
পর্যায় সারণির ইতিকথা: দেড়শ বছর পেরিয়ে
ISBN: 978-81-958730-7-4
বইটির সম্পর্কে
শিক্ষাব্যবস্থা একটা শক্তিশালী মাধ্যম। কিন্তু বর্তমান চরম দক্ষিণপন্থী সরকার সেই ব্যবস্থাটার প্রয়োজনীয় সদর্থক সংস্কারের বদলে ঠিক উল্টো পথে হেঁটে শিক্ষা ব্যবস্থাটা এমনভাবে গড়ে নিতে চাইছে যাতে করে একজন শিশুর বিজ্ঞানসম্মত মনন গড়ে না ওঠে। তার জন্যেই নানাবিধ আয়োজন। সেই হাজারো আয়োজনের একটি হচ্ছে মাধ্যমিক স্তরে জীবনবিজ্ঞানের সিলেবাস থেকে ডারউইনের মতবাদ তুলে দেওয়া, রসায়নের সিলেবাস থেকে পর্যায় সারণি তুলে দেওয়া, মুঘলদের ইতিহাস বাদ দেওয়া সহ স্কুলপাঠ্যে ইতিহাসের বিকৃতি ইত্যাদি। তারা হয়তো আরও উঁচু ক্লাসে গিয়ে সেগুলো পড়বে, কিন্তু মাধ্যমিক স্তর থেকে বহু বুনিয়াদী জিনিস বাদ দেওয়া মানে— যে গুটিকয় ছাত্রছাত্রী আমাদের মত উচ্চহারে ড্রপআউটের দেশেও উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করবে তাদেরকেও একটা বেসিক এবং সামগ্রিক জ্ঞান থেকে বঞ্চিত করা— কারণ মাধ্যমিকের পরই বিজ্ঞান, কলা বা বাণিজ্য বিভাগের জন্যে তারা বিভক্ত হয়ে যাবে— একজন বিজ্ঞানের পড়ুয়ার ইতিহাসের জ্ঞান না থাকলে বা খণ্ডিতভাবে থাকলে বা বিকৃতভাবে থাকলে তাকে সমাজবিচ্ছিন্ন করে ফেলার প্রক্রিয়াটা সহজ হবে; কিংবা জীবের বিবর্তন বা মৌলিক পদার্থগুলোর ক্রমবিন্যাস ইত্যাদির মত বিজ্ঞানের কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক ধারণার ছিটেফোঁটা একজন বাণিজ্য বা কলা বিভাগের ছাত্র বা ছাত্রীর না থাকলে তাকে বিজ্ঞানসম্মত মানসিকতা থেকে ছিন্ন করে কেবলমাত্র সরকারী প্রচারে বিশ্বাসী, কর্তাভজা একজন ‘ডিগ্রীপ্রাপ্ত’ ‘উচ্চশিক্ষিত’ মানুষে পরিণত করা সম্ভব। শুধুমাত্র এটুকুই নয়, এর বাইরেও সম্ভবত আরও কোনো গোপন অভিসন্ধি আছে বর্তমান শাসকের— যা এই রকম সব সিলেবাস পরিবর্তনের মাধ্যমে সাধিত হবে। সেগুলো নিশ্চয়ই ভবিষ্যতে উন্মোচিত হবে।

লেখক
অশোক মুখোপাধ্যায়
অশোক মুখোপাধ্যায় (১৯৫৪-) দীর্ঘদিনের একজন মার্ক্সবাদী সার্বক্ষণিক কর্মী (১৯৭০-২০০৭)। সক্রিয় রাজনীতির মঞ্চ ছেড়ে সরে এসে এখন তিনি বিজ্ঞান আন্দোলন ও মানবাধিকার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত এবং সেই সঙ্গে মার্ক্সীয় দর্শনের ভিত্তিতে বিজ্ঞানের ইতিহাস সমাজতত্ত্ব ও দর্শনের উপর পড়াশুনা ও অপ্রাতিষ্ঠানিক গবেষণায় মগ্ন। বিভিন্ন বাংলা ও ইংরাজি পত্রপত্রিকা এবং পোর্টালে তিনি নিয়মিত লেখালেখি করেন।
সব কাজ দেখুন →


