সমান্তর (Principle on Plagiarism)
কুম্ভিলকবৃত্তি বিষয়ক নীতি
লেখার আকার
‘সমান্তর’ সৎ জ্ঞানচর্চা, মৌলিকতা এবং সৃজনশীলতার পৃষ্ঠপোষক। কুম্ভিলকবৃত্তির প্রতি সমান্তরের দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত কঠোর। তাই লেখকদের বিশেষভাবে জানানো হচ্ছে যে,
- ‘সমান্তর’ পত্রিকায় প্রকাশের জন্য জমা দেওয়া প্রতিটি পাণ্ডুলিপি লেখকের বিচারে মৌলিক রচনা হতে হবে অথবা যদি লেখাটি তাঁর মৌলিক চিন্তা-প্রসূত না হয়, তবে লেখাটির বাক্যশৈলী পূর্বপ্রকাশিত অন্য কোনও লেখার সঙ্গে হুবহু মিলবে না—এ বিষয় তাঁকে নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয় ক্ষেত্রে লেখাটির মূল ভাবনা বা দৃষ্টিভঙ্গির উৎস কী তা তাঁকে উল্লেখ করতে হবে।
- অন্যের ভাষা, ধারণা, তথ্য, চিত্র, সারণি, অনুবাদ বা গবেষণালব্ধ ফলাফল ব্যবহার করা হলে যথাযথ উদ্ধৃতি ও তথ্যসূত্র লেখককে প্রদান করতে হবে।
- পত্রিকায় জমা দেওয়া গবেষণামূলক প্রবন্ধ এবং প্রয়োজনবোধে অন্যান্য পাণ্ডুলিপির ক্ষেত্রেও কুম্ভিলকবৃত্তি (Plagiarism) শনাক্তকরণের জন্য সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হতে পারে। কুম্ভিলকবৃত্তি, আত্ম-কুম্ভিলকবৃত্তি (Self-plagiarism), তথ্য বিষয়ক জালিয়াতি, এবং পূর্বপ্রকাশিত রচনাকে নতুন রচনা হিসেবে উপস্থাপন—এসবই প্রকাশনা-নীতির লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে এবং এই অপরাধ গুরুতর হিসেবে বিবেচিত হবে।
- যদি পর্যালোচনা বা প্রকাশের আগে কুম্ভিলকবৃত্তির প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে পাণ্ডুলিপি প্রত্যাখ্যান করা হবে।
- প্রকাশের পর এ ধরনের অনৈতিকতা প্রমাণিত হলে সম্পাদকীয় পর্ষদ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে; যার মধ্যে প্রকাশিত নিবন্ধ প্রত্যাহার (Retraction), সংশোধনী প্রকাশ এবং ভবিষ্যতে উক্ত লেখকের কোনো লেখা সমান্তরে প্রকাশ না-করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
- লেখক নিশ্চিত করবেন যে—লেখাটি তাঁর মৌলিক রচনা; প্রয়োজনীয় উদ্ধৃতি ও তার তথ্যসূত্রগুলি যথাযথভাবে উল্লেখ করা হয়েছে; অন্যের মেধাস্বত্ব লঙ্ঘন করা হয়নি; একই লেখা একযোগে অন্য কোনো পত্রিকায় বিবেচনাধীন নয় (যদি না পূর্বানুমতি থাকে); ব্যবহৃত তথ্য, পরিসংখ্যান ও উদ্ধৃতি যথাসম্ভব নির্ভুল। এই বিষয়গুলি সম্পর্কে নিশ্চিত হবার পর সম্পূর্ণ মৌলিক, পূর্বে যে-কোনো মাধ্যমে অপ্রকাশিত লেখাই লেখক পাঠাবেন; লেখকের কুম্ভিলকবৃত্তির (plagiarism) দায় আমাদের নয়।
- ‘সমান্তর’ ভারতের বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (University Grants Commission) Promotion of Academic Integrity and Prevention of Plagiarism in Higher Educational Institutions Regulations, 2018-এর মূলনীতি এবং আন্তর্জাতিক প্রকাশনা-নৈতিকতার মানদণ্ড অনুসরণ করার চেষ্টা করে।
- গবেষণামূলক প্রবন্ধ ছাড়া অন্যান্য লেখার ক্ষেত্রে ‘প্রয়োজনীয় উদ্ধৃতি ও তথ্যসূত্র যথাযথভাবে উল্লেখ করা বা ‘ব্যবহৃত তথ্য, পরিসংখ্যান ও উদ্ধৃতি’ বিষয়ে নিয়ম কিছুটা শিথিল হলেও; ‘অন্যের মেধাস্বত্ব লঙ্ঘন করা’-র বিষয়ে ‘সমান্তর’ দায়বদ্ধ—এ-বিষয়ে পত্রিকার দৃষ্টিভঙ্গি যথেষ্ট কঠোর।
- নিচে ভারতের ‘Copyright Act, 1957’ এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের ‘Promotion of Academic Integrity and Prevention of Plagiarism in Higher Educational Institutions Regulations, 2018’-র পিডিএফ দেওয়া হল।