দুটি কবিতা
পৃথিবীর সৌন্দর্যকে উপলব্ধি করতে হলে কি তার থেকে অনেকটা উঁচুতে দাঁড়াতে হয়? আর বেঁচে থাকার অভ্যাসের আড়ালে কতখানি যন্ত্রণা নীরবে জমা হতে পারে? অহনা সরকারের দুটি কবিতা এমনই কিছু প্রশ্নের মুখে আমাদের দাঁড় করায়। শরীর, মন, স্মৃতি, নিঃসঙ্গতা ও মৃত্যুচেতনার মধ্য দিয়ে উন্মোচিত হয় মানুষের অস্তিত্বের জটিল দ্বন্দ্ব।

সংখ্যা ২১
নীরা, জলে ভেজানো মুড়ি খেয়ে এখন একটু সুস্থ হয়েছেন। শরীরের ভেতরটা জ্বালা পোড়া করছিল। এরকমই হয় আজকাল। কারণ অকারণ সারা শরীর জ্বলতে থাকে। তখন মনে হয় ঠান্ডা কিছু খান, বরফ কিছু। ফ্রিজটা চলে না ঠিকঠাক তাই মুড়ি জলই ভরসা—
দিন এভাবেই কাটছে। কেটে এভাবেই যাবে, আর কটা দিনই বা
এসব ভাবলেই, কানের কাছে ঝিঁঝিঁর ডাকটা বাড়তে থাকে। একটা সময় পর প্রত্যেকটা ঝিঁঝিঁকে দেখতে পান, তাদের ডানা মেলা আবার ঝাঁকানো আবার মেলা। তখন তিনি আস্তে আস্তে ঘুমিয়ে পড়ছেন আর ঘুমের মধ্যেই সারা ঘর করে চলেছেন পায়চারি—
ঝিঁঝিঁগুলো এখন আর বাইরে নয় ঘরের ভেতর এই প্রত্যেকটা দেওয়াল খাট আলমারি বই সব হয়ে গেছে গুচ্ছ গুচ্ছ ঝিঁঝিঁ পোকা।
আর তিনি প্রত্যেকটা শব্দের আড়ালে খুব নিঁখুতভাবে প্রতিটা ঝিঁঝিঁকে চিনতে পারছেন, তাদের ডাক, শব্দ
ডানা ঝাপটানোর
স্বপ্নের বাইরে নীরা পাশ ফিরে শোন। অনীলের আঙুল সেই পুরোনো দিনের মতন, তার ঘাড় কানের পাশ, তিনি আস্তে আস্তে জেগে উঠতে থাকেন শরীরে।
ঝিঁঝিঁর ডাকগুলো তখন
ঝিঁঝিঁ ডাকগুলো...
২
এক কিশোর, ছাদ থেকে ঝাঁপ
এক কিশোর, ছাদ থেকে ঝাঁপ মারবে বলে, ছাদের প্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে। এবং অবাক!
এবারেই সে প্রথম বুঝছে, ওপর থেকে উঁচু থেকে পৃথিবীটা দেখতে এত সুন্দর লাগে! বাহ্!
কোথাও কোনো ময়লা নেই, কোথাও কোনো খিদে অপমান বেঁচে থাকার যুদ্ধ কিচ্ছু নেই! বাহ্!
তার পাশে তখনও দুটো কাক, মুখে রুটির টুকরো, বেদম ঝগড়া করছে তারা। ক্যা ক্যা ক্যা ক্যা কান ঝালাপালা।
সে বহুক্ষণ ধরে দুটো কাকেদের ঝগড়া দেখে, তাদের মুখ থেকে খাবার কেড়ে ভেঙে অল্প পরিমাণে কাক দুটোকে দেয়। তাদের ঝগড়া থেমেছে, তবে শান্ত নয়—
তার বেশ মজা লাগে। পকেট হাতড়ায় অন্য সময় থাকে তার পকেটে বিস্কুটের ভাঙা বা লজেন্সের মিষ্টি!
আজ দুটো মরা পিঁপড়ে বেরোলে, লাল পিঁপড়ে।
তারপর সে বহুবার ছাদের বিভিন্ন দিক থেকে নিচুকে দেখতে থাকে। নিচের পৃথিবী। তারের জঙ্গলের ঘেরা। কত কত তার! এসব দিয়ে আলো যায়, কথা!
সূর্য ডোবা দেখলো। বড় বড় বাড়ির পিছনে জানলার কাঁচে সূর্যের রঙ
তার পর সে বুক ভরে নিঃশ্বাস নিয়ে
ঝাঁপ দিলো দুশো বাইশ তলার ছাদ থেকে। তখন নিজেকে স্পাইডারম্যান তার মনে হচ্ছিল

লেখক
অহনা সরকার
কলকাতার বাসিন্দা। পেশাগতভাবে তিনি একজন কম্পিউটার ফ্যাকাল্টি। প্রযুক্তি ও জ্ঞানের জগতে তাঁর বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। অবসর সময়ে বই পড়তে এবং কম্পিউটার কোডিং করতে তিনি ভালোবাসেন। বইয়ের পাতায় নতুন ভাবনার সন্ধান আর কোডিংয়ের মাধ্যমে সৃজনশীল কিছু তৈরি করার আনন্দ—এই দুইয়ের মধ্যেই খুঁজে পান নিজের ভালো লাগা।
সব কাজ দেখুন →সংখ্যা ২-এর অন্যান্য লেখা
সংখ্যা ২কবিতা ও ছড়া
জলের অধিক
শুকিয়ে যাওয়া ঠোঁট, পুরোনো ভাড়াবাড়ি, কামিনী গাছের নতুন কুঁড়ি আর বৃষ্টির অপেক্ষা—স্মৃতির এমন কিছু অনুচ্চারিত দৃশ্যের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায় এক অসমাপ্ত ভালোবাসার কবিতা। এখানে প্রতিটি দিন যেন আগের দিনের পুনরাবৃত্তি, প্রতিটি নিঃশ্বাসে জমে থাকে অনুপস্থিতির স্বাদ। আর সমস্ত শূন্যতা ছাপিয়ে জেগে থাকে এক অতল তৃষ্ণা—জলেরও অধিক।
সংখ্যা ২কবিতা ও ছড়া
উইকএন্ড ট্যুর
শুক্রবারেই শ্যামলালের প্ল্যান, টুক করে ট্যুর! একদিনের ছুটিতে হাওয়াবদলের সাধ নিয়ে সপরিবারে বেরিয়ে পড়া। তারপর ট্রেনের সিট, হোটেলের বন্দোবস্ত, গাড়ির জোগাড়, গিন্নির ফরমান আর ফর্দ সামলাতে সামলাতে প্রকৃতি দর্শনের সুযোগটুকুও গেল ফসকে। পকেট হল হালকা, অভিজ্ঞতার ঝুলি হল ভারী! সব মিলিয়ে, এইভাবেই শেষ হল শ্যামলালের উইকএন্ড ট্যুর।
সংখ্যা ২বিজ্ঞান
মনোরোগের ধূসরতায়: চতুর্থ পর্ব
যদি মানুষের চেতনাই হয়ে ওঠে যুদ্ধের গোপন মারণাস্ত্র! নাৎসি বিজ্ঞানীদের গোপন পুনর্বাসন, জাপানের নৃশংস জীবাণুযুদ্ধ, আর মানুষের মনকে বশে আনতে সিআইএ-র কুখ্যাত গোপন প্রকল্প ‘MK-Ultra’! এলএসডি-র যথেচ্ছ প্রয়োগ থেকে শুরু করে যুদ্ধের বন্দীদের ওপর মারাত্মক রাসায়নিক পরীক্ষা—রাজনীতি আর ক্ষমতার নোংরা খেলায় কীভাবে সাধারণ মানুষের মনকে কব্জা করা হয়েছিল? কেন বিটনিক-হিপি বিদ্রোহের মতো গণ-আন্দোলনকে নেশার সাগরে ডুবিয়ে দেওয়া হলো? যে কোনো রাজনৈতিক থ্রিলারকে হার মানানো এক অবিশ্বাস্য ইতিহাসের সাক্ষী হতে পড়ুন চতুর্থ পর্ব—‘মগজধোলাই রাজনীতির থ্রিলার’।
আরও পড়ুন
সংখ্যা ২কবিতা ও ছড়া
জলের অধিক
শুকিয়ে যাওয়া ঠোঁট, পুরোনো ভাড়াবাড়ি, কামিনী গাছের নতুন কুঁড়ি আর বৃষ্টির অপেক্ষা—স্মৃতির এমন কিছু অনুচ্চারিত দৃশ্যের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায় এক অসমাপ্ত ভালোবাসার কবিতা। এখানে প্রতিটি দিন যেন আগের দিনের পুনরাবৃত্তি, প্রতিটি নিঃশ্বাসে জমে থাকে অনুপস্থিতির স্বাদ। আর সমস্ত শূন্যতা ছাপিয়ে জেগে থাকে এক অতল তৃষ্ণা—জলেরও অধিক।
সংখ্যা ২কবিতা ও ছড়া
উইকএন্ড ট্যুর
শুক্রবারেই শ্যামলালের প্ল্যান, টুক করে ট্যুর! একদিনের ছুটিতে হাওয়াবদলের সাধ নিয়ে সপরিবারে বেরিয়ে পড়া। তারপর ট্রেনের সিট, হোটেলের বন্দোবস্ত, গাড়ির জোগাড়, গিন্নির ফরমান আর ফর্দ সামলাতে সামলাতে প্রকৃতি দর্শনের সুযোগটুকুও গেল ফসকে। পকেট হল হালকা, অভিজ্ঞতার ঝুলি হল ভারী! সব মিলিয়ে, এইভাবেই শেষ হল শ্যামলালের উইকএন্ড ট্যুর।
সংখ্যা ১কবিতা ও ছড়া
মায়ের মুখ
শহরের আগুন, ধোঁয়া আর ইগোর তীব্রতা থেকে দূরে এক অন্য জগতের আখ্যান ‘মায়ের মুখ’। মদ্যপানের আসর, শরতের ফাজলামি, শরীরী আকাঙ্ক্ষা আর সামান্য মুড়ি-ঘুগনির গন্ধে মিশে থাকে জীবনের নির্মম বাস্তব। রেস্তোরাঁর এঁটো প্লেট ধোয়া অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেটির উপার্জন যখন মায়ের হাতে তুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে বাঁধা পড়ে, তখন সমস্ত বিশৃঙ্খলার ভিতরেও জেগে ওঠে মাতৃমুখের চিরন্তন আরাধনা।



