নিশ্চিন্তপুরের রূপকথা
১৯২৩ সালে ইছামতীর তীরের এক প্রত্যন্ত গ্রামে কাঠের বাক্সে বন্দি হয়ে আসে এক মণ ওজনের এক বরফের চাঁই। বাড়ির সর্বেসর্বা কাদম্বিনী দেবীর অমোঘ ইচ্ছায় যে বরফ প্রখর গ্রীষ্মের দাবদাহেও এক ফোঁটাও গলে না। দীর্ঘকাল ধরে উঠোনের তুলসীমঞ্চের পাশে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা সেই বরফ হয়ে ওঠে আস্ত একটা গ্রামের সময়, স্মৃতি ও নিয়তির অলৌকিক ঘড়ি।

সংখ্যা ১অনেক বছর পর, যখন সরকারি লোকেরা নিশ্চিন্তপুরের মুখুজ্জে বাড়ির উঠোন থেকে সেই বরফের চাঁইটা তুলতে এলো, তখন শশধরের মনে পড়ল যেদিন তার বাবা প্রথমবার কলকাতা থেকে বরফটা নিয়ে এসেছিল। তখন শশধরের জন্মও হয়নি।
১৯২৩ সাল। হরিপদ মুখুজ্জে কলকাতার বড়বাজারে গিয়েছিলেন পাটের দর করতে। ফেরার সময় এক সাহেব তাকে একটা বড় কাঠের বাক্স দিয়েছিল। বলেছিল, ‘মুখার্জি, এটা নিয়ে যাও, তোমার গ্রামে গরম বেশি।’ বাক্সের ভেতর কিছু কাঠের গুঁড়ো, আর তার ভেতর এক মণ ওজনের একটা বরফের চাঁই।
হরিপদ সেটা গরুর গাড়িতে করে নিশ্চিন্তপুরে আনলেন। ইছামতীর ধারের এই গ্রামে তখনও ইলেকট্রিক আসেনি, মানুষ বরফ কাকে বলে জানত না। তিনি উঠোনের ঠিক মাঝখানে, তুলসী মঞ্চের পাশে বরফটা রাখলেন। পুরো গ্রাম ভেঙে পড়ল। বাচ্চারা এসে জিভ দিয়ে চাটল, বুড়োরা বলল এটা জমাট বাঁধা শিবের জটা।
হরিপদর বউ কাদম্বিনী। এই গল্পের আসল জমিদার তিনি। তিনি রোগা, ফর্সা, সবসময় পান খান, আর সবকিছুর নামকরণ করেন। তিনি বরফটার দিকে অনেকক্ষণ তাকিয়ে থেকে বললেন, ‘এটা এখানেই থাকবে। এটা গলবে না। আমরা যতদিন চাইব না, ততদিন না।’
এবং সত্যিই গলল না।
পরের বছর খরা হলো, পুকুরে কাদা ফেটে গেল, ধানে চিটে ধরল, কিন্তু বরফটা রইল। গ্রীষ্মে তার গা থেকে সাদা ধোঁয়া বেরোত, শীতে তার ভেতরে দুপুরের রোদ আটকে থাকত। কাদম্বিনী রোজ সকালে ওটাকে ভেজা ন্যাকড়া দিয়ে মুছতেন, যেমন লোকে ঠাকুরের সিংহাসন মোছে। আস্তে আস্তে গ্রামের লোকেরা ওটাকে ঘড়ি হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করল। ‘বরফের ছায়া যখন রান্নাঘরের দরজায় পড়ে, তখন দুপুর।’
কাদম্বিনীর তিন ছেলে, এক মেয়ে।
বড় ছেলে বিভাস। সে জন্মেছিল আশ্চর্য মনে রাখার ক্ষমতা নিয়ে। সে একবার যা শুনত, কোনোদিন ভুলত না। এই ক্ষমতার জন্য তার জীবন নষ্ট হয়ে গেল। কারণ নিশ্চিন্তপুরে মনে রাখার মতো কিছুই ঘটত না। বিভাস ১৯৩৯ সালে একদিন ভাত খেতে খেতে বলল, ‘মা, ডাক এসেছে।’ কাদম্বিনী বললেন, ‘কীসের ডাক?’ বিভাস বলল, ‘যুদ্ধের।’ তখন কোথাও কোনো যুদ্ধ চলছে না, তবু তার বিশ্বাস যুদ্ধ একটা আসছে, তাকে যেতে হবে। সে তার থালা ছেড়ে উঠে চলে গেল। সে ফিরল ১৯৪৭ সালে। একই পাজামা, একই গেঞ্জি পরে, একটুও না বুড়িয়ে। যুদ্ধ-ফেরত তার পকেটে একটা ভাঁজ করা কাগজ। জার্মান ভাষায় লেখা একটা চিঠি। সে কাগজটা তার মাকে দিয়ে বলল, ‘এটা আমার ছেলের জন্য, নেতাজি দিয়েছেন।’ কাদম্বিনী বললেন, ‘তোর তো এখনও কোনো ছেলে হয়নি।’ বিভাস বলল, ‘এখন নেই, তবে হবে তো একদিন।’ পরে সত্যিই তার ছেলে হল। জন্মানোর সময় ছেলেটা জার্মান ভাষায় কাঁদছিল।
মেজো ছেলে শশধর। সে জন্মেছিল ভুলে যাওয়ার ক্ষমতা নিয়ে। সে সব ভুলে যেত। তাই কাদম্বিনী তাকে একটা কাজ দিয়েছিলেন। ‘তুই বরফটা পাহারা দিবি।’ শশধর সেই থেকে উঠোনে একটা বেতের চেয়ার পেতে বসে থাকত। চল্লিশ বছর ধরে সে একই দৃশ্য দেখছে, আর রোজ ভুলে যাচ্ছে, তাই রোজই প্রথমবারের মতো অবাক হচ্ছে। এই জন্য সে-ই সবচেয়ে সুখী ছিল।
ছোট ছেলে নিধু ছিল হাওয়ার মতো। ঘরে ঢুকলেই তার দম বন্ধ হয়ে আসত। তাই সে সারা জীবন বারান্দায় ঘুমিয়েছে।
আর ছোট মেয়ে আশালতা। সবার ছোট। সে ছিল এই বাড়ির অভিশাপ আর আশীর্বাদ। সে এত সুন্দরী ছিল যে তার গায়ে মাছি বসত না, মৌমাছি বসত। যেখানে যেত, এক ঝাঁক মৌমাছি তার মাথার ওপর মুকুটের মতো ঘুরত। কাদম্বিনী তাকে বাইরে বেরোতে দিতেন না। আশালতা জানালা দিয়ে তাকিয়ে থাকত ইছামতীর দিকে।
ইছামতী নদীটা ছিল আরেকটা চরিত্র। এই নদী প্রতি মঙ্গলবার উল্টো দিকে বইত। সোমবার পর্যন্ত সে সোজা বইত বঙ্গোপসাগরের দিকে। মঙ্গলবার সকালে হঠাৎ তার মত বদলে যেত। সে হিমালয়ের দিকে ফিরতে শুরু করত। ওই একদিন নদীটা হারানো জিনিস ফেরত দিত। কারো হারানো হাঁস, কারো হারানো জাল। গ্রামের লোক মঙ্গলবারে জাল ফেলত না, অপেক্ষা করত কী ফেরত আসে।
এই নদীর ধারেই ছিল টেলিগ্রাফের খুঁটি। রেললাইন আসার কথা ছিল, আসেনি, কিন্তু ব্রিটিশরা টেলিগ্রাফের খুঁটিটা পুঁতে রেখে গিয়েছিল। সেই তারে মাঝে মাঝে এমন খবর আসত যা তখনো ঘটেনি। ১৯৪২ সালে খবর এলো—‘নিশ্চিন্তপুরে আগামীকাল দুর্ভিক্ষ শুরু হবে।’ পরদিন সত্যিই চালের দাম তিনগুণ হয়ে গেল।
ওই খুঁটির পাশে বসত রফিক। বয়স বাইশ। তার কাজ ছিল টেলিগ্রাফের তারে কান পেতে শোনা, আর যে খবর আসে সেটা কাগজে টুকে নিয়ে গ্রামে জানানো। রফিকের একটা অভ্যাস ছিল, সে ওই চিঠিগুলো বিলি করার আগে নিজে একবার পড়ে নিত, যাতে চিঠি হারিয়ে গেলেও খবরটা না হারিয়ে যায়।
আশালতাকে রফিক প্রথম দেখে ১৯৬০ সালের বর্ষায়। আশালতা জানালায় দাঁড়িয়ে তখন বৃষ্টি দেখছিল বায়োস্কোপের নায়িকাদের মতো, আর তার মাথার ওপর মৌমাছির ঝাঁকটা গুনগুন করে ভিজে যাচ্ছিল। রফিকের হাতে তখন কোনো চিঠি ছিল না, কিন্তু সে ভান করল যেন আছে। সে বলল, ‘আশালতা মুখুজ্জের নামে চিঠি আছে।’
আশালতা নিচে নেমে এলো। রফিকের হাতে কোনো চিঠি নেই দেখে সে হাসল। ওই হাসিটা থেকেই প্রেমটা শুরু।
এরপর থেকে রফিক রোজ আসত। কোনোদিন একটা সাদা কাগজে নিজেই কিছু লিখে আনত—‘আজ নদীতে একটা নৌকা ডুবেছে, কিন্তু কেউ মরেনি।’ এইরকম। আশালতা সেগুলো পড়ে রেখে দিত।
একদিন, ১৯৬০ সালের ডিসেম্বরে, টেলিগ্রাফের তার মারফত সত্যিই একটা চিঠি এলো আশালতার নামে। খটখট শব্দে। রফিক কাগজে তুলল। ওপরে নাম লেখা - আশালতা মুখার্জি। আশালতাই লিখেছে চিঠিটা। ভেতরে লেখা—‘আমি চলে যাচ্ছি, আমাকে খুঁজো না। আমাকে মৌমাছিরা নিয়ে যাচ্ছে। ১২ই অক্টোবর, ১৯৬১।’
রফিকের হাত কাঁপতে লাগল। তখন ১৯৬০ সাল। তার মানে এক বছর পরের তারিখ। সে চিঠিটা আশালতাকে দিল না। নিজের পকেটে রেখে দিল।
কিন্তু আশালতা সব জানত। যেহেতু মেয়েরা আগে থেকেই সব জানে। সে রফিককে বলল, ‘তুমি একটা চিঠি লুকিয়েছ।’
রফিক চিঠিটা বের করে দিল। আশালতা পড়ল, তারপর বলল, ‘ভালোই তো। এখনও এক বছর সময় আছে।’
ওই এক বছর তারা প্রেম করল। উঠোনের বরফটার পেছনে, ইছামতীর ধারে, টেলিগ্রাফের খুঁটির নিচে। গ্রামের সবাই জানত, কিন্তু কেউ কিছু বলত না। কারণ সবাই জানত আশালতা থাকবে না।
কাদম্বিনীও জানতেন। তিনি আশালতার জন্য একটা নতুন শাড়ি বানাতে দিলেন, খুব ভারি, যাতে হাওয়ায় উড়ে না যায়।
তারপর এলো সেই দিন। ১৯৬১ সালের ১২ই অক্টোবর, দুর্গাপুজোর অষ্টমী। ঢাক বাজছে, ধুনোর গন্ধ। আশালতা ভারি শাড়িটা পরে উঠোনে এসে দাঁড়াল। রফিক দাঁড়িয়ে ছিল বরফটার পাশে। তার পকেটে সেই চিঠিটা।
আশালতার মাথার ওপর মৌমাছির ঝাঁকটা হঠাৎ খুব জোরে ডাকতে শুরু করল। সে বরফটার দিকে তাকাল, শশধরের দিকে তাকাল, রফিকের দিকে তাকিয়ে একটু হাসল। তারপর আস্তে আস্তে মাটি থেকে দু ফুট ওপরে উঠে গেল।
রফিক হাত বাড়াল, ধরতে পারল না। কেউ চিৎকার করল না। কাদম্বিনী শুধু বললেন, ‘আঁচলটা সামলে।’
আশালতা উঠতে থাকল। উঠোন, নারকেল গাছ, ছাদ পেরিয়ে, আকাশে। মৌমাছিরা তাকে ঘিরে একটা সোনালি মেঘ বানিয়ে ফেলল। তারপর সে মেঘের ভেতরে মিলিয়ে গেল। তার ভারি শাড়িটা অনেকক্ষণ ধরে হাওয়ায় ভাসতে ভাসতে ইছামতীর ওপারে গিয়ে পড়ল।
রফিক সেই শাড়িটা কুড়িয়ে এনে তার বাক্সে জমিয়ে রেখেছে। তারপর থেকে নিশ্চিন্তপুরে যত মেয়ে জন্মায়, তাদের গায়ে একটু করে মধুর গন্ধ থাকে। আর মঙ্গলবারে নদী যখন উল্টো বয়, তখন জলের ওপর একটা শাড়ির আঁচলের মতো ঢেউ ওঠে।
শশধর তার বোনের উড়ে যাওয়াটা দেখে মনে রাখল, যেটা সে আর কোনোদিন ভুলল না।
তারপর এলো ১৯৭১। নদীতে লাশ ভাসতে শুরু করল। ও-পার থেকে। রোজ ভোরে শশধর আর বিভাস নদীতে নেমে লাশগুলো তুলে আনত। কাদম্বিনী, তখন অন্ধ, প্রতিটা লাশের কপালে হাত দিয়ে বলতেন, ‘এটা আমাদের না, ওপারের।’ আর মঙ্গলবারে যখন নদী উল্টো বইত, তারা লাশগুলোকে আবার জলে ভাসিয়ে দিত।
যুদ্ধের পর একটা নতুন অসুখ এল। গ্রামের বুড়োরা নিজেদের নাম ভুলে যেতে লাগল। শশধর জানত, এটা বরফের দোষ। বরফটা এতদিন ধরে ১৯২৩ সালটাকেই আটকে রেখেছে, তাই নতুন সময় ঢুকতে পারছে না।
কাদম্বিনী মারা গেলেন ১৯৮৩ সালে। মারা যাওয়ার আগে শশধরকে বললেন, ‘এবার বরফটাকে গলতে দে।’
শশধর উঠোনে গিয়ে বরফটার ওপর হাত রাখল। এত বছর ধরে যে বরফ ঠান্ডা ছিল, সেটা প্রথমবার গরম লাগল। বরফটা গলতে শুরু করল। সময়টা গলল। উঠোন ভেসে গেল জলে। সেই জলে ভেসে উঠল ১৯২৩ সালের ধুলো, ১৯৩৯ সালে বিভাসের না খেয়ে যাওয়া ভাত, ১৯৬১ সালের আশালতার শাড়ির সুতো, আর রফিকের পকেটে রাখা সেই চিঠিটা, যেটা এক বছর আগে লেখা হয়েছিল।
সরকারি লোকেরা যখন এসে বলল—‘এখানে একটা ব্রিজ হবে’, তখন দেখল উঠোনে আর কোনো বরফ নেই। শুধু একটা ভেজা দাগ আছে, যেটা কোনোদিন শুকোয় না। আর সেই দাগের ওপর একটা বেতের চেয়ারে বসে আছে বুড়ো শশধর, আর তার পাশে বসে আছে বুড়ো রফিক, তার হাতের বাক্সে আশালতার শাড়ি।
দুজনেই বরফ পাহারা দিচ্ছে, যেটা আর নেই।

লেখক
সত্যসাধন মণ্ডল
বিশ্বভারতীর প্রাক্তনী। লেখার বিষয় মূলত কবিতা। পত্র-পত্রিকা ও ফেসবুকে নিয়মিত লেখালেখি করেন। ইতিপূর্বে উর্ণপত্র থেকে প্রকাশিত হয়েছে ‘ঈশ্বরের জন্য লেখা কবিতা’ নামে একটি কাব্যগ্রন্থ। তাঁর ঘোষণা অনুসারে—মানুষ আর সাপে ভয় পান, প্রাতিষ্ঠানিক ভূত-ভগবানের বিষয়টি বুঝতে পারেন না এবং উপনিষদ মানেন।
সব কাজ দেখুন →সংখ্যা ১-এর অন্যান্য লেখা
সংখ্যা ১সম্পাদকীয়
সম্পাদকীয়
“কম্পিউটার, ই-মেল এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা নিয়ে অনেক আলোচনা হয়। কিন্তু আমরা এখন এমন এক যুগে প্রবেশ করেছি যেখানে মানুষকেও হ্যাক করা সম্ভব।” ‘উই আর বিকামিং হ্যাকেবল অ্যানিমেলস’—হাড়হিম করে দেওয়া এক বাস্তবতার কথা আমাদের বলেছেন হারারি।
সংখ্যা ১গল্পস্বল্প
বোতাম
সবকিছু যখন এক ক্লিকে বদলে যায়, তখন কিছু মানুষ নিঃশব্দে পাহারা দেয় তাদের চিরপুরাতন বিশ্বাস। সুতো আর মায়া দিয়ে পার্বতীদি কী বুনে চলেছেন দিনরাত? কাগজের মতো সহজে ছিঁড়ে যাওয়া সম্পর্কের ভিড়ে, বুকের ভেতরে সামান্য কাপড় বাঁচিয়ে রাখার এক মায়াবী আখ্যান ‘বোতাম’।
সংখ্যা ১পুরাতনী
ওড়িশা প্রজাতন্ত্র—বিংশ শতাব্দীর ইতিবৃত্তের এক বিস্মৃত পৃষ্ঠা: দ্বিতীয় পর্ব
১৮৪৫ সালে লেখা ১৯২৫ সালের এক কাহিনি। এক বিকল্প ইতিহাস। বিদ্রোহের গল্প। এক ভবিষ্যতের উড়িষ্যার গল্প। যে উড়িষ্যা একদিন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের শৃঙ্খল ভেঙে স্বাধীন প্রজাতন্ত্রে পরিণত হবে। কিন্তু সেই স্বাধীনতার পথ মসৃণ নয়; তার ভিতর লুকিয়ে আছে অরণ্যের গভীরে জমে থাকা ক্ষোভ, হারিয়ে যাওয়া স্বাধীনতার স্মৃতি এবং পাহাড়ি মানুষের অদম্য আত্মমর্যাদা। শশীচন্দ্র দত্তের এই কল্প-ভবিষ্যতের কাহিনি যেন উনিশ শতকের ঔপনিবেশিক বাস্তবতার এক প্রতিবিম্ব; স্বাধীনতার স্বপ্ন কীভাবে প্রতিরোধের ভাষা খুঁজে পায়, তার এক রোমাঞ্চকর আখ্যান।
আরও পড়ুন
সংখ্যা ২গল্পস্বল্প
কর্নেলের ঘরে যে নদীটা থাকত
বিষ্ণুপুরের তিনশো বছরের পুরোনো বাড়িতে একাকী কর্নেল শশাঙ্কবাবুর শোবার ঘরের মাঝখান দিয়ে বয়ে যেত এক জীবন্ত নদী। সেই নদীই ছিল তাঁর নিঃসঙ্গ জীবনের আশ্রয়। কিন্তু এক জন্মদিনে নদী তাঁর অতীতকে বুকে নিয়ে মিলিয়ে গেলে স্তব্ধ হয়ে যায় কর্নেলের ঘর। হারানো নদীটকে ফিরে পাওয়ার তীব্র জেদে শুরু হয় খনন।
সংখ্যা ১গল্পস্বল্প
বোতাম
সবকিছু যখন এক ক্লিকে বদলে যায়, তখন কিছু মানুষ নিঃশব্দে পাহারা দেয় তাদের চিরপুরাতন বিশ্বাস। সুতো আর মায়া দিয়ে পার্বতীদি কী বুনে চলেছেন দিনরাত? কাগজের মতো সহজে ছিঁড়ে যাওয়া সম্পর্কের ভিড়ে, বুকের ভেতরে সামান্য কাপড় বাঁচিয়ে রাখার এক মায়াবী আখ্যান ‘বোতাম’।
সংখ্যা ১কবিতা ও ছড়া
আত্মকথা ও অন্যান্য কবিতা
হারিয়ে যাওয়া, থেকে যাওয়া এবং তাদের মাঝখানে জন্ম নেওয়া স্মৃতির এক অদৃশ্য ভূগোল কখনও শব্দে, কখনও স্বপ্নে, কখনও রাগে, কখনও দাগে—কবি খুঁজে ফেরেন। এখানে সৌন্দর্যের পাশে নিঃশব্দে বসে থাকে বিষণ্ণতা, আকাঙ্ক্ষার পাশে অনিবার্য দূরত্ব, আর শৈল্পিক সৌন্দর্যের আড়ালে উঁকি দেয় জীবনের ক্ষত। সে চলে যায় রেখে যায় ক্ষীণ অথচ গভীর কোনো চিহ্ন। হাঁসের চলে যাওয়া পথের মতো—দাগ মুছে যায়, অথচ কোনো একদিন সেই জলের বুকেই শালুক ফুটে ওঠে।
