ওড়িশা প্রজাতন্ত্র—বিংশ শতাব্দীর ইতিবৃত্তের এক বিস্মৃত পৃষ্ঠা: দ্বিতীয় পর্ব
১৮৪৫ সালে লেখা ১৯২৫ সালের এক কাহিনি। এক বিকল্প ইতিহাস। বিদ্রোহের গল্প। এক ভবিষ্যতের উড়িষ্যার গল্প। যে উড়িষ্যা একদিন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের শৃঙ্খল ভেঙে স্বাধীন প্রজাতন্ত্রে পরিণত হবে। কিন্তু সেই স্বাধীনতার পথ মসৃণ নয়; তার ভিতর লুকিয়ে আছে অরণ্যের গভীরে জমে থাকা ক্ষোভ, হারিয়ে যাওয়া স্বাধীনতার স্মৃতি এবং পাহাড়ি মানুষের অদম্য আত্মমর্যাদা। শশীচন্দ্র দত্তের এই কল্প-ভবিষ্যতের কাহিনি যেন উনিশ শতকের ঔপনিবেশিক বাস্তবতার এক প্রতিবিম্ব; স্বাধীনতার স্বপ্ন কীভাবে প্রতিরোধের ভাষা খুঁজে পায়, তার এক রোমাঞ্চকর আখ্যান।
ওড়িশা প্রজাতন্ত্র—বিংশ শতাব্দীর ইতিবৃত্তের এক বিস্মৃত পৃষ্ঠাপর্ব ২/২
সংখ্যা ১দ্বিতীয় পর্ব
এই কথার পর আর পিছু হটার পথ রইল না। পরিস্থিতি দ্রুত এমন এক জায়গায় এসে পৌঁছল, যেখানে আপসের ভাষা ক্রমশ অর্থহীন হয়ে উঠছিল। অবশেষে ১৯১৮ সালের ৮ সেপ্টেম্বর মুলহারপুরে১ বাংলা, বিহার ও ওড়িশার প্রতিনিধিদের নিয়ে এক বিশেষ সম্মেলন আহ্বান করা হল। দীর্ঘ আলোচনার পর সম্মেলনে একটি প্রস্তাব গৃহীত হল। প্রস্তাবে বলা হল—ব্রিটিশ সরকার সুশাসনের সমস্ত স্বীকৃত নীতি লঙ্ঘন করেছে। দাসপ্রথার পুনঃপ্রবর্তন যেমন তার প্রমাণ, তেমনই প্রশাসনের ক্ষেত্রে একের পর এক এমন পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা জনগণের স্বার্থবিরোধী এবং স্বৈরাচারী শাসনকে আরও শক্তিশালী করেছে।
এই অবস্থার অবসান ঘটাতে হলে আর সামান্য সংস্কার বা অনুরোধে কাজ হবে না। প্রয়োজন সাহসী ও দৃঢ় পদক্ষেপ। সম্মেলনে উপস্থিত যোদ্ধারা তখন স্বাধীনতার নামে শপথ নিলেন; দেশের মুক্তির জন্য প্রয়োজন হলে তাঁরা নিজেদের রক্তের শেষ বিন্দুটুকুও বিসর্জন দেবেন—এই অঙ্গীকারেই তাঁদের কণ্ঠ এক হয়ে উঠল।
এরপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো বিদ্রোহী বাহিনীকে দুটি প্রধান ভাগে বিভক্ত করা হবে। বাংলা ও বিহারের বাহিনীর নেতৃত্ব দেওয়া হবে গোকুল দাস ত্রিবেদীকে। আর ওড়িশার বাহিনীর দায়িত্ব নিলেন ওপের্তি সর্দার (operti Sirdar)।
এইভাবেই আন্দোলন একটি সুসংগঠিত সামরিক রূপ পেল। এতদিন যে অসন্তোষ বিচ্ছিন্নভাবে নানা প্রান্তে জ্বলছিল, এবার তা যেন একই আগুনের শিখায় এসে মিলিত হল। এরপর যে যুদ্ধগুলি সংঘটিত হয়েছিল, তার প্রতিটি দিনের, প্রতিটি সংঘর্ষের, প্রতিটি জয়-পরাজয়ের বিস্তারিত বিবরণ এখানে দেওয়া আমাদের উদ্দেশ্য নয়। ইতিহাসের এই অধ্যায়টি দীর্ঘ, কন্টকাকীর্ণ। তার পথে রক্ত, ত্যাগ, বীরত্ব এবং ব্যর্থতার বহু গল্প ছড়িয়ে আছে।
আমরা শুধু সেইসব ঘটনার কথা বলব, যেগুলি শেষ পর্যন্ত ওড়িশার ভাগ্যকে অন্য এক পথে ঘুরিয়ে দিয়েছিল। তবে এতটুকু বললেই যথেষ্ট যে, স্যার জি. প্রাউডফুটের নেতৃত্বে দশ হাজার আইরিশ সৈন্যের এক বিশাল বাহিনীকে প্রথমে বাংলা ও বিহারের বিদ্রোহী বাহিনীর বিরুদ্ধে পাঠানো হয়েছিল। অল্পদিনের মধ্যেই সেই বাহিনীকে পরাস্ত ও বশীভূত করে তারা ১৯১৯ সালের শীতকালে ওড়িশার দিকে অগ্রসর হল।
প্রথম আঘাতেই ওড়িশার মাটিতেও তাদের সাফল্য এল। কিন্তু সেই সাফল্যের পথ রঞ্জিত হল এমন সব নৃশংসতায়, যার স্মৃতি মানুষের মনে আজও আতঙ্ক জাগায়। রাধানগরের২ দুর্গ তারা বেয়নেটের মুখে দখল করল। কাউকে রেহাই দেওয়া হল না। দুর্গের সমগ্র রক্ষীবাহিনীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হল। এমনকি শ্রীক্ষেত্রের পবিত্র মন্দিরও রেহাই পেল না বিজয়ীদের লুণ্ঠন ও অবমাননা থেকে। এরপর পার্বুতনার৩ বিস্তীর্ণ প্রান্তরে Operti Sirdar বাহিনী যখন প্রায় বিপর্যস্ত, তখন হঠাৎ ভীকু বারিকের অশ্বারোহী সৈন্যদল বজ্রের মতো শত্রুর সম্মুখভাগে ঝাঁপিয়ে পড়ল। সেই আকস্মিক আক্রমণের অভিঘাত সামলাতে না পেরে শত্রুসেনার সারি ভেঙে গেল। মুহূর্তের মধ্যে তাদের সমগ্র বাহিনী ছত্রভঙ্গ হয়ে সম্পূর্ণ পরাজয়ের পথে পালিয়ে গেল।
ওড়িয়াদের এই নির্ণায়ক বিজয় ব্রিটিশ সরকারকে অবশেষে কিছুটা আপসের প্রতিশ্রুতি দিতে বাধ্য করল। শান্তির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে—এই আশায় দেশপ্রেমিক বিদ্রোহীদের মধ্যেও ধীরে ধীরে যুদ্ধের আগ্রহ স্তিমিত হয়ে এল। অনেকে অস্ত্র সরিয়ে নিলেন, অনেকে ঘরে ফিরে গেলেন।
কিন্তু ব্রিটিশ কাউন্সিলও তখন পরিস্থিতি বুঝে নিয়েছিল। তারা উপলব্ধি করল, আপাতত বিপদের ঝড় কেটে গেছে। আর বিপদ কেটে যেতেই প্রতিশ্রুতিগুলিও যেন তাদের স্মৃতি থেকে মুছে গেল। কেউ হয়তো সেগুলি ভুলে গেল, কেউ বা ইচ্ছাকৃতভাবেই তা পূরণের সময় পিছিয়ে দিতে লাগল। এইভাবেই অনিশ্চয়তা আর প্রতীক্ষার মধ্যে দিন কাটছিল। এমন সময় এক ব্যক্তিগত অন্যায় এসে সেই টলমলে অবস্থার অবসান ঘটাল। ঘটনাপ্রবাহকে আবার এমন এক পথে ঠেলে দিল, যার পরিণতি ছিল সুদূরপ্রসারী।
লুখুন দাস খুন্দাতি ছিলেন সেই প্রাচীন বীরযুগের এক অসাধারণ পুরুষ। স্বজাতির মধ্যে তাঁর ছিল সম্মানের বিশিষ্ট আসন। তাঁর বীরত্বের খ্যাতি ওড়িশার সীমানা পেরিয়ে বহু দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল। তাঁর একমাত্র কন্যার নাম নুলিনী—সৌন্দর্যে যার তুলনা খুঁজে পাওয়া কঠিন। অতি অল্প বয়সেই নুলিনীর বাগদান হয়েছিল জুগু দাস মৈথিপোর সঙ্গে। তরুণটির চরিত্রে ছিল ভবিষ্যতের উজ্জ্বল সম্ভাবনা আর নারীর চোখে পুরুষের যে সৌন্দর্য স্বাভাবিকভাবেই আকর্ষণীয়—শক্তি, পৌরুষ ও সুঠাম দেহের যে সমন্বয়—তাও তার মধ্যে ছিল পরিপূর্ণ। শৈশব থেকেই সে বেড়ে উঠেছিল শিবিরের পরিবেশে। আর লুখুন খুন্দাতির স্নেহ, শিক্ষা ও ব্যক্তিগত আদর্শের নিবিড় প্রভাবে তার চরিত্রে গড়ে উঠেছিল সেই দুর্ধর্ষ যোদ্ধার সমস্ত বৈশিষ্ট্য। বিপদের মুখে তার সংকল্প ছিল অটুট, কঠিনতম পরিস্থিতির মোকাবিলায় তার বুদ্ধি ছিল তীক্ষ্ণ, আর অসম্ভব বলে মনে হওয়া কাজকে বাস্তবে পরিণত করার মতো দৃঢ়তা ছিল তার হাতে। সাহসিকতার প্রতিটি অভিযানে সে যেন নিজের পরিচয় নতুন করে প্রতিষ্ঠা করত। এমনই এক দুর্ধর্ষ অভিযানে অসাধারণ বীরত্ব প্রদর্শন করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত সে শত্রুর হাতে বন্দি হল। তার বন্দিদশার কর্তা ছিল সুবাদার বাহাদুর গোপী দাস—জন্মসূত্রে একজন ওড়িয়া। একসময় সে নুলিনীর অনুরাগী ছিল কিন্তু নুলিনীর কাছ থেকে প্রত্যাখ্যাত হয়ে আর নিজের পারিবারিক বিরোধের কারণে, শেষ পর্যন্ত সে নিজের দেশের শত্রুদের সৈন্যদলে যোগ দিয়েছিল। জুগু দাস জানত, এই মানুষের হাতে তার প্রতি কোনো ন্যায্য আচরণের আশা করা বৃথা এবং বাস্তবেও তাই হল। বন্দি জুগু দাসের সহ্যের সীমা কতদূর, তা যেন পরীক্ষা করে দেখতেই তার উপর একের পর এক কঠোরতা চাপানো হল। অথচ যুদ্ধের নিয়ম মেনে মুক্তিপণ দিয়ে তাকে ছাড়িয়ে নেওয়া কিংবা বন্দি বিনিময়ের যে প্রস্তাবগুলি এসেছিল, গোপী দাস সেগুলির একটিও গ্রহণ করল না। দেশের সাধারণ স্বার্থকে সে নিজের ব্যক্তিগত আক্রোশের অধীন করে ফেলেছিল। নুলিনীর প্রতি তার পুরনো অপমান, প্রত্যাখ্যাত প্রেম এবং ব্যক্তিগত ক্ষোভ—সবকিছু মিলেমিশে জুগু দাসের বন্দিদশাকে আরও নির্মম করে তুলল। তাকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হল। তার উপর রাখা হল কড়া পাহারা। এমনকি বাইরের কারও সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগের অনুমতিও দেওয়া হল না। এভাবেই এক বীরযোদ্ধা বন্দি হয়ে রইল—শুধু শত্রুর হাতে নয়, এক ব্যক্তিগত প্রতিহিংসারও হাতে।
এমন মনে করার কোনো কারণ নেই যে, এই সময়ে লখন দাস খুন্দাতি ও তাঁর সঙ্গীরা বীর জুগুর কথা ভুলে গিয়েছিলেন। তাঁকে মুক্ত করার জন্য তাঁরা কম চেষ্টা করেননি। নানাভাবে অনুরোধ করা হয়েছে, মুক্তিপণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, বন্দি-বিনিময়ের কথাও উঠেছে; কিন্তু গোপী দাস কোনো কথাতেই কর্ণপাত করেনি।
তবু তরুণ হৃদয় কি আর এত সহজে দমে যায়? খুন্দাতি-বীরের সুন্দরী কন্যা নুলিনী তখনও নীরবে ফন্দিফিকির আঁটছিল—কোন পথে, কীভাবে সে তার প্রিয় জুগুকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করবে। অথচ তার পিতা এবং দেশের অন্যান্য প্রবীণদের মুখে তখন গভীর হতাশার ছাপ। চারদিকের পরিস্থিতি যেন বলে দিচ্ছিল—জুগুর মুক্তির আর কোনো পথ অবশিষ্ট নেই। কিন্তু নুলিনী হার মানল না। সেই সময়ের ওড়িশার নারীদের মধ্যে যে দুর্ধর্ষ সাহস ও বীরোচিত আত্মত্যাগের মানসিকতা ছিল, তার তুলনা অন্য কোনো দেশের নারীদের মধ্যে সহজে মেলে না। সেই সাহসকে বুকে নিয়েই একদিন সে নিঃশব্দে পিতার গৃহ ত্যাগ করল। তার বেশভূষা তখন রাজবাড়ির কোনো পোশাক নয়—এক ভবঘুরে ফকিরের৪ অতি সাধারণ, জীর্ণ বেশ। পরিচয় গোপন করে, একা পথ চলতে চলতে সে পৌঁছতে চাইল সেইসব ঘৃণিত ফেরিঙ্গিদের কাছে, যাদের হাতে বন্দি হয়ে আছে তার প্রিয় জুগু।
পথে তাকে কত দুঃখ, কত অনাহার, কত অভাব-অনটন সহ্য করতে হয়েছিল—তার কোনো বিবরণ ইতিহাস আমাদের দেয় না। কিন্তু সে যে সফল হয়েছিল, সে বিষয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই। অল্পদিনের মধ্যেই ফকিরের বেশ ত্যাগ করে সে সৈনিকের পোশাক পরল। তারপর এমনভাবে নিজের পরিচয় গোপন রাখতে পারল যে, শেষ পর্যন্ত জুগুকে পাহারা দেওয়া সৈন্যদের মধ্যেই তার স্থান হল। ইতিহাসের একটি সরল ঘটনাকে অকারণে রোম্যান্সের আবরণে ঢাকার প্রয়োজন নেই। তাই সরাসরিই বলা যাক—এই সুযোগটিকেই কাজে লাগিয়ে নুলিনী শেষ পর্যন্ত জুগুর মুক্তির ব্যবস্থা করেছিল। কিন্তু মুক্তি পেলেই বিপদ তো আর শেষ হয় না। জুগু পালিয়ে গেছে জানতে পেরে ক্রোধে উন্মত্ত গোপী দাস ছয়জন সওয়ারকে সঙ্গে নিয়ে তাদের পিছু নিল। অন্যদিকে জুগু ও তার মুক্তিদাত্রী নুলিনী তখন চড়ে আছে এমন এক দুরন্ত ঘোড়ার পিঠে, যার গতি ছিল অতুলনীয়—আরবের সুদূর উপকূল থেকে আনা সেই অশ্ব যেন বাতাসের সঙ্গেই পাল্লা দিয়ে ছুটছিল। তাই কিছুক্ষণের জন্য তারা বিপদ থেকে অনেক দূরে সরে যেতে পেরেছিল। কিন্তু ছোটনাগপুরের৫ পাহাড়ে পৌঁছনোর পর পিছু ধাওয়া করা সওয়াররা আবার তাদের দেখতে পেল। ধাওয়া আরও তীব্র হয়ে উঠল। তাদের উল্লাসধ্বনি ও ঘোড়ার খুরের শব্দ পলাতকদের কানে অত্যন্ত নিকটবর্তী ও ভীতিজাগানিয়া হয়ে বাজছিল। শব্দগুলো ক্রমশ কাছে আসছিল—এত কাছে যে, পলাতকদের কানে তা যেন মৃত্যুর পদধ্বনির মতো শোনাচ্ছিল। প্রতি মুহূর্তে দূরত্ব কমতে লাগল। শেষ পর্যন্ত দুই পক্ষের ব্যবধান নেমে এল মাত্র এক হাতের মতো। জুগু ও নুলিনী যে ঘোড়াটির পিঠে ছিল, সে ইতিমধ্যেই এমন এক দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছে, যা হয়তো কোনো ঘোড়াই আগে কখনও পারেনি। তার সমস্ত শক্তি নিঃশেষ হয়ে গেছে। আর এক পা এগিয়ে চলার ক্ষমতাও তার রইল না। এই ছিল সেই চরম মুহূর্ত।
জুগু ঘোড়া থেকে নেমে পড়ল। তারপর আহত সিংহের মতো ফিরে দাঁড়াল পিছু ধাওয়া করা শত্রুদের দিকে। একা হাতে তাদের সকলের মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত হল সে। তার সংকল্প ছিল স্পষ্ট—জীবন যদি দিতেই হয়, তবে যতটা সম্ভব কঠিন মূল্যেই সে তার জীবন দেবে। ভয়ংকর সংঘর্ষ শুরু হল।
জুগুর আঘাতে দুজন সওয়ার মাটিতে লুটিয়ে পড়ল। তৃতীয়জনের উপর শেষ আঘাতটি হানতে যাচ্ছে সে—ঠিক সেই সময় এক বলিষ্ঠ হাবিলদার৬ পিছন থেকে তাকে ঘাড় ধরে মাটিতে হাঁটু গেড়ে বসিয়ে দিল। আর এক মুহূর্তের মধ্যেই হয়তো জুগুর জীবন শেষ হয়ে যেত। কিন্তু নুলিনী তখনও সেখানে। সে ঝাঁপিয়ে পড়ল সংঘর্ষের মধ্যে। এক মুহূর্তের দ্বিধা না করে তার ছুরিটি বসিয়ে দিল হাবিলদারের হৃদয়ে। এদিকে চারদিক থেকে যে আঘাতগুলি জুগুর দিকে ছুটে আসছিল, সেগুলি প্রতিহত করতে করতে সে ক্রমশ পিছিয়ে যাচ্ছিল। অবশেষে সে এসে দাঁড়াল একটি খাড়া পাহাড়ি ঢালের কিনারায়। সামনে আর কোনো পথ নেই। পরমুহূর্তেই সে নিজেকে ঢালের ওপারে ছুঁড়ে দিল। চোখের পলকে সে অদৃশ্য হয়ে গেল। কী দুর্ধর্ষ সেই পলায়ন! কিন্তু জুগু কি একাই পালাল? যে নারী তাকে মুক্ত করেছিল, যে ছিল তার নিজের নুলিনী—তাকে কি সে তার সবচেয়ে নির্মম শত্রুর হাতে রেখে গেল?
হ্যাঁ, তাই ঘটেছিল। তবে নুলিনীর জীবনকে নিজের জীবনের চেয়ে কম মূল্যবান মনে করে সে এমন করেনি। বরং তার মনে ছিল এক গভীর বিশ্বাস—গোপী দাস, যে একসময় নুলিনীকে ভালোবাসত বলে দাবি করেছিল, সে কোনোভাবেই তার ক্ষতি করতে পারবে না। গোপী দাস একজন ওড়িয়া। আর জুগু জানত, পৃথিবীর অন্য সব জাতির তুলনায় ওড়িয়ারা নারীর প্রতি সম্মান, আনুগত্য ও বীরোচিত আচরণের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। তাহলে গোপী কী করে একজন নারীর উপর হাত তুলতে পারে? তবে দুর্ভাগ্যবশত জুগু একটি বিষয় বুঝতে পারেনি তা হলো যে ওড়িয়া ব্যক্তি নিজের মর্যাদা এতখানি বিসর্জন দিয়েছে, ‘ফেরাঙ্গি’-দের দলে নাম লিখিয়েছে, সেই ‘ফেরাঙ্গি’ বা ‘ম্লেচ্ছ’৭—যাদের স্পর্শমাত্রেই ‘অপবিত্র’ বলে মনে করত একসময় ওড়িয়ারা, জুগু দাস তাদের সেবায় যোগ দিয়েছে। যে নিজের দেশের বিরুদ্ধেই অস্ত্র ধরতে দ্বিধা করেনি, তার মধ্যে নিজের জাতির সেই মহৎ স্বভাব আর অবশিষ্ট থাকার কথা নয়।
হায় নুলিনী! তার ভাগ্যে কী নির্মম পরিণতি অপেক্ষা করছিল! কিন্তু সেই পরিণতির প্রতিশোধ নিতেও বেশি সময় লাগল না। লুখুন দাস খুন্দাতি তাঁর কন্যার মৃত্যুসংবাদ পাওয়া মাত্রই চলে গেলেন কিংগারিদের কাছে অর্থাৎ সেই ভয়াবহ, ডাকাবুকো ওড়িশার পাহাড়ি যোদ্ধাদের কাছে। ছাইয়ের নীচে চাপা পড়ে থাকা আগুনকে তিনি আবার উসকে দিলেন। ব্রিটিশ সরকারের স্বৈরাচারের কথা তিনি তাদের স্মরণ করিয়ে দিলেন। বহুদিনের জমে থাকা ক্ষোভ আবার জ্বলে উঠল আগুনের মতো। আশি হাজার যোদ্ধাকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ইংরেজ সাম্রাজ্যের কেন্দ্রের দিকে অগ্রসর হলেন। পথে ছোটখাটো ইংরেজ বাহিনীর প্রতিরোধকে তিনি ধুলোর মতো উড়িয়ে দিতে দিতে এগিয়ে চললেন। সমগ্র ওড়িশা আবার অস্ত্র তুলে নিল। সকলের কণ্ঠে একসঙ্গে ধ্বনিত হল যুদ্ধের আহ্বান। অবশেষে ১৯২১ সালের ১৫ অক্টোবর সংঘটিত হল সেই স্মরণীয় যুদ্ধ—‘জুমনার যুদ্ধ’। পবিত্র জুমনা নদীর তীরে সংঘটিত হয়েছিল বলেই যুদ্ধটি এই নামে পরিচিত হল।
ইংরেজ সেনাপতিরা সেখানে সম্পূর্ণরূপে পরাজিত হলেন। তাঁদের বাহিনী প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেল।
আর যুদ্ধক্ষেত্রেই পাওয়া গেল জুগু দাস ও গোপী দাসের মৃতদেহ। দুজনেই মৃত। তবু মৃত্যুর শেষ মুহূর্তেও তারা একে অপরকে এমন শক্ত করে আঁকড়ে ধরেছিল, যেন জীবনের সমস্ত শত্রুতা শেষ পর্যন্ত এসে থেমেছিল সেই নিথর আলিঙ্গনে। পরবর্তী বছরের ১৩-ই জানুয়ারি, ওড়িশা ঘোষণা করল তার স্বাধীনতা।
ফিলিবীতের সরকার সেই স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করেছিল। কিন্তু স্বাধীনতা নষ্ট করার কয়েকটি ব্যর্থ চেষ্টা করার পর শেষ পর্যন্ত তাদের সৈন্যবাহিনী সম্পূর্ণভাবে ওড়িশা ত্যাগ করতে বাধ্য হল। তারপর বহু বছর কেটে গেছে। এই ঘটনাগুলি এখন ইতিহাসের অন্তর্গত। আর সেই সময়ের ব্রিটিশ সাম্রাজ্যও ধীরে ধীরে এগিয়ে চলেছিল এমন এক দুর্বলতা ও অভ্যন্তরীণ বিভেদের দিকে, যা সাধারণত কোনো সাম্রাজ্যের পতনের পূর্বলক্ষণ হয়ে আসে। যে সাম্রাজ্যের গৌরব একদিন পৃথিবীকে বিস্মিত করেছিল, তার সেই পুরনো দীপ্তি তখন আর অবশিষ্ট নেই। তবু মানুষের অহংকার বড় বিচিত্র। ভেতরে যতই ভাঙন ধরুক, বাইরে তার ঔদ্ধত্য যেন ততই বাড়তে থাকে। তাই পতনের প্রান্তে দাঁড়িয়েও ব্রিটিশ শাসনের ভাষা কখনও এত উদ্ধত ছিল না, আর তার দরবারের বাহ্যিক জাঁকজমকও যেন কখনও এত আড়ম্বরপূর্ণ হয়ে ওঠেনি।
তবু সেই হারিয়ে যাওয়া গৌরবের কথা মনে পড়লে আমাদের মন ভারাক্রান্ত হয়। একদিন যে সাম্রাজ্যের পাখি তার বিশাল ডানা মেলে আকাশের অসীম উচ্চতায় উড়ে বেড়াত, যার পাখায় ছিল ক্ষমতার জৌলুস, অহংকারের দীপ্তি—আজ তার ডানা যেন ছিন্ন, গৌরবের পালক একে একে ঝরে পড়েছে। সেই এককালের দুর্দান্ত পাখিকে আজ আকাশের উচ্চতা ছেড়ে দ্রুত নেমে আসতে হচ্ছে নীচের দিকে। রাজপরিষদ এখনও বসে।
কিন্তু সে আর আগের রাজপরিষদ নয়। সভাকক্ষের ভেতর এখন শোনা যায় তর্কের কোলাহল, পরস্পরবিরোধী মতের সংঘর্ষ, আর তারই মধ্যে ছড়িয়ে থাকে এক গভীর বিভ্রান্তি। যে প্রতিষ্ঠান একদিন ছিল ক্ষমতার প্রতীক, আজ তার কেবল ক্ষীণ ছায়াটুকুই অবশিষ্ট। পতনশীল একটি রাষ্ট্রের দুর্বলতার চেয়ে জীবন্ত দৃষ্টান্ত আর কী হতে পারে? যত নিয়ম, যত বিধি, যত প্রশাসনিক কাঠামোই থাকুক—ভিতরের শক্তি যখন ক্ষয়ে যায়, তখন কোনো নিয়মই তাকে দীর্ঘদিন ধরে দাঁড় করিয়ে রাখতে পারে না। কিন্তু এই পতনের ছবির দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে হঠাৎ চোখের সামনে যেন অন্য এক দৃশ্য ফুটে ওঠে। একপ্রান্তে যখন অস্ত যাওয়ার বিষণ্ণ আলো তখন অন্য প্রান্তে ভোরের প্রথম রোদ। অর্থাৎ, একদিকে একটি সাম্রাজ্যের গৌরব ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে আসছে ও অন্যদিকে অন্ধকারের বুক চিরে উঠছে এক নতুন আলোর আভা। কোটি কোটি বিস্মিত চোখের সামনে তখন এক অপূর্ব দৃশ্য। যে জাতি এতদিন অজ্ঞতা ও দাসত্বের অন্ধকারে ডুবে ছিল, সে আজ সেই অন্ধকার থেকে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘ নিদ্রার পর যেন তার চোখ খুলেছে। শিকল ভেঙে সে এগিয়ে চলেছে নিজের ভবিষ্যতের দিকে—দ্রুত, দৃঢ় পদক্ষেপে। সভ্যতার যে বিরাট মহাব্যবস্থায় এতদিন সে ছিল প্রান্তিক ও অবহেলিত, সেখানে এবার সে নিজের স্থান করে নিতে চলেছে। তার সামনে খুলে গেছে নতুন পথ, নতুন আকাশ, নতুন সম্ভাবনা। আর সেই নতুন আকাশে তার আলো ক্রমশ উজ্জ্বল হয়ে উঠছে।
ওড়িশা আর কেবল একটি দেশ নয়—সে হয়ে উঠেছে এক নবোদিত শক্তি, এক নতুন আশার প্রতীক।
হিন্দুস্তানের বিস্তৃত আকাশে তাই আজ তার দীপ্তি আলাদা করে চোখে পড়ে। ওড়িশা প্রজাতন্ত্র—সে আজ হিন্দুস্তানের আকাশে এক উজ্জ্বল ‘জ্যোতিষ্ক’।
টীকা
- ১.মহারাষ্ট্রের নাগপুর জেলার মুলহারপুর।
- ২.ওড়িশার কিসাননগরের একটি গ্রাম। এর কয়েক কিলোমিটারের মধ্যে অশোক-যুগের স্তূপ রয়েছে। ‘শ্রীক্ষেত্তর’-এর পবিত্র মন্দিরটির সঠিক পরিচয় জানা যায় না। এটি সম্ভবত ওড়িশার কোনো দুর্গামন্দির বা শক্তিপীঠের রূপ হতে পারে। শক্তিপীঠ হল সেই পবিত্র স্থান, যেখানে শিবের কাঁধে বহিত দেবীর দেহের কোনো অঙ্গ পতিত হয়েছিল বলে বিশ্বাস করা হয়।
- ৩.এর অবস্থান সম্ভবত ওড়িশায়। আবার এটি গরুড়পুরাণে বর্ণিত নরকের শাস্তির একটি রসিক ইঙ্গিতও হতে পারে। সেখানে ‘পরিভাথন’ অর্থাৎ মদ পান করা বা অন্যকে মদ পান করানোর শাস্তি হিসেবে লাভা পান করার কথা বলা হয়েছে।
- ৪.এখানে ফকির বলতে ভ্রমণরত হিন্দু সন্ন্যাসী বা সাধুকে বোঝানো হয়েছে। ফেরিঙ্গি শব্দটি বিদেশিদের, বিশেষত ইউরোপীয়দের বোঝাতে অবমাননাসূচকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে।
- ৫.পূর্ব ভারতের একটি মালভূমি। বর্তমানে এর বৃহৎ অংশ ঝাড়খণ্ডে। এর কিছু অংশ ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গেও বিস্তৃত।
- ৬.দেশীয় সিপাহি বাহিনীর একজন নন-কমিশনড অফিসার। পদমর্যাদায় তিনি প্রায় সার্জেন্টের সমতুল্য।
- ৭.বৈদিক সংস্কৃতের ‘ম্লেচ্ছ’ শব্দ থেকে এসেছে। অর্থ—বর্বর বা অসভ্য বিদেশি।

অনুবাদক
মেঘা সিনহা
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০২৪ সালে তুলনামূলক সাহিত্য বিষয়ে স্নাতক এবং ২০২৬ সালে সদ্য স্নাতকোত্তর সম্পন্ন হয়েছে। বিভিন্ন ভাষার সাহিত্য পড়ার পাশাপাশি ভারতীয় নানা ভাষার আঞ্চলিক বই সংগ্রহ ও অনুবাদের প্রতি তার ঝোঁক। বিশ্ব সাহিত্য, বিভিন্ন দেশি-বিদেশী ভাষা ও সংস্কৃতির বিশাল পরিসরই মূলত তাঁর আগ্রহের বিষয়। বিভিন্ন ভাষার সাহিত্য পড়া, সংগ্রহ করা ও অনুবাদের মধ্য দিয়েই নিজের পাঠ ও লেখার জগৎকে ক্রমশ বিস্তৃত করতে উৎসুক।
সব কাজ দেখুন →সংখ্যা ১-এর অন্যান্য লেখা
সংখ্যা ১সম্পাদকীয়
সম্পাদকীয়
“কম্পিউটার, ই-মেল এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা নিয়ে অনেক আলোচনা হয়। কিন্তু আমরা এখন এমন এক যুগে প্রবেশ করেছি যেখানে মানুষকেও হ্যাক করা সম্ভব।” ‘উই আর বিকামিং হ্যাকেবল অ্যানিমেলস’—হাড়হিম করে দেওয়া এক বাস্তবতার কথা আমাদের বলেছেন হারারি।
সংখ্যা ১গল্পস্বল্প
বোতাম
সবকিছু যখন এক ক্লিকে বদলে যায়, তখন কিছু মানুষ নিঃশব্দে পাহারা দেয় তাদের চিরপুরাতন বিশ্বাস। সুতো আর মায়া দিয়ে পার্বতীদি কী বুনে চলেছেন দিনরাত? কাগজের মতো সহজে ছিঁড়ে যাওয়া সম্পর্কের ভিড়ে, বুকের ভেতরে সামান্য কাপড় বাঁচিয়ে রাখার এক মায়াবী আখ্যান ‘বোতাম’।
সংখ্যা ১বিজ্ঞান
মনোরোগের ধূসরতায়: দ্বিতীয় পর্ব
রোগ নিরাময়, নাকি আধুনিক বিজ্ঞানের পোশাকে আদিম বর্বরতা? কখনো পেটের নাড়িভুঁড়ি কেটে বাদ দেওয়া, কখনো মস্তিষ্কের ফ্রন্টাল লোব খুবলে নিয়ে রোগীকে জড়ভরত বানিয়ে দেওয়া, আবার কখনো ম্যালেরিয়ার জীবাণু বা ইনসুলিনের মারণ কোমা দিয়ে তথাকথিত ‘চিকিৎসা’! এমনকি এই মারাত্মক লোবোটমির জন্য জুটেছিল নোবেল পুরস্কারও। চিকিৎসকদের অন্ধ অহংকার আর অসহায় পরিবারের আর্তি কীভাবে মানসিক রোগীদের ঠেলে দিয়েছিল এক জীবন্ত নরকে? মনোরোগ চিকিৎসার আদিপর্বের চাঞ্চল্যকর ইতিহাস জানুন দ্বিতীয় পর্বে—‘মনোচিকিৎসার আদিপর্ব: বিজ্ঞানের আড়ালে’।
ওড়িশা প্রজাতন্ত্র—বিংশ শতাব্দীর ইতিবৃত্তের এক বিস্মৃত পৃষ্ঠা ধারাবাহিকের অন্যান্য পর্ব
সংখ্যা ১পুরাতনী
ওড়িশা প্রজাতন্ত্র—বিংশ শতাব্দীর ইতিবৃত্তের এক বিস্মৃত পৃষ্ঠা: প্রথম পর্ব
১৮৪৫ সালে লেখা ১৯২৫ সালের এক কাহিনি। এক বিকল্প ইতিহাস। বিদ্রোহের গল্প। এক ভবিষ্যতের উড়িষ্যার গল্প। যে উড়িষ্যা একদিন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের শৃঙ্খল ভেঙে স্বাধীন প্রজাতন্ত্রে পরিণত হবে। কিন্তু সেই স্বাধীনতার পথ মসৃণ নয়; তার ভিতর লুকিয়ে আছে অরণ্যের গভীরে জমে থাকা ক্ষোভ, হারিয়ে যাওয়া স্বাধীনতার স্মৃতি এবং পাহাড়ি মানুষের অদম্য আত্মমর্যাদা। শশীচন্দ্র দত্তের এই কল্প-ভবিষ্যতের কাহিনি যেন উনিশ শতকের ঔপনিবেশিক বাস্তবতার এক প্রতিবিম্ব; স্বাধীনতার স্বপ্ন কীভাবে প্রতিরোধের ভাষা খুঁজে পায়, তার এক রোমাঞ্চকর আখ্যান।
আরও পড়ুন
সংখ্যা ১পুরাতনী
ওড়িশা প্রজাতন্ত্র—বিংশ শতাব্দীর ইতিবৃত্তের এক বিস্মৃত পৃষ্ঠা: প্রথম পর্ব
১৮৪৫ সালে লেখা ১৯২৫ সালের এক কাহিনি। এক বিকল্প ইতিহাস। বিদ্রোহের গল্প। এক ভবিষ্যতের উড়িষ্যার গল্প। যে উড়িষ্যা একদিন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের শৃঙ্খল ভেঙে স্বাধীন প্রজাতন্ত্রে পরিণত হবে। কিন্তু সেই স্বাধীনতার পথ মসৃণ নয়; তার ভিতর লুকিয়ে আছে অরণ্যের গভীরে জমে থাকা ক্ষোভ, হারিয়ে যাওয়া স্বাধীনতার স্মৃতি এবং পাহাড়ি মানুষের অদম্য আত্মমর্যাদা। শশীচন্দ্র দত্তের এই কল্প-ভবিষ্যতের কাহিনি যেন উনিশ শতকের ঔপনিবেশিক বাস্তবতার এক প্রতিবিম্ব; স্বাধীনতার স্বপ্ন কীভাবে প্রতিরোধের ভাষা খুঁজে পায়, তার এক রোমাঞ্চকর আখ্যান।
সংখ্যা ১পুরাতনী
১৯৪৫ সালের এক ৪৮ ঘন্টার জার্নাল: অন্তিম পর্ব
বিশ্বাসঘাতকতার ছায়া, এসপ্ল্যানেডে কামানের গর্জন আর বধ্যমঞ্চে এক অমর বিপ্লবীর শেষ বার্তা! প্রথম লড়াইয়ের প্রাথমিক জয় কি শেষ পর্যন্ত টিকবে? একদিকে ভাইসরয়ের গোপন সামরিক চক্রান্ত ও অতিরিক্ত সেনার আক্রমণ, অন্যদিকে সহযোদ্ধাদের একের পর এক মৃত্যুবরণ— এমনই এক সঙ্কটময় মুহূর্তে গর্জে উঠল কেল্লার কামান। রক্তক্ষয়ী এক অসম যুদ্ধ আর শিরশ্ছেদের মঞ্চে দাঁড়িয়েও এক তরুণের কণ্ঠে স্বাধীনতার জয়গান। পরাধীন ভারতে লেখা ভবিষ্যৎ-বিপ্লবের এক বিস্মৃত আখ্যানের মর্মস্পর্শী অন্তিম পর্ব।
সংখ্যা ১পুরাতনী
১৯৪৫ সালের এক ৪৮ ঘন্টার জার্নাল: প্রথম পর্ব
১৮৩৫ সালে বসে এক অষ্টাদশবর্ষীয় তরুণের কল্পনায় দেখা ১৯৪৫-এর ভারত! ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সূচনাপর্বের বহু আগেই কল্পবিজ্ঞানের ধাঁচে ব্রিটিশের বিরুদ্ধে এক দুঃসাহসিক বিদ্রোহের স্বপ্ন দেখেছিলেন হিন্দু কলেজের কৃতী ছাত্র কৈলাস চন্দ্র দত্ত। ঔপনিবেশিক শৃঙ্খল চূর্ণ করবার সশস্ত্র সংকল্পে গর্জে উঠেছিল গল্পের নায়ক ভুবনমোহনের কণ্ঠ। রক্তক্ষয়ী সংঘাত আর এক অসম যুদ্ধের সূচনা—কী ঘটেছিল সেই ঐতিহাসিক সন্ধ্যায়? পরাধীন ভারতের প্রথম বিদ্রোহী কল্পকাহিনীর শ্বাসরুদ্ধকর সূচনা পড়ুন প্রথম পর্বে।


