দেড় ডিগ্রি
সমান্তরের পরিকল্পনা যখন তুঙ্গে তখন গোটা দুনিয়ার অন্যতম আলোচিত খবর ছিল নেপালের হড়পা বান। এই আকস্মিক ঘটনা এক লহমায় চোখের সামনে পরিবেশের সংকটকে এমনভাবে হাজির করেছে যে, প্রকৃতির সাথে মানুষের দ্বন্দ্বের যে চরম অবস্থা তৈরি হয়েছে তাতে মানব সভ্যতা আদৌ টিকে থাকবে কিনা সেটাই সংশয়। এটাই সমান্তরের পাতায় প্রথম বড় খবর হিসেবে লেখা থাকুক।

সংখ্যা ১শিল্পবিপ্লবের দোরগোড়া হিসেবে ১৮৫০ সালকে একটা সীমারেখা ধরলে বিশ্বের গড় তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে গেল গত বছর। এটাকেই ভয়ঙ্কর বিষয় বলে বিজ্ঞানীরা গত কয়েক দশক জুড়ে বলে আসছিলেন। রাষ্ট্রসংঘের জলবায়ু সংক্রান্ত সংস্থা আইপিসিসি ২০১৫-এর প্যারিস সম্মেলনে জানিয়েছিল প্রাক শিল্পায়ন যুগ থেকে উষ্ণতা বৃদ্ধি ১.৫°-র মধ্যে রাখতে পারলে প্রাণ ও প্রকৃতি একটা সহনীয় অবস্থার মধ্যে টিকে থাকতে পারে। তার থেকে বেশি হয়ে গেলে প্রকৃতিতে এমন স্থায়ী ধরনের বিকৃতি সৃষ্টি করবে যে, তারপরে গ্রীন হাউস গ্যাসের নির্গমন কমালেও জলবায়ুর খামখেয়ালীপনা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। এই তাপমাত্রা বৃদ্ধি যে প্রাকৃতিক কারণে নয়, জীবাশ্ম জ্বালানির বহুল ব্যবহারের ফলে বাতাসে কার্বন ডাই অক্সাইডের মত গ্রীন হাউস গ্যাস নির্গমনের জন্যেই হয়েছে তা কারো অজানা নয়। এই ১৭৫ বছর সময়পর্বে বাতাসে কার্বন-ডাই-অক্সাইড এর মাত্রা ২৮০ পিপিএম থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৩০ পিপিএম (প্রতি ১০ লক্ষ অনুতে ১ অনু হিসেবে)। অর্থাৎ ১৫০ পিপিএম (দেড় গুণের বেশি) বেড়ে গিয়েছে। আমাদের এই গ্রহে এরকম অবস্থা শেষ ছিল অন্তত ৩০ লক্ষ বছর আগে, সেটাও ছিল ৪৩০ পিপিএমের কম। তখন এই গ্রহের গড় উষ্ণতা ছিল বর্তমানের থেকে ৩-৪ ডিগ্রি বেশি, আর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ছিল বর্তমানের থেকে ১৫ মিটার বেশি। ঠিক ভাবে বলতে গেলে বলতে হয়, ৩০ লক্ষ বছর নয়, বাতাসে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের আজকের মতো ঘনত্ব ছিল ঠিক ১ কোটি ৪০ লক্ষ বছর আগে। ৩০ লক্ষ বছর হোক কিংবা ১ কোটি ৪০ লক্ষ, তখন সেপিয়েন্সের উদ্ভব হয়নি, অর্থাৎ এই আবহাওয়া ‘মানুষ’ প্রত্যক্ষ করেনি।
যদিও, আমরা এর পরেও কার্বন নিঃসরণ কমানোর বিষয়ে কিছুই করিনি। ২০২৫ সালে, এক বছরের মধ্যে যতটা কার্বন-ডাই-অক্সাইড বাতাসে নিঃসরণ করেছি তা নাকি গত তিন কোটি বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
দেড় ডিগ্রি তাপমাত্রা বাড়ার সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে জলবায়ুর পরিবর্তন কতটা হয়েছে তা আমরা প্রাত্যহিক অভিজ্ঞতায় বেশ খানিকটা কি আর বুঝতে পারছি না কি? দিব্যি পারছি। একটা বৃহত্তর চিত্র বরং আমরা আঁকার চেষ্টা করি।
এই প্রবন্ধ যখন লিখছি তখন প্রতিটা খবরের কাগজে প্রত্যেকদিনের শিরোনামে প্রতিবেশী রাষ্ট্র নেপালের ভোটেকোশী নদীতে বিধ্বংসী হড়পা বান, হিমবাহ ভেঙে কয়েক ঘন্টায় হাজার হাজার প্রাণ ভাসিয়ে নিয়ে যাওয়ার খবর। এর বিপুল রূপকে সাম্প্রতিক অতীতের কোনো ‘গ্লেসিয়ার লেক আউটবাস্ট ফ্লাডের’ (গ্লফ) সাথে মেলানো যাচ্ছে না। এই বছরই আগের মাসে ঘটে গিয়েছে আসামে বন্যা, কাশ্মীরে আরো একটি হড়পা বান। গত বছর (২০২৫) দার্জিলিঙের মিরিকে ঘটেছে অতিবৃষ্টির কারণে ভয়াবহ হড়পা বান, অগস্ট মাসে ঘটেছে উত্তর কাশীর বন্যা। ২০২৪ সালে নেপালেই ঘটেছে এরকমই ধ্বস আর বন্যা, মৃতের সংখ্যা ৬৬। ২০২৩ সালে সিকিমে একটা গ্লফ, মৃতের সংখ্যা ১৭৯, নিখোঁজ কয়েক হাজার, সরাসরি ক্ষতিগ্রস্থ প্রায় ৮৮ হাজার মানুষ; উত্তরাখন্ডে এবছরই দুটো ধ্বসের ঘটনা ঘটে, ২০২১ সালে দুটো হড়পা বানের ঘটনা ঘটে উত্তরাখন্ডে—তার মধ্যে একটি চামোলী জেলায়, ঋষিগঙ্গা-ধৌলিগঙ্গায়, মৃত অন্তত ২০০। ২০১৩ সালে কেদারনাথের চোরাবালিতাল বিস্ফোরণ ঘটে; অলকানন্দার নদীখাত বরাবর এই চামোলী জেলাতেই ভয়াবহ বন্যা—মৃত কয়েক হাজার। ২০১২ সালে নেপালে অসিগঙ্গা, সেতি নদীর হড়পা বান। দু-দশক আগেও হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ ভেঙে বা অতিবৃষ্টিতে হড়পা বানের ঘটনা ছিল কয়েক বছরে একটি সেটাই বর্তমানে এসে দাঁড়িয়েছে গড়ে বছরে তিনটি করে। গত দুই শতাব্দীতে হিমালয়ের প্রায় ৩৬ শতাংশ হিমবাহ গলে গিয়েছে, এমনকি এভারেস্টের মত পৃথিবীর সব থেকে উঁচু শৃঙ্গের হিমবাহও গলতে শুরু করেছে, ২০৫০ সালে হিমালয়ের কোনো কোনো হিমবাহ নাকি সম্পূর্ণ শেষ হয়ে যাবে বলেও অনুমান করা হচ্ছে। এর ফলে, হিমালয়-তিব্বত জুড়ে হিমবাহজাত হ্রদের আকার এবং সংখ্যা স্বাভাবিক কারণেই বাড়ছে হুহু করে। উত্তরাখন্ডে ২০০৫ সালে এরকম হ্রদের সংখ্যা ছিল ১২৭-টি, মাত্র দশ বছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬৫-তে। ইসরো জানাচ্ছে গত চল্লিশ বছরে হিমালয়ে দশ হেক্টরের বেশি বড় সাইজের হিমবাহজাত হ্রদের (মোট ২৪১৩-টি) মধ্যে ৬০০-টির বেশি হ্রদ আকারে দ্বিগুণ হয়ে গেছে। এ শুধু হিমালয়ের চরিত্রে বদল নয়, আল্পসের ঘটনাও একই, বরং একটু বেশিই। ২০২৩ সালে আল্পসের একটি শৃঙ্গের ৬০ ফুট ভেঙে পড়েছে, মুছে গেছে কয়েক লক্ষ বর্গমিটার আয়তনের হিমবাহ। শেষ মাত্র দু-দশকে শিল্পবিপ্লবের জন্মভূমি ইউরোপের হিমবাহ গলেছে ৪০ শতাংশ, পরিমাণটা নেহাত কম নয়, কারণটাও সহজেই অনুমান করা যায়—শিল্প বিপ্লবের ধাক্কা ইউরোপে বেশ জোরদার। এই সময়পর্বে ইউরোপে তাপমাত্রা বেড়েছে ৩৩%। উষ্ণ ক্রান্তীয় অঞ্চল থেকে সুদূর উত্তর মেরুতে স্থলভাগের ওপর জমে থাকা হিমবাহ (গড়ে ২০ ফুট পুরু, কোথাও কোথাও এক কিলোমিটারেরও বেশি পুরু) কিংবা দক্ষিণ মেরুতে সমুদ্রে ভাসতে থাকা হিমশৈলের ভাঙন, গলনও দ্রুতহারে বাড়ছে। আন্টার্কটিকায় আছে পৃথিবীর মোট সঞ্চিত বরফের ৯০ শতাংশ। এই শতাব্দীর সবেমাত্র এক চতুর্থাংশ এসেছি, এর মধ্যে এই গ্রহের বরফ গলে গেছে ৫ শতাংশ—৬৫ লক্ষ টন। আর্কটিকের সাদা বরফের জায়গা নিচ্ছে কালো জল যা সূর্যালোককে (সঙ্গে তাপ) প্রতিফলিত করার বদলে শোষণ করে উষ্ণতা আরো বাড়াচ্ছে। হিমবাহ গলনের আরো একটা মুশকিল হচ্ছে, হিমবাহে লক্ষ লক্ষ বছর জমাট বেঁধে থাকা পার্মাফ্রস্ট মুক্ত হওয়ায় তাতে আটকে থাকা কার্বন-ডাই-অক্সাইড বাতাসে উন্মুক্ত হচ্ছে। গ্রীনল্যান্ডে আটকে থাকা এরকম ৫০ শতাংশ (৫০০ কোটি টন) কার্বন ইতিমধ্যে বাতাসে যুক্ত হয়েছে। মেরু অঞ্চলে এই ভারসাম্যে বিঘ্ন ঘটা মানে সমুদ্র স্রোতে তার বড় প্রভাব—উষ্ণ আর শীতল স্রোতের স্থিতিশীল জটিল প্রক্রিয়া ওলটপালট হয়ে যাবে, নতুন ভারসাম্যে পৌঁছে তা কী রূপ নেবে তা কল্পনা করা অসম্ভব। ভবিষ্যৎ বলছে কোথাও যেমন দীর্ঘ উষ্ণ দিন বাড়বে তেমন কোথাও কোথাও লম্বা এবং আরো তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বেড়ে যাবে সমুদ্র স্রোতের এই রকম ওলটপালট হয়ে যাওয়ার কারণে।
সারা পৃথিবীর সামগ্রিক বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ খুব বেশি না বাড়লেও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে বৃষ্টিপাতের তীব্রতা এবং বণ্টনপ্রকৃতিতে বড়সড় পরিবর্তন এসেছে। আইপিসিসি জানাচ্ছে বিশ্বজুড়ে বৃষ্টিপাতের তীব্রতার হার গড়ে ১০% থেকে ১৫% বৃদ্ধি পেয়েছে। স্বল্প সময়ে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের হার ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থাৎ, আগে যে পরিমাণ বৃষ্টিপাত এক বা দুই সপ্তাহ ধরে হতো, এখন তা মাত্র কয়েক ঘণ্টা বা ১-২ দিনে হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধ্বসের ঘটনা গত দশকে বহুগুণ বেড়েছে। ভারতের জীবনরেখা হিসেবে পরিচিত দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর সময়সূচীতে গত ১০ বছরে বড় পরিবর্তন এসেছে তা আমরা দেখতে পাচ্ছি। বর্ষা এখন দেরিতে শুরু হচ্ছে এবং সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসেও দীর্ঘায়িত হচ্ছে। বর্ষাকালেই যেমন নজিরবিহীন ভারী বৃষ্টির স্পেলের হারও বৃদ্ধি পেয়েছে আবার একটানা খরা বা বৃষ্টিহীন দিনের সংখ্যা তেমন বেড়েছে। শুধু ঝড়-ঝঞ্ঝা-বৃষ্টিপাত-ক্ষুব্ধ আবহাওয়া নয়। পাশাপাশি খরাও বৃদ্ধি পেয়েছে গত কয়েক বছরে। ২০১৮-র মধ্যে হিমালয় অঞ্চলে ৫০ শতাংশ ঝরনা শুকিয়ে গেছে। হিমালয় থেকে সৃষ্ট নদীর জলের ওপর ২০০ কোটি মানুষ অর্থাৎ বিশ্বের জনসংখ্যার এক চতুর্থাংশ নির্ভরশীল। সারা বিশ্বে প্রায় ৩৬০ কোটি মানুষ বছরে অন্তত ১ মাস জলকষ্টে ভুগছে, ৩০ কোটি মানুষ তীব্র খরার প্রকোপে আছেন। এই শতকে খরার হার ২৯ শতাংশ বেড়েছে। বিশ্বের প্রায় ৩০% ভূপৃষ্ঠ কোনো-না-কোনোভাবে খরার কবলে পড়েছে, যার মধ্যে প্রায় ১.২% অঞ্চল চরম খরায় ভুগেছে। বিশ্বব্যাপী দীর্ঘস্থায়ী বা একাধিক বছরব্যাপী খরার এলাকা প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৫০,০০০ বর্গ কিলোমিটার হারে প্রসারিত হচ্ছে। গোটা দুনিয়ার এক পঞ্চমাংশ কোনো-না-কোনো মাত্রার খরায় আক্রান্ত। গত একশো বছরে ইউরোপ প্রত্যক্ষ করেছে ৪৫ টির মত বড় খরা। ১৯৯৭ সালের পর থেকে ভারতের খরাপ্রবণ অঞ্চলের পরিমাণ প্রায় ৫৭% বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে বাষ্পীভবনের হার তীব্রভাবে বেড়েছে। এর ফলে বৃষ্টিপাত স্বাভাবিক হলেও উচ্চ তাপমাত্রার কারণে মাটির আর্দ্রতা দ্রুত শুকিয়ে যাচ্ছে, যা খরার হার বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এই প্রসঙ্গে বলতে হয় নতুন একটা শব্দ শোনা যাচ্ছে এদেশে— ফ্ল্যাশ ড্রট। তীব্র তাপপ্রবাহ এবং বৃষ্টিপাতের দীর্ঘ বিরতির কারণে মাটি থেকে দ্রুত জল বাষ্পীভূত হয়ে মাত্র ২-৩ সপ্তাহের মধ্যে এই খরা তৈরি হয়। প্রসঙ্গত বলতে হয়, ভারতে খরা ছাড়াও জলকষ্টের অন্যান্য কারণ আছে। বিশ্বের ১৮ শতাংশ মানুষের ভার নিয়ে এই দেশে বিশ্বের মোট পরিশ্রুত জলের ৪ শতাংশ। ভারতের ৭০ শতাংশ জল দূষিত। ১৩ টি বড় নদী জলাভাবে আক্রান্ত, জলাধারগুলোতেও তাদের জলধারণ ক্ষমতার তুলনায় খুব কম অংশে জল অবশিষ্ট রয়েছে। সবুজ বিপ্লবের কারণে উচ্চফলনশীল, যন্ত্রনির্ভর অত্যাধুনিক চাষাবাদে ভূগর্ভস্থ জল ব্যাপক মাত্রায় সেচের কাজে ছাড়পত্র দিয়েছে আমাদের দেশের অপরিনামদর্শী শাসক।
শুধু হিমবাহ গলন আর অতিবৃষ্টি বাড়েনি। সমুদ্রে নিম্নচাপের সংখ্যা বেড়েছে। সব নিম্নচাপ সাইক্লোনে রূপ পায় না, অনেকগুলি সমুদ্রেই হারিয়ে যায়, কেউ কেউ উপকূলে কম শক্তি নিয়ে এসে সাধারণ বৃষ্টিপাত ঘটায়, যেগুলো সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শক্তি সঞ্চয় করে তাদেরও কেউ কেউ সমুদ্রেই ঘুর্নিঝড়-বৃষ্টিপাত ঘটিয়ে শেষ হয়ে যায়। আর কেউ কেউ এসে আছড়ে পড়ে উপকূলে। উপকূলে সাইক্লোনের প্রভাব বেড়েছে। গত বছর বঙ্গোপসাগরে সাইক্লোন ‘মন্থা’ অন্ধ্র উপকূলে আছড়ে পড়ে, ২০২৪ সালে ‘দানা’ বাংলা আর উড়িশ্যায়, একই বছর ‘রেমাল’ দুই বাংলায়, ২০২৩ সালে আরব সাগরে ‘বিপর্যয়’ রাজস্থান আর গুজরাতে, ২০২৩ সালে বাংলাদেশ মায়ানমারে ‘মোচা’, ২০২২ সালে আসাম, উড়িষ্যা, বাংলা, আন্দামানে ‘সিট্রাং’, ২০২১ সালে ‘ইয়াস’ আর ২০২০ সালে ‘আম্ফান’ বাংলায়, ২০২০-তে মুম্বাইয়ে ‘নিসর্গ’, ২০১৯-এ বাংলায় ‘বুলবুল’ আর ‘ফণী’। ২০২১ সালে কয়েকটি নিম্নাচাপের সিরিজের জন্যে তামিলনাড়ুতে ব্যাপক বন্যা হয়েছিল, ২০২৫-এর সেপ্টেম্বরের কলকাতার অতিবৃষ্টিও তা-ই, ২০২৩ সালে ‘মিগজাউম’ সাইক্লোনের কারণে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে চেন্নাইয়ে বন্যা হয়েছিল। ২০২২-এ আসামে শিলচরের বন্যা, ২০২৪-এ কেরালার ওয়েনাড়ের বন্যা, ২০১৮ সালে কেরালায় শতাব্দীর সবথেকে বড় বন্যা, ২০১৯ সালে দক্ষিণ পশ্চিম ভারতের ৯-টি রাজ্যে বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে বন্যা, ২০১৫-র দক্ষিণ ভারতের বন্যা, ২০০৮-এর উত্তর বিহার জুড়ে কোশী অববাহিকায় বন্যা—এ সবই গত দু’দশকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের কারণে ভারতের কয়েকটি বড় মাপের বন্যার উদাহরণ। ২০১৯ থেকে ২০২৫ অবধি ভারতের উপকূলে সাইক্লোন আছড়ে পড়েছে অন্তত ৩০-টি। শুধু এই অঞ্চল নিয়েই আলোচনা করছি, কারণ, পরিসংখ্যান বলছে সারা পৃথিবীর ৬৫ শতাংশ সাইক্লোন বা ঘুর্নিঝড় দেখা যায় বঙ্গোপসাগরে। সমীক্ষা বলছে গত এক দশকে বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ তৈরি হওয়ার হার কমেছে (২ থেকে ১০ শতাংশ), কিন্তু তৈরি হওয়া নিম্নচাপ ঘুর্ণিঝড়ে (ক্যাটেগরি ৩) রূপান্তরিত হওয়ার হার বেড়েছে। শুধু সংখ্যায় বাড়েনি, নিম্নচাপের সময়ও দীর্ঘায়িত হচ্ছে, শেষ দশকে বেড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ। অর্থাৎ বছরের যে সময়টাতে নিম্নচাপ হত না সেই সময়গুলোতেও হচ্ছে। স্থলভাগের কাছে নিম্নচাপজনিত বৃষ্টির তীব্রতাও বেড়েছে ২০ শতাংশ। বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে বায়ুমণ্ডলের ওপরের এবং নিচের স্তরের বাতাসের গতির পার্থক্য (Wind Shear) বেড়ে যাচ্ছে এবং গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বা ক্রান্তীয় অঞ্চলে বায়ুমণ্ডলের উল্লম্ব গতি দুর্বল হচ্ছে। অথচ এটিই প্রাথমিক নিম্নচাপগুলোকে সহজে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে বাধা দেয়।
শৈত্য প্রবাহ আর গরম একই সঙ্গে বেড়েছে গ্রহ জুড়ে। ১৮৫০ সালের নিরিখে গত ২০২৪ সালে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ১.৫° সেলসিয়াস বেড়ে গেল। স্থলভাগে তাপমাত্রা বেড়েছে গড়ে ২.৩° সেলসিয়াস, সমুদ্রপৃষ্ঠে ১.১°। ২০২৫ সালে সমুদ্রপৃষ্ঠে সর্বকালের রেকর্ড সর্বোচ্চ তাপমাত্রা দেখা গিয়েছে। দেড় ডিগ্রি তাপমাত্রা বৃদ্ধিকে ‘আপাত অর্থে কিছুই নয়’ মনে করাটা ভুল। মাথায় রাখতে হবে শেষ তুষারযুগে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বর্তমানের থেকে মাত্র ৬° সেলসিয়াস কম ছিল। ১৭৫ বছরে সমগ্র গ্রহের গড় তাপমান ১.৫° সেলসিয়াস বৃদ্ধির বাস্তব রূপটা কেমন তার মাত্র কয়েকটা ছবি দেখে নিই। ২০২৩-এর মে থেকে ২০২৪-এর মে অবধি ৯০-টি চরম তাপপ্রবাহ বা লু চলেছে; এতে আক্রান্ত হয়েছেন ৬৩০ কোটি অর্থাৎ গ্রহের সমগ্র জনসংখ্যার ৭৮% মানুষ। দক্ষিণ আমেরিকার কোনো কোনো দেশে এই তাপপ্রবাহ সাংঘাতিকভাবে স্থায়ী থেকেছে টানা দেড়শ দিনেরও বেশি। ২০২৪ সালে ভারতে ১৭-টি প্রদেশে তাপপ্রবাহ চলেছে, ৪০ হাজার মানুষ হিটস্ট্রোকে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন, ৭০০ জন হিটস্ট্রোকে মারা গিয়েছেন। ১৯৫১ সালের পর এই প্রথম এতো দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ হয়েছে রাজস্থান, হরিয়ানা, দিল্লীতে। তাপমাত্রা ৪০°-র ওপরে উঠে গেছে। লাদাখ, উত্তরাখন্ডের পার্বত্য অঞ্চলও তাপপ্রবাহের হাত থেকে রেহাই পায়নি। হিমালয়ের যেসব অঞ্চলে কেবলমাত্র তুষারপাত হওয়াই সম্ভব ছিল, সেখানেও বৃষ্টিপাত দেখা যাচ্ছে। অন্য একটা পরিসংখ্যান জানাচ্ছে ১৯৯১ থেকে ২০২৮ সালে ভারতে তাপপ্রবাহে মারা গিয়েছে প্রায় ২৫ হাজার মানুষ। গত বছর লন্ডন শহরে তাপমাত্রা ৪০° পেরিয়ে গেছে, লন্ডলে ফ্যান বিক্রি হচ্ছে দেদার। এ রাজ্যে দার্জিলিং-কালিম্পঙ্গের ঘরে ঘরে সিলিং ফ্যান ঝোলাতে হচ্ছে। ২০২৪-এ দুবাইতে তাপমাত্রা উঠেছিল ৬২.২°সেলসিয়াসে, অনুভূত হয়েছিল ৭০°-র মত। ওই বছর মক্কায় হজ করতে গিয়ে মারা গিয়েছেন অন্তত ১৪০০ জন তীর্থযাত্রী। পূর্ব আন্টার্কটিকায় তাপমাত্রা ২০২৩ সালে রেকর্ড করা হয়েছে স্বাভাবিকের থেকে ৩৮° সেলসিয়াস বেশি— স্বাভাবিক থাকার কথা মাইনাস ৫০°তে। গত এক দশকে সামুদ্রিক তাপপ্রবাহ বেড়েছে ৫০ শতাংশ, প্রায় ১৩ গুণ ঘন ঘন ঘটছে, তীব্রতাও বেড়েছে অন্তত ৫ গুণ। শিল্পবিপ্লবের ধাত্রীভূমি ইউরোপে গত দু’দশকে তাপমাত্রা বেড়েছে ৩৩%। হিমালয়-হিন্দুকুশের মোট বরফের ৩৬ শতাংশ গলে গেছে। হিন্দুকুশের হিমবাহ গলে যাওয়ার হার বৃদ্ধি হয়েছে ৬৫ শতাংশ।
শুধু তাপমাত্রা বেশি রেকর্ড করা হচ্ছে বললে অসম্পূর্ণ বলা হবে। এ বছর (২০২৬) জানুয়ারি মাসে উত্তর ভারত তো বটেই, এমনকি মধ্য ও দক্ষিণ ভারতের কিছু অংশেও অস্বাভাবিক তীব্র শীত নেমে আসে। দিল্লির তাপমাত্রা কমে ৩.২° সেলসিয়াসে নেমে যায় এবং গুরগাঁও-এ পারদ নেমেছিল ০.৬° সেলসিয়াসে (যা গত ৫০ বছরের মধ্যে অন্যতম সর্বনিম্ন)। এই বছর আমেরিকার পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলে বিগত ১০-১৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এই তীব্র ঠান্ডা বাতাস এতটাই শক্তিশালী ছিল যে তা সেন্ট্রাল আমেরিকা পর্যন্ত পৌঁছে বহু বছরের রেকর্ড ভেঙে দেয়। একই সময়ে সার্বিয়াসহ ইউরোপের বেশ কিছু অংশেও বিদ্যুৎ বিপর্যয় ও রেকর্ড তুষারপাত ঘটে। ২০২২ সালের বড়দিনের ঠিক আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডায় একটি ঐতিহাসিক ‘আর্কটিক আউটব্রেক’ ঘটে। এটাকে বিজ্ঞানীরা বলছেন একটা তীব্র ‘বম্ব সাইক্লোন’ বা দ্রুত গভীর হওয়া নিম্নচাপ। ফলে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৬০% মানুষ তীব্র শীতে প্রভাবিত হন। কিছু এলাকায় মাত্র কয়েক ঘণ্টায় তাপমাত্রা ৩০ থেকে ৪০ ডিগ্রি পর্যন্ত নেমে যায়। ২০২০/২০২১ সালের শীতকালে পূর্ব এশিয়া পরপর তিনটি প্রচণ্ড তীব্র ঠান্ডা বাতাসের ধাক্কার মুখোমুখি হয়। উত্তর চীনের প্রায় ৬০-টিরও বেশি আবহাওয়া-কেন্দ্রে তাপমাত্রা তাদের ইতিহাসের সর্বকালের সর্বনিম্ন রেকর্ড স্পর্শ করে। বেইজিংয়ে তাপমাত্রা মাইনাস ১৯.৬° সেলসিয়াসে নেমেছিল। এই উদাহরণগুলো দেখিয়ে কেউ কেউ সন্দেহ জানাতে পারেন বিশ্ব উষ্ণায়নের বিষয়ে। কিন্তু এই ঘটনাও ঘটছে উষ্ণায়নের কারণেই। সামগ্রিকভাবে বিশ্বজুড়ে শীতল দিন ও ঠান্ডা বাতাসের স্থায়িত্ব কমছে, কিন্তু চরম ও আকস্মিক তীব্র শীতল বাতাসের প্রবাহ আরও তীব্র রূপ নিচ্ছে। সাধারণত মেরু অঞ্চলের তীব্র ঠান্ডা বাতাস একটি শক্তিশালী বায়ুপ্রাচীরের (Polar Vortex) মাধ্যমে সুমেরু অঞ্চলেই আটকে থাকে। কিন্তু বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাবে মেরু অঞ্চলের তাপমাত্রা বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রার চেয়ে ৪ গুণ দ্রুত গতিতে বাড়ায়, এই বায়ুপ্রাচীরটি গত দশকে ঘন ঘন দুর্বল এবং প্রসারিত হয়ে পড়েছে। এর ফলে মেরুর তীব্র শীতল বায়ুপ্রবাহ আটকে না থেকে ছিটকে নিরক্ষরেখার দিকে নেমে আসছে। যার কারণে গত এক দশকে উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ এবং এশিয়ার কিছু অংশে (উত্তর ভারত ও চীন) হঠাৎ করে রেকর্ডভাঙা তীব্র শৈত্যপ্রবাহ এবং তুষারঝড় দেখা গেছে।
এই প্রসঙ্গে একটু অন্য কথায় যাই, যে ভয়খয়ানস্কে ১৮৯২ সালের ফেব্রুয়ারির ৫ তারিখ পৃথিবীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল (মাইনাস ৬৭.৮° সেলসিয়াস) সেখানেই ২০২০ সালের জুন মাসে উষ্ণতা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৮ ডিগ্রি। আজ্ঞে হ্যাঁ, প্লাস ৩৮ ডিগ্রি! একই জায়গার তাপমাত্রার ব্যবধান ১০৫.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস! এরকম একটা গিনেস রেকর্ডের কৃতিত্ব যার, তাকে নিয়েই তো আজকের আলোচনা। প্রসঙ্গত বলে রাখি, জনবসতিপূর্ণ জায়গা হিসেবে ভয়খয়ানস্কের ১৮৯২ সালের তাপমাত্রা আজও গিনেস রেকর্ড। ১৯৩৩ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি সাইবেরিয়ার ওইমিয়াকনেও একই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল। ১৯৮৩ সালের ২১ জুলাই অ্যান্টার্কটিকায় অবস্থিত রাশিয়ার তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের গবেষণা কেন্দ্র ভোস্টক স্টেশনে চরম ঠাণ্ডা (মাইনাস ৮৯.২°C ) রেকর্ড করা হয়েছিল। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থাও (WMO) এটিকে পৃথিবীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
নাসার পরিসংখ্যান থেকে জানতে পাচ্ছি, গত একশো বছরে গড় সমুদ্র জলতল বেড়েছে ৮ ইঞ্চি। বর্তমানে বৃদ্ধির হার এক দশকে ২ ইঞ্চি। বিংশ শতাব্দীর বেশিরভাগ সময় জুড়ে বৈশ্বিক সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বছরে গড়ে প্রায় ১.৭ মিলিমিটার করে বাড়ছিল। কিন্তু গত এক দশকে (২০১৬―২০২৬) এই বৃদ্ধির হার প্রায় তিনগুণ বেড়ে বছরে গড়ে ৪.৫ থেকে ৪.৮ মিলিমিটার হয়েছে। স্থলভাগে জমে থাকা বরফ গলে যাওয়ার অর্থ হল সমুদ্র জলতল বৃদ্ধিতে সরাসরি তার প্রতিফলন ঘটবে। সমুদ্র জলতল বৃদ্ধি মানে, সমুদ্র উপকূলবর্তী জীববৈচিত্র্য এবং মানুষের বসতির ওপর সরাসরি আঘাত। প্রতি ডিগ্রি সেলসিয়াসের এক দশমাংশ তাপমাত্রা বৃদ্ধি মানে বর্তমান পরিসংখ্যান অনুযায়ী ১৪ কোটি মানুষের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে যাওয়া। পৃথিবীর ৪০ শতাংশ মানুষ সমুদ্র উপকূলের কাছাকাছি বসবাস করে। এক ইঞ্চি সমুদ্রতল উচ্চতা বাড়া মানে স্বল্প ঢাল (মহীসোপান) বরাবর কয়েকশো মিটার সমুদ্র এগিয়ে আসা। মাত্র দেড় ফুট সমুদ্রতলের উচ্চতা বৃদ্ধি হলে বহু দ্বীপপুঞ্জ নিমজ্জিত হবে, মালদ্বীপের ৭৭ শতাংশ ডুবে যাবে, ভারতেরই অন্তত ৪ কোটি মানুষ ক্লাইমেট রিফিউজি হয়ে যাবে। ভারতের প্রধান শহরগুলির কোনগুলি সমুদ্রতল বৃদ্ধি দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে তার তালিকায় সবার ওপরে আছে কলকাতার নাম, এমনকি সাগর পাড়ের মুম্বাইয়েরও আগে। জনপদ হিসেবে সবচেয়ে বিপজ্জনক জায়গায় আছে ৪০ লক্ষ মানুষের আদরের বাসস্থান ‘সুন্দরবন’। মাটির নদীবাঁধ দিয়ে জল আটকে রাখা আছে বলে রক্ষে, নইলে এখনই সুন্দরবনের বেশিরভাগ দ্বীপের মানুষ জোয়ারের সময় ঘুমোতে যায় সমুদ্রের জলতলের নীচে। ভারতে শেষ কয়েক দশকে প্রায় ২৩৫ বর্গ কিলোমিটার উপকূলবর্তী ভূমি সমুদ্র খেয়ে নিয়েছে, এর মধ্যে ৯৯ বর্গ কিলোমিটার পশ্চিমবঙ্গে।
শিল্পবিপ্লবের পর ১৭৫ বছরে দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াস উষ্ণতা বৃদ্ধির এই ফলাফল! এমনি এমনি নয়। প্রাকৃতিকও নয়। দায়ী মানুষই। অপ্রয়োজনীয় অথচ লোভনীয় পণ্যে সুসজ্জিত যে বাজার আপনাকে টানছে, তার প্রতিটি উপকরণ আপনি কিনছেন—না, অর্থের বিনিময়ে নয়, পৃথিবীর বর্ধিত তাপমাত্রার বিনিময়ে। আপনার পরবর্তী প্রজন্মকে এক বিপজ্জনক ভবিতব্যের দিকে আপনিই টেনে নিয়ে যাচ্ছেন কিনা এই লেখায় থমকে একবার ভেবে দেখুন।

লেখক
অরিজিৎ চক্রবর্তী
প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ভূতত্ত্বে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর। কিছুদিন অধ্যাপনা করেছেন, বর্তমানে রাজনৈতিক কর্মী। সাংস্কৃতিক আন্দোলন ও বিজ্ঞান সচেতনতা বৃদ্ধির আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত। লিটল ম্যাগাজিনে লেখেন, বিভিন্ন ছোট পত্রিকায় সংগঠকের ভূমিকা পালন করেছেন নানা সময়। প্যারালালের অন্যতম সংগঠক।
সব কাজ দেখুন →সংখ্যা ১-এর অন্যান্য লেখা
সংখ্যা ১সম্পাদকীয়
সম্পাদকীয়
“কম্পিউটার, ই-মেল এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা নিয়ে অনেক আলোচনা হয়। কিন্তু আমরা এখন এমন এক যুগে প্রবেশ করেছি যেখানে মানুষকেও হ্যাক করা সম্ভব।” ‘উই আর বিকামিং হ্যাকেবল অ্যানিমেলস’—হাড়হিম করে দেওয়া এক বাস্তবতার কথা আমাদের বলেছেন হারারি।
সংখ্যা ১গল্পস্বল্প
বোতাম
সবকিছু যখন এক ক্লিকে বদলে যায়, তখন কিছু মানুষ নিঃশব্দে পাহারা দেয় তাদের চিরপুরাতন বিশ্বাস। সুতো আর মায়া দিয়ে পার্বতীদি কী বুনে চলেছেন দিনরাত? কাগজের মতো সহজে ছিঁড়ে যাওয়া সম্পর্কের ভিড়ে, বুকের ভেতরে সামান্য কাপড় বাঁচিয়ে রাখার এক মায়াবী আখ্যান ‘বোতাম’।
সংখ্যা ১পুরাতনী
ওড়িশা প্রজাতন্ত্র—বিংশ শতাব্দীর ইতিবৃত্তের এক বিস্মৃত পৃষ্ঠা: দ্বিতীয় পর্ব
১৮৪৫ সালে লেখা ১৯২৫ সালের এক কাহিনি। এক বিকল্প ইতিহাস। বিদ্রোহের গল্প। এক ভবিষ্যতের উড়িষ্যার গল্প। যে উড়িষ্যা একদিন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের শৃঙ্খল ভেঙে স্বাধীন প্রজাতন্ত্রে পরিণত হবে। কিন্তু সেই স্বাধীনতার পথ মসৃণ নয়; তার ভিতর লুকিয়ে আছে অরণ্যের গভীরে জমে থাকা ক্ষোভ, হারিয়ে যাওয়া স্বাধীনতার স্মৃতি এবং পাহাড়ি মানুষের অদম্য আত্মমর্যাদা। শশীচন্দ্র দত্তের এই কল্প-ভবিষ্যতের কাহিনি যেন উনিশ শতকের ঔপনিবেশিক বাস্তবতার এক প্রতিবিম্ব; স্বাধীনতার স্বপ্ন কীভাবে প্রতিরোধের ভাষা খুঁজে পায়, তার এক রোমাঞ্চকর আখ্যান।

