মনোরোগের ধূসরতায়: প্রথম পর্ব

আমরা কি সত্যিই অসুস্থ, নাকি আমাদের রোগী বানানো হচ্ছে? বিশ্বজুড়ে মানসিক রোগের রমরমা—কিন্তু এই ‘মহামারী’ কি বাস্তব, নাকি করপোরেট মুনাফার কারসাজিতে বানানো এক অবাস্তব আখ্যান? জীবনের তুচ্ছাতিতুচ্ছ দ্বন্দ্ব-জটিলতা কি শিশুর চঞ্চলতা—অস্বাভাবিক? নাকি নেহাৎ ওষুধ কোম্পানির খদ্দের ধরার ফাঁদ। যে বিজ্ঞানের এখনও কোনো জৈব-রাসায়নিক মাপকাঠিই নেই, তা কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে একটা বিরাট বাজার? শুরু হলো দেবাশিস মুখোপাধ্যায়ের অনুসন্ধিৎসু সত্যান্বেষণ—‘মনোরোগের ধূসরতায়’! মনোরোগের ইতিহাস আর তার অন্ধকার, বিজ্ঞানের নির্মম পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরিহাস, ফ্রয়েডীয় ফাঁকফোকর, স্নায়ুযুদ্ধ অথবা সি.আই.এ-র ষড়যন্ত্র—মনোচিকিৎসা ও ওষুধ সাম্রাজ্যের হাড়হিম করা রোমাঞ্চকর সত্য উন্মোচিত হতে চলেছে এই ধারাবাহিকের আঠারোটি পর্ব! আজ প্রথম পর্ব ‘সঙ্কটের স্বরূপ’।

মনোরোগের ধূসরতায়পর্ব ১/৪
দেবাশিস মুখোপাধ্যায়ের প্রতিকৃতি
১৫ মিনিট পড়া
শেয়ার করুন
মনোরোগের ইতিহাস, বিজ্ঞানের নির্মম পরীক্ষার পরিহাস, ফ্রয়েডীয় ফাঁকফোকর—মনোচিকিৎসা ও ওষুধ সাম্রাজ্যের হাড়হিম করা সত্যের উন্মোচন।সংখ্যা ১
লেখার আকার
লেখার অবস্থান
সূচিপত্র
  1. সঙ্কটের স্বরূপ
  2. উৎসসূত্র

সঙ্কটের স্বরূপ

মানসিক রোগ নিয়ে যুক্তিসম্মত আলোচনা করতে গেলে আগেই বিষয়টার ব্যাপ্তি ও গুরুত্ব সঠিকভাবে পরিমাপ করতে হয়। সেই মূল্যায়নেই যদি অনিশ্চয়তা থাকে তাহলে সেই বিষয়ের বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠে। মানসিক রোগের সামাজিক ব্যাপ্তি জানার ক্ষেত্রে সেই সমস্যা এতটাই প্রকট যে, মনোরোগের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি যে কতটা মজবুত তা নিয়েই সন্দেহ থেকে যায়। চিকিৎসাশাস্ত্রের সব শাখাতেই কিছু না কিছু অনিশ্চয়তা আছে, কিন্তু আস্তে আস্তে সেই সব শাখায় পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলাফলের প্রভাবে, রোগনির্ণয় ও তার বিস্তার নিয়ে ধোঁয়াশা কিছুটা কমেছে। তবে তার ফলে অন্য সমস্যা যে তৈরি হচ্ছে না তা নয়। মনের রোগের ক্ষেত্রে এখনো কোন জৈব রাসায়নিক পরিমাপ আসেনি বলে কেবলমাত্র রোগের বহিঃপ্রকাশকেই রোগ হিসেবে দেখার বেশি কিছু করা যায় না। এই শাস্ত্র তাই এখনো চিকিৎসাশাস্ত্রের মধ্যযুগ পর্যায়ে পড়ে আছে। তার ওপর প্রায় আদিম এই বিদ্যাই আজ পয়সা রোজগারের এক খনি হয়ে উঠেছে। বিজ্ঞানের এই সীমাবদ্ধতাকে নিজের স্বার্থে পরিচালন করা আজ এই ক্ষেত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এর ফলে সমস্যা আরও জটিল হয়ে গেছে। তাই আমাদের এই অন্ধকার পথে খুব সাবধানে এগোতে হবে।

মানসিক রোগের ক্ষেত্রে কাকে রোগী বলা হবে তা নিয়েই এখনো কোন ঐক্যমত নেই। যদিও সেই অনৈক্যের মধ্যে প্রতিষ্ঠানের চাপে চিন্তাকে একবাদী করা হচ্ছে, কিন্তু তাতে সমস্যার নতুন নতুন মাত্রা তৈরী হচ্ছে। এরপরের সমস্যা হল এই রোগের সাথে বিভিন্ন মানুষ ও সংগঠনের স্বার্থ বিভিন্ন মাত্রায় যুক্ত থাকে। যেমন কোন মানসিক রোগী নিজে ততটা বিচলিত না হলেও দেখা যায় হয়ত তার পরিবার তার চেয়ে বেশী বিপন্ন বোধ করে। অনেকসময়ে সমাজের মাপকাঠিতে সেই ব্যক্তি যতটা অসুস্থ বলে প্রতিপন্ন হন, তিনি নিজে হয়ত ততটা হন না। ফলে সেক্ষেত্রেও তাকে মানসিক রোগী বানানোর সামাজিক তাগিদ থাকে। যেমন ধরুন কোনো ছাত্র যদি ক্লাসে অতিরিক্ত ছটফট করে তাহলে তার শিক্ষকের ক্লাস নিতে অসুবিধে হয়। এই অস্থিরতার ফলে যদি সে রেজাল্ট খারাপ করে তাহলে তার বাবা-মা বিপন্ন বোধ করেন, তখন তাদের মনে হয় সন্তানের কোন মানসিক সমস্যা আছে। অন্যদিকে সেই ছাত্রকে এই নিয়ে শাসন না করলে, সে কিন্তু ভালই থাকে। ফলে তার মনোযোগের সমস্যা আদৌ কোনো অসুখ কিনা তাই নিয়ে সংশয় থেকে যায়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাবা-মায়ের সমস্যার কারণে যদি তাকে কোনো ওষুধ-কোম্পানি সারা জীবনের জন্য মোটা খদ্দের করতে পারে তাহলে সেই কোম্পানির স্বার্থেও তাকে রোগী হয়ে যেতে হয়! তাই দেখা যায় চিকিৎসাশাস্ত্রের এই ধারা এক ভয়ংকর যুদ্ধক্ষেত্র। সেই যুদ্ধে শত্রুবন্ধুর সীমারেখা অস্পষ্ট, যুদ্ধের গতিপ্রকৃতিও অনিশ্চিত আর সেই কুরুক্ষেত্রের বিবরণ দেওয়াও কঠিন, বলা যেতে পারে অসম্ভব। তবে সেই কুয়াশার চাদরে ঢাকা বাস্তবকে যতটা বিস্তৃত প্রেক্ষাপটে সম্ভব দেখা উচিত কারণ তাতেই জটিল এই বিজ্ঞানের সামান্য অগ্রগতি হলেও হতে পারে। ফলে এই আলোচনাকে অনুসন্ধান বলাই উচিত, এতে সমস্যার কথাই বেশি। সমাধানের সামান্য দায়ই যে কারুর কাছে অনতিক্রম্য বোঝা। এর সামান্যতম সমাধান যদিও বা থাকে তাকে খুঁজতে গেলে গোটা সমাজের প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতাকে নিয়েই এগোতে হবে। অন্ধকারে ঢাকা এই বন্ধুর পথে কতরকম চোরাগলিতে যে ফেঁসে যাওয়ার সম্ভাবনা তা বোঝা সহজ নয়। মানসিক সমস্যার স্বরূপকে না বুঝতে পারার জন্য এই বিষয়টা অন্ধের হস্তিদর্শন বললেও কম বলা হবে। বরং বলা যায় যে, যারা অনুসন্ধান করেন তারা অন্ধ হয়ে ঘরে কেবল হাতি দেখতেই ঢোকেন না, সেই ঘরে হাতি ছাড়া অন্য জন্তুও যে থাকতে পারে সেই সামান্য তথ্যটা সেই অন্ধ অনুসন্ধানীদের জানানো হয় না।

আজকের দিনে তো মানসিক অবসাদ এক ভয়ংকর মাত্রায় চলে গেছে বলে অনেকেই মনে করেন। মহান গ্রিক চিকিৎসক হিপোক্রিটাস মানুষের বহু অসুখের বিস্তৃত বিবরণ রেখে গেলেও তাঁর রচনায় আলাদা করে অবসাদ নিয়ে কোনো আলোচনা নেই। তাঁর অন্যান্য লেখার মধ্যেও এই রোগ নিয়ে খুব সামান্যই বলা আছে। একবার এক রাজপুত্রের খিদে ও ঘুম চলে যায় এবং মনের অশান্তি ও অস্থিরতায় সে এতটাই বিপন্ন হয়ে যায় যে, রাজা বাধ্য হয়ে হিপোক্রিটাসের শরণাপন্ন হন। তিনিই দেখলেন যে রাজার এক উপপত্নীর সাথে অবৈধ সম্পর্কে লিপ্ত রয়েছে সেই রাজপুত্র। এই সমস্যা সমাধান করেই তিনি রাজপুত্রের রোগ সারান। অন্যদিকে সপ্তদশ শতাব্দীর বিখ্যাত ব্রিটিশ চিকিৎসক রবার্ট বার্টন তাঁর মহাগ্রন্থ Anatomy of Melancholy-তে লিখেছেন মানুষ চিরসুখে জীবন কাটাতে পারবে বলে যদি মনে করে তাহলে তা অলীক কল্পনা। জীবনের ওঠাপড়ায় দুঃখ আসবেই; তবে সেই অবস্থা যদি কারুর অভ্যেস হয়ে যায় তাহলেই তাকে অসুখ বলা যাবে। আমরাও তো সেই ‘চক্রবৎ আবর্তন্তে সুখানি দুঃখানি চ’ শুনেছি। আসলে অতীতে মানুষের বেঁচে থাকাই এতটা কষ্টের ছিল যে, মানসিক রোগ নিয়ে আলাদা করে ভাবতে গেলে বেঁচে থাকার আনন্দটাই ফস্কে যাবার সম্ভাবনা থাকত। সেই যুগের সাথে আজকের জীবনযাত্রার এই তফাতই রোগের ধারণা অনেকটা পালটে দিয়েছে।

১৯৫০ দশকের শেষ ৬০ এর গোড়ায় কানাডার স্টার্লিং কাউন্টিতে এবং আমেরিকার ম্যানহাট্টানে মানসিক রোগের বিস্তার নিয়ে এক বিশাল ক্ষেত্র গবেষণা হয়। সেই অনুসন্ধানে দেখা যায় যে সমাজের এক বড়ো সংখ্যক মানুষ মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত। আমেরিকার সেই গবেষণার ফলাফলে যখন দেখা গেল যে, ম্যানহাট্টানের অর্ধেকের বেশী মানুষ মানসিকভাবে সুস্থ নন তখন সে দেশের সংবাদমাধ্যম সেই গবেষণার ফলাফলকে অবিশ্বাসের চোখে দেখেছিল। সম্ভবত তখনকার সামাজিক মানসিকতায় এই ফল সত্যিই বিশ্বাসযোগ্য ছিল না। এমনকি আমেরিকার সরকারী সমীক্ষা NCS-R (national comorbidity survey)-তে যখন বলা হল যে, এক বড় শতাংশের মানুষ বিভিন্ন মানসিক সমস্যায় জর্জরিত তখন সেই সমীক্ষার পদ্ধতিকেই লোকে সন্দেহ করত। এইধরনের সমীক্ষার সাধারণত এতটাই দুর্বলতা থাকে যে, আমেরিকার মানসিক রোগের বিখ্যাত গবেষক ও সেদেশের রোগনির্ণয় সংস্থার এক শীর্ষ কর্তা আলেন ফ্রান্সেস বলেন যে ‘epidemiology has done more damage to psychiatry than almost anything else’। সেইসব সমীক্ষা যেহেতু গবেষকরা করেন তাতে মানসিক অবস্থার সামান্য বৈচিত্র্যকেই রোগে পরিণত করার প্রবণতা থাকে। সেইরকম প্রবণতার ফলেই ২০০৪ সালের সমীক্ষায় আমেরিকার পনের থেকে কুড়ি শতাংশ মানুষের ব্যক্তিত্বের সমস্যা (personality disorder) আছে বলে দেখা গেছে, যা অনেকেই বিশ্বাস করতে পারেননি। তবে আস্তে আস্তে সমাজের মধ্যে মানসিক রোগের প্রাধান্যের ধারণা বাড়ছে শুধু নয়, তা আজ এমন পর্যায়ে চলে গেছে যে আজ মানুষ সমীক্ষার ফলাফল কমিয়ে দেখায় বলেই বিশ্বাস করে। আমাদের মনকে কীভাবে এই বিশ্বাসে নিয়ে আসা গেল তা আমাদের আলোচনার এক মূল লক্ষ্য।

সব সমীক্ষায় রোগের প্রাদুর্ভাবকে ফাঁপিয়ে দেখার এক বৈশিষ্ট্য হল যে, সব মানসিক রোগই খুব বাড়ছে দেখা গেলেও উন্মাদরোগের (schizophrenia) প্রাদুর্ভাবের কোন পরিবর্তন দেখা যায়নি। এর একটা কারণ মনে করা হয়, সেই সমীক্ষকদের এই রোগ নিয়ে যতটা উদাসীনতা থাকে অন্য রোগের প্রতি ততটাই উৎসাহ থাকে। মানসিক রোগের এই ‘সমীক্ষা মহামারী’ আজ এক বাস্তব এবং এর সামাজিক তাৎপর্য বোঝা খুব জরুরি। তবে তা করতে গেলে আগে এই ‘সমীক্ষা মহামারী’-র প্রকৃত ‘মনোরোগ মহামারী’-র সঙ্গে সাযুজ্য কতটা তা বোঝা দরকার। যদি দেখা যায় যে এই বাড়িয়ে দেখানো নেহাতই এক কল্পনা, তাহলে সেই ঘটনার পিছনে কারণ উদ্ধার করা উচিত। আজ এইসব সমীক্ষার ফলাফলকে বিনা বিচারে প্রচার মাধ্যম ও সমাজ মেনে নিয়ে এমন অবস্থা হয়েছে যে, আজ আমেরিকায় জনসংখ্যার প্রতি তিনজনের এক জন মানসিক রোগে আক্রান্ত বলে সেদেশের প্রায় সবাই বিশ্বাস করে। ১৯৯০ সালে ড. কেসলারের অধীনে বিশাল এক সমীক্ষায় প্রথম প্রমাণিত হয় যে, যে কোনো বছরে আমেরিকার তিরিশ শতাংশ মানুষ মানসিক রোগে আক্রান্ত হন। সেই সমীক্ষার ফলাফলে সন্দেহ করেন আমেরিকার জাতীয় স্বাস্থ্য গবেষণার গবেষক ড. উইলিয়াম ন্যারো। সেই ফলাফলকে ভালো করে বিচার করে তাঁরা দেখেছিলেন যে, যাদের মানসিক রোগী বলে সেই সার্ভেতে ধরা হয়েছে তাদের অনেকেই চিকিৎসাশাস্ত্রের বিচারে রোগী নন। তাঁদের সমালোচনার পরেই অনেকেই সেই ৩০% সংখ্যাকে চ্যালেঞ্জ করে বসল। তার ফলে বহুল প্রচারিত সেই সংখ্যাকে কমানো হল। পুনর্মূল্যায়নে তা কমে ২০% হল। নতুন সমীক্ষার সেই কমানো ২০% ড. ন্যারোর বিশ্লেষণ অনুযায়ী অনেক বেশী কারণ সেই সমীক্ষায় অনেক পদ্ধতিগত ত্রুটি ও সীমাবদ্ধতা ছিল।

কেসলারের সেই সমীক্ষা মানসিক রোগের ওষুধ কোম্পানীদের কাছে খুশির বার্তা বয়ে আনল। প্রথম সার্ভেটি যদিও আমেরিকার সরকারের পয়সায় হয়েছিল কিন্তু তারপর তিনি তাঁর পদ্ধতিতে বিশ্বব্যাপী যে এক বিশাল সমীক্ষা ২০০১-০৩ সালে করেন তার খরচের অনেকটাই সরবরাহ করেছিল পৃথিবীর অবসাদনাশক ওষুধের প্রধান উৎপাদকরা। ১৪ টি দেশের সেই সমীক্ষায় দেশভিত্তিক রোগ প্রাদুর্ভাবে যদিও প্রচুর ফারাক ছিল কিন্তু সেই সমীক্ষায়ও দেখা যায়, কোনো বছরে আমেরিকার ২৬% মানুষ মানসিক রোগে ভোগেন। এই সমীক্ষায় জাপান ও ইতালিতে এই প্রাদুর্ভাব যথাক্রমে ৯% ও ৮% হলেও ড. ন্যারো সহ অনেকেই এই সমীক্ষাগুলিকে, সমস্যাকে অতিরঞ্জিত করার দায়ে সমালোচনা করেছিলেন। তবে এই সমীক্ষা আমাদের এও দেখিয়েছিল যে, বিনা চিকিৎসার ধারণার বিপরীতে বহু রোগী ছিল যাদের রোগ এতটাই মৃদু ছিল যে তাদের ওষুধ প্রয়োজন না হওয়া সত্ত্বেও তাদের ওষুধ প্রয়োগ করা হচ্ছিল। তাই আমাদের ‘বিনা চিকিৎসার’ ধারণাকে ‘বিনা রোগে চিকিৎসার’ লব্জে পাল্টানোর দিন এসে গেছে।

মানসিক রোগবিস্তারের গবেষণামূলক সমীক্ষায় এই অস্বাভাবিক সংখ্যা বৃদ্ধি একদিকে ওষুধ কোম্পানিগুলির ‘ভাগ্য’ খুলে দেয়। অন্যদিকে এই তথ্যকে যদি সমালোচনামূলক কোণ থেকে দেখা যায় তাহলে এর মধ্যে অন্ধকারের সন্ধানও পাওয়া যাবে। মানসিক চিকিৎসার অগ্রগতি নিয়ে যে প্রচার করা হয় তার সত্যতা কিন্তু এই সংখ্যাবৃদ্ধির পরিসংখ্যানে বেআব্রু হয়ে পড়ে। মানসিক রোগের ওষুধ বাড়া সত্ত্বেও রোগের প্রাদুর্ভাবের এই বাড়াকে তখন আর চিকিৎসার ব্যর্থতা হিসেবে না দেখিয়ে বলা হয় যে তা রোগনির্ণয়ের উন্নতির জন্যই হয়েছে। ঠিক যেমন তা ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের জন্য হচ্ছে। অন্যদিকে আবার কোনো দেশের এত বেশি হারে মানুষ অসুস্থ হলে তাদের সামাজিক সুরক্ষা দেবার প্রয়োজন সামনে আসে এবং তাতে এক বিরাট সম্পদ চলে যায়। সেই খরচ যেহেতু জনগণের দেওয়া ট্যাক্সের টাকায় আসে তাই তা নিয়ে কেউই মাথা ঘামায় না, দেশের অর্থনীতির ওপর তা এক বোঝা হলেও না। ওষুধ কোম্পানির ব্যবসা সুরক্ষিত থাকে, মানুষ সব সমস্যাকে নিজের মানসিক সমস্যা বলে দেখে, সামাজিক স্থিতাবস্থাও বজায় থাকে।

তবে এই বর্ধিত পরিসংখ্যানের আড়ালে কিন্তু সত্যের কিছুটা হলেও আভাস পাওয়া যায়। ১৯৮৭ সালে আমেরিকায় সামাজিক সুরক্ষা পাওয়া অসুস্থ প্রায় তিন লক্ষ কমবয়সীর মধ্যে মাত্র ১৬,২০০ জন অর্থাৎ ৫.৫% মানসিক অসুখে আক্রান্ত ছিল। সেই সাহায্যপ্রাপ্ত মানসিক শিশু রোগীর সংখ্যা তারপর বাড়তে বাড়তে ২০০৭ সালে তা ৫৬১,৫৬৯-এ এসে দাঁড়ায় অর্থাৎ মাত্র কুড়ি বছরে এই বৃদ্ধি হয় ৩৫ গুণ। সেদেশে এখন অক্ষম শিশুদের মধ্যে মানসিক রোগাক্রান্ত শিশুর সংখ্যা অর্ধেকে দাঁড়িয়েছে। এই ধরণের রোগ নির্ণয়ে যেহেতু সমীক্ষার থেকে অন্য পদ্ধতিও নেওয়া হয় তাই এই সংখ্যাকে কেবল অনুসন্ধানের বাড়াবাড়ি বলে উড়িয়ে দেওয়া যাবেনা। ফলে সমস্যা বাড়ছে এবং তা শিশুদের ক্ষেত্রে বাড়ছে, যাদের আগে মানসিক রোগে আক্রান্ত বলে মনে করা হতনা। তাই ‘সমীক্ষা মহামারীর’ অজুহাতে সংখ্যাবৃদ্ধিকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করাও বোকামি হবে।

মানসিক অবসাদের ক্ষেত্রে এই পরিসংখ্যান কোন সত্যের ইঙ্গিত দেয় তা এবার একটু অন্য দিক থেকে দেখা যাক। মানসিক অবসাদের ওষুধ আসার আগে ১৯৫৫ সালে আমেরিকার মানসিক হাসপাতালে ৩৮২০০ জন রোগী মানসিক অবসাদের কারণে ভর্তি থাকত। সেই সংখ্যা তখন সে দেশের জনসংখ্যার সাপেক্ষে ৪৩৪৫ জনে ১ জন ছিল। আজ আমেরিকার মানসিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মতে সেদেশে দেড় কোটি মানসিক অবসাদের রোগী আছে, যাদের মধ্যে ৬০%-ই তীব্র অবসাদে আক্রান্ত। ফলে সেদেশে এখন ৯০ লক্ষ মানুষ তীব্র মানসিক অবসাদ আক্রান্ত। যদি এদের এক সামান্য অংশও হাসপাতালে ভর্তি করার মতো হন তাহলেই তা এই রোগ বৃদ্ধির এক ভয়ংকর চিত্রকে হাজির করবে। তবে আবার মনে রাখতে হবে যে এই গবেষণার মধ্যে কিছুটা পক্ষপাতদুষ্টতা অবশ্যই আছে। তবে এক্ষেত্রে এই পরিমাপ কিন্তু চিকিৎসা সংস্থার করা বলে, সেই সম্ভাবনা ক্ষেত্রসমীক্ষার থেকে কম বলেই ধরা যেতে পারে। অন্যদিকে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মতে ২০৩০ সালে মানসিক অবসাদ অক্ষমতা ও মৃত্যুর সবচেয়ে বড় কারণ হয়ে উঠবে। অন্য গবেষণায় দেখা গেছে যে ১৮-২৯ বছরের মানুষদের মানসিক অবসাদের ঘটনার সম্ভাবনা ষাটোর্ধ্ব মানুষদের থেকে তুলনায় বেশি যদিও তারা অর্ধেকের কম সময় পৃথিবীতে কাটিয়েছে।

মানসিক অবসাদের প্রাদুর্ভাব যে বেড়েছে তা প্রায় নিশ্চিত কিন্তু সেই সংখ্যাবৃদ্ধিকে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে সবচেয়ে ভাল কাজে লাগাতে পেরেছে ওষুধ কোম্পানিরা। ১৯৯৬ সালে আমেরিকায় ১.৩ কোটি মানুষ অবসাদনাশক ওষুধ খেতেন আর ২০০৫ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে ২.৭ কোটি হয়ে গেছে। আর যদি কেবল ওষুধের দিক থেকে হিসেবে করা হয় তাহলে দেখা যাবে আমেরিকায় অবসাদনাশক ওষুধ ফ্লুয়োক্সেটিনর বিভিন্ন রকমের ব্যবহার ধরলে তা প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি মানুষ ব্যবহার করে থাকেন। সেদেশের জিওলজিক্যাল সার্ভের অনুসন্ধানে অর্ধেক নদীনালাতেই এই ওষুধের অবশেষ পাওয়া গেছে। এটি বিবর্তনের এত প্রাচীন এক রাসায়নিক যে এর প্রভাবে মাছ, শামুক ইত্যাদি জলজ প্রাণীর বৃদ্ধি ও প্রজনন আক্রান্ত হয়েছে। জর্জিয়া ইউনিভার্সিটির পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের গবেষক মার্শা ব্ল্যাক দেখেছেন যে সেখানের মিসিসিপি নদীতে এই ওষুধের অবশেষের কারণে অর্ধেক মাছই অকালে মারা যাচ্ছে বা বাড়ছে না। এই রাসায়নিকের সামান্য সংস্পর্শেই মাছেরা অকারণে ক্রমাগত ঘুরে যেতে থাকছে। এই ব্যবহার তাঁর মতে ধ্বংসের এক ইঙ্গিত।

এই মানসিক রোগ বাড়ার প্রচারকে ওষুধ কোম্পানিই তুঙ্গে নিয়ে যায়। ১৯৯০ সালে অস্ট্রেলিয়ায় একদল সাধারণ চিকিৎসকদের শিক্ষামূলক পাঠ্যে (CME) বলা হয় যে সার্জারিতে নিয়ে যাওয়া রোগীদের তিনজনের একজনই দেখা গেছে মানসিকভাবে অসুস্থ। ফলে তাঁদের চেম্বারের রোগীদের অনেক আক্রমণাত্মকভাবেই মানসিক রোগের চিকিৎসা করা উচিত বলে শেখানো হয়। পরে দেখা গেছে এইসব শিক্ষামূলক অনুষ্ঠানের পরিচালক অবসাদনাশক ওষুধ উৎপাদক কোম্পানিগুলো। এইসব শিক্ষার প্রভাবেই অস্ট্রেলিয়া ১৯৯০ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে অবসাদনাশকের ব্যবহার বাড়ে তিনগুণ আর ১৫-২৪ বছরের ক্ষেত্রে তা বাড়ে দশগুণ। এছাড়া মেয়ার স্কুইব কোম্পানি সাধারন চিকিৎসকদের সহজেই মানসিক অসুখ সনাক্ত করার জন্য এক প্রশ্নোত্তরের চার্ট তৈরী করে। সেই পরীক্ষায় দেখা গেল ৪৯% রোগীই মানসিক রোগে আক্রান্ত, যার অর্ধেকের অবস্থা তীব্র বলে চিহ্নিত করা হয়েছিল। পরে সেদেশের মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাবিভাগের অনুসন্ধানে জানা গেল সেই রোগনির্ণয়ের পদ্ধতিতে ভয়ানক ত্রুটি আছে। এদের অধিকাংশেরই আদৌ কোন মানসিক রোগ নেই। পরে দেখা গেছে যে এই পরীক্ষার মাধ্যমে নিজেদের এক মারাত্মক ক্ষতিকারক অবসাদনাশকের বিক্রি বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছিল সেই কোম্পানি। সেরজোন নামের সেই ওষুধ লিভারের পক্ষে এতটাই ক্ষতিকর ছিল যে তাকে চুপিচুপি বাজার থেকে তুলে নেয় কোম্পানি।

যে সব সরকারী সমীক্ষায় আগে সাধারন মানুষ অবিশ্বাস করতেন আস্তে আস্তে তাতে তাদের বিশ্বাস করানোর চেষ্টা শুরু হল। এতে একসঙ্গে সরকার, কর্পোরেট ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা হাত মেলাল। আমেরিকার মনোবিদদের সংস্থা সংবাদমাধ্যমকে সবার মধ্যে মানসিক রোগ যে কিছুই নয় চিকিৎসায় সেরে যায় তা প্রচার করতে অনুরোধ করল। মানসিক রোগের প্রাদুর্ভাব যে অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে এবং তা চিকিৎসায় সারিয়ে তোলা যায় তা চারদিকে ঢেঁড়া পিটিয়ে প্রচার করে দেওয়া হল। অর্থাৎ সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক মননে যে অবিশ্বাস ছিল তাকে নির্বাসন দেওয়া হল। সেই সময়ে এই সংস্থার প্রেসিডেন্ট স্টটল্যান্ড রেগান প্রশাসনের আদর্শে কর্পোরেটদের খুশি করতে প্রচার মাধ্যমকে বললেন— “to help us inform the public that psychiatric illnesses are real, psychiatric treatments work, and that our data is as solid as in other areas of medicine.” সে প্রচার আর জীবনযাত্রার সঙ্কটে আজ সাধারণ মানুষের মধ্যে মানসিক রোগ ও তার চিকিৎসায় বিশ্বাস অটল হয়েছে। তবে বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের সময়ে আমাদের মনে রাখতে হবে যে একসময়ে গোয়েবেলের কথাও মানুষ বিশ্বাস করত, আর আজ কর্পোরেট মিথ্যা প্রচার গোয়েবেলের থেকে কোন অংশে কম নয়। কায়েমী স্বার্থ মনোরোগবিদ্যাকে আজ এতটাই নিয়ন্ত্রণ করে যে এর মধ্যে বৈজ্ঞানিক ভিত্তি খুঁজে পাওয়া দুষ্কর।

সামাজিক মন নিয়ন্ত্রণ কোন পর্যায়ে পৌঁছে গেছে তা বুঝতে এক ঘটনার কথা বলা যাক। আমেরিকার বিখ্যাত নাট্যকার আর্থার মিলার ১৯৪০ এর দশকে ‘ফেরিওয়ালার মৃত্যু’ বলে এক অসামান্য নাটক সৃষ্টি করেন। সমাজ আর কর্পোরেটের চাপে ভেঙে পড়া এক সেলসম্যান লোমানকে নিয়ে। সেই নাটকের পঞ্চাশ বছর পূর্তিতে ১৯৯৪ সালে সেই নাটকের স্ক্রিপ্ট যুগোপযোগী করে তা দুজন মনোবিদের কাছে পাঠান পরিচালক। সেই মনোবিদদের মতামত নিউ ইয়র্ক টাইমস কাগজে—এই নাটকের আলোচনার শিরোনাম—“Get That Man Some Prozac,” বলে প্রকাশ পায়। বৃদ্ধ মিলার সেই সামাজিক অর্থনৈতিক চাপে ভেঙে পড়া মানুষের মৃত্যুকে মানসিক রোগ বলে চালানোর মতামতের তীব্র বিরোধিতা করেন। আসলে তিনি ভুলে গেছিলেন যে, সেই মনোবিদদের প্রতিক্রিয়া, এই যুগের সামাজিক দর্শন যাতে সমাজ সংসারের সব কালিমা মনের কৃষ্ণগহ্বরে বিলীন হয়ে যায়।


উৎসসূত্র

এই লেখাটি লিখতে গিয়ে যে গ্রন্থগুলি ব্যবহার করেছি তা হল—(১) Robert Whitaker: Anatomy of an Epidemic, (২) Andrew Scull: Desperate Remedies, (৩) Andrew Scull: Psychiatry and Its Discontents, (৪) Lewinsohn et al.: Control Your Depression, (৫) Craig Morgan & Others: Principles of Social Psychiatry, (৬) Jo Merchant: Cure: A Journey into the Science of Mind over Body, (৭) Bhugra and Bhui: Textbook of Cultural Psychiatry, (৮) R. J. Miller: Drugged, (৯) David Burns: Feeling Good, (১০) Randolph Nesse: Good Reasons for Bad Feelings, (১১) David Healy: Let Them Eat Prozac, (১২) Robert Whitaker: Mad in America, (১৩) Gary Greenberg: Manufacturing Depression, (১৪) Anne Harrington: Mind Fixers, (১৫) Joel Paris: Overdiagnosis in Psychiatry, (১৬) Stephen Kinzer: Prisoners in Chief, (১৭) Ackerman & DiMartini: Psychosomatic Medicine, (১৮) Lieberman & Ogas: Shrinks, (১৯) Kirk, Gomory & Cohen: Psychiatric Coercion, (২০) Martin Brüne: Textbook of Evolutionary Psychiatry, (২১) J. Asanoff: The Biological Mind, (২২) Anne Harrington: The Cure Within, (২৩) Jonathan Rottenberg: The Depths, (২৪) Jonathan Burns: The Descent of Madness, (২৫) J. Sarno: The Divided Mind, (২৬) Irving Kirsch: The Emperor's New Drugs, (২৭) Wampold et al.: The Great Psychotherapy Debate, (২৮) Horowitz, Wakefield & Spitzer: The Loss of Sadness, (২৯) D. Carlat: Unhinged: The Trouble with Psychiatry, (৩০) Harriet Washington: Infectious Madness, (৩১) Geekie & Read: Making Sense of Madness, (৩২) Jonathan Hari: Lost Connections, (৩৩) R. H. Lustig: The Hacking of the American Mind, (৩৪) R. M. Nesse: Why We Get Sick, (৩৫) Brüne & Others: Oxford Handbook of Evolutionary Medicine, (৩৬) Gluckman et al.: Principles of Evolutionary Medicine, (৩৭) Noel Baez: Evolving Health, (৩৮) Marilyn Wedge: A Disease Called Childhood, (৩৯) Jesse Prinz: Beyond Human Nature, (৪০) রাজীব মুখার্জী: ইনফর্মেটিভ অ্যানিম্যাল, (৪১) দেবাশিস মুখার্জী: স্বাস্থ্যের সন্ধানে অথবা অসুস্থতার খোঁজে, (৪২) অভিজিৎ রায়: বিবর্তনীয় মনোবিজ্ঞান।

শেয়ার করুন
দেবাশিস মুখোপাধ্যায়ের প্রতিকৃতি

লেখক

দেবাশিস মুখোপাধ্যায়

পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র ছিলেন। নগরের কোলাহল থেকে দূরে প্রকৃতির মধ্যে থাকতে পছন্দ করেন এই পরিবেশকর্মী। গ্রামের দরিদ্র মানুষের মধ্যে জীবনমুখী শিক্ষাবিস্তারের কাজেও নিয়োজিত রয়েছেন তিনি। তাঁর রচিত গ্রন্থগুলি হল—‘ক্লাসরুমের রূপকথা: জীবন বিজ্ঞান ও পরিবেশ ভ্রমণ’, ‘স্বাস্থ্যের সন্ধানে অথবা অসুস্থতার খোঁজে’ এবং ‘চিকিৎসার ধূসর জগতে: মন, সমাজ, কর্পোরেট’।

সব কাজ দেখুন →

সংখ্যা ১-এর অন্যান্য লেখা

সম্পাদকীয় প্রচ্ছদসংখ্যা ১

সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয়

“কম্পিউটার, ই-মেল এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা নিয়ে অনেক আলোচনা হয়। কিন্তু আমরা এখন এমন এক যুগে প্রবেশ করেছি যেখানে মানুষকেও হ্যাক করা সম্ভব।” ‘উই আর বিকামিং হ্যাকেবল অ্যানিমেলস’—হাড়হিম করে দেওয়া এক বাস্তবতার কথা আমাদের বলেছেন হারারি।

সমান্তর সম্পাদক৪ মিনিট
কাগজের মতো সহজে ছিঁড়ে যাওয়া সম্পর্কের ভিড়ে, বুকের ভেতরে সামান্য কাপড় বাঁচিয়ে রাখার এক মায়াবী আখ্যান ‘বোতাম’।সংখ্যা ১

গল্পস্বল্প

বোতাম

সবকিছু যখন এক ক্লিকে বদলে যায়, তখন কিছু মানুষ নিঃশব্দে পাহারা দেয় তাদের চিরপুরাতন বিশ্বাস। সুতো আর মায়া দিয়ে পার্বতীদি কী বুনে চলেছেন দিনরাত? কাগজের মতো সহজে ছিঁড়ে যাওয়া সম্পর্কের ভিড়ে, বুকের ভেতরে সামান্য কাপড় বাঁচিয়ে রাখার এক মায়াবী আখ্যান ‘বোতাম’।

সত্যসাধন মণ্ডল২ মিনিট
১৮৪৫ সালে লিখিত বিকল্প ইতিহাস। এক ভবিষ্যতের উড়িষ্যা, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের শৃঙ্খল ভেঙে স্বাধীন প্রজাতন্ত্রে পরিণত হবে।সংখ্যা ১

পুরাতনী

ওড়িশা প্রজাতন্ত্র—বিংশ শতাব্দীর ইতিবৃত্তের এক বিস্মৃত পৃষ্ঠা: দ্বিতীয় পর্ব

১৮৪৫ সালে লেখা ১৯২৫ সালের এক কাহিনি। এক বিকল্প ইতিহাস। বিদ্রোহের গল্প। এক ভবিষ্যতের উড়িষ্যার গল্প। যে উড়িষ্যা একদিন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের শৃঙ্খল ভেঙে স্বাধীন প্রজাতন্ত্রে পরিণত হবে। কিন্তু সেই স্বাধীনতার পথ মসৃণ নয়; তার ভিতর লুকিয়ে আছে অরণ্যের গভীরে জমে থাকা ক্ষোভ, হারিয়ে যাওয়া স্বাধীনতার স্মৃতি এবং পাহাড়ি মানুষের অদম্য আত্মমর্যাদা। শশীচন্দ্র দত্তের এই কল্প-ভবিষ্যতের কাহিনি যেন উনিশ শতকের ঔপনিবেশিক বাস্তবতার এক প্রতিবিম্ব; স্বাধীনতার স্বপ্ন কীভাবে প্রতিরোধের ভাষা খুঁজে পায়, তার এক রোমাঞ্চকর আখ্যান।

অনুবাদ: মেঘা সিনহা১২ মিনিট

মনোরোগের ধূসরতায় ধারাবাহিকের অন্যান্য পর্ব

বিজ্ঞানের নামে ভয়ংকর অপরাধ, নাকি বিশ্বজয়ের গোপন ব্লু-প্রিন্ট?সংখ্যা ২

বিজ্ঞান

মনোরোগের ধূসরতায়: চতুর্থ পর্ব

যদি মানুষের চেতনাই হয়ে ওঠে যুদ্ধের গোপন মারণাস্ত্র! নাৎসি বিজ্ঞানীদের গোপন পুনর্বাসন, জাপানের নৃশংস জীবাণুযুদ্ধ, আর মানুষের মনকে বশে আনতে সিআইএ-র কুখ্যাত গোপন প্রকল্প ‘MK-Ultra’! এলএসডি-র যথেচ্ছ প্রয়োগ থেকে শুরু করে যুদ্ধের বন্দীদের ওপর মারাত্মক রাসায়নিক পরীক্ষা—রাজনীতি আর ক্ষমতার নোংরা খেলায় কীভাবে সাধারণ মানুষের মনকে কব্জা করা হয়েছিল? কেন বিটনিক-হিপি বিদ্রোহের মতো গণ-আন্দোলনকে নেশার সাগরে ডুবিয়ে দেওয়া হলো? যে কোনো রাজনৈতিক থ্রিলারকে হার মানানো এক অবিশ্বাস্য ইতিহাসের সাক্ষী হতে পড়ুন চতুর্থ পর্ব—‘মগজধোলাই রাজনীতির থ্রিলার’।

দেবাশিস মুখোপাধ্যায়১৬ মিনিট
সিগমুন্ড ফ্রয়েড—এক মহান মনস্তাত্ত্বিক, নাকি মানব ইতিহাসের অন্যতম চতুর গল্পকার?সংখ্যা ২

বিজ্ঞান

মনোরোগের ধূসরতায়: তৃতীয় পর্ব

সিগমুন্ড ফ্রয়েড কি একজন মহান মনস্তাত্ত্বিক, নাকি এক চতুর গল্পকার? অবচেতন মন, যৌন অবদমন আর মনঃসমীক্ষণ—যাঁর তত্ত্বে একসময় বুঁদ হয়েছিল গোটা বিশ্ব, তাঁর গবেষণার পেছনে কতটা বিজ্ঞান আর কতটা সাজানো রূপকথা? কোকেন আসক্তি থেকে শুরু করে নিজের ব্যর্থ চিকিৎসা ও রোগীদের আসল পরিণতি লুকিয়ে রাখার পরও কীভাবে একনায়কের মতো নিজের তত্ত্বকে শতাব্দীর সেরা চিকিৎসা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ফ্রয়েড? মনোবিশ্লেষণের সেই জাদুকরী ছদ্মবেশ নিয়ে তৃতীয় পর্ব—‘ফ্রয়েডের বৈজ্ঞানিক রূপকথা’।

দেবাশিস মুখোপাধ্যায়১৩ মিনিট
রোগ নিরাময়, নাকি আধুনিক বিজ্ঞানের পোশাকে আদিম বর্বরতা?সংখ্যা ১

বিজ্ঞান

মনোরোগের ধূসরতায়: দ্বিতীয় পর্ব

রোগ নিরাময়, নাকি আধুনিক বিজ্ঞানের পোশাকে আদিম বর্বরতা? কখনো পেটের নাড়িভুঁড়ি কেটে বাদ দেওয়া, কখনো মস্তিষ্কের ফ্রন্টাল লোব খুবলে নিয়ে রোগীকে জড়ভরত বানিয়ে দেওয়া, আবার কখনো ম্যালেরিয়ার জীবাণু বা ইনসুলিনের মারণ কোমা দিয়ে তথাকথিত ‘চিকিৎসা’! এমনকি এই মারাত্মক লোবোটমির জন্য জুটেছিল নোবেল পুরস্কারও। চিকিৎসকদের অন্ধ অহংকার আর অসহায় পরিবারের আর্তি কীভাবে মানসিক রোগীদের ঠেলে দিয়েছিল এক জীবন্ত নরকে? মনোরোগ চিকিৎসার আদিপর্বের চাঞ্চল্যকর ইতিহাস জানুন দ্বিতীয় পর্বে—‘মনোচিকিৎসার আদিপর্ব: বিজ্ঞানের আড়ালে’।

দেবাশিস মুখোপাধ্যায়১১ মিনিট

আরও পড়ুন

বিজ্ঞানের নামে ভয়ংকর অপরাধ, নাকি বিশ্বজয়ের গোপন ব্লু-প্রিন্ট?সংখ্যা ২

বিজ্ঞান

মনোরোগের ধূসরতায়: চতুর্থ পর্ব

যদি মানুষের চেতনাই হয়ে ওঠে যুদ্ধের গোপন মারণাস্ত্র! নাৎসি বিজ্ঞানীদের গোপন পুনর্বাসন, জাপানের নৃশংস জীবাণুযুদ্ধ, আর মানুষের মনকে বশে আনতে সিআইএ-র কুখ্যাত গোপন প্রকল্প ‘MK-Ultra’! এলএসডি-র যথেচ্ছ প্রয়োগ থেকে শুরু করে যুদ্ধের বন্দীদের ওপর মারাত্মক রাসায়নিক পরীক্ষা—রাজনীতি আর ক্ষমতার নোংরা খেলায় কীভাবে সাধারণ মানুষের মনকে কব্জা করা হয়েছিল? কেন বিটনিক-হিপি বিদ্রোহের মতো গণ-আন্দোলনকে নেশার সাগরে ডুবিয়ে দেওয়া হলো? যে কোনো রাজনৈতিক থ্রিলারকে হার মানানো এক অবিশ্বাস্য ইতিহাসের সাক্ষী হতে পড়ুন চতুর্থ পর্ব—‘মগজধোলাই রাজনীতির থ্রিলার’।

দেবাশিস মুখোপাধ্যায়১৬ মিনিট
সিগমুন্ড ফ্রয়েড—এক মহান মনস্তাত্ত্বিক, নাকি মানব ইতিহাসের অন্যতম চতুর গল্পকার?সংখ্যা ২

বিজ্ঞান

মনোরোগের ধূসরতায়: তৃতীয় পর্ব

সিগমুন্ড ফ্রয়েড কি একজন মহান মনস্তাত্ত্বিক, নাকি এক চতুর গল্পকার? অবচেতন মন, যৌন অবদমন আর মনঃসমীক্ষণ—যাঁর তত্ত্বে একসময় বুঁদ হয়েছিল গোটা বিশ্ব, তাঁর গবেষণার পেছনে কতটা বিজ্ঞান আর কতটা সাজানো রূপকথা? কোকেন আসক্তি থেকে শুরু করে নিজের ব্যর্থ চিকিৎসা ও রোগীদের আসল পরিণতি লুকিয়ে রাখার পরও কীভাবে একনায়কের মতো নিজের তত্ত্বকে শতাব্দীর সেরা চিকিৎসা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ফ্রয়েড? মনোবিশ্লেষণের সেই জাদুকরী ছদ্মবেশ নিয়ে তৃতীয় পর্ব—‘ফ্রয়েডের বৈজ্ঞানিক রূপকথা’।

দেবাশিস মুখোপাধ্যায়১৩ মিনিট
রোগ নিরাময়, নাকি আধুনিক বিজ্ঞানের পোশাকে আদিম বর্বরতা?সংখ্যা ১

বিজ্ঞান

মনোরোগের ধূসরতায়: দ্বিতীয় পর্ব

রোগ নিরাময়, নাকি আধুনিক বিজ্ঞানের পোশাকে আদিম বর্বরতা? কখনো পেটের নাড়িভুঁড়ি কেটে বাদ দেওয়া, কখনো মস্তিষ্কের ফ্রন্টাল লোব খুবলে নিয়ে রোগীকে জড়ভরত বানিয়ে দেওয়া, আবার কখনো ম্যালেরিয়ার জীবাণু বা ইনসুলিনের মারণ কোমা দিয়ে তথাকথিত ‘চিকিৎসা’! এমনকি এই মারাত্মক লোবোটমির জন্য জুটেছিল নোবেল পুরস্কারও। চিকিৎসকদের অন্ধ অহংকার আর অসহায় পরিবারের আর্তি কীভাবে মানসিক রোগীদের ঠেলে দিয়েছিল এক জীবন্ত নরকে? মনোরোগ চিকিৎসার আদিপর্বের চাঞ্চল্যকর ইতিহাস জানুন দ্বিতীয় পর্বে—‘মনোচিকিৎসার আদিপর্ব: বিজ্ঞানের আড়ালে’।

দেবাশিস মুখোপাধ্যায়১১ মিনিট