দশ বছর পর
এই কবিতার কেন্দ্রে আছে ফিরে দেখা—কিন্তু সেই ফিরে দেখা কোনো নস্টালজিক আশ্রয় নয়। দশ বছর পর পরিচিত সাঁকো, পুকুর, বাড়ি, ঠিকানা—সবই বদলে গেছে; বদলে গেছে স্মৃতির ভেতরে থাকা ‘আমি’-টিও। পুরোনো জিনিসের জং, শূন্য বাটি, হারিয়ে যাওয়া বাড়ি আর অস্পষ্ট হাতের লেখার মধ্য দিয়ে কবি দেখান, সময় শুধু স্থানকে বদলায় না, আমাদের স্মৃতিকেও ধীরে ধীরে অপরিচিত করে তোলে। ফিরে এসে তাই চেনা পৃথিবীর সামনে দাঁড়িয়ে নিজেরই লেখা পড়তে না-পারা এক মানুষের অসহায় বিস্ময়—‛দশ বছর পর’ কবিতার মর্মে সেই গভীর বিচ্ছেদ।

সংখ্যা ১১
সাঁকোটি বাঁশের ছিল, হেরে গিয়ে পাকাপোক্ত ব্রিজ
ওপারের কিছু আর চেনাই যাচ্ছে না
পুরোনো দিনের কৌটো, ডালা খুললে দৃশ্য ঝেঁপে আসে
তার জং ভালো লাগে—গুঁড়োভর্তি আঙুল—অযথা
প্লাস্টিকের জার এনে নস্যাৎ করার মতো স্মৃতি
ওপারে ছড়ানো, হেঁটে যেখানে পৌঁছোচ্ছি, আমি নই
২
বাটির মতন খাঁ-খাঁ, ব্যঞ্জন ঢালেনি কেউ এসে
ডাকা হত পুকুর নামেই
বর্ষায় সামান্য ডাল, ভেসে-থাকা ফোড়ন, তলানি
না-মাত্র চুমুকে শেষ, অপেক্ষার শুরু, সেই দায়
ঘোচাতে বোজানো হল—বাটি পূর্ণ, কিন্তু খিদে কই
যে-পুকুর ধরে তুমি ঠিকানা বোঝাতে
বিয়ে করে চলে গেছে অন্যখানে
৩
সহজেই আঁকা যেত, তেমন বাড়ির
দিনগুলি মনে পড়ে, তুলসীবেদির গায়ে শাড়ি
জলছাপ রেখে যাচ্ছে, সেসব পেরিয়ে তবে দোর
নিঃশব্দে খোলা ও তত চুপিচুপি ভেজানো, বরং
সে-বাড়িটি ফিরে এসো
প্রতারণা না-করে, এবার
করি কিছু ভিন্ন জ্যামিতিক
৪
এত বদলে গেছে সব, মনে হচ্ছে, সঠিক উত্তর
এবারও হবে না দেওয়া
স্মৃতি খুলে টুকে যাচ্ছি, স্টেপ জাম্প, শেষ ধাপে এসে
পুরোটা গুলিয়ে গেল, বেল পড়ছে, তাড়াতাড়ি লেখ—
নিজের হাতের লেখা নিজেই পড়তে পারছি না

লেখক
তন্ময় ভট্টাচার্য
জন্ম ১৯৯৪, বেলঘরিয়ায়। প্রকাশিত কবিতার বই—‘দীপাবলি নাকি শবযাত্রা’ (২০১৮), ‘বেইমানির যা-কিছু চিরাগ’ (২০১৯), ‘বাংলার ব্রত’ (২০২২), ‘অবাঙ্মনসগোচর’ (২০২৩), ‘পা কাটিয়া দিবার শতেক খেলাচ্ছল' (২০২৫)
সব কাজ দেখুন →সংখ্যা ১-এর অন্যান্য লেখা
সংখ্যা ১সম্পাদকীয়
সম্পাদকীয়
“কম্পিউটার, ই-মেল এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা নিয়ে অনেক আলোচনা হয়। কিন্তু আমরা এখন এমন এক যুগে প্রবেশ করেছি যেখানে মানুষকেও হ্যাক করা সম্ভব।” ‘উই আর বিকামিং হ্যাকেবল অ্যানিমেলস’—হাড়হিম করে দেওয়া এক বাস্তবতার কথা আমাদের বলেছেন হারারি।
সংখ্যা ১গল্পস্বল্প
বোতাম
সবকিছু যখন এক ক্লিকে বদলে যায়, তখন কিছু মানুষ নিঃশব্দে পাহারা দেয় তাদের চিরপুরাতন বিশ্বাস। সুতো আর মায়া দিয়ে পার্বতীদি কী বুনে চলেছেন দিনরাত? কাগজের মতো সহজে ছিঁড়ে যাওয়া সম্পর্কের ভিড়ে, বুকের ভেতরে সামান্য কাপড় বাঁচিয়ে রাখার এক মায়াবী আখ্যান ‘বোতাম’।
সংখ্যা ১পুরাতনী
ওড়িশা প্রজাতন্ত্র—বিংশ শতাব্দীর ইতিবৃত্তের এক বিস্মৃত পৃষ্ঠা: দ্বিতীয় পর্ব
১৮৪৫ সালে লেখা ১৯২৫ সালের এক কাহিনি। এক বিকল্প ইতিহাস। বিদ্রোহের গল্প। এক ভবিষ্যতের উড়িষ্যার গল্প। যে উড়িষ্যা একদিন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের শৃঙ্খল ভেঙে স্বাধীন প্রজাতন্ত্রে পরিণত হবে। কিন্তু সেই স্বাধীনতার পথ মসৃণ নয়; তার ভিতর লুকিয়ে আছে অরণ্যের গভীরে জমে থাকা ক্ষোভ, হারিয়ে যাওয়া স্বাধীনতার স্মৃতি এবং পাহাড়ি মানুষের অদম্য আত্মমর্যাদা। শশীচন্দ্র দত্তের এই কল্প-ভবিষ্যতের কাহিনি যেন উনিশ শতকের ঔপনিবেশিক বাস্তবতার এক প্রতিবিম্ব; স্বাধীনতার স্বপ্ন কীভাবে প্রতিরোধের ভাষা খুঁজে পায়, তার এক রোমাঞ্চকর আখ্যান।
আরও পড়ুন
সংখ্যা ২কবিতা ও ছড়া
উইকএন্ড ট্যুর
শুক্রবারেই শ্যামলালের প্ল্যান, টুক করে ট্যুর! একদিনের ছুটিতে হাওয়াবদলের সাধ নিয়ে সপরিবারে বেরিয়ে পড়া। তারপর ট্রেনের সিট, হোটেলের বন্দোবস্ত, গাড়ির জোগাড়, গিন্নির ফরমান আর ফর্দ সামলাতে সামলাতে প্রকৃতি দর্শনের সুযোগটুকুও গেল ফসকে। পকেট হল হালকা, অভিজ্ঞতার ঝুলি হল ভারী! সব মিলিয়ে, এইভাবেই শেষ হল শ্যামলালের উইকএন্ড ট্যুর।
সংখ্যা ১কবিতা ও ছড়া
মায়ের মুখ
শহরের আগুন, ধোঁয়া আর ইগোর তীব্রতা থেকে দূরে এক অন্য জগতের আখ্যান ‘মায়ের মুখ’। মদ্যপানের আসর, শরতের ফাজলামি, শরীরী আকাঙ্ক্ষা আর সামান্য মুড়ি-ঘুগনির গন্ধে মিশে থাকে জীবনের নির্মম বাস্তব। রেস্তোরাঁর এঁটো প্লেট ধোয়া অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেটির উপার্জন যখন মায়ের হাতে তুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে বাঁধা পড়ে, তখন সমস্ত বিশৃঙ্খলার ভিতরেও জেগে ওঠে মাতৃমুখের চিরন্তন আরাধনা।
সংখ্যা ১কবিতা ও ছড়া
অট্টহাস
অট্টহাসের পথে হঠাৎ এক ভ্রমণ, যেখানে তীর্থযাত্রার চেয়েও গভীর হয়ে ওঠে অন্তরের খোঁজে ফেরা। সুফি-ফকিরের রহস্য, লটারির আশা আর এক নামহীন পথিকের মুক্তির তৃষ্ণা মিলেমিশে একাকার দক্ষিণডিহির মেঘভাঙা বৃষ্টিতে। সন্ন্যাসীর মরমী উপলব্ধি পেরিয়ে ফেরার পথে জন্ম নেয় এক চিরন্তন আর্তি—মুক্তি খুঁজতে এসে এ কোন সৌন্দর্যের বাঁধনে বাঁধা পড়ল অনিকেত হৃদয়?




