সিরিয়াল কিলার—অন্ধকারের আড়ালে: প্রথম পর্ব
নিথর দেহের পাশে ছড়িয়ে থাকা কবিতার বিষাদ, আর নিশুতি কলকাতার অলিগলিতে ভারী পাথরের নিস্তব্ধ পদধ্বনি—পর্দার রোমাঞ্চ যখন সেলুলয়েড চিরে বাস্তবের মাটিতে আছড়ে পড়ে, তখন বুকের ভেতর রক্ত হিম না হয়ে উপায় থাকে কি? কিন্তু কারা এই রক্তলিপ্সু সিরিয়াল কিলার? এদের জন্ম কি জিনের খেয়ালে, নাকি সমাজের পাতা কোনো চোরা ফাঁদই দায়ী? আপনার পাশের ফ্ল্যাটের যে মানুষটি রোজ সকালে মিষ্টি হেসে আপনাকে শুভেচ্ছা জানান, রাতের অন্ধকারে তিনি কি মুখোশ খুলে বের করে আনেন কোনো আদিম শিকারিকে? ‘বাইশে শ্রাবণ’-এর উন্মাদ কবি থেকে কলকাতার ত্রাস ‘স্টোনম্যান’—অপরাধবিজ্ঞানের আলোয় মানবমনের শীতলতম অন্ধকার গহ্বরে এক রোমহর্ষক যাত্রা।
সিরিয়াল কিলারপর্ব ১/৩

সূত্রপাত
আট মাসে চারটি খুন। প্রতিটির ধরন এক, পদ্ধতিও এক। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ঘটনাস্থলগুলিতে মৃতদেহের পাশে পাওয়া গেছে বিখ্যাত কবিদের কবিতার কয়েকটি লাইন। সবগুলিই একই ফন্টে ছাপা, অথচ কোথাও একটিও আঙুলের ছাপ নেই। যেন কেউ ইচ্ছে করেই পুলিশের সঙ্গে এক নিঃশব্দ খেলায় নেমেছে, আর প্রতিটি কবিতার লাইন সেই খেলার একেকটি ধাঁধা।
এই জট খুলতে ডাক পড়ে বিশেষ তদন্তকারী দলে ডেপুটেশনে আসা এক সাধারণ সদস্যের। নাম প্রবীর রায়চৌধুরী। অপরাধীদের তিনি শুধু ঘৃণাই করেন না, ব্যক্তিগত শত্রু বলে মনে করেন। সেই শত্রুকে নির্মূল করতে যে কোনো সীমা পেরোতে তিনি প্রস্তুত। একদিকে নিখুঁত পরিকল্পনায় নিজেকে আড়াল করে রাখা এক অদৃশ্য খুনি, অন্যদিকে প্রতিশোধের আগুনে জ্বলতে থাকা এক তদন্তকারী। প্রবীরের কাছে এ তদন্ত নিছক দায়িত্ব নয়, বরং এক জেদ। প্রতিটি কবিতার লাইন তাঁকে মনে করিয়ে দেয়, অপরাধী তাঁর চেয়ে এক পা এগিয়েই হাঁটছে।
গল্পটা চেনা লাগছে? একদম ঠিক ধরেছেন, কথা হচ্ছে ২০১১ সালে মুক্তি পাওয়া ‘বাইশে শ্রাবণ’-এর। সিরিয়াল কিলিংয়ের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই ছবিটি একা নয়। আজ বিশ্বজুড়ে অগণিত সিনেমা, সিরিজ আর উপন্যাসের বিষয় এই একটাই। কারণ সহজ—এই ধরনের অপরাধ গোটা পৃথিবীকে রীতিমতো আতঙ্কিত করে রেখেছে। পর্দার গল্প শেষ হলে আমরা নিশ্চিন্তে ঘুমোতে যেতে পারি, কিন্তু বাস্তবের গল্পগুলি এত সহজে আমাদের ছাড়ে না।
আমাদের শহরের অমীমাংসিত রাত
উদাহরণের জন্য বেশি দূরে যেতে হবে না। ১৯৮৯ সালে কলকাতায় আবির্ভাব ঘটে এক অজ্ঞাত খুনির, যে পরিচিতি পায় ‘স্টোনম্যান’ নামে। কয়েক মাসের মধ্যে তেরোজনের প্রাণ যায়। প্রতিটি ঘটনা ঘটে রাতে, যখন নির্বাচিত মানুষটি গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। ফুটপাথে ঘুমোনো মানুষেরাই ছিলেন তার লক্ষ্য। কলকাতার চোখ থেকে সেদিন ঘুম কেড়ে নিয়েছিল ভয়, আর পুলিশ-প্রশাসনও ভেতর থেকে নড়ে গিয়েছিল। রাতের পাহারা বেড়েছিল, মানুষ দল বেঁধে জেগে কাটাত। কিন্তু অন্ধকারে মিশে থাকা সেই মুখহীন ছায়াকে কেউ ধরতে পারেনি। আক্রান্তদের বেশিরভাগই ছিলেন সমাজের প্রান্তে থাকা মানুষ, যাদের হারিয়ে যাওয়ার খবর অনেক সময় খবরের কাগজের ভেতরের পাতাতেই চাপা পড়ে যায়।
আজ এত বছর পরেও এই তেরোটি ঘটনার কোনো সুরাহা হয়নি। এমনকি আমরা জানি না, এর পেছনে ছিল একজন মানুষ, নাকি একটি দল। অমীমাংসিত এই রহস্য আজও আমাদের শিহরিত করে, ভাবায়।
আর এই গল্প শুধু কলকাতার বা ভারতের নয়। সারা বিশ্বে ছড়িয়ে আছে এমন হাজার হাজার ঘটনার নিদর্শন। এই অপরাধের চরিত্র বুঝতে গিয়ে ১৯৭০-এর দশকে মার্কিন তদন্ত সংস্থা FBI-এর আচরণ-বিজ্ঞান বিভাগের বিশেষজ্ঞরা অপরাধীদের মনের ধরন নিয়ে নিয়মমাফিক গবেষণা শুরু করেন। 'সিরিয়াল কিলার' শব্দবন্ধটি জনপ্রিয় করার কৃতিত্ব দেওয়া হয় সেই দলেরই সদস্য রবার্ট রেসলারকে। তাহলে প্রশ্ন একটাই: সিরিয়াল কিলিং আসলে কী?
সংজ্ঞা ও বৈশিষ্ট্য
সাধারণভাবে বলা যায়, একাধিক খুন যখন কিছু নির্দিষ্ট ধরন মেনে ঘটে, তখন তাকে সিরিয়াল কিলিংয়ের তালিকায় ফেলা হয়। বৈশিষ্ট্যগুলি মোটামুটি এরকম—
(১) খুনগুলি আলাদা আলাদা ঘটনা হিসেবে ঘটে, একটানা নয়।
(২) দুটি খুনের মাঝখানে উল্লেখযোগ্য বিরতি থাকে, যাকে বলা হয় ‘কুলিং-অফ পিরিয়ড’ (cooling-off period)। এই সময়টুকুতে খুনি যেন নিজের ভেতরের তাগিদকে আবার জমতে দেয়।
(৩) খুনগুলি একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে সংঘটিত হয়।
(৪) প্রতিটির পেছনে থাকে কোনো বিশেষ অভিপ্রায় বা মোটিভ (motive)।
(৫) ঘটনাস্থল সাধারণত ভিন্ন ভিন্ন হয়, যাতে সহজে সূত্র মিলিয়ে নেওয়া না যায়।
(৬) কিছু ক্ষেত্রে যৌন নিপীড়নের চিহ্ন পাওয়া যায়, যদিও এটি অপরিহার্য নয়।
অতীতে ‘তিন বা তার বেশি খুন’-কে সিরিয়াল কিলিংয়ের মাপকাঠি ধরা হতো। তবে এ নিয়ে সর্বজনস্বীকৃত সংজ্ঞা দিয়েছে মার্কিন তদন্ত সংস্থা FBI (Federal Bureau of Investigation), যা মোটামুটি এরকম—“A series of two or more murders, committed as separate events, usually, but not always, by one offender acting alone.”। অর্থাৎ আলাদা আলাদা ঘটনায় দুই বা ততোধিক খুন, যা সাধারণত (কিন্তু সবসময় নয়) একজন অপরাধীই করে থাকে।
খুনের অভিপ্রায় হিসেবে FBI চারটি প্রধান কারণের কথা বলেছে: রাগ (anger), রোমাঞ্চের নেশা (thrill-seeking), আর্থিক লাভ (financial gain) এবং মনোযোগ আকর্ষণের তাগিদ (attention-seeking)। অর্থাৎ কেউ খুন করে রাগে, কেউ রোমাঞ্চের খোঁজে, কেউ টাকার লোভে, আবার কেউ চায় পৃথিবী তাকে দেখুক, তার নাম জানুক। এই বিভাজনই পরে অপরাধীর মানসিক প্রোফাইল তৈরির ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়। তদন্তকারীদের কাজ কঠিন হয়ে ওঠে ঠিক এখানেই, কারণ অভিপ্রায় না বুঝলে খুনির পরের পদক্ষেপ আন্দাজ করা প্রায় অসম্ভব।
মুখোশের আড়ালের মানুষ
এই ধরনের খুন যে ঘটায়, তাকেই বলা হয় সিরিয়াল কিলার। একজন হতে পারে, আবার একাধিক ব্যক্তিও হতে পারে। এতক্ষণ পড়ে হয়তো তাদের প্রতি একরাশ ঘৃণা জমে উঠেছে। সেটা অস্বাভাবিক নয়। তবে এই বিষয়টিকে বুঝতে হলে ঘৃণার পাশাপাশি একটু কৌতূহলও দরকার। কারণ ব্যাপারটা যতটা সরল ভাবছেন, ততটা নয়।
অনেক সিরিয়াল কিলারের মধ্যেই মনোবিদরা ‘সাইকোপ্যাথি’ (psychopathy)-র লক্ষণ খুঁজে পান, যেমন সহানুভূতির অভাব, অনুতাপহীনতা আর নিখুঁত মিথ্যে বলার ক্ষমতা। কারও কারও ক্ষেত্রে সিজোফ্রেনিয়ার মতো মানসিক অসুস্থতার কথাও উঠে আসে। তবে সবাই যে চিকিৎসাশাস্ত্রের অর্থে ‘অসুস্থ’, এমন নয়। সবচেয়ে অস্বস্তিকর সত্যটা হলো, অনেক সময় তাদের উপস্থিতি মুগ্ধকর, আচরণ একদম স্বাভাবিক। প্রতিবেশী, সহকর্মী বা বন্ধুর মুখোশের আড়ালে লুকিয়ে থাকে আরেকটি সত্তা। বহু ক্ষেত্রে তারা সংসার করে, চাকরি করে, সমাজের পাঁচজনের সঙ্গে হেসে কথা বলে। আমরা ভাবি, ভয়ংকর খুনি দেখতেও ভয়ংকর হবে। বাস্তবে সে হয়তো আমাদেরই পাশের বাড়ির নম্র, ভদ্র মানুষটি।
গবেষণায় প্রায়ই দেখা যায়, তাদের অতীত জীবনে ছিল কোনো তিক্ত অভিজ্ঞতা, শারীরিক, মানসিক বা যৌন নির্যাতন, কিংবা পরিবার, সঙ্গী বা কাছের মানুষের নির্মম ব্যবহার। তবে একটা কথা পরিষ্কার থাকা দরকার: নির্যাতনের শিকার প্রতিটি মানুষ খুনি হয়ে ওঠে না। এগুলি ঝুঁকির কারণ মাত্র, অমোঘ নিয়তি নয়। ব্যাখ্যা দেওয়া আর অপরাধকে ক্ষমা করা এক জিনিস নয়। আমরা কারণ খুঁজছি, যাতে এমন অন্ধকারকে সময় থাকতেই চিনে নেওয়া যায়।
প্রশ্নের ভিড়
এখানেই শেষ নয়। মাথার মধ্যে ভিড় করে আসছে আরও অনেক প্রশ্ন—
(১) এরা কি জন্ম থেকেই এমন, নাকি সময়ের সঙ্গে জীবনের মোড় ঘুরে যায়?
(২) শৈশবের কোন ঘটনাগুলি একটা মানুষকে এই পথে ঠেলে দেয়?
(৩) পরিসংখ্যান বলছে, সিরিয়াল কিলিংয়ে পুরুষদের প্রায় একচেটিয়া আধিপত্য। মহিলা সিরিয়াল কিলারের সংখ্যা তুলনায় অনেক কম। কেন?
(৪) সব সিরিয়াল কিলার কি একই ছাঁচের, নাকি তাদের মধ্যেও রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন ধরন?
(৫) কিছু বিজ্ঞানী মনে করেন মস্তিষ্কের গঠন, ক্রোমোজোম বা নিউরো-হরমোনের ক্রিয়ায় এদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের পার্থক্য আছে। এ দাবির সত্যতা কতটুকু?
(৬) বেশিরভাগ ঘটনাই থেকে যায় অধরা, অমীমাংসিত। কিন্তু যদি কেউ ধরা পড়ে, তার পরিণতি কী হয়?
এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই আমরা পাড়ি দেব এই অন্ধকার জগতে। সেই যাত্রায় আমাদের সঙ্গী হবে তথ্য, বিশ্লেষণ আর বাস্তব ঘটনার নির্ভরযোগ্য নজির। প্রতিটি পর্বে খুলে যাবে একেকটি নতুন দরজা, আর প্রতিটি দরজার ওপারে অপেক্ষা করছে এমন কিছু সত্য, যা আমাদের চেনা পৃথিবীকে একটু হলেও অন্যভাবে দেখতে শেখাবে। তাই চোখ রাখুন পরবর্তী পর্বগুলিতে।

লেখক
নার্গিস খাতুন
পেশায় একজন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক। সল্টলেকের ঐতিহ্যবাহী ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হোমিওপ্যাথি থেকে বি.এইচ.এম.এস ডিগ্রি সম্পূর্ণ করেছেন। তবে প্রেসক্রিপশন করার পাশাপাশি সাহিত্যচর্চাও তাঁর ভীষণ পছন্দের। বাস্তবে খুব একটা অভিব্যক্তিপ্রবণ নন, কিন্তু লেখালেখির জগৎ সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য, “এ একটা খালি ক্যানভাসের মতো, যেখানে শব্দের ছোঁয়ায় নিজের ভাবনা আর দৃষ্টিভঙ্গি ফুটিয়ে তোলা যায়। নতুন কিছু শেখার আগ্রহ কখনও ফুরোয় না, আর সেই বিষয়গুলোকেই লেখার মধ্য দিয়ে তুলে ধরতে চাই।”
সব কাজ দেখুন →সিরিয়াল কিলার ধারাবাহিকের অন্যান্য পর্ব
সিরিয়াল কিলারবিজ্ঞান
সিরিয়াল কিলার—অন্ধকারের আড়ালে: তৃতীয় পর্ব
নিথর দেহের পাশে ছড়িয়ে থাকা কবিতার বিষাদ, আর নিশুতি কলকাতার অলিগলিতে ভারী পাথরের নিস্তব্ধ পদধ্বনি—পর্দার রোমাঞ্চ যখন সেলুলয়েড চিরে বাস্তবের মাটিতে আছড়ে পড়ে, তখন বুকের ভেতর রক্ত হিম না হয়ে উপায় থাকে কি? কিন্তু কারা এই রক্তলিপ্সু সিরিয়াল কিলার? এদের জন্ম কি জিনের খেয়ালে, নাকি সমাজের পাতা কোনো চোরা ফাঁদই দায়ী? আপনার পাশের ফ্ল্যাটের যে মানুষটি রোজ সকালে মিষ্টি হেসে আপনাকে শুভেচ্ছা জানান, রাতের অন্ধকারে তিনি কি মুখোশ খুলে বের করে আনেন কোনো আদিম শিকারিকে? ‘বাইশে শ্রাবণ’-এর উন্মাদ কবি থেকে কলকাতার ত্রাস ‘স্টোনম্যান’—অপরাধবিজ্ঞানের আলোয় মানবমনের শীতলতম অন্ধকার গহ্বরে এক রোমহর্ষক যাত্রা।
সিরিয়াল কিলারবিজ্ঞান
সিরিয়াল কিলার—অন্ধকারের আড়ালে: দ্বিতীয় পর্ব
নিথর দেহের পাশে ছড়িয়ে থাকা কবিতার বিষাদ, আর নিশুতি কলকাতার অলিগলিতে ভারী পাথরের নিস্তব্ধ পদধ্বনি—পর্দার রোমাঞ্চ যখন সেলুলয়েড চিরে বাস্তবের মাটিতে আছড়ে পড়ে, তখন বুকের ভেতর রক্ত হিম না হয়ে উপায় থাকে কি? কিন্তু কারা এই রক্তলিপ্সু সিরিয়াল কিলার? এদের জন্ম কি জিনের খেয়ালে, নাকি সমাজের পাতা কোনো চোরা ফাঁদই দায়ী? আপনার পাশের ফ্ল্যাটের যে মানুষটি রোজ সকালে মিষ্টি হেসে আপনাকে শুভেচ্ছা জানান, রাতের অন্ধকারে তিনি কি মুখোশ খুলে বের করে আনেন কোনো আদিম শিকারিকে? ‘বাইশে শ্রাবণ’-এর উন্মাদ কবি থেকে কলকাতার ত্রাস ‘স্টোনম্যান’—অপরাধবিজ্ঞানের আলোয় মানবমনের শীতলতম অন্ধকার গহ্বরে এক রোমহর্ষক যাত্রা।
আরও পড়ুন
সিরিয়াল কিলারবিজ্ঞান
সিরিয়াল কিলার—অন্ধকারের আড়ালে: তৃতীয় পর্ব
নিথর দেহের পাশে ছড়িয়ে থাকা কবিতার বিষাদ, আর নিশুতি কলকাতার অলিগলিতে ভারী পাথরের নিস্তব্ধ পদধ্বনি—পর্দার রোমাঞ্চ যখন সেলুলয়েড চিরে বাস্তবের মাটিতে আছড়ে পড়ে, তখন বুকের ভেতর রক্ত হিম না হয়ে উপায় থাকে কি? কিন্তু কারা এই রক্তলিপ্সু সিরিয়াল কিলার? এদের জন্ম কি জিনের খেয়ালে, নাকি সমাজের পাতা কোনো চোরা ফাঁদই দায়ী? আপনার পাশের ফ্ল্যাটের যে মানুষটি রোজ সকালে মিষ্টি হেসে আপনাকে শুভেচ্ছা জানান, রাতের অন্ধকারে তিনি কি মুখোশ খুলে বের করে আনেন কোনো আদিম শিকারিকে? ‘বাইশে শ্রাবণ’-এর উন্মাদ কবি থেকে কলকাতার ত্রাস ‘স্টোনম্যান’—অপরাধবিজ্ঞানের আলোয় মানবমনের শীতলতম অন্ধকার গহ্বরে এক রোমহর্ষক যাত্রা।
সিরিয়াল কিলারবিজ্ঞান
সিরিয়াল কিলার—অন্ধকারের আড়ালে: দ্বিতীয় পর্ব
নিথর দেহের পাশে ছড়িয়ে থাকা কবিতার বিষাদ, আর নিশুতি কলকাতার অলিগলিতে ভারী পাথরের নিস্তব্ধ পদধ্বনি—পর্দার রোমাঞ্চ যখন সেলুলয়েড চিরে বাস্তবের মাটিতে আছড়ে পড়ে, তখন বুকের ভেতর রক্ত হিম না হয়ে উপায় থাকে কি? কিন্তু কারা এই রক্তলিপ্সু সিরিয়াল কিলার? এদের জন্ম কি জিনের খেয়ালে, নাকি সমাজের পাতা কোনো চোরা ফাঁদই দায়ী? আপনার পাশের ফ্ল্যাটের যে মানুষটি রোজ সকালে মিষ্টি হেসে আপনাকে শুভেচ্ছা জানান, রাতের অন্ধকারে তিনি কি মুখোশ খুলে বের করে আনেন কোনো আদিম শিকারিকে? ‘বাইশে শ্রাবণ’-এর উন্মাদ কবি থেকে কলকাতার ত্রাস ‘স্টোনম্যান’—অপরাধবিজ্ঞানের আলোয় মানবমনের শীতলতম অন্ধকার গহ্বরে এক রোমহর্ষক যাত্রা।