সিরিয়াল কিলার—অন্ধকারের আড়ালে: দ্বিতীয় পর্ব

নিথর দেহের পাশে ছড়িয়ে থাকা কবিতার বিষাদ, আর নিশুতি কলকাতার অলিগলিতে ভারী পাথরের নিস্তব্ধ পদধ্বনি—পর্দার রোমাঞ্চ যখন সেলুলয়েড চিরে বাস্তবের মাটিতে আছড়ে পড়ে, তখন বুকের ভেতর রক্ত হিম না হয়ে উপায় থাকে কি? কিন্তু কারা এই রক্তলিপ্সু সিরিয়াল কিলার? এদের জন্ম কি জিনের খেয়ালে, নাকি সমাজের পাতা কোনো চোরা ফাঁদই দায়ী? আপনার পাশের ফ্ল্যাটের যে মানুষটি রোজ সকালে মিষ্টি হেসে আপনাকে শুভেচ্ছা জানান, রাতের অন্ধকারে তিনি কি মুখোশ খুলে বের করে আনেন কোনো আদিম শিকারিকে? ‘বাইশে শ্রাবণ’-এর উন্মাদ কবি থেকে কলকাতার ত্রাস ‘স্টোনম্যান’—অপরাধবিজ্ঞানের আলোয় মানবমনের শীতলতম অন্ধকার গহ্বরে এক রোমহর্ষক যাত্রা।

সিরিয়াল কিলারপর্ব ২/৩
নার্গিস খাতুনের প্রতিকৃতি
৬ মিনিট পড়া
শেয়ার করুন
অপরাধবিজ্ঞানের আলোয় মানবমনের শীতলতম অন্ধকার গহ্বরে এক রোমহর্ষক যাত্রা।
লেখার আকার
লেখার অবস্থান
সূচিপত্র
  1. সিরিয়াল কিলার: জন্মগত নাকি অর্জিত?
  2. শৈশবের অমলিন ছাপ
  3. রক্তে বয়ে চলা প্রভাব
  4. গর্ভের ভেতরের ঝুঁকি
  5. ওয়ারিয়র জিনের রহস্য
  6. তাহলে জবাব কী?

সিরিয়াল কিলার: জন্মগত নাকি অর্জিত?

একজন মানুষ কি খুনি হয়েই জন্মায়, নাকি পরিস্থিতি তাকে সেই পথে ঠেলে দেয়? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বিজ্ঞানীরা দশকের পর দশক মাথা ঘামিয়েছেন, অথচ এর জবাব আজও অধরা। তাই শুরুতেই বলে রাখা ভালো, বিষয়টি বিতর্কিত। গত পর্বে এই প্রশ্নটিই আমরা তুলে রেখেছিলাম। আজ সেই বন্ধ দরজাটা খুলব। এই যাত্রায় আমরা দেখব শৈশবের যত্ন, মায়ের গর্ভের পরিবেশ আর রক্তে বয়ে চলা জিন, এই তিন সূত্র কীভাবে একসঙ্গে একটা মানুষের ভবিষ্যৎ গড়ে বা ভাঙে।

শৈশবের অমলিন ছাপ

একটা কথা অনস্বীকার্য—একজন মানুষের ব্যক্তিত্ব গড়ে ওঠার পেছনে শৈশবের ভূমিকা অপরিসীম। শিশুর সুস্থ বেড়ে ওঠার জন্য কয়েকটি জিনিস অত্যন্ত জরুরি:

• আবেগ ও ভালোবাসা, যা তাকে নিরাপত্তার বোধ দেয়।
• স্নেহের স্পর্শ এবং কাছে পাওয়ার অনুভূতি।
• সৌহার্দ্যপূর্ণ সামাজিক আচরণের শিক্ষা।
• সুস্থ শৃঙ্খলাবোধ।

মনোবিদ জন বাউলবি-র ‘অ্যাটাচমেন্ট থিওরি’ অনুযায়ী, জীবনের প্রথম কয়েক বছরে মা-বাবা বা প্রধান যত্নকারীর সঙ্গে গড়ে ওঠা নিবিড় বন্ধনই শিশুর আবেগের ভিত তৈরি করে। এই প্রতিটি উপাদান শিশুর মানসিক বিকাশ, চিন্তাশক্তির প্রসার এবং ব্যক্তিত্ব গঠনে রেখে যায় এক অমলিন ছাপ। বিশেষ করে জীবনের প্রথম বারো মাস এ ব্যাপারে সবচেয়ে স্পর্শকাতর। এই সময়ে কোনো শিশু পর্যাপ্ত যত্ন ও সাড়া না পেলে পরবর্তী জীবনে তার মধ্যে ব্যক্তিত্বজনিত জটিলতা, বিশেষত অ্যান্টি-সোশ্যাল আচরণের ঝুঁকি বাড়তে দেখা যায়। কিছু গবেষক খুব অল্প বয়স থেকেই কিছু শিশুর মধ্যে সহানুভূতিহীনতা আর আবেগশূন্যতার লক্ষণ খুঁজে পেয়েছেন, যা সাইকোপ্যাথিক ব্যক্তিত্বের পূর্বাভাস হতে পারে। তবে মনে রাখা জরুরি, এগুলি ঝুঁকির সংকেত মাত্র, ভবিষ্যতের রায় নয়।

ইতিহাসের কুখ্যাত সিরিয়াল কিলারদের জীবন ঘাঁটলেও দেখা যায়, তাদের অনেকেরই শৈশবের বিকাশ নানা কারণে ব্যাহত হয়েছিল। সেই ঘটনাগুলি নিয়ে আমরা পরবর্তী পর্বে বিস্তারিত আলোচনা করব। তবে অবহেলিত শৈশব মানেই অপরাধী হয়ে ওঠা নয়। অসংখ্য মানুষ কঠিন শৈশব পেরিয়েও সংবেদনশীল, দায়িত্বশীল জীবন কাটান। সুরক্ষার কারণও তাই সমান গুরুত্বপূর্ণ, যেমন একজন সহানুভূতিশীল শিক্ষক, আত্মীয় বা বন্ধু।

রক্তে বয়ে চলা প্রভাব

শৈশবের পাশাপাশি জেনেটিক্সের ভূমিকাও এড়িয়ে যাওয়ার নয়। যমজ ও দত্তক শিশুদের নিয়ে হওয়া একাধিক গবেষণা বলছে, অ্যান্টি-সোশ্যাল আচরণের প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশের পেছনে জিনগত প্রভাব থাকতে পারে। এই গবেষণার যুক্তিটা সরল—একই জিন ভাগ করে নেওয়া অভিন্ন যমজদের আচরণ যদি সাধারণ ভাইবোনদের চেয়ে বেশি মেলে, তাহলে জিনের ভূমিকা অস্বীকার করা কঠিন। কারণ মস্তিষ্কের ক্রিয়াকলাপ নিয়ন্ত্রণে জিনের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। তবে এক্ষেত্রে জিন আর পরিবেশ একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে কাজ করে। বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় জিন-পরিবেশ মিথস্ক্রিয়া, অর্থাৎ একই জিন ভিন্ন পরিবেশে ভিন্ন ফল দিতে পারে। আর এই প্রক্রিয়া শুরু হয় জন্মেরও আগে, মায়ের গর্ভে। প্রশ্ন হলো, গর্ভাবস্থার কোন অভ্যাসগুলি শিশুর ওপর ছাপ ফেলে, আর কীভাবে?

গর্ভের ভেতরের ঝুঁকি

মায়ের গর্ভ শুধু আশ্রয় নয়, শিশুর প্রথম পৃথিবীও। সেখানে যা ঘটে, তার ছাপ জন্মের পরেও থেকে যায়। গর্ভাবস্থায় কোনো মহিলা ধূমপান করলে, মাদক গ্রহণ করলে বা অপুষ্টিতে ভুগলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে গর্ভস্থ শিশুর ওপর। কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, এমন শিশুর পরবর্তী জীবনে আচরণগত সমস্যা ও অপরাধে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা দ্বিগুণ বা তার চেয়ে বেশি হতে পারে। যদিও এই পরিসংখ্যান এর উদ্দেশ্য ভয় দেখানো নয়, বরং জনসচেতনতা বাড়ানো। এখন প্রতিটি ঝুঁকি আসলে কীভাবে প্রভাবিত করে সেটা দেখা যাক:

ধূমপান: স্বাভাবিক অবস্থায় লোহিত রক্তকণিকার হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন তৈরি করে, যা মস্তিষ্কসহ সব কোষে অক্সিজেন পৌঁছে দেয়। ধূমপানে তৈরি কার্বন মনোক্সাইডের হিমোগ্লোবিনের প্রতি টান অক্সিজেনের চেয়ে প্রায় দুশো গুণ বেশি। ফলে সে আগেই হিমোগ্লোবিনের দখল নেয় এবং অক্সিহিমোগ্লোবিন গঠনেও বাধা দেয়। মস্তিষ্কে অক্সিজেনের ঘাটতি তখন বিকাশের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। সিগারেটের নিকোটিনও শিশুর মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহ কমায়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের পর্যালোচনা অনুযায়ী, ভ্রূণের রক্তে নিকোটিনের ঘনত্ব সাধারণত মায়ের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি থাকে।

অ্যালকোহল: ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অন অ্যালকোহল অ্যাবিউজ অ্যান্ড অ্যালকোহলিজমের মতে, গর্ভাবস্থায় সামান্য মদ্যপানও নিরাপদ নয়। একদিকে এতে গর্ভপাতের আশঙ্কা বাড়ে, অন্যদিকে শিশুর মধ্যে 'ফিটাল অ্যালকোহল স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডার' দেখা দিতে পারে, যা পরে নানা শারীরিক, মানসিক ও আচরণগত সমস্যার জন্ম দেয়।

অপুষ্টি: পর্যাপ্ত পুষ্টি শিশুর সার্বিক বিকাশের অন্যতম রসদ। মায়ের অপুষ্টি মানে গর্ভস্থ শিশুর মস্তিষ্ক গড়ে ওঠার কাঁচামালেই টান পড়া।

তীব্র মানসিক চাপ: দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপে মায়ের শরীরে স্ট্রেস হরমোন কর্টিসল বেড়ে যায়, যা গর্ভস্থ শিশুর স্নায়ুতন্ত্রের বিকাশকেও প্রভাবিত করতে পারে বলে গবেষকদের ধারণা।

এক কথায়, ধূমপান, মাদকাসক্তি আর অপুষ্টি গর্ভস্থ ভ্রূণের প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্সের বিকাশে বাধা দিতে পারে। মস্তিষ্কের এই অংশই আবেগ, সিদ্ধান্ত ও আচরণ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, যেমন, কোন কাজটা করা উচিত নয়, সেটা বোঝা এবং আবেগের মুহূর্তে নিজেকে সামলানো এই অংশের ওপরই অনেকটা নির্ভর করে। তাই এর প্রভাব পড়ে গোটা জীবনযাত্রায়। প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা থাকবে সিরিয়াল কিলারের মস্তিষ্ক-বিষয়ক পর্বে।

ওয়ারিয়র জিনের রহস্য

জিনগত বিশ্লেষণে সাম্প্রতিক কালে এক বিশেষ জিন নিয়ে বেশ আলোচনা হয়েছে। MAOA নামের এই জিনটি মস্তিষ্কে সেরোটোনিনের মতো রাসায়নিক বার্তাবাহকদের ভাঙনে সাহায্য করে, ফলে মেজাজ (mood) ও আক্রমণাত্মক আচরণের ওপর এর প্রভাব থাকে। এর একটি কম-সক্রিয় রূপকে বলা হয় ‘warrior gene’। নিউজিল্যান্ডের ডুনেডিনে ২০০২ সালে প্রকাশিত একটি বহুচর্চিত গবেষণায় দেখা গিয়েছিল, এই জিনের বাহকেরা শৈশবে নির্যাতনের শিকার হলে হিংস্র আচরণের দিকে বেশি ঝুঁকতে পারে। যদিও পরবর্তী গবেষণায় ফলাফল সবসময় একই রকম আসেনি। পৃথিবীতে বহু মানুষ এই জিনের বাহক হওয়ার সত্ত্বেও জীবনে কারও ক্ষতি করেননি। অর্থাৎ শুধু জিন কাউকে খুনি বানায় না। জিন আর পরিবেশ, দুয়ের মিলিত চাপই আসল ছবিটা তৈরি করে।

তাহলে জবাব কী?

জন্মগত, নাকি অর্জিত? উত্তর হলো, দুটোই। জিন হয়তো মঞ্চ সাজায়, কিন্তু নাটকের চিত্রনাট্য লেখে পরিবেশ। আর এই উত্তরই আমাদের একটা আশার কথা শোনায়: যা অর্জিত, তা অনেক ক্ষেত্রে প্রতিরোধও করা যায়।

এই পর্বের মূল কথাগুলি তাহলে এক নজরে:

• শৈশবের যত্ন ও ভালোবাসার অভাব ব্যক্তিত্বজনিত জটিলতার ঝুঁকি বাড়ায়, কিন্তু ভাগ্য নির্ধারণ করে না।
• অ্যান্টি-সোশ্যাল আচরণের প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশে জিনগত প্রভাব থাকতে পারে।
• গর্ভাবস্থায় ধূমপান, মাদক ও অপুষ্টি শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে বাধা দিতে পারে।
• MAOA জিন একা নয়, পরিবেশের সঙ্গে মিলেই তার প্রভাব দেখা যায়।

পরবর্তী পর্বে আমরা জানব, পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি কীভাবে এই মানুষগুলির বিকাশ ও মানসিক গঠনের ওপর প্রভাব ফেলে।

শেয়ার করুন
নার্গিস খাতুনের প্রতিকৃতি

লেখক

নার্গিস খাতুন

পেশায় একজন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক। সল্টলেকের ঐতিহ্যবাহী ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হোমিওপ্যাথি থেকে বি.এইচ.এম.এস ডিগ্রি সম্পূর্ণ করেছেন। তবে প্রেসক্রিপশন করার পাশাপাশি সাহিত্যচর্চাও তাঁর ভীষণ পছন্দের। বাস্তবে খুব একটা অভিব্যক্তিপ্রবণ নন, কিন্তু লেখালেখির জগৎ সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য, “এ একটা খালি ক্যানভাসের মতো, যেখানে শব্দের ছোঁয়ায় নিজের ভাবনা আর দৃষ্টিভঙ্গি ফুটিয়ে তোলা যায়। নতুন কিছু শেখার আগ্রহ কখনও ফুরোয় না, আর সেই বিষয়গুলোকেই লেখার মধ্য দিয়ে তুলে ধরতে চাই।”

সব কাজ দেখুন →

সিরিয়াল কিলার ধারাবাহিকের অন্যান্য পর্ব

অপরাধবিজ্ঞানের আলোয় মানবমনের শীতলতম অন্ধকার গহ্বরে এক রোমহর্ষক যাত্রা।সিরিয়াল কিলার

বিজ্ঞান

সিরিয়াল কিলার—অন্ধকারের আড়ালে: তৃতীয় পর্ব

নিথর দেহের পাশে ছড়িয়ে থাকা কবিতার বিষাদ, আর নিশুতি কলকাতার অলিগলিতে ভারী পাথরের নিস্তব্ধ পদধ্বনি—পর্দার রোমাঞ্চ যখন সেলুলয়েড চিরে বাস্তবের মাটিতে আছড়ে পড়ে, তখন বুকের ভেতর রক্ত হিম না হয়ে উপায় থাকে কি? কিন্তু কারা এই রক্তলিপ্সু সিরিয়াল কিলার? এদের জন্ম কি জিনের খেয়ালে, নাকি সমাজের পাতা কোনো চোরা ফাঁদই দায়ী? আপনার পাশের ফ্ল্যাটের যে মানুষটি রোজ সকালে মিষ্টি হেসে আপনাকে শুভেচ্ছা জানান, রাতের অন্ধকারে তিনি কি মুখোশ খুলে বের করে আনেন কোনো আদিম শিকারিকে? ‘বাইশে শ্রাবণ’-এর উন্মাদ কবি থেকে কলকাতার ত্রাস ‘স্টোনম্যান’—অপরাধবিজ্ঞানের আলোয় মানবমনের শীতলতম অন্ধকার গহ্বরে এক রোমহর্ষক যাত্রা।

নার্গিস খাতুন৬ মিনিট
অপরাধবিজ্ঞানের আলোয় মানবমনের শীতলতম অন্ধকার গহ্বরে এক রোমহর্ষক যাত্রা।সিরিয়াল কিলার

বিজ্ঞান

সিরিয়াল কিলার—অন্ধকারের আড়ালে: প্রথম পর্ব

নিথর দেহের পাশে ছড়িয়ে থাকা কবিতার বিষাদ, আর নিশুতি কলকাতার অলিগলিতে ভারী পাথরের নিস্তব্ধ পদধ্বনি—পর্দার রোমাঞ্চ যখন সেলুলয়েড চিরে বাস্তবের মাটিতে আছড়ে পড়ে, তখন বুকের ভেতর রক্ত হিম না হয়ে উপায় থাকে কি? কিন্তু কারা এই রক্তলিপ্সু সিরিয়াল কিলার? এদের জন্ম কি জিনের খেয়ালে, নাকি সমাজের পাতা কোনো চোরা ফাঁদই দায়ী? আপনার পাশের ফ্ল্যাটের যে মানুষটি রোজ সকালে মিষ্টি হেসে আপনাকে শুভেচ্ছা জানান, রাতের অন্ধকারে তিনি কি মুখোশ খুলে বের করে আনেন কোনো আদিম শিকারিকে? ‘বাইশে শ্রাবণ’-এর উন্মাদ কবি থেকে কলকাতার ত্রাস ‘স্টোনম্যান’—অপরাধবিজ্ঞানের আলোয় মানবমনের শীতলতম অন্ধকার গহ্বরে এক রোমহর্ষক যাত্রা।

নার্গিস খাতুন৬ মিনিট

আরও পড়ুন

অপরাধবিজ্ঞানের আলোয় মানবমনের শীতলতম অন্ধকার গহ্বরে এক রোমহর্ষক যাত্রা।সিরিয়াল কিলার

বিজ্ঞান

সিরিয়াল কিলার—অন্ধকারের আড়ালে: তৃতীয় পর্ব

নিথর দেহের পাশে ছড়িয়ে থাকা কবিতার বিষাদ, আর নিশুতি কলকাতার অলিগলিতে ভারী পাথরের নিস্তব্ধ পদধ্বনি—পর্দার রোমাঞ্চ যখন সেলুলয়েড চিরে বাস্তবের মাটিতে আছড়ে পড়ে, তখন বুকের ভেতর রক্ত হিম না হয়ে উপায় থাকে কি? কিন্তু কারা এই রক্তলিপ্সু সিরিয়াল কিলার? এদের জন্ম কি জিনের খেয়ালে, নাকি সমাজের পাতা কোনো চোরা ফাঁদই দায়ী? আপনার পাশের ফ্ল্যাটের যে মানুষটি রোজ সকালে মিষ্টি হেসে আপনাকে শুভেচ্ছা জানান, রাতের অন্ধকারে তিনি কি মুখোশ খুলে বের করে আনেন কোনো আদিম শিকারিকে? ‘বাইশে শ্রাবণ’-এর উন্মাদ কবি থেকে কলকাতার ত্রাস ‘স্টোনম্যান’—অপরাধবিজ্ঞানের আলোয় মানবমনের শীতলতম অন্ধকার গহ্বরে এক রোমহর্ষক যাত্রা।

নার্গিস খাতুন৬ মিনিট
অপরাধবিজ্ঞানের আলোয় মানবমনের শীতলতম অন্ধকার গহ্বরে এক রোমহর্ষক যাত্রা।সিরিয়াল কিলার

বিজ্ঞান

সিরিয়াল কিলার—অন্ধকারের আড়ালে: প্রথম পর্ব

নিথর দেহের পাশে ছড়িয়ে থাকা কবিতার বিষাদ, আর নিশুতি কলকাতার অলিগলিতে ভারী পাথরের নিস্তব্ধ পদধ্বনি—পর্দার রোমাঞ্চ যখন সেলুলয়েড চিরে বাস্তবের মাটিতে আছড়ে পড়ে, তখন বুকের ভেতর রক্ত হিম না হয়ে উপায় থাকে কি? কিন্তু কারা এই রক্তলিপ্সু সিরিয়াল কিলার? এদের জন্ম কি জিনের খেয়ালে, নাকি সমাজের পাতা কোনো চোরা ফাঁদই দায়ী? আপনার পাশের ফ্ল্যাটের যে মানুষটি রোজ সকালে মিষ্টি হেসে আপনাকে শুভেচ্ছা জানান, রাতের অন্ধকারে তিনি কি মুখোশ খুলে বের করে আনেন কোনো আদিম শিকারিকে? ‘বাইশে শ্রাবণ’-এর উন্মাদ কবি থেকে কলকাতার ত্রাস ‘স্টোনম্যান’—অপরাধবিজ্ঞানের আলোয় মানবমনের শীতলতম অন্ধকার গহ্বরে এক রোমহর্ষক যাত্রা।

নার্গিস খাতুন৬ মিনিট