অভিলাষের রেশ
বারো বছর পর স্মৃতির নীল বীজে জেগে ওঠে এক অনুরক্ত হৃদয়ের সুপ্ত অভিলাষ। নিয়নের আলো, জোছনার বিষণ্ণতা আর অপ্রাপ্তির দীর্ঘশ্বাসে বোনা এই কবিতা অধরা ভালোবাসা, অসমাপ্ত গল্প এবং ফিরে আসার অনন্ত প্রতীক্ষার এক মায়াময় আখ্যান।


স্মৃতির পাতায় তুমি নীলকুরিঞ্জির বীজের মতো
ফুটে উঠলে সেই আবার বছর বারো পর―
নিয়নের আলো ছাপিয়ে গেছে ডোপামিনের নীল নেশা
ক্ষণিক উল্লাসে ভরে উঠছে আবার আমার শহর।
মনের অজান্তেই ঠোঁটের কোণে উঠেছে মৃদু হাসি
বিবাগী বাতাসে নীরবে উঁকি দিয়েছে মনস্তাপ জোছনা।
অস্থির ক্যানভাসে মুখরিত, সেই অপ্রাপ্তির নিঃশব্দ কোলাহল
অক্ষর যুদ্ধ মিশে যায়, উজান গাঙের অভিলাষের যত যাতনা।
বেপরোয়া স্বপ্নে ডুবে যায়, জোছনায় অবাধ্য এ হৃদয়ে
খেরোর খাতায় লেখা বিষন্ন চাঁদের একাকিত্বের সেই গান।
অধরা ভালোবাসা থাকে বসন্তের অবিরাম অপেক্ষায়
তোমার অপূর্ণ গল্প ভিজিয়ে দেয় যত নীরব অভিমান।
তোমার স্মৃতিতে ডুবে যায় শিউলি-সন্ধ্যার ছাতিম ফুলের ঘ্রাণ
জোছনা ধোয়া অপ্রাপ্তির দহনে পুড়ে যায় অভিসারের পাড়া।
ফেরারী সুখ, অচিন বাঁধন, জারুল-রঙা অব্যক্ত প্রণয়
আমার অনুরক্তির মায়ামৃগ আজও অপূর্ণ, অধরা, দিশেহারা।
ব্যস্ত নক্ষত্ররা ডুবেছে অভিমানে, ভেজা উদাসী জোছনার নির্বাসনে
তোমার প্রতি অপেক্ষার ব্যাকরণেরা বুনে তোলে এক অসমাপ্ত অধ্যায়।
আষাঢ়ের মেঘবিলাসে ধুয়ে যায় আমলতাসের যত অব্যক্ত অভিমান
অনিশ্চিন্ত সেই গন্তব্য একাকী ভিড় করে তোমার ফেরার আকাঙ্খায়।।

লেখক
সমাপ্তি দিশা
সমাপ্তি দিশা, এক দ্বৈত ভূমিকা পালনকারিণী, রণরঙ্গিণী মায়ের আদুরে মেয়ে। প্রথমে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার রামকৃষ্ণ সমাজ মিশন এম. বি. বিদ্যাপীঠে ও পরে আল-আমীন মিশনে বিদ্যালয় জীবন অতিবাহিত। তারপর কলকাতার আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুশ্রুষা বিভাগে স্নাতক। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের অধীনে কমিউনিটি হেলথ অফিসার হিসেবে কর্মরত। প্রথম স্বরচিত কবিতার আত্মপ্রকাশ স্কুল ম্যাগাজিনে। প্যারালাল, কবি কলম ও হাতেখড়ি পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত। কখনো-সখনো মাথার ভিতরের অগোছালো কল্পনাগুলি প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্সে এসে প্যারাইটাল লোবের কাব্যরসে জারিত হয়ে লিম্বিক সিস্টেমে আবেগের সঙ্গে যৌথতায় ছন্দোবদ্ধ প্রতিচ্ছবি প্রস্তুত করে যা মসীর স্পর্শে স্বতঃই কবিতা হয়ে যায় অগোচরে।
সব কাজ দেখুন →আরও পড়ুন


কবিতা ও ছড়া
আলোক বাতি
নবজাগরণের মুখোশ, রাষ্ট্রবাদের ভ্রম আর সংস্কারের পরাক্রমে ঢাকা পড়ে যায় সময়ের ক্ষত। ‘আলোক বাতি’ এক প্রতিবাদী কবিতা, যেখানে মেকি বিপ্লবের আড়ালে সন্ত্রাস, প্রহসন ও সামাজিক ভণ্ডামির বিরুদ্ধে জেগে থাকে ল্যাম্পপোস্টের মতো বিপ্লবের স্মৃতি।

