ব্রহ্মকাল
ব্রহ্মকাল—যেখানে ভোরের রোদ এসে খোলে অন্তরের জানলা, শিউলির ঝরে-পড়া হাসিতে জেগে ওঠে বহু দূরের কোনো আদিম সুর। টগরের শুভ্রতা থেকে রঙ্গনের লালিমা―নিমপাতার গাঢ় সবুজে কবি ছুঁয়ে দেখেন হারিয়ে যাওয়া মধুর বিষাদ এবং জীবনের গভীরে ঘুমিয়ে থাকা অনন্ত শিকড়। সময় এখানে কেবল বয়ে যায় না—সে ফিরে আসে স্মৃতির পথ ধরে, ছুঁয়ে দেয় জন্মের আদিম আলো, আর বর্তমানের বুকের ভিতর খুলে দেয় এক চিরন্তন দুয়ার। ‘ব্রহ্মকাল’ সেই অনির্বচনীয় মুহূর্তের কবিতা।

সংখ্যা ১সকালের রোদ্দুর পড়ে যেখানে দিগন্তের ঘরে
খুলে যায় জানলার খিল
সেইখানে হাত ছুঁয়ে বসে আছি শুভ্র টগরে
ধ্বনি নিয়ে সরল শিথিল।
রঙ্গনে সমীরণ মেশে, শিউলি স্খলিত হাসে
বেজে ওঠে আদিম মূর্চ্ছনা
জন্ম যেন অশোকের, সে বিগত শতকের
স্মৃতি শুধু মধুর বেদনা।
ছুঁয়ে থাকি ব্রহ্মকাল, তবু যেন আদি বাল্য
নিমের পাতার মতো গাঢ়
সবুজ ঘনিয়ে ওঠা, দেয়া পূর্ণ জীবনের
আয়ুর্বেদিকার শিকড়ও।

লেখক
অদিতি রায়
অদিতি রায়। জন্ম ১ মে, ১৯৯৭, বারুইপুরে। ঠাকুরদা বলরাম রায় ছিলেন লেখক। তাঁকে চোখে না দেখলেও বাড়ির সাহিত্যিক পরিমণ্ডলে অদিতির কবিতা লেখা শুরু হয় পাঁচবছর বয়স থেকে। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করে বর্তমানে তিনি সেখানেই গবেষণারত। স্নাতক স্তরে গোল্ড মেডালিস্ট অদিতির লেখালেখি বিভিন্ন লিট্ল ম্যাগাজিন ছাড়াও ‘এই সময়’, ‘দেশ’, ‘আনন্দমেলা’, ‘মাসিক কৃত্তিবাস’-এ প্রকাশিত হয়েছে।
সব কাজ দেখুন →সংখ্যা ১-এর অন্যান্য লেখা
সংখ্যা ১সম্পাদকীয়
সম্পাদকীয়
“কম্পিউটার, ই-মেল এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা নিয়ে অনেক আলোচনা হয়। কিন্তু আমরা এখন এমন এক যুগে প্রবেশ করেছি যেখানে মানুষকেও হ্যাক করা সম্ভব।” ‘উই আর বিকামিং হ্যাকেবল অ্যানিমেলস’—হাড়হিম করে দেওয়া এক বাস্তবতার কথা আমাদের বলেছেন হারারি।
সংখ্যা ১গল্পস্বল্প
বোতাম
সবকিছু যখন এক ক্লিকে বদলে যায়, তখন কিছু মানুষ নিঃশব্দে পাহারা দেয় তাদের চিরপুরাতন বিশ্বাস। সুতো আর মায়া দিয়ে পার্বতীদি কী বুনে চলেছেন দিনরাত? কাগজের মতো সহজে ছিঁড়ে যাওয়া সম্পর্কের ভিড়ে, বুকের ভেতরে সামান্য কাপড় বাঁচিয়ে রাখার এক মায়াবী আখ্যান ‘বোতাম’।
সংখ্যা ১পুরাতনী
ওড়িশা প্রজাতন্ত্র—বিংশ শতাব্দীর ইতিবৃত্তের এক বিস্মৃত পৃষ্ঠা: দ্বিতীয় পর্ব
১৮৪৫ সালে লেখা ১৯২৫ সালের এক কাহিনি। এক বিকল্প ইতিহাস। বিদ্রোহের গল্প। এক ভবিষ্যতের উড়িষ্যার গল্প। যে উড়িষ্যা একদিন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের শৃঙ্খল ভেঙে স্বাধীন প্রজাতন্ত্রে পরিণত হবে। কিন্তু সেই স্বাধীনতার পথ মসৃণ নয়; তার ভিতর লুকিয়ে আছে অরণ্যের গভীরে জমে থাকা ক্ষোভ, হারিয়ে যাওয়া স্বাধীনতার স্মৃতি এবং পাহাড়ি মানুষের অদম্য আত্মমর্যাদা। শশীচন্দ্র দত্তের এই কল্প-ভবিষ্যতের কাহিনি যেন উনিশ শতকের ঔপনিবেশিক বাস্তবতার এক প্রতিবিম্ব; স্বাধীনতার স্বপ্ন কীভাবে প্রতিরোধের ভাষা খুঁজে পায়, তার এক রোমাঞ্চকর আখ্যান।
আরও পড়ুন
সংখ্যা ২কবিতা ও ছড়া
উইকএন্ড ট্যুর
শুক্রবারেই শ্যামলালের প্ল্যান, টুক করে ট্যুর! একদিনের ছুটিতে হাওয়াবদলের সাধ নিয়ে সপরিবারে বেরিয়ে পড়া। তারপর ট্রেনের সিট, হোটেলের বন্দোবস্ত, গাড়ির জোগাড়, গিন্নির ফরমান আর ফর্দ সামলাতে সামলাতে প্রকৃতি দর্শনের সুযোগটুকুও গেল ফসকে। পকেট হল হালকা, অভিজ্ঞতার ঝুলি হল ভারী! সব মিলিয়ে, এইভাবেই শেষ হল শ্যামলালের উইকএন্ড ট্যুর।
সংখ্যা ১কবিতা ও ছড়া
মায়ের মুখ
শহরের আগুন, ধোঁয়া আর ইগোর তীব্রতা থেকে দূরে এক অন্য জগতের আখ্যান ‘মায়ের মুখ’। মদ্যপানের আসর, শরতের ফাজলামি, শরীরী আকাঙ্ক্ষা আর সামান্য মুড়ি-ঘুগনির গন্ধে মিশে থাকে জীবনের নির্মম বাস্তব। রেস্তোরাঁর এঁটো প্লেট ধোয়া অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেটির উপার্জন যখন মায়ের হাতে তুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে বাঁধা পড়ে, তখন সমস্ত বিশৃঙ্খলার ভিতরেও জেগে ওঠে মাতৃমুখের চিরন্তন আরাধনা।
সংখ্যা ১কবিতা ও ছড়া
অট্টহাস
অট্টহাসের পথে হঠাৎ এক ভ্রমণ, যেখানে তীর্থযাত্রার চেয়েও গভীর হয়ে ওঠে অন্তরের খোঁজে ফেরা। সুফি-ফকিরের রহস্য, লটারির আশা আর এক নামহীন পথিকের মুক্তির তৃষ্ণা মিলেমিশে একাকার দক্ষিণডিহির মেঘভাঙা বৃষ্টিতে। সন্ন্যাসীর মরমী উপলব্ধি পেরিয়ে ফেরার পথে জন্ম নেয় এক চিরন্তন আর্তি—মুক্তি খুঁজতে এসে এ কোন সৌন্দর্যের বাঁধনে বাঁধা পড়ল অনিকেত হৃদয়?




