মায়ের মুখ
শহরের আগুন, ধোঁয়া আর ইগোর তীব্রতা থেকে দূরে এক অন্য জগতের আখ্যান ‘মায়ের মুখ’। মদ্যপানের আসর, শরতের ফাজলামি, শরীরী আকাঙ্ক্ষা আর সামান্য মুড়ি-ঘুগনির গন্ধে মিশে থাকে জীবনের নির্মম বাস্তব। রেস্তোরাঁর এঁটো প্লেট ধোয়া অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেটির উপার্জন যখন মায়ের হাতে তুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে বাঁধা পড়ে, তখন সমস্ত বিশৃঙ্খলার ভিতরেও জেগে ওঠে মাতৃমুখের চিরন্তন আরাধনা।

সংখ্যা ১কী লিখব বলে ফোনটা হাতে নিয়েছি ভুলে গিয়েছি।
নেশাগ্রস্ত মানুষ আর মায়াবী হরিণ―
জানো, এইমাত্র সোয়াবিনের তরকারি দিয়ে রুটি খেলাম।
এই গোটা শহরটা একটা আগুনের কুণ্ড,
চারিদিকে ধোঁয়া, ধোঁয়া।
গ্রামীণ বাগিচায় মদ্যপান একটি মাত্র জীবিত আঙুরগাছের
পাশ থেকে ভেসে যাওয়া সুবাস,
কিংবা রঙীন পৃথিবীর একেকটি উল্কাপাতের মতন।
এখানে বসে আছে বৃদ্ধ, যুবক ও তরুণেরা―
আলাদা আলাদা যৌথ আসর।
বৃদ্ধা, যুবতী ও তরুণীরা গেছে ঠাকুর দেখতে।
মাঝে মাঝে গেলাসের পাশ থেকে ভেসে আসে
গঞ্জিকাবাস―তৃপ্তির, বিনোদনের, বিতরণের।
শরৎকালীন যত ফাজলামো আর বাক্সপ্যাঁটরা নিয়ে যাতায়াত।
এই রাস্তায় চারচাকার হর্ন নেই,
শহুরে ইগোর তীব্রতা নেই,
নেই পারিজাত।
মাথা বনবন বনবন ঘোরে আশ্লেষের নিদারুণ অভিঘাতে।
পসরা সাজিয়ে বসেছ তরুণী,
একটু দূরেই তোমাদের পথচলা আর পথেই রতির আরতি।
আর ধৈর্য্য নেই, এসো।
গতানুগতিক গতায়াতটুকু সেরে ফেলি খোলা আকাশের নিচে।
এই জগৎ, তার ভিতরের লতাপাতা দিয়ে আরেকটা জগৎ
আর তারও ভিতরে তোমার আমার জগৎ
কিংবা সংসার।
কী মায়ায় বেঁধেছ আমায়?
হা কপাল! মশামারা ধূপ জোটে না একটা?
মুড়ি, ঘুগনি, হালকা ভাজা পোকোড়া―
রাস্তার ধারের কোনো দোকান থেকে নিয়ে আসা,
নামীদামী কোনো রেস্তোরাঁয় পাওয়া যায় না এসব। কিন্তু..
খুব জরুরী। ঐ রেস্তোরাঁয় যে ছেলেটা প্লেট ধোয়
তার বয়স আঠারো হয়নি। এটা সত্যি। এই কদিনের ইনকাম
সে মদ না খেয়ে তুলে দেবে মায়ের হাতে।
মা―নমস্তেহস্ত মহারৌদ্রে মহাঘোরপরাক্রমে॥

লেখক
শোভন
একটি আলোকচিত্র, শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশা কিংবা ঠিকানা দিয়ে কবিকে চেনা কঠিন। এই বর্ণনা হতে পারে তাঁর ব্যক্তিসত্তার পরিচায়ক। কিন্তু কবিসত্তার পরিচিতি তাঁর বইয়ের দুমলাটের মাঝখানের সাদা পৃষ্ঠা গুলোর উপর মুদ্রিত কালো অক্ষরগুলির মধ্যে সন্নিবিষ্ট। কবির পরিচয় তাঁর কবিতায়।
সব কাজ দেখুন →সংখ্যা ১-এর অন্যান্য লেখা
সংখ্যা ১সম্পাদকীয়
সম্পাদকীয়
“কম্পিউটার, ই-মেল এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা নিয়ে অনেক আলোচনা হয়। কিন্তু আমরা এখন এমন এক যুগে প্রবেশ করেছি যেখানে মানুষকেও হ্যাক করা সম্ভব।” ‘উই আর বিকামিং হ্যাকেবল অ্যানিমেলস’—হাড়হিম করে দেওয়া এক বাস্তবতার কথা আমাদের বলেছেন হারারি।
সংখ্যা ১গল্পস্বল্প
বোতাম
সবকিছু যখন এক ক্লিকে বদলে যায়, তখন কিছু মানুষ নিঃশব্দে পাহারা দেয় তাদের চিরপুরাতন বিশ্বাস। সুতো আর মায়া দিয়ে পার্বতীদি কী বুনে চলেছেন দিনরাত? কাগজের মতো সহজে ছিঁড়ে যাওয়া সম্পর্কের ভিড়ে, বুকের ভেতরে সামান্য কাপড় বাঁচিয়ে রাখার এক মায়াবী আখ্যান ‘বোতাম’।
সংখ্যা ১পুরাতনী
ওড়িশা প্রজাতন্ত্র—বিংশ শতাব্দীর ইতিবৃত্তের এক বিস্মৃত পৃষ্ঠা: দ্বিতীয় পর্ব
১৮৪৫ সালে লেখা ১৯২৫ সালের এক কাহিনি। এক বিকল্প ইতিহাস। বিদ্রোহের গল্প। এক ভবিষ্যতের উড়িষ্যার গল্প। যে উড়িষ্যা একদিন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের শৃঙ্খল ভেঙে স্বাধীন প্রজাতন্ত্রে পরিণত হবে। কিন্তু সেই স্বাধীনতার পথ মসৃণ নয়; তার ভিতর লুকিয়ে আছে অরণ্যের গভীরে জমে থাকা ক্ষোভ, হারিয়ে যাওয়া স্বাধীনতার স্মৃতি এবং পাহাড়ি মানুষের অদম্য আত্মমর্যাদা। শশীচন্দ্র দত্তের এই কল্প-ভবিষ্যতের কাহিনি যেন উনিশ শতকের ঔপনিবেশিক বাস্তবতার এক প্রতিবিম্ব; স্বাধীনতার স্বপ্ন কীভাবে প্রতিরোধের ভাষা খুঁজে পায়, তার এক রোমাঞ্চকর আখ্যান।
আরও পড়ুন
সংখ্যা ২কবিতা ও ছড়া
উইকএন্ড ট্যুর
শুক্রবারেই শ্যামলালের প্ল্যান, টুক করে ট্যুর! একদিনের ছুটিতে হাওয়াবদলের সাধ নিয়ে সপরিবারে বেরিয়ে পড়া। তারপর ট্রেনের সিট, হোটেলের বন্দোবস্ত, গাড়ির জোগাড়, গিন্নির ফরমান আর ফর্দ সামলাতে সামলাতে প্রকৃতি দর্শনের সুযোগটুকুও গেল ফসকে। পকেট হল হালকা, অভিজ্ঞতার ঝুলি হল ভারী! সব মিলিয়ে, এইভাবেই শেষ হল শ্যামলালের উইকএন্ড ট্যুর।
সংখ্যা ১কবিতা ও ছড়া
অট্টহাস
অট্টহাসের পথে হঠাৎ এক ভ্রমণ, যেখানে তীর্থযাত্রার চেয়েও গভীর হয়ে ওঠে অন্তরের খোঁজে ফেরা। সুফি-ফকিরের রহস্য, লটারির আশা আর এক নামহীন পথিকের মুক্তির তৃষ্ণা মিলেমিশে একাকার দক্ষিণডিহির মেঘভাঙা বৃষ্টিতে। সন্ন্যাসীর মরমী উপলব্ধি পেরিয়ে ফেরার পথে জন্ম নেয় এক চিরন্তন আর্তি—মুক্তি খুঁজতে এসে এ কোন সৌন্দর্যের বাঁধনে বাঁধা পড়ল অনিকেত হৃদয়?
সংখ্যা ১কবিতা ও ছড়া
আত্মকথা ও অন্যান্য কবিতা
হারিয়ে যাওয়া, থেকে যাওয়া এবং তাদের মাঝখানে জন্ম নেওয়া স্মৃতির এক অদৃশ্য ভূগোল কখনও শব্দে, কখনও স্বপ্নে, কখনও রাগে, কখনও দাগে—কবি খুঁজে ফেরেন। এখানে সৌন্দর্যের পাশে নিঃশব্দে বসে থাকে বিষণ্ণতা, আকাঙ্ক্ষার পাশে অনিবার্য দূরত্ব, আর শৈল্পিক সৌন্দর্যের আড়ালে উঁকি দেয় জীবনের ক্ষত। সে চলে যায় রেখে যায় ক্ষীণ অথচ গভীর কোনো চিহ্ন। হাঁসের চলে যাওয়া পথের মতো—দাগ মুছে যায়, অথচ কোনো একদিন সেই জলের বুকেই শালুক ফুটে ওঠে।



