মনোরোগের ধূসরতায়: তৃতীয় পর্ব

সিগমুন্ড ফ্রয়েড কি একজন মহান মনস্তাত্ত্বিক, নাকি এক চতুর গল্পকার? অবচেতন মন, যৌন অবদমন আর মনঃসমীক্ষণ—যাঁর তত্ত্বে একসময় বুঁদ হয়েছিল গোটা বিশ্ব, তাঁর গবেষণার পেছনে কতটা বিজ্ঞান আর কতটা সাজানো রূপকথা? কোকেন আসক্তি থেকে শুরু করে নিজের ব্যর্থ চিকিৎসা ও রোগীদের আসল পরিণতি লুকিয়ে রাখার পরও কীভাবে একনায়কের মতো নিজের তত্ত্বকে শতাব্দীর সেরা চিকিৎসা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ফ্রয়েড? মনোবিশ্লেষণের সেই জাদুকরী ছদ্মবেশ নিয়ে তৃতীয় পর্ব—‘ফ্রয়েডের বৈজ্ঞানিক রূপকথা’।

মনোরোগের ধূসরতায়পর্ব ৩/৪
দেবাশিস মুখোপাধ্যায়ের প্রতিকৃতি
১৩ মিনিট পড়া
শেয়ার করুন
সিগমুন্ড ফ্রয়েড—এক মহান মনস্তাত্ত্বিক, নাকি মানব ইতিহাসের অন্যতম চতুর গল্পকার?সংখ্যা ২
লেখার আকার
লেখার অবস্থান
সূচিপত্র
  1. ফ্রয়েডের বৈজ্ঞানিক রূপকথা
  2. উৎসসূত্র

ফ্রয়েডের বৈজ্ঞানিক রূপকথা

মনোরোগবিজ্ঞানে জানা-বোঝার মধ্যে এতটাই ফাঁকফোকর থাকে যে, সেখানে বিজ্ঞানের আড়ালে কল্পকাহিনি থেকে রূপকথা সবই জায়গা করে নিতে পারে। এমনকি তা এই বিজ্ঞানীদেরও প্রভাবিত করতে পারে। তবে সেই জগতের বাইরের উৎসাহীদের এইসব কল্পিত ধারণায় প্রভাবিত করা আরও সোজা, কারণ সামান্য কিছু অস্বাভাবিক পর্যবেক্ষণ মাত্রেই তাদের মধ্যে বিস্ময় জাগে। তারপর এইসব কাল্পনিক তত্ত্বে তাদের বিশ্বাস জন্মাতে বেশি সময় লাগে না। এই পথেই খ্যাতি লাভ করেছিলেন অস্ট্রিয়ার মনোরোগবিদ সিগমুন্ড ফ্রয়েড।

ফ্রয়েড প্রথমে স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ ছিলেন। তখন তিনি বেশ কিছু নতুন চিকিৎসা নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করছিলেন। সেইভাবেই তাঁর চিকিৎসার এক প্রধান উপাদান হয়ে ওঠে কোকেন। মরফিনে আসক্তদের কোকেন দিয়ে নেশা ছাড়ান যায় বলে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন। যদিও বাস্তবে সেই চিকিৎসার ভয়াবহ ফল হত কিন্তু তবুও তিনি নিজের সেই চিকিৎসায় অন্ধবিশ্বাসী ছিলেন। এইভাবে নিউরোলজিস্ট হিসেবে বিশেষ সুবিধা করতে না পেরে তিনি ফ্রান্সে যান বিশ্ববিখ্যাত স্নায়ুবিশেষজ্ঞ শার্কোর (Charcot) কাছে স্নায়ুবিদ্যা শিখতে। যখন ফ্রয়েড তাঁর কাছে গেলেন তখন পেশাগতভাবে স্নায়ুরোগের চিকিৎসায় শার্কোর আর উৎসাহ নেই। বুড়ো বয়সে তাঁর মাথায় সম্মোহনে হিস্টিরিয়া সারানোর ভূত চেপেছে। নিজের বাছা বাছা স্বল্পবাস হিস্টিরিয়া আক্রান্ত মহিলাদের তিনি সম্মোহন করতেন। সেই দৃশ্য দেখতে হাসপাতালে দর্শক ভেঙে পড়ত।

তখন মানসিক হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসার ফল মোটে ভাল হত না, আর তাতে মানসিক রোগীর  সংখ্যাও কম ছিল না। লোকের সেই ধরনের চিকিৎসায় আস্থা ক্রমে চলে যাচ্ছিল। সেইখানে শার্কোর নাটুকে সম্মোহন প্রভাব ফেলতে শুরু করেছিল। ফ্রয়েড শার্কোর সেই সম্মোহনের রাস্তাটাই ধরলেন। স্বপ্ন, চেতন, অবচেতন আর সম্মোহনের মিশ্রণে শুরু হল তাঁর নিজস্ব মনোরোগ চিকিৎসা। আর এই সময়ে হঠাৎই (১৮৯৩) মারা গেলেন শার্কট। তাঁর অনুগামীরা ক্ষমতাবান অত্যাচারী শার্কোর হাত থেকে মুক্তি পেতেই কদিন বাদেই তাঁর সেই চিকিৎসা যে অকাজের তা বুঝে সরে পড়লেন। পড়ে থাকলেন একা ফ্রয়েড। ফাঁকামাঠে নিজের কেরামতি দেখাতে তিনি অনৈতিক হতে পারতেন। সেই চরিত্রই অধিকাংশ সফল লোকের মতো তাঁকে সাফল্যের রাস্তা দেখিয়েছিল।  

চিকিৎসাবিজ্ঞানের যখন কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি থাকে না তখন সেইখানে অবৈজ্ঞানিক চিকিৎসাকে প্রতিষ্ঠা করা অনেক সহজ। আর সেই পথেই হাঁটেন প্রথাগত চিকিৎসাবিজ্ঞানেরই কিছু লোক। সেই পথে তাঁরাই বেশি সাফল্যের মুখ দেখেন। যেমন আমরা হ্যানিমানের হোমিওপ্যাথি আবিষ্কারের মধ্যে দেখেছি। নিউরোলজিস্ট হিসেবে ফ্রয়েডের নতুন অপ্রমাণিত মনোরোগের চিকিৎসা তাই সহজেই লোকের চোখে পড়েছিল। তার ওপর তখন মানসিক চিকিৎসার নামে যে উৎপীড়ন চলত তার বিপরীতে ফ্রয়েডের চিকিৎসা অনেক সভ্য ছিল। মনোরোগের চিকিৎসায় এই সভ্য আচরণ ফ্রয়েডের এক বড় অবদান।

ফ্রয়েড প্রথাগত চিকিৎসক ছিলেন বলেই তাঁর সৃষ্ট মনোবিশ্লেষণের সাফল্য স্বীকার করে নেওয়া কিন্তু ঠিক নয়। আমেরিকার এক ডাক্তার নিজের মনোচিকিৎসার জন্য ভিয়েনায় ফ্রয়েডকে দেখাতে যান। ফ্রয়েডের কাছে ফাঁকা না থাকায়, চিকিৎসার জন্য ফ্রয়েড তাঁকে নিজেরই এক ছাত্র রেইকের কাছে পাঠান, যিনি নিজে ডাক্তার ছিলেন না। অবস্থার অবনতি হলে সেই রোগী হাতুড়ে চিকিৎসার অভিযোগ এনে রেইকের বিরুদ্ধে আদালতে যান। তাঁর মতের সমর্থনে নোবেল বিজয়ী চিকিৎসাবিজ্ঞানী ও মনোবিদ ভাগনার-জুরেগ বলেন一“psychoanalysis was dangerous when practiced by a man not educated in medical science.” কিন্তু সবার শেষে কোর্ট যখন ফ্রয়েডের মত জানতে চায়, তখন ফ্রয়েড পরিষ্কার বলেন যে一“A medical man cannot practice psychoanalysis because he always has medicine in his mind,”। এর ফলে সেই মামলায় বেঁচে যান রেইক। সুতরাং ফ্রয়েডের তত্ত্বের সাথে তাঁর প্রথাগত চিকিৎসার সম্পর্ককে উপেক্ষা করাই ভাল।  

ফ্রয়েড, তাঁর তত্ত্বানুসারে, মনের তিনটি স্তর আছে বলে মনে করলেন। একটি সচেতন যাতে আমরা সজ্ঞান অবস্থায় থাকি। তার নীচে থাকে আদিসচেতন (preconscious) স্তর, যাকে আজকের ভাষ্যে মোটামুটি দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতি বলা যেতে পারে। এরও নীচে থাকে অবচেতন (unconscious) মন, যার সঙ্গে বাকি দুইয়ের সংযোগ ক্ষীণ এবং তা ফ্রয়েডের মনঃসমীক্ষণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাঁর মতে আমাদের সমস্ত অবদমিত স্মৃতি, অনুভূতি, আকাঙ্ক্ষা যা আমরা সচেতন থেকে সরিয়ে রাখি তা জমা থাকে এই অবচেতনে। এর বহিঃপ্রকাশ কখনো-সখনো যদিও আমাদের ব্যবহারে দেখা যায়, কিন্তু আমাদের মানসিক রোগের ক্ষেত্রে এই অবচেতনই দায়ী বলে মনে করেন ফ্রয়েড। তাঁর চিকিৎসাও এই অবচেতন মনকে নিয়ন্ত্রণ করে সম্ভবত রোগীকে সারায়, যাকে  মনঃসমীক্ষণ (psychoanalysis) বলে। ফলে ফ্রয়েডের মতে অবদমিত স্মৃতিই মানসিক অসুখের একমাত্র কারণ।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ফেরা সৈন্যদের মানসিক আঘাতে ভেঙে পড়া দেখে তাকে ফ্রয়েড shell shock নাম দেন এবং নিজের অবচেতনের সেই দৃঢ় ধারণাকে পালটে বাইরের তীব্র আঘাত যে মানসিক রোগের কারণ হতে পারে তা মেনে নেন। তবে তাতে নিজের সেই তত্ত্বের কতটা পরিবর্তন করেছিলেন তা বলা কঠিন। সেইরকম বাস্তবের অনেক ঘটনার ক্ষেত্রে তাঁর তত্ত্বের সীমাবদ্ধতা পরবর্তী মনঃসমীক্ষক চিকিৎসকদের মধ্যে অনেক নিজস্ব ধারণা সৃষ্টিতে বাধ্য করত। সেই নিয়ে তাঁর অনুগামীদের সঙ্গে ফ্রয়েডের মতান্তর লেগেই থাকত, এমনকি তাদের অনেককে তিনি নিজের দল থেকে বহিষ্কার করেও দিতেন। অনেকেই মনঃসমীক্ষণের নতুন পদ্ধতি নিজেরা আবিষ্কার করে সেই অনুযায়ী চিকিৎসা করতেন। কিন্তু বেশ একটা বড় অংশ সেই সব ব্যাখ্যায় বীতশ্রদ্ধ হয়ে রাসায়নিক নির্ভর তত্ত্বে চলে যেতেন। 

নিজের চিকিৎসাপদ্ধতি ও মনঃসমীক্ষণের তত্ত্বের সাফাই গাইতে তার নিজের রোগীদের পরিচয় গোপন রেখে কেস স্টাডি হিসেবে নিজের লেখায় হাজির করতেন ফ্রয়েড। রোলিং স্টোন বলে বিখ্যাত গানের দলের স্কুলপালানো প্রচার সচিব সোয়ালেশ নিজে ফ্রয়েড-পাগল ছিলেন। ফ্রয়েডের জীবনের ঘটনাপঞ্জির তুচ্ছাতিতুচ্ছ ঘটনাও তাঁর নখদর্পণে ছিল। সেই অনুসন্ধান এমনই তীক্ষ্ণ ছিল যে তিনি ফ্রয়েড সম্বন্ধে প্রচুর অজানা তথ্য খুঁজে আনেন। সেখানে তিনি সেই পরিচয়-লুকোনো রোগীদের আসল পরিচয় উদ্ধার করেন, ফ্রয়েডের কোকেনের সাথে না-জানা সম্পর্ক ও অন্যান্য অনেক রহস্যই উদ্ধার করেন। তাঁর অনুসন্ধানেই জানা গেছে যে, নিজের বইতে ছদ্ম পরিচয়ের রোগীদের বিবরণ ও তাঁর চিকিৎসায় সেরে যাবার যে ঘটনা তিনি হাজির করেছিলেন তা শুধু মিথ্যাই ছিল না, বরং সেইসব রোগীরা একরকম ‘শেষ হয়ে গেছিলেন’ ফ্রয়েডের চিকিৎসায়। তিনি চিকিৎসার ভুয়ো ফলাফল দিতেন, নিজের আবিষ্কারের নামে জালিয়াতি করতেন এবং যেসব তত্ত্ব হাজির করতেন সেগুলো এতটাই অস্পষ্ট হত যে তার থেকে কাজের কোনো মানে বার করা কঠিন ছিল। তবুও অকাজের কথার মারপ্যাঁচ অনেক মানুষকে যেমন প্রভাবিত করে, ফ্রয়েডের তত্ত্বও তা করতে পেরেছিল। পেরেছিল তার একটা বড় কারণ ছিল যে মনোরোগের অন্য কোন যুক্তিসঙ্গত তত্ত্ব তখন ছিলও না।   

ফ্রয়েডের মতবাদ নিয়ে তার মতাবলম্বী মনস্তাত্ত্বিকদের মধ্যে প্রচুর মতভেদ থাকলেও একটা ব্যাপারে সবাই প্রায় একমত ছিলেন যে মানসিক সুস্থতার জন্য পরিবারের এবং বিশেষ করে মায়ের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বোমা আক্রমণ থেকে বাঁচতে ব্রিটেনে অনেক শিশুকেই তাদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে ‘যুদ্ধ শিশুকেন্দ্রে’ (war nursery) রাখা হয়। তাদের যথেষ্ট যত্ন নেওয়া হলেও প্রথমে তাদের মধ্যে প্রচণ্ড মানসিক কষ্ট ও তারপরে একধরনের প্রাণহীনতা দেখা গেল। এই পর্যবেক্ষণ করেছিলেন ফ্রয়েডের কন্যা অ্যানা ফ্রয়েড ইংল্যান্ডে আশ্রয় নেওয়ার সময়ে। তাদের মধ্যে অনেক শিশুরই মানসিক বিকাশ উল্টোমুখে হতে থাকল, অনেকে কথা বলতে ভুলে গেল, এমনকি অনেকেই প্রস্রাব ও মলত্যাগের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলল। এই পরিস্থিতিকে তিনি মায়ের বঞ্চনার ফল বলে মনে করলেন এবং যখন শিশুদের জন্য পারিবারিক পরিবেশ সৃষ্টি করা হল, তখন তাদের অবস্থার খানিকটা উন্নতি হল। এইভাবে মানুষের মধ্যে শিশুদের বিকাশে ফ্রয়েডের এই পরিবর্তিত তত্ত্বে বিশ্বাস জন্মাল। পরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে আস্তে আস্তে পরিবারগুলো একক হয়ে যাওয়াতে বাচ্চা মানুষ করার জন্য সেইসব পরিবারের কাছে আগের প্রজন্মের অভিজ্ঞতা নেওয়া সম্ভব ছিল না। সেই অভাব পূরণ করতে বেঞ্জামিন স্পোকের  ‘Baby and Child Care’ (1946), বই প্রকাশিত হয় এবং সেই যুগে পাঁচ কোটি কপি বিক্রি হওয়া সে বই সবার হাতে হাতে তখন ঘুরতে থাকে। শিশুদের মানুষ করার ক্ষেত্রে সেই বই তাদের মনস্তত্ত্বের ওপর জোর দেয়, এবং তাতেই ফ্রয়েডের মনস্তাত্ত্বিক ধারণাকে প্রচার করা হয়। সেই মতামত সেই সমাজের নব্য বাবা মায়েদের মধ্যে গ্রহণযোগ্য হয়, কারণ শিশু মানুষ করার অনভিজ্ঞতার ফলে তাদের অধিকাংশেরই সেইসব ধারণাকে সন্দেহ করার মত বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকতনা। এই সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা মনস্তত্ত্বের জগতে ফ্রয়েডীয় ধারণার জয়যাত্রার এক বড় সহযোগী হয়ে ওঠে।    

 অন্যদিকে আমেরিকায় মানসিক রোগ কেবল জৈবরাসায়নিক কারণেই হয় এমন ধারণা বহুল প্রচলিত থাকলেও, সেই ধারণার ওপর সন্দেহ হবার মত বেশ কিছু ঘটনা তখন ঘটেছিল। ট্রেনের  প্রসারের সাথে সাথে বেশ কিছু ভয়াবহ দুর্ঘটনাও ঘটছিল। সেইসব দুর্ঘটনায় যারা পড়েছিলেন তাদের পরে অনেকধরণের শারীরিক ও মানসিক সমস্যা একসাথে হচ্ছিল। দুর্ঘটনায় যে ধরণের আঘাতই হোকনা কেন তার বহিঃপ্রকাশ সবার ক্ষেত্রে প্রায় একই ছিল। সবচেয়ে আশ্চর্য, যারা সেই দুর্ঘটনা স্টেশনে দাঁড়িয়ে দেখেছিল তাদেরও সেই একই রোগ বহিঃপ্রকাশ হল। সেখান থেকে আস্তে আস্তে মানসিক রোগের শারীরিক কারণ নিয়ে মানুষের প্রথম সন্দেহ হয়।

এরপর আবার আমেরিকায় জনগণের বড় অংশের মধ্যে বিশেষ করে মহিলাদের মধ্যে এক ধরণের ক্লান্তি, উৎকণ্ঠা, মাথাব্যথা, অবসাদ ও যৌন অক্ষমতা সব একসাথে হতে দেখা যায়। এর নিউরাস্থেনিয়া নাম দেওয়া হয়। এর কারণ নিয়ে নানা ব্যাখ্যা থাকলেও, দেখা গেছিল বহু ধরণের চিকিৎসায় এই রোগ সারে, এমনকি, সেইসব চিকিৎসার মধ্যে বিস্তর ফারাক থাকলেও একই ফল পাওয়া যায়। সেই থেকে অনেক চিকিৎসক ও সচেতন মানুষ বুঝতে পারলেন সেই রোগ কোন নির্দিষ্ট চিকিৎসায় সারছে না বরং রোগীরা সেইসব চিকিৎসার মধ্যে থাকা মানসিক উপাদানের জন্য সেরে উঠছে। এই ভাবে সেদেশেও মানসিক চিকিৎসার ধারা হিসেবে মনোবিশ্লেষণের (বা মনঃসমীক্ষণ) ওপর আস্থা জন্মাচ্ছিল।  

এই অবস্থায় আমেরিকায় ১৯০৯ সালে ক্লার্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে সিগমুন্ড ফ্রয়েড লেকচার দিতে এলে, আমেরিকায় তাঁর উদ্ভাবিত ‘রোগীর সাথে কথাবার্তায় মানসিক রোগের চিকিৎসা’ (talk therapy) পদ্ধতি স্বীকৃতি পায়। ভিয়েনার চিকিৎসক হিসেবে ফ্রয়েডের গ্রহণযোগ্যতা তো ছিলই, উপরন্তু তাঁর ব্যাখ্যা এই চিকিৎসাকে অনেক বেশি বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে। মাত্র ছ’বছরের মধ্যে তাঁর মনঃসমীক্ষণ  পদ্ধতি আমেরিকায় প্রধান মানসিক চিকিৎসার ধারা হয়ে ওঠে। আস্তে আস্তে আমেরিকার এক নিজস্ব ফ্রয়েডীয় চিকিৎসার ঘরানা গড়ে ওঠে এবং সেই নব্য ফ্রয়েডীয়দের কাছে ফ্রয়েডের যৌনতার আধিক্য কম গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়ে। বরং তার বদলে দুশ্চিন্তা নিয়ে বাঁচা ও শিশুজীবনে নিরাপত্তা ও ভালবাসা মানসিক স্বাস্থ্যের পক্ষে বেশি গুরুত্ব পেতে থাকে। এই ধারা অনেক বছর ধরে চালু ছিল এবং আমেরিকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ফ্রয়েডপন্থী মনোবিদদেরই নিরঙ্কুশ প্রাধান্য ছিল। এদের প্রভাবেই আমেরিকার মনোচিকিৎসার জগত থেকে বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধের বিভিন্ন উদ্ভট চিকিৎসা বাতিল হয়ে যায়। তাছাড়া এর বাইরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন, সাহিত্য ও সমাজবিদ্যা বিভাগে চিন্তার ও প্রকাশের জটিলতার জন্য ফ্রয়েড নিয়ে চর্চা বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।  

বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি থেকে রাসায়নিক ওষুধ প্রয়োগে মানসিক রোগের চিকিৎসা শুরু হয়।  অন্যদিকে ফ্রয়েডীয় মনঃসমীক্ষণ পদ্ধতির কার্যকারিতা নিয়ে তার প্রবক্তাদের মধ্যে সংশয় সৃষ্টি হয়। আস্তে আস্তে মনোবিদদের একটা বড় অংশ জৈব রাসায়নিক চিকিৎসায় প্রভাবিত হয়ে পড়েন এবং তার ফলে খুব তাড়াতাড়িই ফ্রয়েডীয় চিকিৎসা আমেরিকায় উপেক্ষণীয় হয়ে পড়ে। তবে এই দ্রুত অধঃপতনের জন্য রাসায়নিক চিকিৎসার পেছনে ওষুধ কোম্পানির লাগাতার প্রচার ও মনোবিদদের সুযোগ সুবিধা দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমেরিকার মনোবিদদের সংগঠন APA নিজেদের ফ্রয়েডীয় ধারণা থেকে মুক্ত করে মনোরোগ নির্ণয়ের পদ্ধতির ১৯৮০  সালে সংস্কার করে। সেই ম্যানুয়ালকে DSM-III বলে যাতে রোগ নির্ণয়ে কোনো রকম ফ্রয়েডীয় ধারণাকে আর মর্যাদা দেওয়া হয় না। তারপর থেকে সেই ধরণের ফ্রয়েডীয় চিকিৎসায় ভাঁটা পড়ে আর নতুন মনোবিদরা সেই নিয়ে একেবারেই উদাসীন হয়ে পড়েন। কোনো বাস্তব রোগীর সঙ্গে যোগাযোগ না থাকার ফলে ফ্রয়েড মূলত টিকে থাকেন মানববিদ্যার বিভিন্ন বিষয়ের চিন্তাবিদদের এক বড় অংশের মধ্যে।   

মানুষের মনের অসুখ নিয়ে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা নিরীক্ষা চালানো এখনো খুব কঠিন, ফলে এই বিষয়কে এখনো সত্যিই বিজ্ঞান বলা যায় কিনা তা ভাবা দরকার। আজ থেকে প্রায় একশ দেড়শ বছর আগে ফ্রয়েডের তত্ত্বকে তাহলে বিজ্ঞান হিসেবে দেখা যেমন হাস্যকর, তেমনিই তাকে অবৈজ্ঞানিক বলাও বোকামি। কেবল নিজের ব্যক্তিগত কিছু পর্যবেক্ষণ যে একটা বৈজ্ঞানিক চিকিৎসার ভিত্তি রচনা করতে পারে না তা ফ্রয়েড বুঝতে চাননি। অথবা অন্যভাবে বললে নিজের আবিষ্কারকে সত্যি বলে প্রমাণ করতে তিনি অসংখ্য মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছেন, বিরুদ্ধ চিন্তাকে দমিয়ে দিয়েছেন এবং নিজে একনায়কোচিত আচরণ করেছেন। এইসব করেছেন তাঁর হাতে যথেষ্ট‍ বৈজ্ঞানিক প্রমাণ ও যুক্তি না থাকার জন্য। সেই হিসেবে তাঁর চিকিৎসাপদ্ধতির বহু সমালোচনা করা যায়। তবে মনে রাখতে হবে যে এখনো মনোবিদ্যার যে পর্যবেক্ষণের ভিত্তি তাতেও এই সীমাবদ্ধতা আছে। এই আধুনিক মনোচিকিৎসার সাফল্য প্রতিষ্ঠা করতে এর প্রবক্তারা এখনও অনেকটাই ফ্রয়েডের মতই আচরণ করেন। তবে আজকের প্রবক্তাদের আচরণের মধ্যে অর্থ ও কর্পোরেট স্বার্থ বেশি কাজ করে, যা ফ্রয়েডের ক্ষেত্রে আমিত্ব দ্বারা পরিচালিত ছিল। আমরা ফ্রয়েডের বৈজ্ঞানিক সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনা এই জন্যই করব যাতে আজকের মনোবিদ্যাকেও আমরা বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়েই দেখতে পারি।   

ফ্রয়েডীয় মনস্তত্ত্বে শৈশব জীবনের ঘটনা থেকে অনেকের মানসিক অবস্থার ভবিষ্যদ্বাণী করা সম্ভব বলে দাবি করা হয়। কিন্তু সেই সব ভবিষ্যদ্বাণী পরীক্ষা করে মেলালে দেখা যায় তারা মেলে না। অধিকাংশ সময়ে কোনো ব্যক্তির বর্তমান দেখে তার অতীতের সঙ্গে তা মেলানোর চেষ্টা করা হয়, যা যুক্তিসম্মত নয়। ব্যক্তিকে দেখে হয় তার ওপর নির্দিষ্ট কোনো শৈশবঘটনার প্রভাব বলতে হবে, অথবা শৈশব ঘটনা থেকে তার ভবিষ্যৎ মানসিক অবস্থা কী হবে তা বলতে পারতে হবে। সেরকম পরীক্ষায় ফ্রয়েডীয় ভবিষ্যদ্বাণী সফল হয়নি। যেমন ফ্রয়েডের তত্ত্বে প্রস্রাব বা মলত্যাগ করতে শেখান (toilet training) ব্যক্তিত্ব বিকাশে খুব প্রভাবশালী বলে মনে করা হয়। কিন্তু হল এবং ক্লাইন পরীক্ষায় দেখেছেন যে, ভিন্নরকম টয়লেট ট্রেনিং পাওয়া শিশুদের ব্যক্তিত্বে সেরকম পার্থক্য দেখা যায় না বা কোনো শিশুর ব্যক্তিত্ব কী হবে তাও তাদের পাওয়া ট্রেনিং থেকে স্থির করা যায়নি। তার ওপর এই সম্পর্কের পেছনে যে কী যুক্তি কাজ করে তা ফ্রয়েডের তত্ত্বে বোঝা যায় না। ঠিক একইভাবে ফ্রয়েডের ‘স্বপ্ন থেকে মন বিবরণ’-এর কোনো পরীক্ষাগত প্রমাণ বা বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়না। 

ফ্রয়েড এইসব তত্ত্ব যখন উদ্ভাবন করছিলেন তখন অনেকেই বুঝেছিলেন যে তাঁর এই আবিষ্কারের পেছনে সংখ্যাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ ও পরীক্ষানিরীক্ষার ভিত্তি খুব কম। তার বিপরীতে তিনি অনেক বেশি জোর দিতেন নির্বাচিত রোগীদের চিকিৎসার অভিজ্ঞতার ওপর। সেই ধরণের  পর্যবেক্ষণেই বহু ব্যক্তিগত প্রভাব থেকে যায়, তা নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষণ হতে পারে না।  ফ্রয়েডের মনঃসমীক্ষণের বিপরীতে তাঁর অনেক অনুগামী নতুন নতুন অনেক পদ্ধতি আবিষ্কার করেছিলেন। কিন্তু সেইসব পদ্ধতিও কাজ করে কিনা তা নিরপেক্ষ পরীক্ষায় প্রমাণ করে দেখা হয়নি। পরে দীর্ঘদিন ধারাবাহিকভাবে গবেষণা করে হান্স এইসেঙ্ক দেখেছেন যে প্রায় সব ধরণের  মনঃসমীক্ষণ পদ্ধতিতেই রোগীর সেরে ওঠার হার, রোগের স্বাভাবিকভাবে সেরে ওঠার হারের সঙ্গে এক। তবে তিনি দেখিয়েছেন যে, ব্যবহার পরিবর্তনের পদ্ধতি (behaviour therapy) যেহেতু বাস্তব শিক্ষার এক পদ্ধতি (learning theory) একে এই ধরনের সমীক্ষণ পদ্ধতির সাথে এক করা উচিত নয় এবং তাঁর মতে এইধরনের চিকিৎসার মধ্যে এটাই বেছে নেওয়াই ভাল। 

ফ্রয়েডের অবচেতনের ধারণার মধ্যে এতটাই বৈপরীত্য আছে যে আজ বিভিন্ন মনস্তাত্ত্বিক গবেষণায় এই নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছে এবং তাতে অনেকসময়েই আধুনিক যন্ত্রপাতি যেমন, fMRI, PET scans এবং অন্যান্য indirect tests ব্যবহার করা হচ্ছে। এইসব পরীক্ষার ফলে দুটো মত তৈরি হয়েছে। যার একদল মনে করেন যে, অবচেতন মনের ঠিকানা মস্তিষ্কের এইসব পরীক্ষায় পাওয়া যায় এবং তারা আজ মনঃসমীক্ষণকে স্নায়ুবিদ্যার সাথে সম্পর্কযুক্ত মনে করেন। অন্যদিকে একদল গবেষক মনে করেন যে এই সব স্নায়ু ও মস্তিষ্কের পরীক্ষা পদ্ধতি মনঃসমীক্ষণের তত্ত্বকে অসার ও বাতিল এক ধারণা বলেই প্রমাণ করে। কোনো তত্ত্বের যখন সম্পূর্ণ বিপরীত দুই ধারণা পর্যবেক্ষণ থেকে পাওয়া যায় তখন সেই তত্ত্বের আর যাই থাক বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নিয়ে সন্দেহ থেকেই যায়। বিখ্যাত দার্শনিক কার্ল জাস্পার ফ্রয়েডের সব কিছু যৌনতা দিয়ে ব্যাখ্যা করাকে অতিসরলীকরণ বলে মনে করেছেন। তবে দৈহিক পরিশ্রমহীন অলস জীবনে সেই যৌনতাই এক বড় চালিকা শক্তি হয়ে যায় বলে আমার মনে হয়। আজ জীবনযাত্রায় যে আমূল পরিবর্তন এসেছে এবং মানুষের সামাজিক সম্পর্কের যে পরিবর্তন হয়েছে তাতে সেই যৌনতার তত্ত্বই বারবার ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সবার শেষে ফ্রয়েডের তত্ত্বের টিকে থাকার কারণ সবচেয়ে ভাল ব্যাখ্যা করেছেন দার্শনিক জোনাথান লিয়ার তাঁর এই উক্তিতে一“Freud lives on because science hasn’t produced a mind-body paradigm potent enough to knock him off once and for all.”


উৎসসূত্র

এই লেখায় ব্যবহৃত গ্রন্থগুলি সম্পর্কে জানার জন্য প্রথম পর্বের শেষে সন্নিবিষ্ট ‘গ্রন্থঋণ’ অংশটি দেখুন।

শেয়ার করুন
দেবাশিস মুখোপাধ্যায়ের প্রতিকৃতি

লেখক

দেবাশিস মুখোপাধ্যায়

পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র ছিলেন। নগরের কোলাহল থেকে দূরে প্রকৃতির মধ্যে থাকতে পছন্দ করেন এই পরিবেশকর্মী। গ্রামের দরিদ্র মানুষের মধ্যে জীবনমুখী শিক্ষাবিস্তারের কাজেও নিয়োজিত রয়েছেন তিনি। তাঁর রচিত গ্রন্থগুলি হল—‘ক্লাসরুমের রূপকথা: জীবন বিজ্ঞান ও পরিবেশ ভ্রমণ’, ‘স্বাস্থ্যের সন্ধানে অথবা অসুস্থতার খোঁজে’ এবং ‘চিকিৎসার ধূসর জগতে: মন, সমাজ, কর্পোরেট’।

সব কাজ দেখুন →

সংখ্যা ২-এর অন্যান্য লেখা

একটি সংক্ষিপ্ত পদ্য-ভ্রমণকথা।সংখ্যা ২

কবিতা ও ছড়া

উইকএন্ড ট্যুর

শুক্রবারেই শ্যামলালের প্ল্যান, টুক করে ট্যুর! একদিনের ছুটিতে হাওয়াবদলের সাধ নিয়ে সপরিবারে বেরিয়ে পড়া। তারপর ট্রেনের সিট, হোটেলের বন্দোবস্ত, গাড়ির জোগাড়, গিন্নির ফরমান আর ফর্দ সামলাতে সামলাতে প্রকৃতি দর্শনের সুযোগটুকুও গেল ফসকে। পকেট হল হালকা, অভিজ্ঞতার ঝুলি হল ভারী! সব মিলিয়ে, এইভাবেই শেষ হল শ্যামলালের উইকএন্ড ট্যুর।

বিজ্ঞানের নামে ভয়ংকর অপরাধ, নাকি বিশ্বজয়ের গোপন ব্লু-প্রিন্ট?সংখ্যা ২

বিজ্ঞান

মনোরোগের ধূসরতায়: চতুর্থ পর্ব

যদি মানুষের চেতনাই হয়ে ওঠে যুদ্ধের গোপন মারণাস্ত্র! নাৎসি বিজ্ঞানীদের গোপন পুনর্বাসন, জাপানের নৃশংস জীবাণুযুদ্ধ, আর মানুষের মনকে বশে আনতে সিআইএ-র কুখ্যাত গোপন প্রকল্প ‘MK-Ultra’! এলএসডি-র যথেচ্ছ প্রয়োগ থেকে শুরু করে যুদ্ধের বন্দীদের ওপর মারাত্মক রাসায়নিক পরীক্ষা—রাজনীতি আর ক্ষমতার নোংরা খেলায় কীভাবে সাধারণ মানুষের মনকে কব্জা করা হয়েছিল? কেন বিটনিক-হিপি বিদ্রোহের মতো গণ-আন্দোলনকে নেশার সাগরে ডুবিয়ে দেওয়া হলো? যে কোনো রাজনৈতিক থ্রিলারকে হার মানানো এক অবিশ্বাস্য ইতিহাসের সাক্ষী হতে পড়ুন চতুর্থ পর্ব—‘মগজধোলাই রাজনীতির থ্রিলার’।

দেবাশিস মুখোপাধ্যায়১৬ মিনিট
বিষ্ণুপুরের তিনশো বছরের পুরোনো বাড়িতে একাকী কর্নেল শশাঙ্কবাবুর শোবার ঘরের মাঝখান দিয়ে বয়ে চলা এক জীবন্ত নদীর আশ্চর্য গল্প।সংখ্যা ২

গল্পস্বল্প

কর্নেলের ঘরে যে নদীটা থাকত

বিষ্ণুপুরের তিনশো বছরের পুরোনো বাড়িতে একাকী কর্নেল শশাঙ্কবাবুর শোবার ঘরের মাঝখান দিয়ে বয়ে যেত এক জীবন্ত নদী। সেই নদীই ছিল তাঁর নিঃসঙ্গ জীবনের আশ্রয়। কিন্তু এক জন্মদিনে নদী তাঁর অতীতকে বুকে নিয়ে মিলিয়ে গেলে স্তব্ধ হয়ে যায় কর্নেলের ঘর। হারানো নদীটকে ফিরে পাওয়ার তীব্র জেদে শুরু হয় খনন।

সত্যসাধন মণ্ডল৪ মিনিট

মনোরোগের ধূসরতায় ধারাবাহিকের অন্যান্য পর্ব

বিজ্ঞানের নামে ভয়ংকর অপরাধ, নাকি বিশ্বজয়ের গোপন ব্লু-প্রিন্ট?সংখ্যা ২

বিজ্ঞান

মনোরোগের ধূসরতায়: চতুর্থ পর্ব

যদি মানুষের চেতনাই হয়ে ওঠে যুদ্ধের গোপন মারণাস্ত্র! নাৎসি বিজ্ঞানীদের গোপন পুনর্বাসন, জাপানের নৃশংস জীবাণুযুদ্ধ, আর মানুষের মনকে বশে আনতে সিআইএ-র কুখ্যাত গোপন প্রকল্প ‘MK-Ultra’! এলএসডি-র যথেচ্ছ প্রয়োগ থেকে শুরু করে যুদ্ধের বন্দীদের ওপর মারাত্মক রাসায়নিক পরীক্ষা—রাজনীতি আর ক্ষমতার নোংরা খেলায় কীভাবে সাধারণ মানুষের মনকে কব্জা করা হয়েছিল? কেন বিটনিক-হিপি বিদ্রোহের মতো গণ-আন্দোলনকে নেশার সাগরে ডুবিয়ে দেওয়া হলো? যে কোনো রাজনৈতিক থ্রিলারকে হার মানানো এক অবিশ্বাস্য ইতিহাসের সাক্ষী হতে পড়ুন চতুর্থ পর্ব—‘মগজধোলাই রাজনীতির থ্রিলার’।

দেবাশিস মুখোপাধ্যায়১৬ মিনিট
রোগ নিরাময়, নাকি আধুনিক বিজ্ঞানের পোশাকে আদিম বর্বরতা?সংখ্যা ১

বিজ্ঞান

মনোরোগের ধূসরতায়: দ্বিতীয় পর্ব

রোগ নিরাময়, নাকি আধুনিক বিজ্ঞানের পোশাকে আদিম বর্বরতা? কখনো পেটের নাড়িভুঁড়ি কেটে বাদ দেওয়া, কখনো মস্তিষ্কের ফ্রন্টাল লোব খুবলে নিয়ে রোগীকে জড়ভরত বানিয়ে দেওয়া, আবার কখনো ম্যালেরিয়ার জীবাণু বা ইনসুলিনের মারণ কোমা দিয়ে তথাকথিত ‘চিকিৎসা’! এমনকি এই মারাত্মক লোবোটমির জন্য জুটেছিল নোবেল পুরস্কারও। চিকিৎসকদের অন্ধ অহংকার আর অসহায় পরিবারের আর্তি কীভাবে মানসিক রোগীদের ঠেলে দিয়েছিল এক জীবন্ত নরকে? মনোরোগ চিকিৎসার আদিপর্বের চাঞ্চল্যকর ইতিহাস জানুন দ্বিতীয় পর্বে—‘মনোচিকিৎসার আদিপর্ব: বিজ্ঞানের আড়ালে’।

দেবাশিস মুখোপাধ্যায়১১ মিনিট
মনোরোগের ইতিহাস, বিজ্ঞানের নির্মম পরীক্ষার পরিহাস, ফ্রয়েডীয় ফাঁকফোকর—মনোচিকিৎসা ও ওষুধ সাম্রাজ্যের হাড়হিম করা সত্যের উন্মোচন।সংখ্যা ১

বিজ্ঞান

মনোরোগের ধূসরতায়: প্রথম পর্ব

আমরা কি সত্যিই অসুস্থ, নাকি আমাদের রোগী বানানো হচ্ছে? বিশ্বজুড়ে মানসিক রোগের রমরমা—কিন্তু এই ‘মহামারী’ কি বাস্তব, নাকি করপোরেট মুনাফার কারসাজিতে বানানো এক অবাস্তব আখ্যান? জীবনের তুচ্ছাতিতুচ্ছ দ্বন্দ্ব-জটিলতা কি শিশুর চঞ্চলতা—অস্বাভাবিক? নাকি নেহাৎ ওষুধ কোম্পানির খদ্দের ধরার ফাঁদ। যে বিজ্ঞানের এখনও কোনো জৈব-রাসায়নিক মাপকাঠিই নেই, তা কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে একটা বিরাট বাজার? শুরু হলো দেবাশিস মুখোপাধ্যায়ের অনুসন্ধিৎসু সত্যান্বেষণ—‘মনোরোগের ধূসরতায়’! মনোরোগের ইতিহাস আর তার অন্ধকার, বিজ্ঞানের নির্মম পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরিহাস, ফ্রয়েডীয় ফাঁকফোকর, স্নায়ুযুদ্ধ অথবা সি.আই.এ-র ষড়যন্ত্র—মনোচিকিৎসা ও ওষুধ সাম্রাজ্যের হাড়হিম করা রোমাঞ্চকর সত্য উন্মোচিত হতে চলেছে এই ধারাবাহিকের আঠারোটি পর্ব! আজ প্রথম পর্ব ‘সঙ্কটের স্বরূপ’।

দেবাশিস মুখোপাধ্যায়১৫ মিনিট

আরও পড়ুন

বিজ্ঞানের নামে ভয়ংকর অপরাধ, নাকি বিশ্বজয়ের গোপন ব্লু-প্রিন্ট?সংখ্যা ২

বিজ্ঞান

মনোরোগের ধূসরতায়: চতুর্থ পর্ব

যদি মানুষের চেতনাই হয়ে ওঠে যুদ্ধের গোপন মারণাস্ত্র! নাৎসি বিজ্ঞানীদের গোপন পুনর্বাসন, জাপানের নৃশংস জীবাণুযুদ্ধ, আর মানুষের মনকে বশে আনতে সিআইএ-র কুখ্যাত গোপন প্রকল্প ‘MK-Ultra’! এলএসডি-র যথেচ্ছ প্রয়োগ থেকে শুরু করে যুদ্ধের বন্দীদের ওপর মারাত্মক রাসায়নিক পরীক্ষা—রাজনীতি আর ক্ষমতার নোংরা খেলায় কীভাবে সাধারণ মানুষের মনকে কব্জা করা হয়েছিল? কেন বিটনিক-হিপি বিদ্রোহের মতো গণ-আন্দোলনকে নেশার সাগরে ডুবিয়ে দেওয়া হলো? যে কোনো রাজনৈতিক থ্রিলারকে হার মানানো এক অবিশ্বাস্য ইতিহাসের সাক্ষী হতে পড়ুন চতুর্থ পর্ব—‘মগজধোলাই রাজনীতির থ্রিলার’।

দেবাশিস মুখোপাধ্যায়১৬ মিনিট
রোগ নিরাময়, নাকি আধুনিক বিজ্ঞানের পোশাকে আদিম বর্বরতা?সংখ্যা ১

বিজ্ঞান

মনোরোগের ধূসরতায়: দ্বিতীয় পর্ব

রোগ নিরাময়, নাকি আধুনিক বিজ্ঞানের পোশাকে আদিম বর্বরতা? কখনো পেটের নাড়িভুঁড়ি কেটে বাদ দেওয়া, কখনো মস্তিষ্কের ফ্রন্টাল লোব খুবলে নিয়ে রোগীকে জড়ভরত বানিয়ে দেওয়া, আবার কখনো ম্যালেরিয়ার জীবাণু বা ইনসুলিনের মারণ কোমা দিয়ে তথাকথিত ‘চিকিৎসা’! এমনকি এই মারাত্মক লোবোটমির জন্য জুটেছিল নোবেল পুরস্কারও। চিকিৎসকদের অন্ধ অহংকার আর অসহায় পরিবারের আর্তি কীভাবে মানসিক রোগীদের ঠেলে দিয়েছিল এক জীবন্ত নরকে? মনোরোগ চিকিৎসার আদিপর্বের চাঞ্চল্যকর ইতিহাস জানুন দ্বিতীয় পর্বে—‘মনোচিকিৎসার আদিপর্ব: বিজ্ঞানের আড়ালে’।

দেবাশিস মুখোপাধ্যায়১১ মিনিট
মনোরোগের ইতিহাস, বিজ্ঞানের নির্মম পরীক্ষার পরিহাস, ফ্রয়েডীয় ফাঁকফোকর—মনোচিকিৎসা ও ওষুধ সাম্রাজ্যের হাড়হিম করা সত্যের উন্মোচন।সংখ্যা ১

বিজ্ঞান

মনোরোগের ধূসরতায়: প্রথম পর্ব

আমরা কি সত্যিই অসুস্থ, নাকি আমাদের রোগী বানানো হচ্ছে? বিশ্বজুড়ে মানসিক রোগের রমরমা—কিন্তু এই ‘মহামারী’ কি বাস্তব, নাকি করপোরেট মুনাফার কারসাজিতে বানানো এক অবাস্তব আখ্যান? জীবনের তুচ্ছাতিতুচ্ছ দ্বন্দ্ব-জটিলতা কি শিশুর চঞ্চলতা—অস্বাভাবিক? নাকি নেহাৎ ওষুধ কোম্পানির খদ্দের ধরার ফাঁদ। যে বিজ্ঞানের এখনও কোনো জৈব-রাসায়নিক মাপকাঠিই নেই, তা কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে একটা বিরাট বাজার? শুরু হলো দেবাশিস মুখোপাধ্যায়ের অনুসন্ধিৎসু সত্যান্বেষণ—‘মনোরোগের ধূসরতায়’! মনোরোগের ইতিহাস আর তার অন্ধকার, বিজ্ঞানের নির্মম পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরিহাস, ফ্রয়েডীয় ফাঁকফোকর, স্নায়ুযুদ্ধ অথবা সি.আই.এ-র ষড়যন্ত্র—মনোচিকিৎসা ও ওষুধ সাম্রাজ্যের হাড়হিম করা রোমাঞ্চকর সত্য উন্মোচিত হতে চলেছে এই ধারাবাহিকের আঠারোটি পর্ব! আজ প্রথম পর্ব ‘সঙ্কটের স্বরূপ’।

দেবাশিস মুখোপাধ্যায়১৫ মিনিট