লোকজীবনের অন্তরমহল: পট, আলকাপ ও প্রতিবাদের সুর

গ্রামবাংলার লোকসংস্কৃতি কেবল ঐতিহ্য নয়, তা সাধারণ মানুষের যাপিত জীবন ও মুক্ত ভাবনার এক জীবন্ত দলিল। গোকর্ণের এক পঙ্গু পটুয়ার সংসারের ধর্মভেদমুক্ত সহজ মানবধর্ম, শিষ্ট সমাজে ব্রাত্য ও অবহেলিত আলকাপের সমাজচেতনা, কিংবা শহুরে আভিজাত্যের বাইরে গ্রামীণ লোককবির সুর ও বিশ্বাসে অমর হয়ে ওঠা ক্ষুদিরামের আত্মত্যাগ—ব্যক্তিগত অনুভবে লোকজীবনের নানাদিক ধরা পড়েছে এই লেখাগুলিতে।

দীপক বিশ্বাসের প্রতিকৃতি
৮ মিনিট পড়া
শেয়ার করুন
লোকজীবনের অন্তরমহল: পট, আলকাপ ও প্রতিবাদের সুর প্রচ্ছদ
লেখার আকার
লেখার অবস্থান
সূচিপত্র
  1. সহজ পাঠ
  2. আলকাপ
  3. একটি অমলিন লোকগান

সহজ পাঠ

মুর্শিদাবাদ জেলার সদর শহর থেকে ১৭/১৮ কিমি দূরে গোকর্ণ গ্রাম, বহরমপুর-কান্দী সড়কের পাশে। শহরের ছোঁয়া কিছুটা লাগলেও গ্রামীণ ঐতিহ্য সবটা হারিয়ে যায়নি। রাস্তার ধারেই পটুয়া পাড়া। এক সময় গোটা পাড়াই ছিল পটুয়াদের বাস। রাস্তার ধারের জমি বেশ দামি। ভালো দাম পেয়ে অনেকে বিক্রি করে চলে গিয়েছে। স্বাভাবিকভাবে তফশীল উপজাতিদের জমি কেউ কিনতে পারে না। কিন্তু আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কীভাবে কিনেছে, কে জানে? কয়েক ঘর পটুয়া বাড়ির ছেলে চাকরি পেয়ে শহরমুখী হয়ে শহরে বাসা নিয়েছে। থেকেও গিয়েছে অনেকে। তাদের মধ্যে একজন খ্যাপা পটুয়া। এক ছেলে, এক মেয়ে, স্বামী-স্ত্রী, মোট চারজনের পরিবার। 

খ্যাপার এক পা পঙ্গু। ভারী কাজ করতে পারলেও খ্যাপার দৃশ্যমান পায়ের ত্রুটি থাকার জন্য জনমজুর হিসাবে চাহিদা কম। হয়তো এ কারণেই খ্যাপা পারিবারিক পেশা ত্যাগ করেনি। বলা যায় পেশা খ্যাপাকে ত্যাগ করেনি। যে ভাবেই থাকুক, পটের প্রতি খ্যাপার ভালোবাসা অফুরান। 

পটুয়ারা আসলে ব্যাধ সম্প্রদায়ের। এই সম্প্রদায়ের একটা অংশ পাখমারা, তারা পাখি ধরে (শিকার নয়)। জ্যান্ত পাখি বিক্রি করে। এদের অনেকে বহুরূপী সাজে। এই পাখমারা সম্প্রদায়ের মধ্যে একটা অংশ ঝুড়ি কুলো বানায়। পটুয়া অংশের অনেকে সাপ ধরে। বিষ সংগ্রহ করে বিক্রি করে। সাপও বিক্রি করে। পটুয়াদের আর একটা অংশ মাটির মূর্তি তৈরি করে। সাধারণত তাদের পদবি হয় চিত্রকর। এরা পুরোপুরি হিন্দুধর্ম পালন করে। প্রখ্যাত কবিয়াল দুলালী চিত্রকর এই পটুয়া সমাজের। দুলালীর শ্বশুরবাড়ির অনেকে প্রতিমা বানায়। আবার ইসলাম ধর্মেরও অনেক পটুয়া আছেন। 

আসি খ্যাপা পটুয়ার কথায়। খ্যাপার বাড়ি যেন মিনি ভারতবর্ষ। খ্যাপা নিজেকে ইসলাম ধর্মের অন্তর্ভুক্ত বলে মনে করে। তবে প্রাত্যহিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া হয় না। দুটো ঈদের নামাজ পড়ে। এক মাসের রোজা রাখাও সম্ভব হয় না। খ্যাপার স্ত্রী হিন্দুধর্ম পালন করে। প্রতিদিন সন্ধ্যাবাতি দেয়। শাঁখ বাজায়, উলুধ্বনিও দেয়। নিজে শাঁখা পলা ও সিঁদুর পরে। খ্যাপার মেয়ে ইসলাম ধর্মের ভক্ত। সকাল সন্ধ্যা নামাজ পড়ে। নিষ্ঠা সহ একমাসের রোজা রাখে। মা সেহেরির জোগাড় করে দেয়। 

খ্যাপার ছেলে একেবারে ভিন্ন মতের। ধর্ম নিয়ে কোন মাথাব্যথা নেই। তবে পুজোর প্রসেশন, মণ্ডপে ডিজে বাজিয়ে নাচ—এসব পছন্দ করে। স্কুলে সরস্বতী পূজোয় যুক্ত থাকত। 

খ্যাপাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তোমার ছোট্ট বাড়িতে ভিন্ন ভিন্ন ধর্ম পালন, কোনও বিরোধ হয় না? তুমি তোমার স্ত্রীকে কেনই বা হিন্দুধর্ম পালন করতে দাও? খ্যাপার উত্তর ছিল, বারে! ধর্ম কি জোর করে হয় নাকি! ধর্ম তো মনের ব্যাপার। যার যাকে ভালো লাগে, সে সেই ধর্ম পালন করে। ছেলে তো কোনো ধর্মই পালন করে না। কারণ ওর ভালো লাগে না। তাতে অসুবিধা কি? মন যা চাইবে, সে সেই ধর্ম পালন করবে। খ্যাপা নিরক্ষর, কোনো শিক্ষায়তনী ডিগ্রি নেই। অথচ খ্যাপা যেন গালে ঠাস ঠাস করে চড় মেরে শিক্ষা দেয়, ‘দেখ শিক্ষা কাকে বলে? তোমরা যারা ধর্ম নিয়ে মাতামাতি করো, তারা কলেজি ডিগ্রি পেয়েছো মাত্র, আসল শিক্ষা কিছুই পাওনি।’ আমি বাকরুদ্ধ হয়ে নতজানু হই খ্যাপার কাছে। মনে মনে বলি, তুমিই আমার ভারতবর্ষ।

আলকাপ

বঙ্গের বেশিরভাগ লোকআঙ্গিক ধর্মাচরণ কেন্দ্রিক। দেব-দেবীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে নানা লোক আঙ্গিক। যেমন মালদহের বলিষ্ঠ লোকআঙ্গিক গম্ভীরা শিবকে ঘিরে। চৈত্র মাসের শিব অর্থাৎ নীল পুজোর ভিন্ন রূপ হলো গম্ভীরা উৎসব। প্রায় একমাস ব্যাপী চলে এই উৎসব। এখান থেকেই সৃষ্টি হয় গম্ভীরা লোকনাট্য। এই লোকনাট্যে শিব অন্যতম প্রধান ভূমিকা গ্রহণ করে। যদিও এই শিব দেবমহিমা ছেড়ে আমাদের ঘরের আপনজন হয়ে যায়। তাকে মুখঝাক করা যায়। তার কাজের কড়া সমালোচনা করা যায়। তার মুখের উপর তাকে অকেজো অপদার্থ বলতেও দ্বিধা করে না লোকশিল্পীরা। শিব তাদের কথা শোনে, তার ব্যর্থতার কথা সময়ে স্বীকার করে নেয়। এই শিবকে ভয়ে ভক্তি করে না। এই শিব তাদের সঙ্গী, যাকে মনের কথা বলা যায়, অভাব অভিযোগ জানানো যায়। 

আমরা ভাষাণ যাত্রা বা মনসামঙ্গলে দেখি, দেবী মনসাকে কেন্দ্র করে এই লোকআঙ্গিক নির্মিত। দেবীমহিমা প্রচারের জন্য এই লোকআঙ্গিক পরিবেশিত হয়। চাঁদের পৌরুষত্ব প্রকাশিত হলেও শেষমেশ দেবীমহিমা প্রতিষ্ঠিত হয়। বনবিবি ইত্যাদি পালাতেও দেবীমহিমার জয়গান প্রচারিত হয়। এরকম অনেক উদাহরণ দিয়ে ভিড় বাড়ানো যেতে পারে। কিন্তু আলকাপ আঙ্গিক কোন দেবদেবীর মাহাত্ম্য থেকে উৎপন্ন হয়নি। 

বন্দনায় সরস্বতী-বন্দনা করা হলেও, তাকে শিল্পের দেবী হিসাবেই স্বীকৃতি দেওয়া হয়। জীবনের জটিলতায় তাকে উদ্ধারকর্ত্রী হিসাবে কোনো প্রকারে স্বীকার করা হয় না। সারা পালা জুড়ে তার কোনো অবস্থান বা ভূমিকা থাকে না। পালা একেবারেই দেবদেবী বহির্ভূত আপামর মানুষের জীবনসমস্যা, জীবনযন্ত্রণা নিয়ে রচিত হয়। তার সঙ্গে থাকে রঙ্গব্যঙ্গ। 

আলকাপের সর্বজন গ্রাহ্য ব্যাখ্যা যদি ধরি, তাহলে আলকাপ শব্দবন্ধের ব্যাখ্যা পাই, ‘আল’ মানে ‘হুল’, আর ‘কাপ’ মানে ‘রঙ্গব্যঙ্গ’। অর্থাৎ রঙ্গের মাধ্যমে খোঁচা দেওয়া। একথা মানি, রঙ্গটা অনেকসময় স্থূলতায় পর্যবসিত হতো না, তা নয়। এই স্থূলতার কাদা কেটে পাওয়া যেতো সমাজের শোষণ-নিপীড়নের প্রতি কষাঘাত। 

আলকাপে মুসলমান এবং হিন্দু নিম্নবর্গের মানুষের অবস্থান দেখা যায়। শিষ্ট মানুষের কাছে আলকাপ গ্রহণযোগ্য হয়নি। সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং লোকসংস্কৃতি গবেষক সুধী প্রধান লোকআঙ্গিকগুলোকে শিষ্টজনের কাছে পরিচিতি করানোর জন্য গ্রামে-গঞ্জে ঘুরে শিল্পীদের সাথে যোগাযোগ করেন, তাদের ঘনিষ্ঠ হন। মুর্শিদাবাদে এসে প্রতিভাবান কবিয়াল গুমানি দেওয়ানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ১৯৪৬ সালে মার্কাস স্কোয়ারে (বর্তমানে মহম্মদ আলী পার্ক) ফ্যাসিবিরোধী সাংস্কৃতিক উৎসবে গুমানি দেওয়ানকে দিয়ে গান করান। কিন্তু আলকাপ সম্রাট ঝাঁকসুর সাথে কোনোরকম পরিচয় করার কোনও ইচ্ছা প্রকাশ করেননি। লোকসংস্কৃতি নিয়ে ভেবেছেন, অনেক পরামর্শ দিয়েছেন, প্রতিবাদী করার জন্য আপডেট করার নিদান দিয়েছেন। অথচ আলকাপ নিয়ে আলোচনা বা কোনো কথা পাই না।

আলকাপ যদিও মৃতপ্রায়। অনুদান পাওয়ার লোভে কোথাও কোথাও একটা দল ভেঙে চারটে দল হয়েছে। কিন্তু তাদের আলকাপ আঙ্গিকের কোনো ধার ধারে না। আলকাপ হয়ে উঠতে পারতো একমাত্র ধর্মাচরণ বা আনুষ্ঠানিক কৃত্য ব্যতিরেকে দেবদেবী মাহাত্ম্যপ্রচার বহির্ভূত একমাত্র লোকআঙ্গিক। আজও দেখি ‘ন্যারেটিভ’ কী ক্ষতিকারক! নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলার অন্যতম হাতিয়ার। আলকাপের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। আলকাপ রমরমিয়ে চলার সময়েও শিষ্ট সমাজে ব্রাত্য হিসাবে গৃহীত হয়েছে। আলকাপ সম্পর্কে ন্যারেটিভ তৈরি হয়েছিল, আলকাপ অশ্লীল। অথচ এই বলিষ্ঠ শিল্প আঙ্গিককে নিয়ে শিষ্টজনেরা ভাবেন না, এটাকে আপডেট করলে কোন জায়গায় যেতে পারতো এই আঙ্গিক। ঘৃণা, অবহেলা এই আঙ্গিককে মানুষ থেকে দূরে সরিয়ে রেখে অনেক আগেই মেরে ফেলেছে। যখন শিষ্টজনেরা আলকাপ নিয়ে ভাবতে শুরু করেন বা বলা যায় আলকাপের প্রতি দরদী হন, তখন সমস্ত লোকআঙ্গিকগুলোর অবস্থাই খারাপ। শুধুমাত্র অশিষ্টজনের মধ্যে পড়ে থেকেই হয়তো আলকাপ মারা গেলো। এখানে একজন সামন্তশ্রেণি থেকে আগত গুমানি দেওয়ানের দরকার ছিল, যার বিচরণ ছিল প্রতিষ্ঠিত উকিল, সমাজনেতা সংস্কৃতিজ্ঞদের মধ্যে। এই লোকআঙ্গিককে না টেকানোর দায় আমাদেরই নিতে হবে।

একটি অমলিন লোকগান

সালটা ১৯০৮। কিংসফোর্ডকে মারতে গিয়ে ক্ষুদিরাম এবং প্রফুল্ল চাকি ভুল ঘোড়ার গাড়িতে বোমা নিক্ষেপ করে। মারা যায় দুজন নিরপরাধ ইংরেজ। ক্ষুদিরাম ধরা পড়ে। বিচারে তার সাজা হয় ফাঁসি। তখন ক্ষুদিরামের বয়স মাত্র সতেরো বছর। এই বয়সে তার কি মনের দৃঢ়তা। ফাঁসির সাজা তার মনোবলকে বিন্দুমাত্র টলাতে পারেনি। কোনো মতেই সে দোষ স্বীকার করবে না। কারণ সে কোন অন্যায় করেনি। অত্যাচারী কিংসফোর্ডকে মারতে না পারার জন্য তার আফসোস আাছে আর দুজন নিরপরাধ ইংল্যান্ডবাসীর মৃত্যুর জন্য অনুশোচনা আছে। দুঃখ আছে।

একজন  কিশোরের এই রকম দৃঢ়চেতা মনোভাব, মৃত্যুকে তুচ্ছ করার দৃষ্টিভঙ্গি আপামর মানুষকে ছুঁয়ে গিয়েছিল—বিশেষত গ্রামজীবনকে, লোকজীবনকে। ক্ষুদিরামের জন্ম, বেড়ে ওঠা, পারিবারিক জীবন—সমস্তটা ছিল কাদামাটি মাখা নিম্নবিত্ত পরিবারের আবেগঘন পরিসরে। এ জীবন নাগরিক শিষ্টজনকে স্পর্শ করতে পারেনি। তাই ক্ষুদিরামের ফাঁসির পর কোন শিষ্ট কবি-সাহিত্যিক একটাও কথা খরচ করেননি। রবীন্দ্রনাথ, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, অতুল প্রসাদ, রজনীকান্ত এদের প্রত্যেকের বয়স চল্লিশোর্ধ্ব। এরা প্রত্যেকেই দেশাত্মবোধক গান রচনা করে দেশকে উদ্বুদ্ধ করেছেন। অথচ দেখতে পাই এতোবড় একটা স্পর্শকাতর ফাঁসির ঘটনা কাউকে হয়তো সেভাবে ছুঁতে পারেনি। কিন্তু ছুঁয়েছিল লোকজীবনকে, লোকমানুষকে। তাই লোকমানুষ থেকে উৎসারিত হয়েছে চিরকালীন চির আবেদনের গান—‘একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি’। শোনা যায় এই গানটির গীতিকার হলেন বাঁকুড়া জেলার পীতাম্বর দাস নামক এক লোককবি। এও শোনা যায় তিনি নাকি অন্ধ ছিলেন এবং মাধুকরী করে জীবননির্বাহ করতেন। তবে সমস্ত সংশয়ের ঊর্ধ্বে এটা চূড়ান্ত সত্য যে, এই গীতটি কোনো লোককবি রচিত এবং সুরারোপিত। কারণ এর সুরটি হলো, আমাদের চির পরিচিত প্রভাতী গানের সুরে পরিবেশিত। তাছাড়া এই গানের কিছু পঙক্তি লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে, এর কথাগুলো লোকবিশ্বাস, লোকপ্রচলন থেকে নিঃসৃত। যেমন দশ মাস দশ দিন পরে। আমাদের বিশ্বাস, গর্ভ ধারণের দশ মাস দশ দশ দিন পরে সন্তান প্রসব। জন্মান্তরবাদটাও লোকবিশ্বাস আশ্রিত। 

পরিচিত জনের ঘরে জন্ম নেবে এবং গলায় ফাঁসির চিহ্ন নিয়ে জন্মাবে। কলের বোমা তৈরি করে ছত্রে ‘কলের’ শব্দটি লোক সমাজে ব্যবহৃত শব্দ। উন্নত মান বা আধুনিক প্রযুক্তি বোঝাতে কলের শব্দ ব্যবহৃত হয়। তখন যদি না চিনতে পারিস দেখবি গলায় ফাঁসি—এখানে লোকবিশ্বাস ব্যবহৃত হয়েছে। অপরিণত অপমৃত্যু ফিরে আসে পরিবারের কাছে কোন চিহ্ন নিয়ে। তাই গলায় ফাঁসির চিহ্নের কথা বলা হয়েছে। 

ক্ষুদিরামের মৃত্যু যতটা লোকজীবনকে স্পর্শ করতে পেরেছিল, শিষ্ট জীবনকে স্পর্শ করতে পারেনি। তাই শিষ্ট জীবন থেকে কোনো গীত, গল্প বা অন্য কোন সাহিত্যকর্ম সৃষ্টি হয়নি। শোনা যায়, মেদিনীপুরে বহু পটুয়া পট এঁকেছিলেন। কিন্তু সে পট রক্ষিত হয়নি। অনেক পরে ১৯৮৬ সালে প্রায় দশ জন ১০০টা পট আঁকেন।

আজও ১১-ই অগাস্ট ‘একবার বিদায়’ গান হলে মানুষ স্তব্ধ হয়ে শোনে। লোককথায়, লোকসুরে এই গান সমান আবেদন রাখে।

একটুও মলিন হয়নি।

শেয়ার করুন
দীপক বিশ্বাসের প্রতিকৃতি

লেখক

দীপক বিশ্বাস

মায়ের হিসাব মতো, ১৩৫৩ বঙ্গাব্দের বৈশাখে জন্ম। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাল্টে গিয়ে হয়েছে ১৬ই আগস্ট, ১৯৫৬। এই ইংরেজী জন্মতারিখটাই সরকারি খাতাপত্রে গৃহীত হয়েছে এবং সর্বত্র মান্যতা পেয়েছে। জন্ম একেবারে অজগাঁয়ে, মুর্শিদাবাদ জেলার নওদা থানার সব্দরনগর গ্রামে। সেটা লেখকের পক্ষে ভালো হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তাঁকে প্রচুর শিখিয়েছে তাঁর গাঁ। বাবার প্রশ্রয়ে রাত জেগে আলকাপ, বোলান, গ্রামীণ যাত্রা, কবিগান, ঝাপান গান শুনেছেন, দেখেছেন। টহান গান, রাখাল ছেলের গান, মাঝি মাল্লার গান, পীরের গান, সারিগান, ভাসান গান, কাহানী ইত্যাদি প্রাত্যহিক সঙ্গী ছিল। এই গাঁ-ই তাঁকে শিক্ষার আলো দিয়েছে, চর্চায় নিয়ে এসেছে। মাকে লখিন্দরের মৃত্যুতে কান্নার সাথে সাথে জাবি গানে হাসান-হোসেনের মৃত্যুতেও আঁচল দিয়ে চোখ মুছতে দেখেছেন লেখক। পাড়ায় লক্ষ্মীপুজোর আসরে রূপবান, সাগরভাষা যাত্রাও হতে দেখেছেন। এসব শিক্ষাই তাঁর পাওয়া। তিনি লিপিবদ্ধ করেছেন মাত্র‌। প্রায়োজনিক কারণে তিন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নাটক, সাংবাদিকতা এবং গ্রন্থাগার বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী নিয়েছেন। স্বচ্ছন্দে জীবন কাটাতে বিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারিকের চাকুরি নিয়েছিলেন। এখন অবসরপ্রাপ্ত। ভালোবেসে যুক্ত আছেন মুক্ত থিয়েটার চর্চায়। লোকশিল্পীদের কাছে থাকতে 'সারা বাংলা লোকশিল্পী সংসদ'-এর কর্মী হয়েছেন। তাঁদের কাছে শিখে চলেছেন।

সব কাজ দেখুন →