১৯৪৫ সালের এক ৪৮ ঘন্টার জার্নাল: প্রথম পর্ব
১৮৩৫ সালে বসে এক অষ্টাদশবর্ষীয় তরুণের কল্পনায় দেখা ১৯৪৫-এর ভারত! ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সূচনাপর্বের বহু আগেই কল্পবিজ্ঞানের ধাঁচে ব্রিটিশের বিরুদ্ধে এক দুঃসাহসিক বিদ্রোহের স্বপ্ন দেখেছিলেন হিন্দু কলেজের কৃতী ছাত্র কৈলাস চন্দ্র দত্ত। ঔপনিবেশিক শৃঙ্খল চূর্ণ করবার সশস্ত্র সংকল্পে গর্জে উঠেছিল গল্পের নায়ক ভুবনমোহনের কণ্ঠ। রক্তক্ষয়ী সংঘাত আর এক অসম যুদ্ধের সূচনা—কী ঘটেছিল সেই ঐতিহাসিক সন্ধ্যায়? পরাধীন ভারতের প্রথম বিদ্রোহী কল্পকাহিনীর শ্বাসরুদ্ধকর সূচনা পড়ুন প্রথম পর্বে।
১৯৪৫ সালের এক ৪৮ ঘন্টার জার্নালপর্ব ১/২
সংখ্যা ১সূচিপত্র
অনুবাদকের কথা
১৮৩৫ সালে হিন্দু কলেজের এক অষ্টাদশ বর্ষীয় ছাত্র কৈলাস চন্দ্র দত্ত ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে ১৯৪৫-এ ভারতীয়দের একটি কাল্পনিক বিদ্রোহের কাহিনী লেখেন। ডেভিড লেস্টার রিচার্ডসন সম্পাদিত ক্যালকাটা লিটারারি গেজেটে ৬ জুন গল্পটি প্রকাশিত হয়। এতে ব্রিটিশ শাসকের বিরুদ্ধে কাল্পনিক বিদ্রোহের কথা থাকলেও, ১৮৩০-৪০ এর সময়কার কলকাতায় যে মুক্তচিন্তার আবহ ছিল, তাতে এই অল্পবয়সী লেখক এবং তাঁর গল্পের সম্পাদক উভয়েই অক্ষত থাকেন। এই মুক্তচিন্তার প্রভাব ছিল কৈলাস চন্দ্রের পরিবারেও। দত্ত পরিবার কলকাতায় ইউরোপীয় জ্ঞানবিজ্ঞান শিক্ষার পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। কৈলাসচন্দ্রের পিতা রসময় দত্ত হিন্দু কলেজের একজন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন। এই পরিবারেরই পরবর্তী সদস্য হলেন স্বনামধন্য রমেশচন্দ্র দত্ত এবং তরু দত্ত। কৈলাস চন্দ্র নিজে হিন্দু কলেজের ছাত্র হিসেবে একাধিকবার পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করেন। তিনি ছাত্রাবস্থাতেই ‘হিন্দু পাইওনীয়র’ নামে একটি নিজস্ব পত্রিকা প্রকাশ করেন। হিন্দু কলেজের অসাম্প্রদায়িক মুক্তচিন্তার আবহাওয়ার দ্বারা তিনি প্রভাবিত হয়েছিলেন। ডেভিড হেয়ার, ডেভিড ড্রামন্ড এবং হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিওর সংস্কারমুক্ত র্যাডিকাল চিন্তাধারা পুষ্ট করেছিল তাঁর মনকে। একই সঙ্গে তাঁর আধুনিক মনে ছাপ ফেলেছিল আমেরিকার স্বাধীনতাযুদ্ধ, ফরাসি বিপ্লব, ইতালির স্বাধীনতাযুদ্ধ, ইংরেজি সাহিত্য ও ইউরোপীয় স্বাধীনচিন্তা, অষ্টাদশ শতাব্দীর ফরাসি বুদ্ধিমত্তা, ভাষাতত্ত্ব ও প্রাচীন ইতিহাসের ক্ষেত্রে জার্মান শ্রম, প্রত্যক্ষবাদ (Positivism) এবং উপযোগবাদ (Utilitarianism)।
কৈলাস চন্দ্রের বিদ্রোহী জার্নালের শুরুর এপিগ্রাফটির সুরও ছিল বিদ্রোহী। এই উদ্ধৃতিতে জুনিয়াস ব্রুটাস তাঁর কমরেডদের বিদ্রোহের ডাক দিয়ে ভাষণ দিচ্ছেন। কৈলাস এই উদ্ধৃতিটি নিয়েছেন ন্যাথানিয়াল হুক-এর History of Rome থেকে। একইভাবে শেক্সপিয়ারের ‘জুলিয়াস সিজার’ নাটক এবং ফরাসি বিপ্লবও এই ‘জার্নাল’-এর কাহিনীটিকে এতটাই প্রভাবিত করেছিল যে, সমালোচক অ্যালেক্স টিকেল একে ‘জ্যাকোবিন’ (Jacobin) উপাখ্যান হিসেবে অভিহিত করেন। কাহিনীর নায়ক ভুবনমোহনের যুক্তিপূর্ণ ও অলংকারবহুল ভাষণে আমরা শেক্সপিয়ারের ছায়া দেখতে পাই। কাহিনীর শেষে দুদিকে কাঠের স্তম্ভের মধ্যখানে গল্পের নায়কের মুণ্ডচ্ছেদ, আমাদের নিশ্চিতভাবে পারী কমিউনের গিলোটিনের কথা মনে করায়। কারণ ১৮৩০-এর সময় শিরশ্ছেদ ব্রিটিশ সরকারের কাছে পছন্দসই শাস্তি ছিল না, বরং কামানের মুখে বিদ্রোহীদের বেঁধে উড়িয়ে দেওয়াকেই তারা পছন্দ করত। কৈলাস চন্দ্রের ‘জার্নাল’-এর অন্তিমে বিপ্লব ব্যর্থ হয়, কিন্তু তার আগেই ভুবন তাঁর দেশবাসীকে অনুপ্রাণিত করে যান, যেন তাঁরা ‘যে পথটিতে চলা শুরু করেছেন অত্যন্ত গৌরবের সাথে, তাতে অবিচল থাকেন।’
জার্নালের শেষে কৈলাস চন্দ্র ভারতীয়দের উপর ব্রিটিশ শাসকের অত্যাচারের প্রতিবাদ জানিয়েছেন কাব্যের মাধ্যমে। গল্পের নায়কের মৃত্যুর ঠিক আগে তিনি উদ্ধৃত করেন থমাস ক্যাম্পবেলের ‘দি প্লেজার অফ হোপ’। উদ্ধৃতিটিতে ক্যাম্পবেল পোলিশ বিদ্রোহের নায়ককে স্মরণ করেছিলেন, কৈলাস চন্দ্র সেই বিদ্রোহীর নামের বদলে ‘ভারতীয় দেশপ্রেমিক’ লেখেন। কৈলাস চন্দ্র দত্তের এই ‘জ্যাকোবিন’ গল্পে তিনি ভবিষ্যৎদ্রষ্টার মতোই ভারতীয় বিপ্লবের ভবিষ্যৎ রূপরেখা এঁকেছিলেন। ১৯৪৫-এ না হলেও, তার মাত্র দু’বছর পরেই ১৯৪৭-এ ভারত স্বাধীন হল যে দেশব্যাপী আন্দোলনের মাধ্যমে, এই কল্প-ভবিষ্যতের গল্পটি যেন তারই বীজ বপন করেছিল।
এই অনুবাদের কাজে Mary Ellis Gibson-এর ‘Science Fiction in Colonial India, 1835–1905: Five Tales of Speculation, Resistance and Rebellion’ গ্রন্থটির সাহায্য নেওয়া হয়েছে। সম্পূর্ণ গ্রন্থটির উৎসনির্দেশ দেওয়া হল—Mary Ellis Gibson (ed.), ‘Science Fiction in Colonial India, 1835–1905: Five Tales of Speculation, Resistance and Rebellion’, London and New York: Anthem Press, 2019।
প্রথম পর্ব
“And shall we, shall men, after five and twenty years of ignominius servitude, shall we, through a fear of dying, defer one single instant to assert our liberty? No, Romans; now is the time; the favourable moment we have so long waited for is come.”—Junius Brutus
গত পঞ্চাশ বছর ধরে মহানগরবাসী ভারতীয়দের ওপর যে অত্যাচার চলেছে, তা হল নিম্নবর্গের ওপর উচ্চবর্গের অত্যাচার। ব্রিটিশ বর্বর অত্যাচারী শাসকরা ভারতীয়দের বয়স, লিঙ্গ বা সামাজিক অবস্থান কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে চরম নির্মমতায় হত্যা ও ধ্বংসলীলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে নিজেদের এবং পূর্বপুরুষদের ওপর চরম অত্যাচারের স্মৃতি মিলে নিতান্ত নিরীহ ভারতীয়রাও খোঁচা খাওয়া বাঘের মতো ভয়ঙ্কর হয়ে উঠল। প্রতিদিন অপরাধগুলো দিন দিন কমার পরিবর্তে আরও গুরুতর হয়ে উঠছে দেখে এবং লর্ডস (উচ্চকক্ষ) বা কমন্স (নিম্নকক্ষ) কোথাও আবেদন করেই কোনো প্রতিকার না পেয়ে বাধ্য হয়ে তিনি ভারতের ভাইসরয় লর্ড ফেল বুচার (কসাই)-কে তার গদি থেকে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়ার এবং দেশের সবচেয়ে দেশপ্রেমিক পুরুষদের নিয়ে একটি সরকার গঠন করার এক সাহসী এবং মরিয়া সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ইংল্যান্ডের মানুষ যদি তাদের রাজা, যিনি ঈশ্বরের প্রতিনিধি, এবং দেশের প্রতি অত্যন্ত অনুগত থাকা সত্ত্বেও রাজার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে পারে, সেই পরিস্থিতিতে ভারতীয়দের ব্রিটিশ শাসকের বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলে নেওয়া বা বিদ্রোহ করাটা কোন আশ্চর্যের বিষয়ও নয়, আর এতে রাগ করারও কিছু নেই। এটা অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি প্রতিক্রিয়া। নিষ্ঠুর বিজয়ীদের নির্মম নৃশংসতা বন্ধ করার জন্য এটিই একমাত্র পরিকল্পিত পদ্ধতি। যারা ক্রমাগত বিপজ্জনক চক্রান্ত এবং জঘন্য নিষ্ঠুরতার পরিবেশের সাথে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে, তারা খুব দ্রুত মানব প্রকৃতির উদার অনুভূতিগুলির প্রতি উদাসীন হয়ে যায়। একদা শান্তিকামী এই জাতির মধ্যে বিদ্যুৎ গতিতে বিদ্রোহের চেতনা ছড়িয়ে পড়েছিল। ইতিহাসবিদ এবং কবিদের পক্ষে বিপ্লবী দলগুলির চরমপন্থার কাহিনীগুলিকে অত্যন্ত জীবন্ত, রঙিন ভাবে ফুটিয়ে তোলা খুব সহজ। কিন্তু তাদের আসল পরিস্থিতি কেবল তিনিই সঠিকভাবে বিচার করতে পারেন, যিনি গভীর ভাবনা নিয়ে সেই সব মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছেন—যাদের পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং সঙ্গীদের ঠান্ডা মাথায় নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। যিনি নিজের চোখে দেখেছেন কীভাবে গ্রাম এবং শহরগুলোকে উল্লাসের আলো জ্বালানোর জন্য আগুনে পুড়িয়ে ছারখার করে দেওয়া হয়েছে। যিনি প্রত্যক্ষ করেছেন হাজার হাজার মানুষকে কীভাবে তাদের ঘরবাড়ি ও দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে এবং মাটির গভীর গর্তে, পাহাড়ের গুহায় বা গাছের খোঁদলে আশ্রয় নিতে হয়েছে।
এই ষড়যন্ত্রে কলকাতার বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি—বাবু, রাজা এবং নবাবরা জড়িত ছিলেন, যা এর গুরুত্ব ও প্রভাবকে বহুলাংশে বাড়িয়ে দিয়েছিল। বেশ কিছুদিন ধরে অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে এটি পরিচালনা করা হয়েছিল। যদি এই ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনাগুলি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হওয়ার মতো পর্যাপ্ত সময় পেত, তবে বিদ্রোহের এই আগুন সম্ভবত প্রতিটি শহরেই ছড়িয়ে পড়ত।
সেই সন্ধ্যাটি ছিল মনোরম; অস্তগামী সূর্যের আভা, মৃদু বাতাস এবং পাখির কূজন পরিবেশটিকে মনোহর করে তুলেছিল। সাধারণত যেমনটা হয়ে থাকে—রাস্তায় অলসভাবে ঘুরে বেড়ানোর পরিবর্তে, ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবাই একই দিকে হেঁটে যাচ্ছিল। সন্ধ্যা ৬-টা নাগাদ ‘প্রাসাদ নগরী’ কলকাতার উত্তরপূর্ব শহরতলিতে বহু মানুষ ভিড় জমিয়েছিল। সেখানে বিশাল খেলার মাঠের বাঁ দিকে বয়ে চলেছে একটি নদী, আর ডান দিকের সীমানায় বাঁশঝাড়ের সারি। সামনে ছিল কোনো মুসলিম শিল্পীর তৈরি একটি সুন্দর প্যাগোডা, যার সর্পাকৃতি চূড়াগুলি ডুবন্ত সূর্যরশ্মিকে অজস্র চমৎকার রঙে প্রতিফলিত করছিল। চারিপাশের সবকিছুই ছিল অতি সুন্দর—জলের প্রবল আছড়ে পড়া, বাতাসের দীর্ঘশ্বাস, এবং পাখিদের কলতান ও মানুষের কণ্ঠস্বরের মিশ্র সুর এটিকে এক অনির্বচনীয় মায়াবী রূপ দিয়েছিল। সবাই ঘাসের উপর বসে পড়ল, সভার কার্যক্রম শুরু হল। জনতার এক প্রান্ত থেকে একজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব উঠে দাঁড়ালেন। তাঁর কুঞ্চিত ভ্রু এবং মুখমণ্ডলের গভীর বলিরেখাগুলি বলে দিচ্ছিল যে বয়সের চেয়ে ভেতরের আবেগই তাঁকে চালিত করছে। ‘ভদ্রমহোদয়গণ’—তিনি বললেন—‘আমি আরও একবার আমার দেশবাসীকে তাদের জন্মগত অধিকার দাবি করতে এবং তাদের প্রতি হওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে সমবেত হতে দেখে অত্যন্ত আনন্দিত। তবে আজকের বক্তব্য বিষয়ে প্রবেশ করার আগে আমাকে জিজ্ঞাসা করার অনুমতি দিন যে, গত সভায় আমাদের প্রত্যেকের কার্বাইন বন্দুক এবং তলোয়ার পরিধানের যে প্রস্তাবটি নেওয়া হয়েছিল, তা সার্বজনীনভাবে পালন করা হয়েছে কিনা। প্রশংসার তুমুল করতালি প্রমাণ করল যে তা করা হয়েছে। ভুবনমোহন, স্বর্ণমণ্ডিত কিংখাবের অপূর্ব পোশাকে সজ্জিত, ২৫ বছর বয়সী এক যুবক উঠে দাঁড়ালেন। ঠিক সেই মুহূর্তে তাঁর শ্রদ্ধেয় পূর্বসূরী ঘাসের উপর বসে পড়লেন। ভুবনমোহন মার্জিতভাবে তাঁর বাম কাঁধে একটি জমকালো এমব্রয়ডারি করা শাল ঝুলিয়ে দিলেন, এবং অ্যাংলো ইন্ডিয়ান কলেজের শিক্ষা ও বাগ্মিতার সমস্ত জ্ঞানসহ বক্তব্য রাখতে শুরু করলেন। গভীর পুরুষালি কণ্ঠে তিনি সেই সব কষ্ট ও বিপদের কথা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরলেন, যা ব্রিটেনের কাছে পরাজিত হওয়ার পর থেকে হিন্দুস্থানের অধিবাসীদের সহ্য করতে হয়েছিল। তিনি এই বলে শেষ করলেন—
আমার বন্ধু দেশবাসীগণ, আমি আপনাদের সামনে অলঙ্কারবহুল ভাষায় (যা আমি সামান্যই জানি) বাগ্মিতা প্রদর্শন করার উদ্দেশ্যে কথা বলছি না। আমি কোনো উত্তপ্ত কল্পনা বা অন্ধ উদ্দীপনা থেকে কথা বলছি না; আমি কেবল আমার হৃদয়ের সহজ সরল অনুভূতিগুলি ব্যক্ত করছি, যা আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আপনাদের সকলের হৃদয়েও প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। একবার চিন্তা করে দেখুন, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আপনারা কী ধরনের নিষ্ঠুরতা সহ্য করে আসছেন। ক্লাইভের অত্যাচার, ওয়েলেসলির একনায়কতন্ত্র, ওয়ারেন হেস্টিংসের স্বেচ্ছাচারী নিষ্ঠুরতা আর আমাদের বর্তমান ঘৃণ্য সরকারের সীমাহীন লোভ থেকে আমাদের অবস্থার আর কী বা উন্নতি আশা করা যেতে পারে? যখন পৃথিবীর অন্যান্য জাতি সভ্যতার শিখরে আরোহণ করছে, তখন হিন্দুস্থানের মানুষ দিন দিন পশুর স্তরে নেমে যাচ্ছে।
আমার বন্ধু দেশবাসীরা, এক মুহূর্তের জন্য ভেবে দেখুন এই রূঢ় দ্বীপবাসীরা (ব্রিটিশরা) আপনাদের কাছ থেকে বলপূর্বক কী কী ছিনিয়ে নিয়েছে। আপনারা যদি এখনও ব্রিটিশদের এই চাপিয়ে দেওয়া নিষ্ঠুর নিয়মগুলো মেনে নিতে প্রস্তুত থাকেন, যদি এখনও আমাদের বর্তমান শাসক ‘লর্ড কসাই’ (লর্ড ফেল বুচার)-এর সমস্ত পরিকল্পিত নিষ্ঠুরতা নীরবে সহ্য করতে রাজি থাকেন, যদি অপমানের গ্লানিতে আপনাদের মন বিষিয়ে না ওঠে, দাসত্বের এই শৃঙ্খল ও অন্ধকূপের কথা ভেবে যদি আপনাদের অনুভূতি বিদ্রোহ না করে—তবে আমি আপনাদের মানব জাতির মধ্যে সর্বাপেক্ষা অধম এবং মর্যাদাহীন বলে গণ্য করব।
কিন্তু সেই চিন্তা দূর করে দিন। আসুন আমরা সকলে একযোগে দেশবাসীকে অন্যায় ও অত্যাচারের দাসত্ব থেকে মুক্ত করার জন্য নিজেদের নিয়োজিত করি। আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হই এবং আমরা যখন এক শক্তিশালী ও মারাত্মক আঘাতের মাধ্যমে এই অন্যায় ও লোভী ব্যবস্থার পতন ঘটাব, তখন সেটি হবে ভারতবাসীর দেখা সর্বাপেক্ষা গৌরবময় দৃশ্য।
বন্ধুগণ, দেশবাসী এবং নেতৃবৃন্দ, আমাদের যেন আর ‘মানবজাতির দুর্বল ও বিভ্রান্ত অংশ’ বলে না ডাকা হয়। আমাদের গায়ে যেন আর কাপুরুষতা এবং অধঃপতনের কলঙ্ক লেপন করা না হয়। আসুন আমরা ভারতের স্বাধীনতার পতাকা ওড়াই গভর্নমেন্ট হাউজের মাথায়, যেখানে এখন ‘ব্রিটানিয়া’ গর্বের সাথে দাঁড়িয়ে আছে। বিশ্বের চোখে নিজেদের মর্যাদা বাড়িয়ে তোলার ভাবনা যদি আপনাদের নাড়া নাও দেয়, তবুও আমি আপনাদের অনুরোধ করছি—আপনাদের আত্মার আত্মীয় চোখের মণি ছোট ছোট সন্তানদের সুরক্ষার দিকে তাকান। আর সর্বোপরি আমাদের চরম অবহেলিত জননী—আমাদের জন্মদাত্রী মাতৃভূমি, তাঁর প্রতি মনোযোগী হোন।
তরুণ যুবক তাঁর তেজস্বী বক্তৃতা শেষ করে যখন পরিচিতদের একটি দলের মাঝে গিয়ে বসল, তখন চারপাশে প্রশংসার গুঞ্জন এবং করতালির ঢেউ বয়ে গেল। এরই মধ্যে শ্রোতাদের অনেকেই হঠাৎ চিৎকার করে উঠলো, ‘লাল কোট লাল কোট’। সামনে দেখা গেল শাসকদলের প্রায় ১৬ জন অশ্বারোহী সৈন্য এবং ১৫০ জন পদাতিক ড্রাগুন (বিশেষ ধরনের সৈন্য) সমবেত জনতার দিকে এগিয়ে আসছে। সবাই ধড়মড় করে দাঁড়িয়ে পড়ল। ভুবনমোহন একটি তীব্র শিস্ দিলো, যার জবাবে দূর থেকে একটি বন্দুকের গুলির আওয়াজ ভেসে এলো। সৈন্যদের ছোট দলটি তৎক্ষণাৎ মাঠের সীমানায় এসে উপস্থিত হল। লাল ও সোনালী রঙের পোশাক পরা দুজন অফিসার একজন বলিষ্ঠ চেহারার সরকারি কর্মকর্তাকে টেনে নিয়ে আসছিলেন। কালো পোশাক পরা সেই লোকটি সামনে এই বিশাল জনসমাবেশ দেখে স্পষ্টতই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন; তিনি না পারছিলেন হাঁটতে, না কথা বলতে। অফিসাররা তাঁকে তাঁর দায়িত্ব পালনের কথা মনে করিয়ে দিলে, তিনি দ্বিধান্বিত বিবর্ণ মুখে জনতাকে ছত্রভঙ্গ হওয়ার ঘোষণাপত্রটি পড়ে শোনালেন। প্রত্যুত্তরে সাহসী দেশপ্রেমিক যুবকটি বললেন—“শ্রদ্ধেয় ম্যাজিস্ট্রেট, আমি দুঃখিত যে আমরা আপনার প্রস্তাবে সম্মত হতে পারছি না। আপনার ক্ষমতায় সবচেয়ে নিকৃষ্ট যা কিছু করা সম্ভব তা করার জন্য আমরা আপনাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছি। আপনি আপনার সামনে এমন মানুষদের দেখছেন যারা ঘোড়ার হ্রেষা, তরবারির আস্ফালন, কিংবা বন্দুকের ঝলকানিতে বিন্দুমাত্র ভীত নয়। যখন অন্য সমস্ত উপায় ব্যর্থ, তখন আমরা বাহুবলে নিজেদের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠায় সংকল্পবদ্ধ। যে আপনাকে পাঠিয়েছে তাকে গিয়ে বলুন যে আমরা সেই ‘নিষ্ঠুর কসাই’ (লর্ড বুচার)-কে তার আসন থেকে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি; আমরা ইংল্যান্ডের দুর্বল ও প্রতারক হ্যারির (সম্ভবত অষ্টম হেনরি, সম্পা) আনুগত্য বর্জন করেছি এবং আমরা আমাদের নিজস্ব আইন ও সংসদের সিদ্ধান্ত মেনে চলার সংকল্প নিয়েছি।” এই বলিষ্ঠ ঘোষণা শুনে সেই সদাশয় ম্যাজিস্ট্রেট হতভম্ব হয়ে কয়েক কদম পিছিয়ে গেলেন, একজন সার্জেন্ট তাঁকে পড়ে যাওয়া থেকে বাঁচালেন। অফিসাররা একে অপরের দিকে তাকালেন, ফিসফিস করে কয়েকটা কথা বললেন এবং ট্রাম্পেট বাজিয়ে বেয়নেট চার্জের আদেশ দেওয়া হল। আমাদের তরুণ নায়ক একটি তীক্ষ্ণ শিস্ দিলেন, সঙ্গে সঙ্গে বাঁশঝাড়ের পিছন থেকে বন্দুক নিয়ে প্রায় ২০০ জন পাগড়িধারী এবং বাঁকা তলোয়ার ও বল্লম নিয়ে ৫০ জন অশ্বারোহী উপস্থিত হলেন। নিরস্ত্র দর্শকরা ময়দানের একপাশে সরে গেলেন। শুরু হল বিদ্রোহী দেশপ্রেমিক এবং শাসক বাহিনীর মধ্যে এক মহাযুদ্ধ। উভয় পক্ষই বেয়নেট উঁচিয়ে কখনও এগিয়ে কখনও পিছিয়ে একে অপরকে আক্রমণ করছিল। তলোয়ারের ঝলক, বন্দুকের গর্জন, আহতদের চিৎকার এবং মুমূর্ষুদের গোঙানি মিলে এক ভয়াবহ পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সময় আমাদের তরুণ বীর কেবল নির্বাক দর্শক হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন না। তিনি তাঁর সহযোগীকে নিজের যুদ্ধবাজ ঘোড়াটি আনার নির্দেশ দিলেন এবং সামরিক কায়দায় নিজের পোশাক ঠিকঠাক করে কোমরে পিস্তল গুঁজে তরোয়াল বাঁধলেন ও ঘোড়ায় চড়ে বসলেন।
কয়েক কদম দূরে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কাঁপতে থাকা শ্রদ্ধেয় পুরোহিতের আশীর্বাদ গ্রহণ করে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা জানিয়ে তিনি লড়াইয়ের ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়লেন। লেফটেন্যান্ট মার্টিন রাগে উন্মত্ত হয়ে তাঁর মুখোমুখি হয়ে একটি প্রচণ্ড আঘাত হানলেন, যা তিনি অত্যন্ত চাতুর্যের সঙ্গে এড়িয়ে গেলেন। আঘাত থেকে বেঁচে ফিরে তিনি প্রতিপক্ষের মাথায় সজোরে এমন ঘা দিলেন, যা মার্টিনকে দুয়েক মিনিটের জন্য জিনের ওপর টালমাটাল করে দিল। ‘বর্বর কোথাকার’ বলে গালি দিয়ে মার্টিন দ্বিগুণ উদ্দীপনায় আবার যুদ্ধ শুরু করলেন। লড়াইটি ছিল দীর্ঘ ও ভয়াবহ, কিন্তু হিন্দু যোদ্ধার শান্ত স্বভাব এবং ক্ষিপ্র নড়াচড়া ব্রিটিশ যোদ্ধার বিপুল শক্তির বিরুদ্ধে সমানে টক্কর দিচ্ছিল। তাঁরা একে অপরের উপর অনেক চতুর ও মারাত্মক আঘাত হানলেন; তাঁদের জাঁকজমকপূর্ণ চমৎকার পোশাকগুলি হাজার জায়গায় কেটে-ছিঁড়ে টুকরো টুকরো হয়ে গেল। লড়াইয়ের তীব্রতায় একজনের হেলমেটের পালক ও অন্যজনের উড়ন্ত শাল ছিন্নভিন্ন হল। অবশেষে ব্রিটিশ যোদ্ধা রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ক্লান্ত হয়ে, চরম প্রতিশোধের শপথ বিড়বিড় করতে করতে নিজের ঘোড়া থেকে ছিটকে মাটিতে মুখ থুবড়ে পড়ে গেল। দেশপ্রেমিকরা বিজয় বরণ করল। যুদ্ধক্ষেত্রে প্রায় ২৫ জন রাজকীয় সৈন্য নিহত এবং সমসংখ্যক সৈন্য আহত হল। অন্যদিকে বিদ্রোহী দেশপ্রেমিকদের মধ্যে ৬ জন প্রাণ হারালো এবং ১৩ জন গুরুতরভাবে জখম হল। রাজকীয় বাহিনীর বাকি অফিসাররা নিজেদের মধ্যে দু-এক মিনিট আলোচনা করে ট্রাম্পেট বাজিয়ে পিছু হটার নির্দেশ দিল। নিজেদের তিনটি দলে ভাগ করে তারা একে একে পিছু হটতে লাগল, তবে তাদের মুখ ছিল শত্রুদের দিকেই, যাঁরা তখনও অনবরত গুলিবর্ষণ করে যাচ্ছিলেন।
রাত অনেক গভীর হয়ে যাওয়ায় দেশপ্রেমিকরা নিজেদের বাড়িতে ফিরে গেলেন—তাঁদের এই গৌরবময় বীরগাথার স্বপ্ন দেখতে এবং সকালে উঠে তাঁদের মূল লক্ষ্যকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য নতুন পরিকল্পনা তৈরি করতে।
সংখ্যা ১-এর অন্যান্য লেখা
সংখ্যা ১সম্পাদকীয়
সম্পাদকীয়
“কম্পিউটার, ই-মেল এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা নিয়ে অনেক আলোচনা হয়। কিন্তু আমরা এখন এমন এক যুগে প্রবেশ করেছি যেখানে মানুষকেও হ্যাক করা সম্ভব।” ‘উই আর বিকামিং হ্যাকেবল অ্যানিমেলস’—হাড়হিম করে দেওয়া এক বাস্তবতার কথা আমাদের বলেছেন হারারি।
সংখ্যা ১গল্পস্বল্প
বোতাম
সবকিছু যখন এক ক্লিকে বদলে যায়, তখন কিছু মানুষ নিঃশব্দে পাহারা দেয় তাদের চিরপুরাতন বিশ্বাস। সুতো আর মায়া দিয়ে পার্বতীদি কী বুনে চলেছেন দিনরাত? কাগজের মতো সহজে ছিঁড়ে যাওয়া সম্পর্কের ভিড়ে, বুকের ভেতরে সামান্য কাপড় বাঁচিয়ে রাখার এক মায়াবী আখ্যান ‘বোতাম’।
সংখ্যা ১পুরাতনী
ওড়িশা প্রজাতন্ত্র—বিংশ শতাব্দীর ইতিবৃত্তের এক বিস্মৃত পৃষ্ঠা: দ্বিতীয় পর্ব
১৮৪৫ সালে লেখা ১৯২৫ সালের এক কাহিনি। এক বিকল্প ইতিহাস। বিদ্রোহের গল্প। এক ভবিষ্যতের উড়িষ্যার গল্প। যে উড়িষ্যা একদিন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের শৃঙ্খল ভেঙে স্বাধীন প্রজাতন্ত্রে পরিণত হবে। কিন্তু সেই স্বাধীনতার পথ মসৃণ নয়; তার ভিতর লুকিয়ে আছে অরণ্যের গভীরে জমে থাকা ক্ষোভ, হারিয়ে যাওয়া স্বাধীনতার স্মৃতি এবং পাহাড়ি মানুষের অদম্য আত্মমর্যাদা। শশীচন্দ্র দত্তের এই কল্প-ভবিষ্যতের কাহিনি যেন উনিশ শতকের ঔপনিবেশিক বাস্তবতার এক প্রতিবিম্ব; স্বাধীনতার স্বপ্ন কীভাবে প্রতিরোধের ভাষা খুঁজে পায়, তার এক রোমাঞ্চকর আখ্যান।
১৯৪৫ সালের এক ৪৮ ঘন্টার জার্নাল ধারাবাহিকের অন্যান্য পর্ব
সংখ্যা ১পুরাতনী
১৯৪৫ সালের এক ৪৮ ঘন্টার জার্নাল: অন্তিম পর্ব
বিশ্বাসঘাতকতার ছায়া, এসপ্ল্যানেডে কামানের গর্জন আর বধ্যমঞ্চে এক অমর বিপ্লবীর শেষ বার্তা! প্রথম লড়াইয়ের প্রাথমিক জয় কি শেষ পর্যন্ত টিকবে? একদিকে ভাইসরয়ের গোপন সামরিক চক্রান্ত ও অতিরিক্ত সেনার আক্রমণ, অন্যদিকে সহযোদ্ধাদের একের পর এক মৃত্যুবরণ— এমনই এক সঙ্কটময় মুহূর্তে গর্জে উঠল কেল্লার কামান। রক্তক্ষয়ী এক অসম যুদ্ধ আর শিরশ্ছেদের মঞ্চে দাঁড়িয়েও এক তরুণের কণ্ঠে স্বাধীনতার জয়গান। পরাধীন ভারতে লেখা ভবিষ্যৎ-বিপ্লবের এক বিস্মৃত আখ্যানের মর্মস্পর্শী অন্তিম পর্ব।
আরও পড়ুন
সংখ্যা ১পুরাতনী
১৯৪৫ সালের এক ৪৮ ঘন্টার জার্নাল: অন্তিম পর্ব
বিশ্বাসঘাতকতার ছায়া, এসপ্ল্যানেডে কামানের গর্জন আর বধ্যমঞ্চে এক অমর বিপ্লবীর শেষ বার্তা! প্রথম লড়াইয়ের প্রাথমিক জয় কি শেষ পর্যন্ত টিকবে? একদিকে ভাইসরয়ের গোপন সামরিক চক্রান্ত ও অতিরিক্ত সেনার আক্রমণ, অন্যদিকে সহযোদ্ধাদের একের পর এক মৃত্যুবরণ— এমনই এক সঙ্কটময় মুহূর্তে গর্জে উঠল কেল্লার কামান। রক্তক্ষয়ী এক অসম যুদ্ধ আর শিরশ্ছেদের মঞ্চে দাঁড়িয়েও এক তরুণের কণ্ঠে স্বাধীনতার জয়গান। পরাধীন ভারতে লেখা ভবিষ্যৎ-বিপ্লবের এক বিস্মৃত আখ্যানের মর্মস্পর্শী অন্তিম পর্ব।
সংখ্যা ১পুরাতনী
ওড়িশা প্রজাতন্ত্র—বিংশ শতাব্দীর ইতিবৃত্তের এক বিস্মৃত পৃষ্ঠা: দ্বিতীয় পর্ব
১৮৪৫ সালে লেখা ১৯২৫ সালের এক কাহিনি। এক বিকল্প ইতিহাস। বিদ্রোহের গল্প। এক ভবিষ্যতের উড়িষ্যার গল্প। যে উড়িষ্যা একদিন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের শৃঙ্খল ভেঙে স্বাধীন প্রজাতন্ত্রে পরিণত হবে। কিন্তু সেই স্বাধীনতার পথ মসৃণ নয়; তার ভিতর লুকিয়ে আছে অরণ্যের গভীরে জমে থাকা ক্ষোভ, হারিয়ে যাওয়া স্বাধীনতার স্মৃতি এবং পাহাড়ি মানুষের অদম্য আত্মমর্যাদা। শশীচন্দ্র দত্তের এই কল্প-ভবিষ্যতের কাহিনি যেন উনিশ শতকের ঔপনিবেশিক বাস্তবতার এক প্রতিবিম্ব; স্বাধীনতার স্বপ্ন কীভাবে প্রতিরোধের ভাষা খুঁজে পায়, তার এক রোমাঞ্চকর আখ্যান।
সংখ্যা ১পুরাতনী
ওড়িশা প্রজাতন্ত্র—বিংশ শতাব্দীর ইতিবৃত্তের এক বিস্মৃত পৃষ্ঠা: প্রথম পর্ব
১৮৪৫ সালে লেখা ১৯২৫ সালের এক কাহিনি। এক বিকল্প ইতিহাস। বিদ্রোহের গল্প। এক ভবিষ্যতের উড়িষ্যার গল্প। যে উড়িষ্যা একদিন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের শৃঙ্খল ভেঙে স্বাধীন প্রজাতন্ত্রে পরিণত হবে। কিন্তু সেই স্বাধীনতার পথ মসৃণ নয়; তার ভিতর লুকিয়ে আছে অরণ্যের গভীরে জমে থাকা ক্ষোভ, হারিয়ে যাওয়া স্বাধীনতার স্মৃতি এবং পাহাড়ি মানুষের অদম্য আত্মমর্যাদা। শশীচন্দ্র দত্তের এই কল্প-ভবিষ্যতের কাহিনি যেন উনিশ শতকের ঔপনিবেশিক বাস্তবতার এক প্রতিবিম্ব; স্বাধীনতার স্বপ্ন কীভাবে প্রতিরোধের ভাষা খুঁজে পায়, তার এক রোমাঞ্চকর আখ্যান।

