanthochymus pictorius Roxb. গোত্র: Cluisaceae)

এর অন্য নাম টিকুর ও ডেফল। রক্সবার্গ হরটাস বেঙ্গালেনসিস (১৮১৪)-এ এরও সংস্কৃত নাম তমাল বলেছেন। ফিরমিনজার (১৮৬৪)-ও তাই বলেছেন। কিন্তু বিদ্যানিধির মতে (১৯১৩) এই গাছটিকে ভুল করে তমাল বলা হয়। অনেক উদ্ভিদবিজ্ঞানের বইতে একেই তমাল বলা আছে। শিলদার রাজবাড়িতে রাধারানি মন্দিরে এই গাছটিই তমাল বলে লাগানো আছে।

এর ফল চাটনি করে খাওয়া হয়। তেঁতুলের মতো টক। অথচ মদনপালনিঘণ্টু ও রাজনিঘণ্টুতে বলা আছে ‘তমালো মধুরঃ’—তমাল মিষ্টি। ফলে এই গাছটির তমাল হবার সম্ভাবনা নেই বললেই হয়। Garcinia-র আর একটি প্রজাতি Garcinia cambogioides (Murray) Headland-কেও কখনও কখনও তমাল বলার চেষ্টা করা হয়, এর ফলও বিচ্ছিরি রকমের টক।

চিত্র ৯: দাম্পল কাঁচাফল
চিত্র ৯: দাম্পল কাঁচাফল
চিত্র ১০: দাম্পল পাকাফল
চিত্র ১০: দাম্পল পাকাফল
চিত্র ১১: শিলদা রাধারানি মন্দির
চিত্র ১১: শিলদা রাধারানি মন্দির
চিত্র ১২: রাধারানি মন্দিরের তমাল গাছ
চিত্র ১২: রাধারানি মন্দিরের তমাল গাছ

(৩) কেন্দু (Diospyros exculpta Buch.-Ham. Syn. D. tomentosa Roxb. গোত্র Ebenaceae)

এটা পরিচিত কেঁদ নয়। রক্সবার্গ (১৮১৪)-য় এর বাংলা বা সংস্কৃত নাম তমাল বললেও তার আগে কোলব্রুক (১৮০৭) একে কাকেন্দু বলেছেন। সেইজন্য পরে রক্সবার্গ (১৮৩২) এর সংস্কৃত নাম কাকেন্দু বলেছেন। কিন্তু হরটাস বেঙ্গালেনসিস (১৮১৪)-এ কেঁদগাছকে (Diospyros melanoxylon Roxb.) কাকেন্দু বলেছিলেন। কেরি (১৮২৬)-ও তাই বলেছেন। কিন্তু অমরকোষে কাকেন্দুকে তমাল বলা হয়নি। সুতরাং কাকেন্দু যে গাছটিই হোক না কেন সেটা তমাল নয়।

কেরি (১৮২৬) তমাল সম্পর্কে বলেছেন, “the name of a tree (according to some Xanthocymus pictorius, according to others Diospyros tomentosa)”। Voigt তাঁর ‘Hortus Suburbanus Calcuttensis’ (১৮৪৫)-এ এই গাছটিকেই তমাল বলেছেন।

(৪) গাবজাতীয় কোনো গাছ (Diospyros sp. গোত্র Ebenaceae)

বিদ্যানিধির মতে (১৯১৩) কালিদাসের তমাল কোনও দক্ষিণ ভারতীয় গাবগাছ হতে পারে। কালিদাস যখন রঘুবংশে আছে—“তাম্বূলবল্লীপরিণদ্ধ-পূগাস্বেলালতালিঙ্গিত-চন্দনাসু।/ তমালপত্রাস্তরণাসু রন্তুং প্রসীদ শশ্বন্মলয়স্থলীষু॥” (৬|৬৪) তখন দক্ষিণভারতের মলয়পর্বতের বিশিষ্ট গাছগুলির যেমন, পান, সুপারি, এলাচ, চন্দনের সঙ্গে তমালেরও উল্লেখ করেন। আর একটি শ্লোকেও (১৩|১৫) পশ্চিমঘাট পর্বতের দুটি উল্লেখযোগ্য গাছ তমাল ও তালীর উল্লেখ আছে। দ্বিতীয়টি Corypha umbraculifera L., কিন্তু প্রথমটি কী? সমুদ্র-উপকূলবর্তী বৃক্ষবিশেষ বলেই মনে হয়। রামায়ণে (কিষ্কিন্ধ্যা ৩৭|২৫) সমুদ্র-উপকুলে তমালবনে নারকেল-ভোজী বানরের উল্লেখ আছে—“ক্ষীরোদবেলা-নিরয়স্তমালবনবাসিনঃ। নারিকেলাশনাশ্চৈব তেষাং সংখ্যা ন বিদ্যতে॥” কিন্তু অন্য জায়গাতেও তমালগাছের বর্ণনা আছে, যেমন চিত্রকূটে (রামায়ণ: আরণ্য ১৫|১৬; রঘুবংশ ১৩|৪৯)।

চরকেও তমাল আনুপ বৃক্ষ মানে সমুদ্র-উপকূলবর্তী বা জলাভূমির গাছ, “আনুপো হিন্তাল-তমাল-নারিকেল-কদলীবন-গহনঃ সরিৎসমুদ্রপর্যন্তপ্রায়ঃ”। (চরক-সংহিতা: কল্পস্থানম্‌ ১|৮) অর্থাৎ আনুপদেশে হিন্তাল, তাল, তমাল, নারকেল ও কলার বন বেশি দেখা যায়। আনুপদেশ নদীবহুল ও সমুদ্র-মোহনায় অবস্থিত। কিন্তু এটা সম্ভবত ম্যানগ্রোভ নয়। নারকেল যেরকম সমুদ্রের তীরে জন্মায় আবার অন্য জায়গাতেও লাগানো যায় সেরকম গাছ। এখন দেখতে হবে প্রাচীন সাহিত্যে উল্লেখিত তমালের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে এই গাছগুলির কোনটিরও সামঞ্জস্য আছে কিনা। এর অন্যান্য সংস্কৃত নামগুলি হল: অসিতদ্রুম, কালতাল, কালস্কন্দ, কালস্কন্ধ, তমালক, তাপিচ্ছ, তাপিঞ্ছ, নীলতাল, নীলধ্বজ, মহাবল, লোকস্কন্ধ।

অসিতদ্রুম মানে কালোরঙের বৃক্ষ। কালতাল ও কালস্কন্ধ-তেও তাই প্রকাশ পাচ্ছে। গাছ কালো বলে তমাল। (বিদ্যানিধি, ১৯১৩)। তমঃ মানে কালো। এই গাছের কাণ্ড কালো। তমাল পাতাও কালো অর্থাৎ কালচে-সবুজ। উপরিউক্ত শ্লোকদুটিতেও তমালের বৈশিষ্ট্যসুচক কালো রঙ-ই প্রকাশিত। দিক্‌চক্রবালে অবস্থিত নীল তমাল-তালীবন থাকায় সমুদ্রতীরকে কালোরেখার মতো দেখাচ্ছে। সন্ধ্যায় বনভূমি তমালগাছে কালো হয়ে আছে। আবার মৃচ্ছকটিকে আছে—“এতৈরার্দ্রতমালপত্রমলিনৈরাপীতসূর্যং নভো” অর্থাৎ বৃষ্টিস্নাত তমালপাতার মতো কালো মেঘ সূর্যকে গিলে নিয়েছে (৫|২০)। অথবা “এতৈঃ পিষ্টতমালবর্ণকনিভেরালিপ্তমাম্ভোধরৈঃ” অর্থাৎ চটকানো তমালপাতার রসের মতো মেঘের রং (৫|৪৬)। সুতরাং তমাল পাতা অবশ্যই কালচে-সবুজ হবে। বৃহৎসংহিতাতে আছে—“মুক্তারজতনিকাশাস্তমালনীলোৎপলাঞ্জনাভাসঃ। জলচরসত্ত্বাকারা গর্ভেষু ঘনাঃ প্রভূতজলাঃ॥” (২১|২৩) মুক্তা, রুপো, তমাল, নীলশালুক, কাজলের মতো রঙের বা জলচর প্রাণীর আকারের মেঘ থেকে প্রচুর বৃষ্টি হয়।

তমালের পাতা সুগন্ধি। অনেক লেখাতেই তমালের এই বৈশিষ্ট্যটি আছে। যেমন, “অয়ং সুজাতোঽনুগিরং তমালঃ প্রবালমাদায় সুগন্ধি যস্য। যবাঙ্কুরাপাণ্ডুকপোলশোভী ময়াবতংসঃ পরিকল্পিতস্তে॥” (রঘুবংশ ১৩|৪৯) অথবা “করী কলভ কর মৃদিত-তমাল-কিশলয়ামোদিনী” (কাদম্বরী) মানে, তমালের কচি পাতা চটকালে সুগন্ধ বেরয়। এই গন্ধটা কেমন সেটাও বলা আছে। কস্তূরীর মতো—“মৃগমদসৌরভ রভসবশংবদ নবদলমালতমালে।” (গীতগোবিন্দম্‌ ১|৩০)

তমাল পাতা চটকালে কালো রস বের হয়। এই কালো রস ত্বকে কালো দাগ ফেলতে পারে। মনে হয় তমালপাতার রস দিয়ে মেহেন্দির মতো পত্রলেখা রচনা করা হত। পাতার রস দিয়ে ত্বকে অলংকরণ করা হয় বলে পত্রলেখা। শ্রীহর্ষের নাগানন্দ নাটকের তৃতীয় অঙ্কে আছে—“জাব এসো ণিমীলিঅ-অচ্ছো চিট্‌ঠদি দাব নীলরসাণুআরিণা তমালপল্লবরসেন মুহং কালীকরিসসং। (উত্থায় তমালপল্লবং নিষ্পীড্য বিদূষকস্য মুখং কালীকরোতি)।” অর্থ: যতক্ষণ এ চোখ বুজে থাকবে ততক্ষণ তমালপাতার নীল রস দিয়ে এর মুখে কালি মাখিয়ে দি। (উঠে তমালপাতা চটকে বিদূষকের মুখে কালি মাখিয়ে দিল)। এখানেও তমাল উদ্যান-উদ্ভিদ। সামনেই বাগানে তমালবীথিকা ছিল, ফলে পাতা সহজেই পাওয়া গেছল। একসময় তমাল উদ্যানে পথের দু-পাশে লাগানো হত, এটাও গুরুত্বপূর্ণ।

সাধারণ কথ্য ভাষায় আবার তাল-তমাল একসঙ্গে উচ্চারিত হয়। এটা উচ্চারণ-সাদৃশ্যে নাও হতে পারে। রাজনিঘণ্টুতে পামগুলির পরেই তমাল আছে। তার আগে আছে তূল বা তূদ। এই তূদ ও তমাল গাছদুটিও পামজাতীয় (গোত্র Arecaceae) হলেও হতে পারে। মনে রাখতে হবে তমালের কয়েকটি প্রতিশব্দ হল কালতাল, নীলতাল ও নীলধ্বজ। নাম থেকে মনে হওয়া স্বাভাবিক এটি তালের মতো গাছ। তূল বা তূদ-কে তুঁতগাছ মনে করা হয়। কিন্তু এর একটি প্রতিশব্দ কেন ক্রমুক! ক্রমুক তো সুপারিরও একটি নাম। তাল, তূল, তমাল এগুলি একই জাতীয় হলেও হতে পারে। অন্তত একটা ক্ষীণ সম্ভাবনা থাকে। কালিদাস আবার তমাল-তালী বলেছেন। তালী তো একটি তালের মতো দেখতে একরকম পামগাছ।

পূর্বে উল্লেখিত রঘুবংশের শ্লোকটি (১৩|৪৯) থেকে জানা যায় প্রাচীনযুগে কানে তমালপত্রগুচ্ছ পরার রীতি ছিল। গীতগোবিন্দেও তাই, “শ্রবণয়োস্তাপিঞ্ছগুচ্ছাবলী” (১১|১১)। সেই সূত্রে “ললিত আলক পাঁতি কাঁতি দেখি লাজে। তমাল কলিকাকুল রহে বন মাঝে॥” (তাম্বূলখণ্ড, শ্রীকৃষ্ণকীর্তন)

আবার অবাক কাণ্ড সেই তালীপত্র আবার সেইসময় মেয়েরা কানে পরত। ভাসের চারুদত্তের তৃতীয় অঙ্কে দেখছি—“কিংনুখু তস্‌স জনস্য দাদব্বং ভবিস্‌সদি। অহব এদং দইস্‌সং (কর্ণৌ স্পৃষ্ট্বা) হদ্ধি তালীপত্তংখু এদং।” ধোয়ীর পবনদূতেও এর উল্লেখ আছে—“শোত্রক্রীড়াভরণপদবীং ভূমিদেবাঙ্গনানাং তালীপত্রং নবশশীকলাকোমলং যত্র যাতি॥” (২৭), “আত্তং কর্নাৎ প্রণিহিতপদং সাঞ্জনৈরশ্রুলেশৈর্বদ্ধং তাপগ্লপিতবিসিনীতন্তুনা বন্ধনেন। যত্র স্ত্রীণামধররূচকন্যস্তসিন্দুরমুদ্রং তালীপত্রং প্রণয়িনী জনে প্রেমলেখত্বমেতি॥” (৪০) অথবা “ধত্তে সদ্যস্ত্বদুপগমিতপ্রেমলেখভ্রমং সা তালীপত্রে প্রিয়সহচরীকর্ণপাশচ্যুতেঽপি।” (৬৮)

তাল আর তালী আলাদা, অমরকোষে এদের পৃথক উল্লেখ আছে। কোলব্রুক (১৮০৭) তালকে Plamyra আর তালীকে Corypha বলে উল্লেখ করেছেন। Corypha-র বিভিন্ন প্রজাতিকেই তালী বলা হত এবং সেগুলি বিভিন্ন স্থানে পাওয়া যেত এবং মনে হয় এদের সংখ্যা যথেষ্ট বেশি ছিল। কালিদাস উল্লেখিত কেরলের তালী Corypha umbraculifera L.। ধোয়ীর তালী, যেটা বাংলায় পাওয়া যেত সেটা Corypha taliera Roxb., তার বাংলা নাম তালিয়ের। বর্তমানে বাংলার গাছটি বন্য পরিবেশে লুপ্ত।

যেসব গাছকে তমাল বলে মনে করা হয় সেগুলি প্রায় সবই কেঁদ জাতীয় বা অনেকটা ওইরকম। ফলে এটা সম্ভবত Diospyros গণেরই কোনও বিলুপ্ত প্রজাতি ছিল। কচি পাতা চটকালে কস্তূরীর গন্ধ এগুলির একটিতেও পাওয়া যায় না। কিন্তু কেঁদ জাতীয় কিছু গাছে এরকম গন্ধ আছে, যেমন Diospyros blancoi A.DC. (Velvet persimmon)-র ফল এবং Diospyros virginiana L (American persimmon)-এর ফল ও বীজ। এগুলি ভারতের গাছ নয়। প্রথমটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিন্তু ভারতের কোথাও কোথাও লাগানো হয়। দ্বিতীয়টি উত্তর আমেরিকার। হয়তো একসময় কোনও একটি কেঁদ (Diospyros) জাতীয় গাছ ভারতে ছিল যার পাতা চটকালে কস্তূরীর গন্ধ পাওয়া যেত।

চিত্র ১৩: দাম্পলের হলুদ তরুক্ষীর
চিত্র ১৩: দাম্পলের হলুদ তরুক্ষীর

কেঁদ জাতীয় গাছগুলিতে কালো রঞ্জক থাকে। কেঁদ (Diospyros melanoxylon Roxb.), আবলুস (Diospyros ebenum J. Koenig ও অন্যান্য প্রজাতি) প্রভৃতি গাছের গুঁড়ি ও কাঠ কালো। কিছু কিছু Diospyros-এর প্রজাতি আছে যাদের থেকে কালো রঞ্জক পদার্থ পাওয়া যায়। ট্যানিন ছাড়াও এদের পাতা বা ফলের রসে Diospyrol থাকে যা বাতাসের সংস্পর্শে এসে জারিত হয়ে কালোবর্ণ ধারণ করে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার Diospyros mollis Griff.। মায়ানমার থেকে কম্বোডিয়া এর বিস্তার। এর কাঁচা ফল ও পাতা থেকে যে কালো রং পাওয়া যায় তা কাপড় রং করতে ব্যবহৃত হয়। এর ফলের থেকে পাওয়া কালো রং দিয়ে ভিয়েতনামের কালো-রেশম তৈরি হয়। ভারতের গাবগাছেরও (Diospyros malabarica (Desr.) Kostel.) কচি পাতা ও ফলের রস কাপড়ে কালো রং করতে ব্যবহৃত হয়। অমরকোষে গাব ও তমাল উভয়েরই একটি সাধারণ নাম ‘কালস্কন্ধ’।

মদনপাল ও রাজনিঘণ্টুতে যেহেতু বলা আছে তমাল মিষ্টি সুতরাং এর ফল বোধহয় মিষ্টি স্বাদের। Garcinia গণের ফলগুলি টক, বরং Diospyros-এর ফলগুলো মিষ্টি বলা যায় যেমন পরিচিত কেঁদ (Diospyros melanoxylon Roxb.) বা পারসিমন (Diospyros kaki Thunb.)।

সুতরাং এটা মনে করা যেতে পারে একসময় Diospyros-এর কোনও একটি প্রজাতির অস্তিত্ব ছিল যার কচি পাতায় কস্তূরীর গন্ধ ছিল আর পাতা চটকালে কালো রং বের হত, যা ত্বকে কালো দাগ ফেলত। এই তমালের পাতা সম্ভবত তেজপাতার মতো দেখতে ছিল, কারণ তেজপাতার অপর নাম ‘তমালপত্র’ (চরকসংহিতা, চিকিৎসা-স্থানম্‌ ৩|২৬৭; রাজনিঘণ্টু, পিপ্পলাদিবর্গ ১৭৪)। ফলের স্বাদ সম্ভবত মিষ্টি।

যে গাছ একসময় সাহিত্যে ভীষণ জনপ্রিয় ছিল, সেই গাছ এখন বিতর্কিত। এটি কোন গাছ তা নিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির বিভিন্ন মত। এটা স্বাভাবিক নয়। এর বৈশিষ্ট্যগুলিও তমাল নামে পরিচিত কোনও গাছের মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে না। গাছটি রাধা-কৃষ্ণের লীলাকাহিনীর সঙ্গে জড়িত, পবিত্র উদ্ভিদ, সহজে বিস্মৃতির অন্তরালে হারিয়ে যাবার কথা নয়। সুতরাং এটা মনে হওয়াই স্বাভাবিক যে গাছটি বর্তমানে বিলুপ্ত।


উৎসপঞ্জি

  • কিছু সংস্কৃত গ্রন্থের অধ্যায়/কাণ্ড ও শ্লোকসংখ্যা প্রবন্ধের মধ্যেই উল্লেখ করা হয়েছে। এখানে তা পৃথকভাবে উল্লেখ করা হল না।

বাংলা গ্রন্থ

  • অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ, ‘উদ্ভিদ্ অভিধান’, কলকাতা: সাহিত্যলোক, ১৯৮১, প্রথম প্রকাশ ১৯৩৩–৪০।
  • গিরীশচন্দ্র বসু, ‘উদ্ভিদ-জ্ঞান’, দ্বিতীয় পর্ব্ব, কলিকাতা: বঙ্গীয়-সাহিত্য-পরিষদ্ মন্দির, ১৯২৫।
  • গৌরীনাথ শাস্ত্রী (সম্পাদক), ‘সংস্কৃত সাহিত্য সম্ভার’, ১৬শ খণ্ড, কলকাতা: নবপত্র প্রকাশন, ১৯৮২।
  • দেবেন্দ্রনাথ সেন ও উপেন্দ্রনাথ সেন (সম্পাদক), ‘মদনপাল-নিঘণ্টু বা মদনবিনোদ নিঘণ্টু’, কলিকাতা, ১৯১৩।
  • দ্বিজেন শর্মা, ‘শ্যামলী নিসর্গ’, ঢাকা, বাংলাদেশ: কথাপ্রকাশ, ২০১৫।
  • যোগেশচন্দ্র রায় বিদ্যানিধি, ‘বাঙ্গালাশব্দ-কোষ’, ২য় খণ্ড, কলিকাতা: বঙ্গীয়-সাহিত্য-পরিষৎ, ১৯১৩।

ইংরেজি গ্রন্থ

  • Cecil P. Cloughly & Henry M. Burlage, ‘An examination of the oil of the seeds of persimmon (Diospyros Virginiana L., Fam. Ebenaceae)’, Journal of the American Pharmaceutical Association, Vol. 48, No. 8, 1959, p. 449–451.
  • Firminger, ‘Manual of Gardening for Bengal and Upper India’, London: R. C. Lepage & Co., 1864.
  • H. H. Haines, ‘Botany of Bihar and Orissa’, Vol. I–VI, Dehradun, India: Bishen Singh Mahendra Pal Singh, 1921–1925.
  • H. T. Colebrooke (Ed.), ‘Kosha or Dictionary of the Sanskrit Language by Umura Singha’, Calcutta, 1891, 3rd ed., First published 1807.
  • J. O. Voigt, ‘Hortus Suburbanus Calcuttensis’, Calcutta: Bishop’s College Press, 1845.
  • Janhavi Prakash et al., ‘Phytochemical and Functional Characterization of Different Parts of the Garcinia xanthochymus Fruit’, ACS Omega, Vol. 7, No. 24, 21 June 2022, p. 21172–21182, DOI: 10.1021/acsomega.2c01966.
  • P. V. Sharma (Ed.), ‘Aṣṭāṅga Nighaṇṭu’, Chennai: The Kuppuswami Sastri Research Institute, 2004.
  • S. D. Kamat, ‘Studies on Medicinal Plants & Drugs in Dhanvantari-Nighaṇṭu’, Delhi: Chaukhamba Sanskrit Pratishthan, 2002.
  • Satish Chandra Sankhyadhar (Ed.), ‘Rāj Nighaṇṭu, Śrī Narahari Paṇḍit’, Varanasi: Chaukhambha Orientalia, 2012.
  • W. Carey, ‘A Dictionary of the Bengali Language’, Vol. 1 & 2, Serampore, 1826.
  • W. Roxburgh, ‘Hortus Bengalensis’, Serampore, 1814.
  • W. Roxburgh, ‘Flora Indica’, Vol. II, Serampore, 1832.
  • অনলাইন উপাদান
  • Asian Textile Studies, ‘Black Dyes’, ‘Asian Textile Studies’, Accessed 23 September 2026, [https://www.asiantextilestudies.com/black.html].
  • Naturix Seeds, ‘Diospyros discolor - Velvet Apple / Mabolo Seeds’, ‘Naturix Seeds’, Accessed 23 September 2026, [https://www.naturix-seeds.com/product-page/diospyros-discolor-velvet-apple-mabolo-seeds].
  • Tropical Plants Database, ‘Diospyros malabarica’, ‘Tropical Plants Database’, Accessed 23 September 2026, [https://tropical.theferns.info/viewtropical.php?id=Diospyros%20malabarica].
  • Wikipedia, ‘Diospyros’, ‘Wikipedia’, Accessed 23 September 2026, [https://en.wikipedia.org/wiki/Diospyros].
  • Wiley Online Library, ‘An Examination of the Oil of the Seeds of Persimmon’, ‘Wiley Online Library’, Accessed 23 September 2026, [https://onlinelibrary.wiley.com/doi/abs/10.1002/jps.3030480807].
  • World Flora Online, ‘Diospyros’, ‘World Flora Online’, Accessed 23 September 2026, [https://www.worldfloraonline.org/taxon/wfo-0000649357].

শেয়ার করুন
রাজেন্দ্রপ্রসাদ দেের প্রতিকৃতি

লেখক · আলোকচিত্র

রাজেন্দ্রপ্রসাদ দে

জন্ম ৭ সেপ্টেম্বর ১৯৬৯। বাঁকুড়া জেলার খাতড়ায়, মাতুলালয়ে। পৈতৃক নিবাস ঝাড়গ্রাম। বাবা বনমালী দে। মা ললিতারানী দে। বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উদ্ভিদবিদ্যায় স্বর্ণপদক-সহ স্নাতকোত্তর ও পিএইচ. ডি ডিগ্রি লাভ করেন। সরকারি কলেজে অধ্যাপনা-সূত্রে ঝাড়গ্রাম রাজ কলেজ, কোচবিহার আচার্য ব্রজেন্দ্রনাথ শীল কলেজ ও গভর্নমেন্ট জেনারেল ডিগ্রি কলেজ, মোহনপুরে পড়িয়েছেন। বর্তমানে ঝাড়গ্রামের রানি ইন্দিরা দেবী গভর্নমেন্ট গার্লস’ কলেজে অধ্যাপনা করেন। হাসঃ ছদ্মনামে সাহিত্যচর্চা করেন। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় নিয়মিত গল্প, নাটক, প্রবন্ধ, কবিতা প্রভৃতি লেখেন। সমস্ত ঘটনার মধ্যেই হাস্যরস সৃষ্টির একটা প্রচেষ্টা তাঁর রচনায় দেখা যায়। উল্লেখযোগ্য নাটক: ‘অশ্বমেধ’, ‘বরযাত্রী’ ও ‘চাঁদাপাটি’, ‘চাঁদামামা’। গল্পের মধ্যে ‘আড়াইপ্যাঁচ’, ‘চার্বাক’, ‘ব্ল্যাকহোল’, ‘লাল-নীল মাছ’, ‘বৃহদারণ্যক’ উল্লেখযোগ্য। লিখেছেন ‘বাংলার স্থাননামে উদ্ভিদ’, ‘কৃষ্ণচূড়া-রাধাচূড়া সমস্যা’, ‘প্রাচীন সাহিত্যে হাস্যরস’, ‘ঈশ্বর, প্রকৃতি ও জীব’ নামে বিচিত্র বিষয়ের প্রবন্ধ। সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি বন্যপ্রাণের আলোক-চিত্রায়ণ, জীব-বৈচিত্র্য ও উদ্ভিদ-সংস্কৃতি বিষয়ক গবেষণা কর্মে নিযুক্ত। প্রকাশিত গ্রন্থ: ‘হাসনাটকচক্র ১’ (২০২২) ও ‘হাসনাটকচক্র ২’ (২০২৪)। Edited book (With Dr. D. Sinha): ‘Plant—A Valuable Resource of Sustainable Agriculture, Food and Medicine’ (2022).

সব কাজ দেখুন →

সংখ্যা ১-এর অন্যান্য লেখা

সম্পাদকীয় প্রচ্ছদসংখ্যা ১

সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয়

“কম্পিউটার, ই-মেল এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা নিয়ে অনেক আলোচনা হয়। কিন্তু আমরা এখন এমন এক যুগে প্রবেশ করেছি যেখানে মানুষকেও হ্যাক করা সম্ভব।” ‘উই আর বিকামিং হ্যাকেবল অ্যানিমেলস’—হাড়হিম করে দেওয়া এক বাস্তবতার কথা আমাদের বলেছেন হারারি।

সমান্তর সম্পাদক৪ মিনিট
কাগজের মতো সহজে ছিঁড়ে যাওয়া সম্পর্কের ভিড়ে, বুকের ভেতরে সামান্য কাপড় বাঁচিয়ে রাখার এক মায়াবী আখ্যান ‘বোতাম’।সংখ্যা ১

গল্পস্বল্প

বোতাম

সবকিছু যখন এক ক্লিকে বদলে যায়, তখন কিছু মানুষ নিঃশব্দে পাহারা দেয় তাদের চিরপুরাতন বিশ্বাস। সুতো আর মায়া দিয়ে পার্বতীদি কী বুনে চলেছেন দিনরাত? কাগজের মতো সহজে ছিঁড়ে যাওয়া সম্পর্কের ভিড়ে, বুকের ভেতরে সামান্য কাপড় বাঁচিয়ে রাখার এক মায়াবী আখ্যান ‘বোতাম’।

সত্যসাধন মণ্ডল২ মিনিট
১৮৪৫ সালে লিখিত বিকল্প ইতিহাস। এক ভবিষ্যতের উড়িষ্যা, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের শৃঙ্খল ভেঙে স্বাধীন প্রজাতন্ত্রে পরিণত হবে।সংখ্যা ১

পুরাতনী

ওড়িশা প্রজাতন্ত্র—বিংশ শতাব্দীর ইতিবৃত্তের এক বিস্মৃত পৃষ্ঠা: দ্বিতীয় পর্ব

১৮৪৫ সালে লেখা ১৯২৫ সালের এক কাহিনি। এক বিকল্প ইতিহাস। বিদ্রোহের গল্প। এক ভবিষ্যতের উড়িষ্যার গল্প। যে উড়িষ্যা একদিন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের শৃঙ্খল ভেঙে স্বাধীন প্রজাতন্ত্রে পরিণত হবে। কিন্তু সেই স্বাধীনতার পথ মসৃণ নয়; তার ভিতর লুকিয়ে আছে অরণ্যের গভীরে জমে থাকা ক্ষোভ, হারিয়ে যাওয়া স্বাধীনতার স্মৃতি এবং পাহাড়ি মানুষের অদম্য আত্মমর্যাদা। শশীচন্দ্র দত্তের এই কল্প-ভবিষ্যতের কাহিনি যেন উনিশ শতকের ঔপনিবেশিক বাস্তবতার এক প্রতিবিম্ব; স্বাধীনতার স্বপ্ন কীভাবে প্রতিরোধের ভাষা খুঁজে পায়, তার এক রোমাঞ্চকর আখ্যান।

অনুবাদ: মেঘা সিনহা১২ মিনিট

আরও পড়ুন

জয়নাগের বপ্পঘোষবাট তাম্রশাসন: একটি বিতর্কিত অবস্থানের প্রেক্ষাপটে প্রচ্ছদসংখ্যা ১

গবেষণামূলক প্রবন্ধ

জয়নাগের বপ্পঘোষবাট তাম্রশাসন: একটি বিতর্কিত অবস্থানের প্রেক্ষাপটে

দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার পাথরপ্রতিমা ব্লকের মলয়া গ্রাম থেকে প্রাপ্ত মহারাজ জয়নাগের বিতর্কিত তাম্রশাসনকে কেন্দ্র করে এই গবেষণামূলক প্রবন্ধে উন্মোচিত হয়েছে সুন্দরবনের প্রাচীন ইতিহাসের এক বিস্মৃত অধ্যায়। প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, প্রাচীন নদীপথ, তাম্রশাসনের বিবরণ ও ক্ষেত্রসমীক্ষার সূত্র ধরে লেখক অনুসন্ধান করেছেন বপ্পঘোষবাটের সম্ভাব্য অবস্থান, সমকালীন প্রশাসনিক কাঠামো এবং উপকূলীয় বাংলায় ব্রাহ্মণ্য সমাজের বিকাশ। ইতিহাসের প্রচলিত ব্যাখ্যাকে প্রশ্ন করে এই অনুসন্ধান তুলে ধরে দক্ষিণবঙ্গের অতীত পুনর্বিবেচনার নতুন সম্ভাবনা।

দেবীশঙ্কর মিদ্যা৩২ মিনিট