সিরিয়াল কিলার—অন্ধকারের আড়ালে: তৃতীয় পর্ব

নিথর দেহের পাশে ছড়িয়ে থাকা কবিতার বিষাদ, আর নিশুতি কলকাতার অলিগলিতে ভারী পাথরের নিস্তব্ধ পদধ্বনি—পর্দার রোমাঞ্চ যখন সেলুলয়েড চিরে বাস্তবের মাটিতে আছড়ে পড়ে, তখন বুকের ভেতর রক্ত হিম না হয়ে উপায় থাকে কি? কিন্তু কারা এই রক্তলিপ্সু সিরিয়াল কিলার? এদের জন্ম কি জিনের খেয়ালে, নাকি সমাজের পাতা কোনো চোরা ফাঁদই দায়ী? আপনার পাশের ফ্ল্যাটের যে মানুষটি রোজ সকালে মিষ্টি হেসে আপনাকে শুভেচ্ছা জানান, রাতের অন্ধকারে তিনি কি মুখোশ খুলে বের করে আনেন কোনো আদিম শিকারিকে? ‘বাইশে শ্রাবণ’-এর উন্মাদ কবি থেকে কলকাতার ত্রাস ‘স্টোনম্যান’—অপরাধবিজ্ঞানের আলোয় মানবমনের শীতলতম অন্ধকার গহ্বরে এক রোমহর্ষক যাত্রা।

সিরিয়াল কিলারপর্ব ৩/৩
নার্গিস খাতুনের প্রতিকৃতি
৬ মিনিট পড়া
শেয়ার করুন
অপরাধবিজ্ঞানের আলোয় মানবমনের শীতলতম অন্ধকার গহ্বরে এক রোমহর্ষক যাত্রা।
লেখার আকার
লেখার অবস্থান
সূচিপত্র
  1. সিরিয়াল কিলারের ক্রমবিকাশ: শৈশবের অন্ধকার
  2. শৈশবের ক্ষত
  3. কয়েকটি জীবনের পাতা
  4. এক ছবি নয়, তিন রঙের মিশ্রণ
  5. ঝুঁকির পাঁচ ছায়া
  6. তবু এটি নিয়তি নয়

সিরিয়াল কিলারের ক্রমবিকাশ: শৈশবের অন্ধকার

একদিন যার নাম শুনে গোটা শহর আতঙ্কে কেঁপে উঠেছিল, একসময় সেও ছিল দোলনায় শুয়ে থাকা এক নিষ্পাপ শিশু। কোনো মানুষ একদিনে অন্ধকারে নেমে যায় না, বরং অনেক ছোট ছোট ক্ষত জমতে জমতে একদিন সে এমন এক জায়গায় গিয়ে দাঁড়ায়, যেখান থেকে ফেরার পথ আর চোখে পড়ে না। আজ আমরা কয়েকজন কুখ্যাত সিরিয়াল কিলারের জীবনের পাতা উল্টে দেখব, কী এমন ঘটেছিল তাদের শৈশবে, যার ছায়া তাদের গোটা জীবনকে ঢেকে দিয়েছিল। গত পর্বে আমরা দেখেছিলাম জিনগত প্রভাব আর গর্ভকালীন পরিস্থিতির কথা। এবার দেখব, জন্মের পর সেই শিশুটিকে পৃথিবী কীভাবে অভ্যর্থনা জানাল।

শৈশবের ক্ষত

গবেষণায় দেখা যায়, সিরিয়াল কিলারদের একটা বড় অংশের শৈশবের সঙ্গে জড়িয়ে আছে নানা অপ্রীতিকর ঘটনা। ২০০৫ সালে মিচেল ও আমোডটের ৫০ জন সিরিয়াল কিলারকে নিয়ে করা সমীক্ষায় প্রায় ৬৮ শতাংশের ক্ষেত্রে কোনো না কোনো ধরনের নিপীড়নের তথ্য মিলেছে, যার মধ্যে মানসিক নিপীড়ন প্রায় ৫০ শতাংশ, শারীরিক ৩৬ শতাংশ এবং যৌন ২৬ শতাংশ। কাউকে সরাসরি নিপীড়নের শিকার হতে হয়েছে, কারও আবার আবেগ আর অনুভূতিগুলি বছরের পর বছর অবহেলায় পড়ে থেকেছে। বিশেষজ্ঞরা এই নিপীড়নকে মোটামুটি চারটি ভাগে ভাগ করেছেন:

১. শারীরিক নির্যাতন (physical abuse)
২. যৌন নির্যাতন (sexual abuse)
৩. মানসিক নিপীড়ন (psychological abuse)
৪. অবজ্ঞা বা অবহেলা (neglect)

এই চারটি রূপ অনেক সময় আলাদা আলাদা আসে না, বরং একসঙ্গে ঘটে। দীর্ঘদিন ধরে এমন চাপের মধ্যে থাকলে শিশুর মস্তিষ্কের চাপ সামলানোর পদ্ধতিটিই বদলে যেতে পারে।

কয়েকটি জীবনের পাতা

উদাহরণ হিসেবে প্রথমেই আসে জেরোম ব্রুডোস (Jerome Brudos) আর ক্যারল কোল (Carroll Cole)-এর নাম। বিভিন্ন জীবনীমূলক বিবরণ অনুযায়ী, ব্রুডোসের মা দ্বিতীয় সন্তান হিসেবে মেয়ে চেয়েছিলেন, তাই ছেলে হওয়ায় তিনি খুশি হন নি। অন্যদিকে কোলের মা তাঁকে শাস্তি দিতে মেয়েদের পোশাক পরিয়ে রাখতেন, আর তাঁর মেয়েলি নাম নিয়ে স্কুলের বন্ধুদের টিটকারিও তাঁকে কাঁদাত। দুই শিশুর মনের বিকাশে এগুলি গভীর মানসিক ক্ষত তৈরি করেছিল।

জন ওয়েন গেসি (John Wayne Gacy)-র বাবা ছিলেন মাদকাসক্ত। ছেলের ওপর তিনি শারীরিক নির্যাতন চালাতেন। সেই সঙ্গে চলত নিত্যদিনের উপহাস। এর ওপর ছিল আরেক আঘাত: ছোটবেলাতেই এক পারিবারিক বন্ধুর হাতে তিনি যৌন হয়রানির শিকার হন, অথচ বাবার ভয়ে কাউকে কিছু বলতে পারেননি। যে ঘরে নিরাপত্তা পাওয়ার কথা, সেই ঘরই তাঁর কাছে হয়ে উঠেছিল ভয়ের জায়গা। অথচ বড় হয়ে বাইরের দুনিয়ায় তিনি পরিচিত ছিলেন সফল ব্যবসায়ী ও সমাজের সম্মানিত মানুষ হিসেবে, এমনকি শিশুদের আনন্দ দিতে সেজে উঠতেন ভাঁড়ের বেশে।

আইলিন ওয়ার্নোস (Aileen Wuornos) ছিলেন বিখ্যাত মহিলা সিরিয়াল কিলার। শৈশব তাঁর কেটেছিল প্রচণ্ড কঠিন পরিবেশে। চার বছর বয়সের আগেই মা তাঁকে ও তাঁর দাদাকে ছেড়ে চলে যান, আর মাতামহ-মাতামহীই তাঁদের বড় করেন। পরে বিভিন্ন সাংবাদিককে নিজের জীবনকাহিনি শোনাতে গিয়ে তিনি বারবার দাবি করেছেন, তাঁর মাতামহ এবং মাতামহের এক পরিচিত বন্ধু তাঁকে শুধু শারীরিক নয়, যৌন নির্যাতনও করেছেন। মাত্র চোদ্দো বছর বয়সে তিনি গর্ভবতী হয়ে পড়েন। শিশুটিকে দত্তক দিতে হয়, আর পরে মাতামহের বাড়ি থেকেও তাঁকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর কৈশোরেই তিনি অনিশ্চিত, অনিরাপদ জীবনে পা রাখেন। বেছে নেন পতিতার জীবন। সেই প্রতিশোধস্পৃহাই পরে তাঁকে অপরাধের পথে টেনে নিয়ে যায়। তাঁর গল্প মনে করিয়ে দেয়,  অনেকসময় নিপীড়নের শিকার হওয়ায় জন্ম নেয় অপরাধবৃত্তি ।

এক ছবি নয়, তিন রঙের মিশ্রণ

এই ঘটনাগুলি দেখে মনে হতে পারে, উত্তর বুঝি একটাই। কিন্তু অপরাধতত্ত্ববিদ (criminologist) ড. অ্যাড্রিয়ান রেইন (Adrian Raine) বলছেন অন্য কথা। তাঁর মতে, শারীরবৃত্তীয় (biological), সামাজিক (social) এবং মানসিক (psychological) প্রভাবের সম্মিলিত চাপেই একজন মানুষ হিংসার পথে এগিয়ে যেতে পারে। অর্থাৎ কোনো একটি কারণ একা দায়ী নয়। রেইনের 'দ্য অ্যানাটমি অব ভায়োলেন্স' বইয়ে এই তত্ত্বের বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়।

ঝুঁকির পাঁচ ছায়া

এবার আমরা এমন কয়েকটি পরিস্থিতির কথা বলব, যেগুলি বহু সিরিয়াল কিলারের জীবনেই বারবার ফিরে এসেছে:

(১) পারিবারিক অবহেলা: শিশুই সাধারণত পরিবারের আকর্ষণের কেন্দ্র। কিন্তু বাবা বা মা মাদকাসক্ত হলে পুরো পরিবারের মনোযোগ গিয়ে পড়ে সেই একজনের ওপর। শিশুটি অবহেলায় পড়ে থাকে। এভাবে বড় হওয়া শিশুদের আত্মমর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়, এবং মানসিক জটিলতার ঝুঁকি বাড়ে।

(২) বুলিং (bullying): কিছু সিরিয়াল কিলারের জীবনীতে দেখা যায়, শৈশবে তাঁরা বারবার সহপাঠীদের উপহাস ও হেনস্তার শিকার হয়েছেন। ফলে ধীরে ধীরে তাঁরা সমাজ থেকে সরে গিয়ে নিজের ভেতরে গুটিয়ে গেছেন। 

(৩) পরিচয়হীনতা: ডেভিড বারকোউইটজ (David Berkowitz), জোয়েল রিফকিন (Joel Rifkin) এবং কেনেথ বিয়াঞ্চি (Kenneth Bianchi)-সহ আরও কয়েকজন ছিলেন দত্তক সন্তান। যদিও অপরাধতত্ত্ববিদ স্কট বনের মতো বিশেষজ্ঞরা স্পষ্টই বলেন, দত্তক সন্তানদের মধ্যে সিরিয়াল কিলারের সংখ্যা বেশি, এমন প্রমাণ নেই। তবে অনেকসময় নিজের শিকড় আর পরিচয়ের প্রশ্ন, জন্মদাত্রী মায়ের কাছ থেকে বিচ্ছিন্নতার বোধ কারও কারও মনে গভীর শূন্যতা তৈরি করে।

(৪) অতি নিয়ন্ত্রণ:  অভিভাবকত্বের অভাব যেমন ক্ষতিকর, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণও তেমনই। FBI-র রেসলার, বার্জেস ও ডগলাসের ৩৬ জন যৌন-খুনির ওপর করা গবেষণায় দেখা যায়, প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের শৈশবে পরিবারে একজন প্রভাবশালী নারী, প্রায়ই মা, কর্তৃত্ব ফলাতেন। নমুনা ছোট, তাই এটি সর্বত্র খাটে না, তবু অতিরিক্ত শাসন শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত করতে পারে।

(৫) শৈশবের আঘাত (childhood trauma): এরিক হিকি (Eric Hickey)-র 'ট্রমা-কন্ট্রোল মডেল' অনুযায়ী, শৈশবের কোনো অমীমাংসিত আঘাত নিজের অক্ষমতা ও আত্মসন্দেহের অনুভূতি তৈরি করে, যা মনের গভীরে চাপা পড়ে থাকে। পরে সেই যন্ত্রণাই ফিরে এসে হারানো নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার তাড়না জাগায়, আর তা স্বাভাবিক জীবনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

তবু এটি নিয়তি নয়

একথা মানতেই হবে, নিপীড়নের শিকার প্রতিটি শিশু সিরিয়াল কিলার হয়ে ওঠে না। আবার প্রতিটি সিরিয়াল কিলারের শৈশবও যে অবহেলা বা নির্যাতনে জর্জরিত ছিল, তাও নয়। তবু 'শৈশবের নিপীড়ন' আর 'সিরিয়াল কিলারের আত্মপ্রকাশ', এই দুইয়ের যোগসূত্র এতটাই গভীর যে সেটাকে নিছক কাকতালীয় বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। আবার একই কঠিন শৈশব পেরিয়ে যাঁরা স্বাভাবিক জীবনে ফেরেন, তাঁদের পাশে প্রায়ই থাকে কোনো একজন স্নেহশীল মানুষ, একটি নিরাপদ আশ্রয় বা সময়মতো পাওয়া সাহায্য।

এমন পরিস্থিতিতে বড় হওয়া শিশুদের অনেকেই ধীরে ধীরে চারপাশের মানুষজন আর সামাজিকতার আশ্রয় থেকে সরে আসে। নিজেকে স্থাপন করে এক কল্পনার জগতে, যেখানে কেউ তাকে আঘাত করতে পারে না। 

এই পর্বের মূল কথাগুলি এক নজরে:

• সিরিয়াল কিলারদের একটা বড় অংশের শৈশবে নির্যাতন, অবহেলা বা গভীর আঘাতের ইতিহাস পাওয়া যায়।
• কোনো একটি কারণ একা কাউকে খুনি বানায় না, শারীরবৃত্তীয়, সামাজিক ও মানসিক প্রভাব মিলে কাজ করে।
• এসব ঝুঁকির কারণ, অনিবার্য পরিণতি নয়। নিপীড়িত বেশিরভাগ শিশুই কখনও অপরাধী হয় না।

স্বরচিত সেই কাল্পনিক জগতই একদিন কীভাবে এক ভয়ংকর রূপ নেয়, আর একজন সিরিয়াল কিলারের জীবনে কল্পনার ভূমিকাই বা কতটা গভীর, তা নিয়ে থাকছে আরও কিছু চমকপ্রদ তথ্য আমাদের পরবর্তী পর্বে।

শেয়ার করুন
নার্গিস খাতুনের প্রতিকৃতি

লেখক

নার্গিস খাতুন

পেশায় একজন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক। সল্টলেকের ঐতিহ্যবাহী ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হোমিওপ্যাথি থেকে বি.এইচ.এম.এস ডিগ্রি সম্পূর্ণ করেছেন। তবে প্রেসক্রিপশন করার পাশাপাশি সাহিত্যচর্চাও তাঁর ভীষণ পছন্দের। বাস্তবে খুব একটা অভিব্যক্তিপ্রবণ নন, কিন্তু লেখালেখির জগৎ সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য, “এ একটা খালি ক্যানভাসের মতো, যেখানে শব্দের ছোঁয়ায় নিজের ভাবনা আর দৃষ্টিভঙ্গি ফুটিয়ে তোলা যায়। নতুন কিছু শেখার আগ্রহ কখনও ফুরোয় না, আর সেই বিষয়গুলোকেই লেখার মধ্য দিয়ে তুলে ধরতে চাই।”

সব কাজ দেখুন →

সিরিয়াল কিলার ধারাবাহিকের অন্যান্য পর্ব

অপরাধবিজ্ঞানের আলোয় মানবমনের শীতলতম অন্ধকার গহ্বরে এক রোমহর্ষক যাত্রা।সিরিয়াল কিলার

বিজ্ঞান

সিরিয়াল কিলার—অন্ধকারের আড়ালে: দ্বিতীয় পর্ব

নিথর দেহের পাশে ছড়িয়ে থাকা কবিতার বিষাদ, আর নিশুতি কলকাতার অলিগলিতে ভারী পাথরের নিস্তব্ধ পদধ্বনি—পর্দার রোমাঞ্চ যখন সেলুলয়েড চিরে বাস্তবের মাটিতে আছড়ে পড়ে, তখন বুকের ভেতর রক্ত হিম না হয়ে উপায় থাকে কি? কিন্তু কারা এই রক্তলিপ্সু সিরিয়াল কিলার? এদের জন্ম কি জিনের খেয়ালে, নাকি সমাজের পাতা কোনো চোরা ফাঁদই দায়ী? আপনার পাশের ফ্ল্যাটের যে মানুষটি রোজ সকালে মিষ্টি হেসে আপনাকে শুভেচ্ছা জানান, রাতের অন্ধকারে তিনি কি মুখোশ খুলে বের করে আনেন কোনো আদিম শিকারিকে? ‘বাইশে শ্রাবণ’-এর উন্মাদ কবি থেকে কলকাতার ত্রাস ‘স্টোনম্যান’—অপরাধবিজ্ঞানের আলোয় মানবমনের শীতলতম অন্ধকার গহ্বরে এক রোমহর্ষক যাত্রা।

নার্গিস খাতুন৬ মিনিট
অপরাধবিজ্ঞানের আলোয় মানবমনের শীতলতম অন্ধকার গহ্বরে এক রোমহর্ষক যাত্রা।সিরিয়াল কিলার

বিজ্ঞান

সিরিয়াল কিলার—অন্ধকারের আড়ালে: প্রথম পর্ব

নিথর দেহের পাশে ছড়িয়ে থাকা কবিতার বিষাদ, আর নিশুতি কলকাতার অলিগলিতে ভারী পাথরের নিস্তব্ধ পদধ্বনি—পর্দার রোমাঞ্চ যখন সেলুলয়েড চিরে বাস্তবের মাটিতে আছড়ে পড়ে, তখন বুকের ভেতর রক্ত হিম না হয়ে উপায় থাকে কি? কিন্তু কারা এই রক্তলিপ্সু সিরিয়াল কিলার? এদের জন্ম কি জিনের খেয়ালে, নাকি সমাজের পাতা কোনো চোরা ফাঁদই দায়ী? আপনার পাশের ফ্ল্যাটের যে মানুষটি রোজ সকালে মিষ্টি হেসে আপনাকে শুভেচ্ছা জানান, রাতের অন্ধকারে তিনি কি মুখোশ খুলে বের করে আনেন কোনো আদিম শিকারিকে? ‘বাইশে শ্রাবণ’-এর উন্মাদ কবি থেকে কলকাতার ত্রাস ‘স্টোনম্যান’—অপরাধবিজ্ঞানের আলোয় মানবমনের শীতলতম অন্ধকার গহ্বরে এক রোমহর্ষক যাত্রা।

নার্গিস খাতুন৬ মিনিট

আরও পড়ুন

অপরাধবিজ্ঞানের আলোয় মানবমনের শীতলতম অন্ধকার গহ্বরে এক রোমহর্ষক যাত্রা।সিরিয়াল কিলার

বিজ্ঞান

সিরিয়াল কিলার—অন্ধকারের আড়ালে: দ্বিতীয় পর্ব

নিথর দেহের পাশে ছড়িয়ে থাকা কবিতার বিষাদ, আর নিশুতি কলকাতার অলিগলিতে ভারী পাথরের নিস্তব্ধ পদধ্বনি—পর্দার রোমাঞ্চ যখন সেলুলয়েড চিরে বাস্তবের মাটিতে আছড়ে পড়ে, তখন বুকের ভেতর রক্ত হিম না হয়ে উপায় থাকে কি? কিন্তু কারা এই রক্তলিপ্সু সিরিয়াল কিলার? এদের জন্ম কি জিনের খেয়ালে, নাকি সমাজের পাতা কোনো চোরা ফাঁদই দায়ী? আপনার পাশের ফ্ল্যাটের যে মানুষটি রোজ সকালে মিষ্টি হেসে আপনাকে শুভেচ্ছা জানান, রাতের অন্ধকারে তিনি কি মুখোশ খুলে বের করে আনেন কোনো আদিম শিকারিকে? ‘বাইশে শ্রাবণ’-এর উন্মাদ কবি থেকে কলকাতার ত্রাস ‘স্টোনম্যান’—অপরাধবিজ্ঞানের আলোয় মানবমনের শীতলতম অন্ধকার গহ্বরে এক রোমহর্ষক যাত্রা।

নার্গিস খাতুন৬ মিনিট
অপরাধবিজ্ঞানের আলোয় মানবমনের শীতলতম অন্ধকার গহ্বরে এক রোমহর্ষক যাত্রা।সিরিয়াল কিলার

বিজ্ঞান

সিরিয়াল কিলার—অন্ধকারের আড়ালে: প্রথম পর্ব

নিথর দেহের পাশে ছড়িয়ে থাকা কবিতার বিষাদ, আর নিশুতি কলকাতার অলিগলিতে ভারী পাথরের নিস্তব্ধ পদধ্বনি—পর্দার রোমাঞ্চ যখন সেলুলয়েড চিরে বাস্তবের মাটিতে আছড়ে পড়ে, তখন বুকের ভেতর রক্ত হিম না হয়ে উপায় থাকে কি? কিন্তু কারা এই রক্তলিপ্সু সিরিয়াল কিলার? এদের জন্ম কি জিনের খেয়ালে, নাকি সমাজের পাতা কোনো চোরা ফাঁদই দায়ী? আপনার পাশের ফ্ল্যাটের যে মানুষটি রোজ সকালে মিষ্টি হেসে আপনাকে শুভেচ্ছা জানান, রাতের অন্ধকারে তিনি কি মুখোশ খুলে বের করে আনেন কোনো আদিম শিকারিকে? ‘বাইশে শ্রাবণ’-এর উন্মাদ কবি থেকে কলকাতার ত্রাস ‘স্টোনম্যান’—অপরাধবিজ্ঞানের আলোয় মানবমনের শীতলতম অন্ধকার গহ্বরে এক রোমহর্ষক যাত্রা।

নার্গিস খাতুন৬ মিনিট