উইকএন্ড ট্যুর
শুক্রবারেই শ্যামলালের প্ল্যান, টুক করে ট্যুর! একদিনের ছুটিতে হাওয়াবদলের সাধ নিয়ে সপরিবারে বেরিয়ে পড়া। তারপর ট্রেনের সিট, হোটেলের বন্দোবস্ত, গাড়ির জোগাড়, গিন্নির ফরমান আর ফর্দ সামলাতে সামলাতে প্রকৃতি দর্শনের সুযোগটুকুও গেল ফসকে। পকেট হল হালকা, অভিজ্ঞতার ঝুলি হল ভারী! সব মিলিয়ে, এইভাবেই শেষ হল শ্যামলালের উইকএন্ড ট্যুর।

সংখ্যা ২টুক করে মনে পড়ে শুক্র তো কাল!
মোটে একদিন হাতে, ছোটে শ্যামলাল।
‘ট্যুর হবে ছোটো আর নয় বেশি ভিড়,
হাওয়ার বদল হবে শাওয়ার নদীর,
ভ্রমণসঙ্গী খুলে এমন প্রদেশ
খুঁজে বার করো বসে’—এই উপদেশ
গিন্নি দিলেন, তাঁর গোছগাছে মন,
হাতে মোটে এক দিন শিয়রে শমন।
ল্যাগবেগে শ্যাম কাঁধে ব্যাগ তিনখান
কানে বাজে গিন্নির একটানা গান
একটি স্লিপার তাতে বৌ-ছেলে শোয়
আধখানি সিটে হল রাতখানি ক্ষয়।
অবশেষে বড় ক্লেশে সাতটা নাগাদ
ট্রেন পঁহুছায় এসে মর্কটাবাদ।
হেলায়ে বালিশে মাথা, শ্যাম ভাবে ‘বেশ’
নিয়ে সংক্ষেপ ন্যাপ দূর করি ক্লেশ।
চিন্তা ছিন্ন হয় ঝনঝন স্বরে
‘ঘোরাটা কখন হবে? ঘুমোবে অঘোরে?
গাড়ির জোগাড় নেই, হোটেল তো খাসা!
এই সম্বল নিয়ে কেন দূরে আসা?
বাবা বলেছিল আর বলেছিল মাসি
সংসারে দরকারি ডিমকারি, খাসি
চাল-নুন চাই আর অশন-আশন।
না পারো ভূষণ দিতে না পারো বসন!
ভালোবেসে, প্রেমে ভেসে গলায় এ ছুরি
কুম্ভকর্ণ বর মুখরা শাশুড়ি।’
‘চালের অভাব আর নুনের অভাব?’
রুখে উঠে শ্যামলাল দিলেন জবাব।
এরপর যা হল তা অগ্ন্যুদগার
করতে হলই দ্রুত গাড়ির জোগাড়।
মাঠ-মন্দির, নদী, শ্যামল পাহাড়
যা কিছু দেখার আর যা নয় দেখার
যেন রোখ মেলে চোখ গৃহিণী গেলেন
স্থানীয় বাজারে খানাতল্লাসি নেন
দু-একটি কিনলেন, দেখলেন ঢের
প্রমাণ করতে শ্যাম নিজ প্রতাপের
করলেন অক্লেশে হস্ত উপুড়
এইভাবে হল শেষ উইকএন্ড ট্যুর।
ফেরবার পথে শ্যাম হাই তুলে চিৎ
দেখলেন রমণীয় স্বপ্ন উচিত
মেঘের মতন এক বিছানায় হেসে
সুখে শ্যাম নিদ যান মনের হরষে।

লেখক
তন্ময় সিংহ মহাপাত্র
তন্ময় সিংহ মহাপাত্র বিশ্বভারতী-র প্রাক্তন ছাত্র এবং দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভারতীয় ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের প্রাক্তন গবেষক। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য পড়িয়ে জীবিকানির্বাহ করেন। প্যারালালের সঙ্গে যুক্ত।
সব কাজ দেখুন →সংখ্যা ২-এর অন্যান্য লেখা
সংখ্যা ২বিজ্ঞান
মনোরোগের ধূসরতায়: চতুর্থ পর্ব
যদি মানুষের চেতনাই হয়ে ওঠে যুদ্ধের গোপন মারণাস্ত্র! নাৎসি বিজ্ঞানীদের গোপন পুনর্বাসন, জাপানের নৃশংস জীবাণুযুদ্ধ, আর মানুষের মনকে বশে আনতে সিআইএ-র কুখ্যাত গোপন প্রকল্প ‘MK-Ultra’! এলএসডি-র যথেচ্ছ প্রয়োগ থেকে শুরু করে যুদ্ধের বন্দীদের ওপর মারাত্মক রাসায়নিক পরীক্ষা—রাজনীতি আর ক্ষমতার নোংরা খেলায় কীভাবে সাধারণ মানুষের মনকে কব্জা করা হয়েছিল? কেন বিটনিক-হিপি বিদ্রোহের মতো গণ-আন্দোলনকে নেশার সাগরে ডুবিয়ে দেওয়া হলো? যে কোনো রাজনৈতিক থ্রিলারকে হার মানানো এক অবিশ্বাস্য ইতিহাসের সাক্ষী হতে পড়ুন চতুর্থ পর্ব—‘মগজধোলাই রাজনীতির থ্রিলার’।
সংখ্যা ২গল্পস্বল্প
কর্নেলের ঘরে যে নদীটা থাকত
বিষ্ণুপুরের তিনশো বছরের পুরোনো বাড়িতে একাকী কর্নেল শশাঙ্কবাবুর শোবার ঘরের মাঝখান দিয়ে বয়ে যেত এক জীবন্ত নদী। সেই নদীই ছিল তাঁর নিঃসঙ্গ জীবনের আশ্রয়। কিন্তু এক জন্মদিনে নদী তাঁর অতীতকে বুকে নিয়ে মিলিয়ে গেলে স্তব্ধ হয়ে যায় কর্নেলের ঘর। হারানো নদীটকে ফিরে পাওয়ার তীব্র জেদে শুরু হয় খনন।
সংখ্যা ২বিজ্ঞান
মনোরোগের ধূসরতায়: তৃতীয় পর্ব
সিগমুন্ড ফ্রয়েড কি একজন মহান মনস্তাত্ত্বিক, নাকি এক চতুর গল্পকার? অবচেতন মন, যৌন অবদমন আর মনঃসমীক্ষণ—যাঁর তত্ত্বে একসময় বুঁদ হয়েছিল গোটা বিশ্ব, তাঁর গবেষণার পেছনে কতটা বিজ্ঞান আর কতটা সাজানো রূপকথা? কোকেন আসক্তি থেকে শুরু করে নিজের ব্যর্থ চিকিৎসা ও রোগীদের আসল পরিণতি লুকিয়ে রাখার পরও কীভাবে একনায়কের মতো নিজের তত্ত্বকে শতাব্দীর সেরা চিকিৎসা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ফ্রয়েড? মনোবিশ্লেষণের সেই জাদুকরী ছদ্মবেশ নিয়ে তৃতীয় পর্ব—‘ফ্রয়েডের বৈজ্ঞানিক রূপকথা’।
আরও পড়ুন
সংখ্যা ১অতি অল্প হইল
নোবেল ও বাঙালি
যে বাঙালি রবীন্দ্রনাথের বর্তমানে ‘চুরি’ যাওয়া নোবেলের গর্বে সারা দেশে বুক ফুলাইয়া ঘুরিয়া বেড়ায় একদা রবীন্দ্রনাথ এককথায় তাহাদের নাকচ করিয়া দিয়াছিলেন। কীরকম? ১৯১৩ সালের ২৩ নভেম্বর। রবীন্দ্রনাথ নোবেল লরিয়ট হইয়াছেন। বাঙালি বুদ্ধিজীবীগণ রওনা দিলেন শান্তিনিকেতন অভিমুখে; এতদিন যাহারা রবীন্দ্রসাহিত্য লইয়া খেউড় করিতেছিলেন তাহারাও বাদ যান নাই। সভায় ইহাদের দেখিয়া ক্রুদ্ধ কবি কহিয়াছিলেন—“দেশের লোকের হাত থেকে যে অপযশ ও অপমান আমার ভাগ্যে পৌঁছেছে তার পরিমাণ নিতান্ত অল্প হয়নি এবং এতকাল আমি তা নিঃশব্দে বহন করে এসেছি।... যাই হোক্, যে কারণেই হোক্, আজ ইওরোপ আমাকে সম্মানের বরমাল্য দান করেছেন। তার যদি কোনো মূল্য থাকে তবে সেখানকার গুণিজনের রসবোধের মধ্যেই আছে, আমাদের দেশের সঙ্গে তার কোনো আন্তরিক সম্বন্ধ নেই। নোবেল প্রাইজের দ্বারা কোনো রচনার গুণ বা রস বৃদ্ধি করিতে পারে না।”
সংখ্যা ১কবিতা ও ছড়া
মায়ের মুখ
শহরের আগুন, ধোঁয়া আর ইগোর তীব্রতা থেকে দূরে এক অন্য জগতের আখ্যান ‘মায়ের মুখ’। মদ্যপানের আসর, শরতের ফাজলামি, শরীরী আকাঙ্ক্ষা আর সামান্য মুড়ি-ঘুগনির গন্ধে মিশে থাকে জীবনের নির্মম বাস্তব। রেস্তোরাঁর এঁটো প্লেট ধোয়া অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেটির উপার্জন যখন মায়ের হাতে তুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে বাঁধা পড়ে, তখন সমস্ত বিশৃঙ্খলার ভিতরেও জেগে ওঠে মাতৃমুখের চিরন্তন আরাধনা।
সংখ্যা ১কবিতা ও ছড়া
অট্টহাস
অট্টহাসের পথে হঠাৎ এক ভ্রমণ, যেখানে তীর্থযাত্রার চেয়েও গভীর হয়ে ওঠে অন্তরের খোঁজে ফেরা। সুফি-ফকিরের রহস্য, লটারির আশা আর এক নামহীন পথিকের মুক্তির তৃষ্ণা মিলেমিশে একাকার দক্ষিণডিহির মেঘভাঙা বৃষ্টিতে। সন্ন্যাসীর মরমী উপলব্ধি পেরিয়ে ফেরার পথে জন্ম নেয় এক চিরন্তন আর্তি—মুক্তি খুঁজতে এসে এ কোন সৌন্দর্যের বাঁধনে বাঁধা পড়ল অনিকেত হৃদয়?



