প্যারালাল পাণ্ডুলিপি নির্মাণশৈলী ২০২৬
সূচিপত্র
- সম্পাদক-বান্ধব পাণ্ডুলিপি
- প্রথম অধ্যায়উদ্দেশ্য ও ব্যবহারবিধি
- দ্বিতীয় অধ্যায়পাণ্ডুলিপির সাধারণ বিন্যাস
- তৃতীয় অধ্যায়বাংলা বর্ণবিন্যাসরীতি
- চতুর্থ অধ্যায়ভাষা ও বানান
- পঞ্চম অধ্যায়বিরামচিহ্নের প্রয়োগ
- ষষ্ঠ অধ্যায়উল্লেখপঞ্জির নিয়ম
- সপ্তম অধ্যায়উদ্ধৃতির নিয়ম
- অষ্টম অধ্যায়মুদ্রিত গ্রন্থের উৎসনির্দেশরীতি
- নবম অধ্যায়পত্র-পত্রিকার উৎসনির্দেশরীতি
- দশম অধ্যায়অনলাইন উপাদানের উৎসনির্দেশরীতি
- একাদশ অধ্যায়অমুদ্রিত উপাদানের উৎসনির্দেশরীতি
- দ্বাদশ অধ্যায়অন্যান্য উপাদানের উৎসনির্দেশরীতি
সম্পাদক-বান্ধব পাণ্ডুলিপি
ফরাসি লেখক ভিক্টর হুগোর জীবনীকারেরা হুগোকে নিয়ে একটি মজার গল্প উল্লেখ করেছেন। ১৮৬২ সাল নাগাদ পরবর্তীতে-বিপুল-বিখ্যাত উপন্যাস ‘লে মিজেরাবল’ প্রকাশিত হবার কিছুদিন পর হুগো তাঁর প্রকাশককে একটি চিঠি পাঠালেন; চিঠিতে শুধু লেখা ছিল—‘?’; প্রকাশকও কম যান না, এর উত্তরে তিনি হুগোকে লিখলেন—‘!’। অর্থাৎ লেখকের প্রশ্ন—‘বিক্রি কেমন?’ আর প্রকাশকের উত্তর—‘বিস্ময়কর’।
ভাষার জগৎ বড়ো বিচিত্র! বহু শব্দ খরচ করেও ‘যেটা বলতে চাইছেন’, তা হয়তো আপনি বোঝাতেই পারলেন না অথচ খুব কম শব্দ ব্যয়েই ‘যা ছিল তার বলার’—সেটা কেউ বলে ফেলল। পাস্কালের সেই সারগর্ভ সরস উক্তি মনে পড়ে যায়; এক বন্ধুকে পাস্কাল লিখেছিলেন—‘ছোট চিঠি লেখার সময় ছিল না, তাই বড় চিঠিই লিখতে হল।’
সাধারণত দেখা যায়, কোনো একটি রচনার বিষয়বস্তু নিয়ে লেখক যতটা ব্যস্ত; রচনার শব্দ-নির্বাচন, বাক্য-শিল্প, উপস্থাপন-ভঙ্গি, উদ্ধৃতি-নির্বাচন, মার্জিন, বানান, যতিচিহ্ন নিয়ে ততটা নয়। তবে লেখার পর পাণ্ডুলিপি জমা দেবার আগে ‘শব্দ-বাক্য-উপস্থাপনা’ নিয়ে আর প্রুফ দেখার সময় ‘বানান’ বিষয়ে কিছুটা মাথা আজকাল ঘামাতে হলেও, বেশিরভাগ লেখকই মার্জিন, অনুচ্ছেদের ব্যবধান, ইনডেন্ট, যথাতথ যতিচিহ্ন প্রয়োগের বিষয়টা প্রকাশক-সম্পাদক-প্রুফ রিডারের হাতে ছেড়ে দিতে পারলেই বাঁচেন। এ-প্রসঙ্গে বর্তমান ‘রাশি রাশি ভারা ভারা’ বাংলা প্রকাশনা-শিল্পের কথা না পাড়াই ভালো, কেননা ‘পেশা’ নয় ‘প্যাশন’-ই যাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে—সেই প্রকাশক-শ্রেণী লক্ষ্য হিসেবে নেহাতই সুগম, যদিও একথা আর ঢাকা-চাপা নেই যে—এখনও ‘সম্পাদক’-এর অস্তিত্ব থাকলেও, ‘প্রুফ রিডার’-দের জীবিকা এককালের ‘ভিস্তিওয়ালা’ বা ‘বায়োস্কোপওয়ালা’-র মতোই বাংলার লুপ্ত জীবিকার তালিকায় ঢুকে পড়তে চলেছে দ্রুতই। এই সমস্যার কারণ অনুসন্ধান করে কিংবা এ-নিয়ে অনুযোগ-অভিযোগ করে সময় নষ্টই হবে, লাভ হবে না বিশেষ; বরং তার বদলে, একটু প্রস্তুতি নিলেই, নিজেকেই চমৎকার ‘প্রুফ রিডার’ আর ‘সম্পাদক’ করে তুলতে পারেন আপনি—যদি চান।
যদি সত্যিই তাই চান তবে, লেখার বিষয়বস্তুর মতোই পাণ্ডুলিপি নির্মাণশৈলী-ও যে একটি ‘সিরিয়াস’ বিষয় তা আপনাকে দ্বিধাহীনভাবে মনে-মনে মেনে নিতে হবে। আইন-কানুনের ব্যাপার নীরস ও তিক্ত হবে এই-ই স্বাভাবিক, বেশি না ভেবে আপনার লেখার স্বাস্থ্যের পক্ষে উপকারী এই তেতো এক ঢোঁকে গিলে ফেলাই ভালো। সত্যি বলতে কী, কেবল ভাবনার গভীরতা আর ভাষার সৌন্দর্য-ই সব নয়, তার উপস্থাপনাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। একটি সাজানো-গোছানো, নির্ভুল পাণ্ডুলিপি লেখকের মনোযোগ, পাঠকের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা এবং সম্পাদকীয় প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তির বা ব্যক্তিদের প্রতি তাঁর সহমর্মিতার পরিচয় বহন করে।
তা বলে, লেখকের সৃজনশীল স্বাধীনতাকে নিয়ন্ত্রণ করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়; বানানবিধি-ব্যাকরণ-যতিচিহ্নে আঁটোসাঁটো বেঁধে পদের অভূতপূর্ব অর্থ, বাক্যের নিত্যনূতন অনুরণন তৈরির পথ বন্ধ করার গোপন ষড়যন্ত্রে আমরা লিপ্ত নই। পাণ্ডুলিপির রূপ, বিন্যাস এবং ভাষাগত উপস্থাপনার ক্ষেত্রে এই যে একটি অভিন্ন ও গ্রহণযোগ্য মান নির্ধারণ করতে চাইছি আমরা; তার উদ্দেশ্য ভুল এড়ানো। আপনি চাইলে উনিশ শতকীয় রীতি আর রবীন্দ্রনাথকে অনুসরণ করে ‘হুহু’, ‘হূহু’, ‘হুহূ’, ‘হূহূ’—এই চারখানা বানানের যেটা-খুশি প্রয়োজন মতো লিখতেই পারেন কিংবা সম্পূর্ণ নতুন বানানই না-হয় লিখলেন; তবে খেয়াল যা রাখতে হবে তা হল—সহৃদয় পাঠকের যেন তা নিরর্থক, অকারণ, খেয়াল-খুশি মনে না হয়। এটুকুই। অতএব লেখক হিসেবে আপনার স্বাধীনতা-পরাধীনতার সূত্র-ভাষ্যের বিস্তারিত পরিচয় পেতে গেলে এই নিয়মাবলীর গভীরে ডুব দিতে হবে আপনাকে।
এই নির্দেশিকায় মূলত পাণ্ডুলিপির বহিরঙ্গ ও উপস্থাপনাগত বিষয়গুলি আলোচিত হয়েছে—যেমন শিরোনাম ও অনুচ্ছেদবিন্যাস, বানান ও বিরামচিহ্নের ব্যবহার, উদ্ধৃতির ব্যবহার, বর্ণবিন্যাস-রীতি ইত্যাদি যা কিছু আপনার পাণ্ডুলিপিটিকে সম্পাদক-বান্ধব করে গড়ে তোলার জন্য জরুরি, সেটুকুই।
পাণ্ডুলিপি নির্মাণের এইসব খুঁটিনাটি নিয়ে বাঙালি লেখক-প্রকাশকেরা যে কোনো-কালে ভাবেন নি—এমনটা আদৌ নয়। বরং উল্টোটাই সত্যি। তা সত্ত্বেও আজও যে কেন ‘দ্য শিকাগো ম্যানুয়াল অফ স্টাইল’-এর মতো, হাজার-খানেক পৃষ্ঠার না হোক, অন্তত কাজ-চালানোর-উপযোগী একটি মান্য নির্দেশিকা বাংলায় কেন যে নির্মিত হল না তা বলা দুষ্কর—সুভাষ ভট্টাচার্যের লেখা বিরামচিহ্ন বিষয়ক বই ‘তিষ্ঠ ক্ষণকাল’ বা আন্তর্জাতিক বঙ্গবিদ্যা পরিষৎ-এর ‘উৎসনির্দেশরীতি’ রয়েছে, কিন্তু এগুলির কোনোটাই যাকে ‘ম্যানুয়াল অফ স্টাইল’ বলে তা নয়; অবশ্য তার কোনো-না-কোনো অঙ্গ বটে।
কিন্তু এত বড়ো কর্মযজ্ঞে নামার ইচ্ছে বা সাহস কোনোটাই আমাদের নেই। ফলে নিজেদের কাজ চালানোর জন্য যেটুকু লাগে, তাই এখানে রইল। অনেকেই এ বিষয়ে সচেতন ও অভিজ্ঞ জানি, তাঁদের অনুরোধ করব এই নির্দেশিকাটি অনুসরণ করতে এবং কোনো বিশেষ নিয়ম অনুসরণ করা নিয়ে তীব্র আপত্তি থাকলে আপত্তির কারণ যুক্তিসহ আমাদের মেল করতে। প্রয়োজনে নিয়ম পাল্টাতে আমাদের আপত্তি নেই। তাছাড়া এই পাণ্ডুলিপি নির্মাণশৈলীতে বহু বিষয়ের আলোচনা বাদ থেকে গেল, সেও অস্বীকার করার উপায় নেই। যে নিয়মগুলির উল্লেখ এখানে পাবেন না সেগুলির ক্ষেত্রে এই নির্দেশিকাকে একটি মান্য কাঠামো হিসেবে ধরে নিয়ে নিয়ম তৈরি করে নিন এবং আপনার পাণ্ডুলিপিটি নির্মাণ করুন। প্রয়োজনে আপনার প্রশ্ন সহ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।
প্রথম অধ্যায়
উদ্দেশ্য ও ব্যবহারবিধি
১.১এই নির্দেশিকার উদ্দেশ্য
লেখা প্রকাশের উপযোগী করে তোলার ক্ষেত্রে বিষয়বস্তুর বা ভাবনার উৎকর্ষ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ তার উপস্থাপনা। যত্নে বানানো একটি সুন্দর পাণ্ডুলিপি—সম্পাদনা, প্রুফ সংশোধন এবং প্রকাশনার প্রতিটি ধাপকে সহজ, নির্ভুল ও সময়সাশ্রয়ী করে। এই নির্দেশিকার উদ্দেশ্য বাংলা ভাষায় পাণ্ডুলিপি প্রস্তুত করার জন্য একটি সুস্পষ্ট ও ব্যবহারিক নির্দেশনা দেওয়া, যাতে লেখক ও সম্পাদক উভয়েই মোটের উপর একটি অভিন্ন রীতি অনুসরণ করতে পারেন।
এই নির্দেশিকায় ভাষার সৃজনশীল দিক নয়, বরং পাণ্ডুলিপির বিন্যাস, বানান, বিরামচিহ্ন, বর্ণবিন্যাস, উদ্ধৃতি, সংলাপ এবং অন্যান্য উপস্থাপনাগত বিষয়ের রীতি ও মান স্থির করার চেষ্টা করা হয়েছে। বাংলা পাণ্ডুলিপি নির্মাণে একরূপতা, স্বচ্ছতা এবং পেশাদারিত্ব প্রতিষ্ঠাই আমাদের লক্ষ্য।
এই নির্দেশিকার দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ অধ্যায় বিশেষভাবে প্যারালালের আন্তর্জালিক মাধ্যমে প্রকাশিতব্য রচনাগুলির জন্য প্রযোজ্য। পঞ্চম থেকে দ্বাদশ অধ্যায়—যে কোনো বাংলা রচনার পাণ্ডুলিপি নির্মাণের জন্য প্রয়োগ করা যেতে পারে।
১.২এই নির্দেশিকার ব্যবহারবিধি
এই নির্দেশিকা ধারাবাহিকভাবে পড়তে পারেন, আবার প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট অধ্যায় আলাদাভাবেও পড়া যেতে পারে। পাণ্ডুলিপি তৈরি করবার সময় সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ের নির্দেশ অনুসরণ করলে অধিকাংশ বিন্যাসগত ও ভাষাগত অসংগতি সহজেই এড়ানো সম্ভব হবে।
এই নির্দেশিকায় বর্ণিত রীতিগুলি চূড়ান্ত নয়, বিচার-বিশ্লেষণ চলতেই থাকবে সুতরাং ভবিষ্যতে পরিমার্জন ও সংযোজন হতেই পারে। যেসব বিষয় এই নির্দেশিকার বাইরে থেকে গেল সেগুলি নিয়ে এবং কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে সম্পাদকীয় সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।
এই নির্দেশিকার উদ্দেশ্য নিয়ম আরোপ করা নয়; বরং লেখক, সম্পাদক ও প্রকাশকের মধ্যে একটি অভিন্ন কর্মপদ্ধতি গড়ে তোলা, যাতে যে লেখাগুলি আমাদের পত্রিকায় প্রকাশিত হবে তাদের বহিরাবয়ব ঝকঝকে, তকতকে, গোছানো হয়ে উঠতে পারে।
বলা বাহুল্য, এই নিয়মগুলি সব ধরনের বাংলা লেখার জন্য প্রযোজ্য; সে উপন্যাসই হোক, কি প্রবন্ধ। তবে যেখানে লেখার প্রকরণ অনুযায়ী ভিন্ন নিয়মের প্রয়োজন হবে তা বিশেষভাবেই উল্লেখ করে দেওয়া হয়েছে।
দ্বিতীয় অধ্যায়
পাণ্ডুলিপির সাধারণ বিন্যাস
যে-কোনো লেখা আমাদের পাঠাতে হলে একটি ওয়ার্ড ফাইল (MS Word) ব্যবহার করুন। ওয়ার্ড ফাইলটিতে যথাক্রমে এই বিষয়গুলি থাকবে—(ক) লেখার শিরোনাম, (খ) লেখকের নাম পদবি, (গ) সংক্ষিপ্তসার (ঘ) প্রকরণ (ঙ) লেখক পরিচিতি (চ) মোট শব্দসংখ্যা (ছ) ডাক-ঠিকানা (জ) ই-মেল (ঝ) ফোন নম্বর (ঞ) পুনরায় লেখার শিরোনাম (ট) মূললেখা (ঠ) উৎসপঞ্জি (প্রয়োজন হলে)। পিডিএফ বা অন্য কোনো রকম ইমেজ-ফাইল পাঠাবেন না। হাতে লেখা পাণ্ডুলিপিও পাঠাবেন না।
২.১সজ্জা ও শব্দসংখ্যা
২.১.১ওয়ার্ড ফাইলটির শুরুতে লেখার শিরোনাম, লেখকের নাম, লেখার সংক্ষিপ্তসার, পত্রিকা (‘সমান্তর’ ‘অন্যপাতা’ যেখানে প্রকাশের জন্য লেখাটি জমা দিচ্ছেন তার উল্লেখ) ও তার বিভাগ (প্রয়োজনে ‘সমান্তর’ বা ‘অন্যপাতা’-র বিষয়সূচি দেখুন), লেখার প্রকরণ ও লেখক পরিচিতি থাকবে।
২.১.২গবেষণামূলক প্রবন্ধের ক্ষেত্রে সারসংক্ষেপ প্রকাশিত হবে, অন্যক্ষেত্রে প্রকাশিত হবে না। কবিতার, ছড়ার বা ১০০০ শব্দের কম কোনো রচনার সারসংক্ষেপ দেওয়ার দরকার নেই। গল্প ও প্রবন্ধের সারসংক্ষেপ সর্বোচ্চ ৫০০ শব্দের এবং উপন্যাসের সারসংক্ষেপ সর্বোচ্চ ১০০০ শব্দের হতে হবে। সারসংক্ষেপে মূল লেখার মোট শব্দসংখ্যাও উল্লেখ করতে হবে।
২.১.৩লেখক পরিচিতির ক্ষেত্রে লেখকের পূর্ণনাম ও পদবি, ডাকযোগে যোগাযোগের ঠিকানা, চলভাষ (মোবাইল) নম্বর, ই-মেল ঠিকানা এবং সর্বোচ্চ ১৫০ শব্দের একটি সংক্ষিপ্ত ‘লেখক পরিচিতি’ সংযুক্ত করতে হবে। লেখক ছদ্মনাম ব্যবহার করতে চাইলে ‘ছদ্মনাম উপযোগী’ লেখক-পরিচিতি (প্রকাশের জন্য) ও লেখকের আসল নাম-পদবি সহ সংক্ষিপ্ত লেখক পরিচিতি দুই-ই পাঠাতে হবে।
২.১.৪মূললেখাটি শুরুর আগে পুনরায় লেখার শিরোনাম ব্যবহার করুন। তারপর মূল লেখা, অন্ত্যটীকা ও উৎসপঞ্জি (প্রয়োজন হলে) থাকবে। সাধারণত প্রবন্ধের ক্ষেত্রেই অন্ত্যটীকা ও তথ্যসূত্র (একত্রে উল্লেখপঞ্জি) থাকবে। প্রয়োজনে অন্য ধরনের লেখার ক্ষেত্রেও অন্ত্যটীকা ও তথ্যসূত্র ব্যবহার করতে পারেন।
২.১.৫গবেষণামূলক প্রবন্ধে উল্লেখপঞ্জি অথবা সটীক উল্লেখপঞ্জি থাকা জরুরি।
২.১.৬বিভিন্ন ধরনের রচনার জন্য নিম্নলিখিত শব্দসীমা প্রযোজ্য হবে—
- গল্প ও সাধারণ প্রবন্ধ: সর্বোচ্চ ৩০০০ শব্দ।
- অনুগল্প/ছোটগল্প: সর্বোচ্চ ৭০০ শব্দ।
- গবেষণামূলক প্রবন্ধ: সর্বোচ্চ ৫০০০ শব্দ।
বিশেষ ক্ষেত্রে সম্পাদকমণ্ডলী প্রয়োজন অনুসারে শব্দসীমার ব্যতিক্রমকে বিবেচনায় আনতে পারেন; এই বিষয়ে সম্পাদকমণ্ডলীর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।
২.১.৭উপন্যাসের সর্বোচ্চ শব্দসংখ্যা ৫০,০০০। প্যারালালে গৃহীত উপন্যাস ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হবে।
২.১.৮কবিতা, ছড়া ও প্যারডির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শব্দসংখ্যা বা পঙ্ক্তিসংখ্যার বাধ্যবাধকতা নেই। তবে একবারে সর্বাধিক পাঁচটি কবিতা বা সমজাতীয় রচনা (ছড়া বা প্যারডি) একটি ওয়ার্ড ফাইলে পাঠানো যাবে।
২.১.৯নমুনা হিসেবে নিচে মাইক্রোসফট ওয়ার্ড (.doc/.docx)-এর আদর্শ ফাইলগুলি এখানে দেওয়া হল। প্রয়োজনীয় ফাইলটি ডাউনলোড করে নিন। ডাউনলোড করবার পর, এক একটি লিখিত অংশ মুছে, নিজের লেখা দিয়ে ভর্তি করুন।
সমান্তরের জন্য আদর্শ মাইক্রোসফট ওয়ার্ড (.doc/.docx) ফাইলঅন্যপাতার জন্য আদর্শ মাইক্রোসফট ওয়ার্ড (.doc/.docx) ফাইলঅন্যপাতার গুচ্ছকের (সিরিজের) লেখার জন্য আদর্শ মাইক্রোসফট ওয়ার্ড (.doc/.docx) ফাইল২.২শিরোনামের নিয়ম, লিপির আকার, লেখার বিন্যাস
২.২.১মূল লেখাটির শিরোনাম সংক্ষিপ্ত, অর্থবহ ও বিষয়োপযোগী হওয়া বাঞ্ছনীয়। তবে প্রয়োজনানুসারে শিরোনাম বড়ো হতে পারে।
২.২.২মূল শিরোনামটি পৃষ্ঠার উপরে আলাদা ছত্রে লেখা হবে।
২.২.৩শিরোনাম ও মূল লেখার জন্য গুগলের লিপি ‘Noto Serif Bengali’ ব্যবহার করা বাঞ্ছনীয়, তবে অন্য ইউনিকোডও ব্যবহার করতে পারেন। (বিস্তারে জানার জন্য বাংলা বর্ণবিন্যাসরীতি শীর্ষক তৃতীয় অধ্যায় দেখুন)।
২.২.৩.১মূল লেখার শিরোনামের ক্ষেত্রে লিপির আকার বা ফন্ট সাইজ হবে ২০ পয়েন্ট।
২.২.৩.২লেখকের নামের ক্ষেত্রে লিপির আকার বা ফন্ট সাইজ হবে ১৬ পয়েন্ট।
২.২.৩.৩বড়ো উপ-শিরোনামের ক্ষেত্রে লিপির আকার বা ফন্ট সাইজ হবে ১৬ পয়েন্ট।
২.২.৩.৪ছোট উপ-শিরোনামের ক্ষেত্রে লিপির আকার বা ফন্ট সাইজ হবে ১৪ পয়েন্ট।
২.২.৩.৫মূল লেখার/ লেখার সংক্ষিপ্তসারের/ লেখক পরিচিতির ক্ষেত্রে লিপির আকার বা ফন্ট সাইজ হবে ১২ পয়েন্ট।
২.২.৪শিরোনামের শেষে কোনো পূর্ণচ্ছেদ, কমা, কোলন বা অন্য বিরামচিহ্ন ব্যবহার করা যাবে না, যদি না তা শিরোনামের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়।
২.২.৫শিরোনামের বিশেষ কোনো অংশে নজরটানের জন্য বক্রাক্ষর ব্যবহার করতে পারেন কিন্তু শিরোনামের মধ্যে কোনো গ্রন্থনাম বা প্রবন্ধনাম ব্যবহার করতে গেলে একক উদ্ধৃতিচিহ্ন ব্যবহার করতে পারেন।
২.২.৬মূল শিরোনামের উপশিরোনামটি হবে ‘বড়ো উপশিরোনাম’। মূল শিরোনামের নিচের ছত্রে অথবা কোলন (:) দিয়ে উপশিরোনামটি লেখা যেতে পারে।
২.২.৭যে কোনো রকমের শিরোনামের ক্ষেত্রেই, শিরোনামের ভেতর বা এর আশেপাশে কোনো অন্ত্যটীকার সংখ্যাসূচক (রেফারেন্স নম্বর) বা কোনো বিশেষ চিহ্ন ব্যবহার করা যাবে না।
২.২.৮শিরোনামে অলংকারমূলক চিহ্ন, অপ্রয়োজনীয় প্রতীক বা অতিরিক্ত যতিচিহ্ন ব্যবহার পরিহার করতে হবে।
২.২.৯যদি কোনো গ্রন্থ বা প্রবন্ধের উল্লেখ মূল লেখায় করতে হয় এবং ঐ গ্রন্থ বা প্রবন্ধের শিরোনামের শেষে প্রশ্নবোধক (?) বা বিস্ময়সূচক চিহ্ন (!) থাকে, তবে ঐ শিরোনামটি সাধারণ বাক্যের শেষে বসলেও তারপর আর কোনো বাক্যসমাপ্তিসূচক চিহ্ন অর্থাৎ পূর্ণচ্ছেদ (।), প্রশ্নবোধক (?), বা বিস্ময়সূচক চিহ্ন (!) ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই। তবে এক্ষেত্রে উক্ত শিরোনামটি অবশ্য একক উদ্ধৃতিচিহ্নের (‘’) মধ্যে থাকবে।
২.৩লেখকের নাম ও পরিচিতি
২.৩.১শিরোনামের নিচে এক বা দুই ছত্র ব্যবধান রেখে লেখক হিসেবে আপনার/ আপনাদের নাম লিখুন। দুজন লেখকের ক্ষেত্রে মাঝে একটি ‘ও’ ব্যবহার করুন। দুইয়ের বেশি লেখকের ক্ষেত্রে কমা দিয়ে লিখুন, শেষ লেখকের নামের আগে একটি কমা এবং ‘ও’ ব্যবহার করুন। ‘এবং’ লিখবেন না। যেমন—তপন বিশ্বাস; তপন বিশ্বাস ও অমৃতলাল ঘোষ; তপন বিশ্বাস, অমৃতলাল ঘোষ, ও রমাপদ মিত্র।
২.৩.২সাধারণত লেখকের নামের আগে-পরে শিক্ষাগত উপাধি (ডিগ্রি) সংযুক্ত করার প্রয়োজন নেই। শুধু নাম-পদবি, নাম-মধ্যনাম-পদবি বা শুধু নাম ব্যবহার করতে পারেন। তবে এর ব্যতিক্রম থাকতে পারে; ছদ্মনাম-ও ব্যবহার করতে পারেন। ছদ্মনাম ব্যবহার করলে একটি ‘ছদ্মনাম উপযোগী’ লেখক-পরিচিতি (প্রকাশের জন্য) ও লেখকের আসল নাম-পদবি সহ সংক্ষিপ্ত লেখক পরিচিতি দুই-ই পাঠাতে হবে।
২.৪ছত্রবিন্যাস, অনুচ্ছেদবিন্যাস, ও পরিচ্ছেদবিন্যাস
পাণ্ডুলিপিকে ওয়েবমাধ্যমে প্রকাশের উপযোগী করার জন্য ছত্রবিন্যাস (Line Spacing), অনুচ্ছেদবিন্যাস (Paragraph Spacing) এবং পরিচ্ছেদবিন্যাস (Section Spacing) অভিন্ন ও সুশৃঙ্খল রাখতে হবে। Microsoft Word-এর Paragraph সেটিংস ব্যবহার করে ছত্রবিন্যাস, অনুচ্ছেদের ব্যবধান ও শিরোনামের ব্যবধান নির্ধারণ করুন; একাধিক Enter, Space বা অন্য কোনো কৃত্রিম উপায়ে ফাঁকা স্থান সৃষ্টি করবেন না।
২.৪.১ছত্রবিন্যাস (Line Spacing)
২.৪.১.১মূল লেখা, সংক্ষিপ্তসার, লেখক-পরিচিতি এবং সকল শিরোনামের ক্ষেত্রে Line Spacing: At least এবং At: 14 pt নির্ধারণ করুন।
২.৪.১.২একই পাণ্ডুলিপিতে সর্বত্র একই Line Spacing ব্যবহার করতে হবে; ভিন্ন ভিন্ন অংশে ভিন্ন ছত্রবিন্যাস ব্যবহার করা যাবে না।
২.৪.১.৩কোনো অবস্থাতেই একাধিক ফাঁকা ছত্র (Blank Line) দিয়ে অনুচ্ছেদ বা পরিচ্ছেদ পৃথক করবেন না।
২.৪.২অনুচ্ছেদবিন্যাস (Paragraph Spacing)
২.৪.২.১প্রতিটি নতুন ভাব, ঘটনা বা যুক্তির সূচনায় নতুন অনুচ্ছেদ শুরু করুন।
২.৪.২.২অকারণে একটি মাত্র বাক্যকে পৃথক অনুচ্ছেদে বিভক্ত করবেন না; আবার অপ্রয়োজনীয় দীর্ঘ অনুচ্ছেদও পরিহার করুন।
২.৪.২.৩একই পাণ্ডুলিপিতে অনুচ্ছেদ বিভাজনের রীতি সর্বত্র একরূপ হতে হবে।
২.৪.২.৪প্রতিটি অনুচ্ছেদের আগে (Before) ৬ পয়েন্ট (6 pt) এবং পরে (After) ৬ পয়েন্ট (6 pt) ব্যবধান নির্ধারণ করুন।
২.৪.২.৫MS Word-এর “Don't add space between paragraphs of the same style” বিকল্পটি নির্বাচন (Checked) করবেন না।
২.৪.২.৬অনুচ্ছেদ পরিবর্তনের জন্য Enter একবারই চাপুন; অতিরিক্ত Enter ব্যবহার করে ফাঁকা স্থান সৃষ্টি করবেন না।
২.৪.২.৭মূল লেখার কোথাও First Line Indent ব্যবহার করবেন না; Special Indent: None রাখুন।
২.৪.২.৮Left Indent এবং Right Indent উভয়ই ০ সেমি (0 cm) রাখুন।
২.৪.২.৯উদ্ধৃতির ক্ষেত্রে সবসময় উদ্ধৃতিচিহ্ন ব্যবহার করুন; ইনডেন্ট ব্যবহার করবেন না। তবে শুধু কবিতার উদ্ধৃতির ক্ষেত্রে প্রয়োজনে ইনডেন্ট ব্যবহার করতে পারেন।
২.৪.৩পরিচ্ছেদবিন্যাস (Section Spacing)
২.৪.৩.১দীর্ঘ রচনায় বিষয়বস্তুর স্বাভাবিক বিন্যাস অনুযায়ী পরিচ্ছেদ ভাগ করুন।
২.৪.৩.২প্রতিটি পরিচ্ছেদের একটি সুস্পষ্ট ও অর্থবহ শিরোনাম থাকা বাঞ্ছনীয়।
২.৪.৩.৩পরিচ্ছেদগুলির মধ্যে যৌক্তিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখুন।
২.৪.৩.৪পরিচ্ছেদসংখ্যা ব্যবহার করা হলে পুরো পাণ্ডুলিপিতে একই পদ্ধতি অনুসরণ করুন।
২.৪.৩.৫প্রয়োজন অনুসারে উপপরিচ্ছেদ ব্যবহার করা যেতে পারে।
২.৪.৩.৬উপপরিচ্ছেদের শিরোনাম মূল শিরোনামের তুলনায় সংক্ষিপ্ত ও অর্থবহ হওয়া উচিত।
২.৪.৩.৭শিরোনামগুলির স্তরবিন্যাস স্পষ্ট ও একরূপ রাখুন।
২.৪.৩.৮নতুন পরিচ্ছেদ শুরু করার জন্য একাধিক ফাঁকা লাইন ব্যবহার করবেন না; শিরোনামের Before ও After Spacing ব্যবহার করুন।
২.৪.৩.৯প্রধান উপ-শিরোনামের আগে পৃথক ব্যবধান তৈরি করার দরকার নেই; শুধু উপশিরোনামের ফন্ট সাইজ বেশি হবে (দ্রষ্টব্য ২.২.৩ সংখ্যক নিয়ম)।
২.৪.৩.১০ছোট উপ-শিরোনামের আগে পৃথক ব্যবধান তৈরি করার দরকার নেই; শুধু ছোট উপশিরোনামের ফন্ট সাইজ বেশি হবে (দ্রষ্টব্য ২.২.৩ সংখ্যক নিয়ম)।
২.৪.৪মূল শিরোনাম ও লেখকের নামের ব্যবধান
২.৪.৪.১মূল শিরোনামের পরে পৃথক ব্যবধান দেওয়ার দরকার নেই।
২.৪.৪.২লেখকের নামের পরেও পৃথক ব্যবধান দেওয়ার দরকার নেই। অর্থাৎ মূল লেখা বা সংক্ষিপ্তসার শুরু করার জন্য Enter দিয়ে নিচের ছত্রে চলে যান এজন্য একাধিক Enter ব্যবহার করবেন না।
২.৪.৫বিন্যাস বা অ্যালাইনমেন্ট (Alignment)
২.৪.৫.১মূল শিরোনাম, উপ-শিরোনাম, ছোট উপশিরোনাম, লেখকের নাম-পদবি মাঝে (Centre Align) রাখুন।
২.৪.৫.২মূল লেখা, সংক্ষিপ্তসার ও লেখক-পরিচিতি—বাকি সব ক্ষেত্রেই দুই প্রান্তে সমান (Full Justification) বিন্যাস ব্যবহার করুন।
২.৪.৬পৃষ্ঠাবিন্যাস (Page Layout)
২.৪.৬.১কাগজের আকার A4 (210 × 297 মিমি) নির্বাচন করুন।
২.৪.৬.২চার পাশের মার্জিন ২.৫৪ সেমি (১ ইঞ্চি) রাখুন।
২.৪.৬.৩Header ও Footer-এর জন্য Word-এর পূর্বনির্ধারিত (Default) ব্যবধান ব্যবহার করুন।
২.৪.৬.৪প্রতিটি পৃষ্ঠা ধারাবাহিকভাবে সংখ্যায়িত করুন, বাম দিকে পৃষ্ঠাসংখ্যা দিন।
২.৪.৬.৫প্রতিটি পরিচ্ছেদ নতুন পৃষ্ঠা থেকে শুরু করার দরকার নেই; তবে দীর্ঘ রচনার ক্ষেত্রে তা করতে পারেন।
২.৪.৬.৬নিচের মার্জিনে (Footer-এ) বাম দিকে পৃষ্ঠাসংখ্যা দেবার আগে লেখার শিরোনাম ও লেখকের নাম লিখতে পারেন। পৃষ্ঠাসংখ্যা ইংরেজি লিপিতেই দেবেন। লেখার শিরোনাম খুব বড়ো হলে নিচের মার্জিনে প্রথম তিন-চারটি শব্দ দিয়ে বর্জনচিহ্ন দিয়ে লিখুন এবং উপশিরোনাম বর্জন করুন।
দৃষ্টান্ত
রচনার নাম <•> লেখক বা লেখিকার নাম <•> পৃষ্ঠাসংখ্যা ভূগোলবৃত্তান্ত • অর্চনা বসু • 2
২.৪.৬.৭গবেষণামূলক প্রবন্ধের ক্ষেত্রে নিচের মার্জিনে (Footer-এ) বাম দিকে পৃষ্ঠাসংখ্যা দেবার আগে লেখকের নাম লিখবেন না।
দৃষ্টান্ত
রচনার নাম <দুটি ফাঁক বা Space> পৃষ্ঠাসংখ্যা ভূগোলবৃত্তান্ত • 2
২.৪.৬.৮মার্জিনের (Footer-এর) লেখার ফন্ট সাইজ হবে ১০ মাত্রা।
২.৪.৭ফাঁক বা স্পেসের ব্যবহার
২.৪.৭.১প্রতিটি শব্দের মধ্যে একটি মাত্র স্পেস ব্যবহার করতে হবে।
২.৪.৭.২বাক্যের শেষে একটি স্পেসই যথেষ্ট।
২.৪.৭.৩বিরামচিহ্নের আগে স্পেস ব্যবহার করা যাবে না; বিরামচিহ্নের পরে একটি স্পেস থাকবে। তবে হাইফেন ও ড্যাশের ক্ষেত্রে বিরামচিহ্নের আগে-পরে কোথাও স্পেস থাকবে না। এ বিষয়ে বিস্তারে জানার জন্য পঞ্চম অধ্যায় দেখুন।
২.৪.৭.৪অপ্রয়োজনীয় ট্যাব, একাধিক স্পেস বা খালি লাইন ব্যবহার করবেন না।
২.৪.৭.৫ছত্র সমান করার জন্য শব্দের মাঝে বা যতিচিহ্নের আগে-পরে কখনোই একাধিক স্পেস ব্যবহার করবেন না।
তৃতীয় অধ্যায়
বাংলা বর্ণবিন্যাসরীতি
৩.১আন্তর্জাতিক সার্বজনীন লিপিসংকেত পদ্ধতি বা ইউনিকোড (Unicode)
৩.১.১পাণ্ডুলিপি অবশ্যই ইউনিকোড-সমর্থিত বাংলা লিপিতে লিখতে হবে। শিরোনাম ও মূল লেখার জন্য গুগলের লিপি ‘Noto Serif Bengali’ ব্যবহার করা বাঞ্ছনীয়। এই লিপিটি আপনার কম্পিউটারে না থাকলে নিচের লিঙ্কটি থেকে ফন্টটি ডাউনলোড করুন এবং তারপর ফন্টটি আপনার কম্পিউটারে ইন্সটল করে নিতে পারেন।
Noto Serif Bengali ফন্ট ডাউনলোড করুন৩.১.২অন্যান্য ইউনিকোড-সমর্থিত বাংলা লিপিও ব্যবহার করতে পারেন কিন্তু বিজয়, ANSI বা অন্য কোনো অ-ইউনিকোড ফন্টে প্রস্তুত পাণ্ডুলিপি গ্রহণযোগ্য নয়।
৩.১.৩পাণ্ডুলিপিতে একই সঙ্গে একাধিক লিপি ব্যবহার করা যাবে না।
৩.১.৪লেখা জমা দেওয়ার আগে বানান, যুক্তাক্ষর ও কারচিহ্ন পরীক্ষা করুন।
৩.২লিপিশৈলী (ফন্ট)
৩.২.১মূল পাণ্ডুলিপিতে একটি মাত্র বাংলা ফন্ট এবং কালো রঙ ব্যবহার করুন।
৩.২.২শিরোনাম ও মূল লেখায় প্রয়োজনে ভিন্ন আকার (Size) ব্যবহার করা যেতে পারে; তবে একই পাণ্ডুলিপিতে একই স্তরের শিরোনামে একই রীতি অনুসরণ করতে হবে। (এই নিয়মাবলীর ‘২.২. শিরোনামের নিয়ম, লিপির আকার, লেখার বিন্যাস’ দ্রষ্টব্য)
৩.২.৩মূল লেখায় অপ্রয়োজনীয়ভাবে একাধিক ফন্ট, রঙ বা অলংকারমূলক বিন্যাস ব্যবহার করবেন না।
৩.২.৪লেখার মধ্যে বোল্ড, ইটালিক বা আন্ডারলাইন ব্যবহার করবেন না।
চতুর্থ অধ্যায়
ভাষা ও বানান
৪.১বানাননীতি
৪.১.১সাহিত্য সংসদ প্রকাশিত অশোক মুখোপাধ্যায় প্রণীত ‘সংসদ বানান অভিধান’ অনুসরণ করুন।
৪.১.২সমগ্র পাণ্ডুলিপিতে একটি অভিন্ন বানাননীতি অনুসরণ করতে হবে।
৪.১.৩একটি লেখায় একই শব্দের একাধিক বানান ব্যবহার করা যাবে না। যদি লেখার মধ্যে কোনো একটি শব্দের বানানের ভিন্নরূপ আলোচনার জন্য তুলে ধরতে হয় তবে তা একক উদ্ধৃতিচিহ্নের মধ্যে রাখতে হবে।
৪.১.৪বানান নির্বাচনের ক্ষেত্রে সর্বত্র একই রীতি বজায় রাখতে হবে।
৪.১.৫অপ্রচলিত বানান পরিহার করুন।
৪.১.৬যদি কোনো অপ্রচলিত বানান ব্যবহার করতে চান বা আর্ষপ্রয়োগ করতে চান তাহলে লেখার শেষে সম্পাদকদের জন্য তা উল্লেখ করে দেবেন। প্রয়োজনে এ বিষয়ক একটি আলাদা তালিকা লেখার শেষে যুক্ত করে দিতে পারেন।
৪.২ভাষারীতি
একজন লেখকের/ লেখিকার ভাষাব্যবহার দিয়েই তাঁর লেখার একটি নিজস্ব ব্যক্তিত্ব ও চেহারা গড়ে ওঠে। সুতরাং ভাষারীতি বিষয়ে কোনো কঠোর নিয়মের পক্ষপাতী আমরা নই। এ বিষয়ে কয়েকটি সাধারণ নিয়ম দেওয়া হল, কিন্তু নিয়মগুলি অনুসরণ করার বাধ্যবাধকতা নেই।
৪.২.১একই শব্দের একাধিক রূপ থাকলে একটি রূপ নির্বাচন করে সমগ্র পাণ্ডুলিপিতে সেটিই ব্যবহার করতে হবে।
৪.২.২শব্দের রূপ পরিবর্তনের ফলে অর্থের পরিবর্তন না ঘটে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
৪.২.৩ক্রিয়ার কাল, পুরুষ ও বচনের ব্যবহার সর্বত্র একরূপ হওয়া বাঞ্ছনীয়।
৪.২.৪বাংলা ভাষায় সুপ্রচলিত বিদেশি শব্দ প্রচলিত বানানেই লিখতে হবে।
৪.২.৫যে বিদেশি শব্দের গ্রহণযোগ্য বাংলা প্রতিশব্দ রয়েছে, সেখানে বাংলা শব্দ ব্যবহারে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
৪.২.৬বিদেশি শব্দ/ শব্দসমষ্টি বাংলা লিপিতে লেখাকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে; প্রয়োজনে প্রথম বন্ধনীর মধ্যে রোমান হরফে লিখতে পারেন; অন্য কোনো হরফ ব্যবহার করবেন না।
৪.২.৭একটি বিদেশি শব্দের বানান সমগ্র পাণ্ডুলিপিতে একরকম রাখতে হবে।
৪.২.৮বিদেশি শব্দের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার পরিহার করুন তবে অপ্রচলিত বাংলা পরিভাষার বদলে প্রচলিত বিদেশি শব্দটিরই অগ্রাধিকার। এই বিষয়ে বাঙালির দৈনন্দিন ভাষাব্যবহারের গতিপ্রকৃতিই অনুসরণযোগ্য। যেমন—‘মহাবিদ্যালয়’ পরিভাষাটির অস্তিত্ব থাকলেও আমাদের দৈনন্দিন ভাষাব্যবহারে ‘কলেজ’ বেশি প্রচলিত; অথচ ‘ইউনিভার্সিটি’-র তুলনায় ‘বিশ্ববিদ্যালয়’ খুব একটা পিছিয়ে নেই। একইসঙ্গে সাধু ও চলিত রীতির প্রয়োগ করা যাবে না। তবে সৃজনশীল রচনার ক্ষেত্রে (কবিতা, গল্প, উপন্যাস ইত্যাদি) এই নিয়ম প্রযোজ্য নয়।
৪.২.৯সৃজনশীল রচনা (কবিতা, গল্প, উপন্যাস ইত্যাদি) ছাড়া অন্য রচনার ক্ষেত্রে সাধু ও চলিত রীতির মিশ্র প্রয়োগ বাঞ্ছনীয় নয়; তবে সাধু বা চলিত রীতি বলতে এখানে সর্বনাম ও ক্রিয়ার সাধু ও চলিত রূপ ব্যবহারের কথাই বলা হচ্ছে। বলা বাহুল্য চলিত রীতিতে লেখা একটি রচনার মধ্যে সাধু রীতির উদ্ধৃতি ব্যবহৃত হতেই পারে বা এর উল্টোটাও হতে পারে।
৪.২.১০সৃজনশীল রচনা (কবিতা, গল্প, উপন্যাস ইত্যাদি) ছাড়া অন্য রচনার ক্ষেত্রে প্রমিত ও ঔপভাষিক/ কথ্য ভাষার মিশ্র প্রয়োগ বাঞ্ছনীয় নয়; এবং এক্ষেত্রেও প্রমিত বাংলায় লেখা একটি রচনার মধ্যে কথ্য ভাষার উদ্ধৃতি ব্যবহৃত হতেই পারে বা এর উল্টোটাও হতে পারে।
৪.৩ব্যক্তি ও স্থাননাম
৪.৩.১ব্যক্তি, স্থাননাম গোটা লেখার মধ্যে সর্বত্র একই বানানে লিখতে হবে। এক্ষেত্রে ব্যক্তি বা স্থাননামের যে বাংলা বানানটি প্রচলিত তাই লিখতে হবে।
৪.৩.২প্রচলিত বাংলা রূপ থাকলে তা ব্যবহারে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
৪.৩.৩প্রয়োজন হলে প্রথম উল্লেখের সময় বাংলা লিপির পাশে প্রথম বন্ধনীর মধ্যে রোমান লিপি দেওয়া যেতে পারে।
৪.৩.৪ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক নামের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত রীতি অনুসরণ করতে হবে।
৪.৩.৫ব্যক্তি ও স্থাননামের বানান ইচ্ছামতো পরিবর্তন করা যাবে না।
৪.৩.৬মূল নামটি অবিকৃত রাখতে চাইলে হাইফেনের পর বিভক্তিচিহ্ন ব্যবহার করতে পারেন। যেমন: রহমান-এর অবস্থা ভালো নয়। সামান্য দেড়-বিঘে জমির সে মালিক, বসন্তপুরের গরিব চাষি সে।
৪.৪প্রতিষ্ঠান, গ্রন্থ, প্রবন্ধ, রচনার নাম
৪.৪.১প্রতিষ্ঠান, গ্রন্থ, প্রবন্ধ, রচনার নাম গোটা লেখার মধ্যে সর্বত্র একই বানানে লিখতে হবে। এক্ষেত্রে মূল প্রতিষ্ঠান, গ্রন্থ, প্রবন্ধ বা রচনার যে বাংলা বানানটি প্রচলিত তাই লিখতে হবে।
৪.৪.২প্রচলিত বাংলা রূপ থাকলে তা ব্যবহারে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
৪.৪.৩যদি বাংলায় কোনো প্রচলিত রূপ না থাকে তাহলে প্রথম উল্লেখের সময় বিদেশি শব্দের লিপ্যন্তরের নিয়ম অনুসরণ করে বাংলা লিপিটি ব্যবহার করে তারপর তার পাশে প্রথম বন্ধনীর মধ্যে রোমান লিপিতে নামটি উল্লেখ করতে পারেন।
৪.৪.৪বিশেষ উদ্দেশ্য ছাড়া প্রতিষ্ঠানের নাম একক উদ্ধৃতিচিহ্নের মধ্যে দেবার দরকার নেই।
৪.৪.৫পূর্বপ্রকাশিত গ্রন্থ, প্রবন্ধ বা রচনার নাম একক উদ্ধৃতিচিহ্নের মধ্যে লিখতে হবে।
৪.৪.৬একক উদ্ধৃতিচিহ্নের মধ্যে গ্রন্থ, প্রবন্ধ বা রচনার নামটি অবিকৃত রাখুন; কোনো বিভক্তিচিহ্ন যোগ করবেন না। প্রয়োজনে উদ্ধৃতিচিহ্নের পর একটি হাইফেন দিয়ে বিভক্তিটি যোগ করুন।
উদাহরণ
(১) রবীন্দ্রনাথের একটি বিখ্যাত উপন্যাস ‘চোখের বালি’। ‘চোখের বালি’-র একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র মহেন্দ্র। (২) শেকসপিয়ারের ‘ম্যাকবেথ’ (Macbeth) একটি অনবদ্য সৃষ্টি। ‘ম্যাকবেথ’-এর তিন ডাইনি বিশাল ভরদ্বাজের ‘মকবুল’ সিনেমায় দুজন দুর্নীতিগ্রস্ত পুলিস অফিসারের চরিত্রে রূপান্তরিত হয়েছে।
৪.৪.৭প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও মূল নামটি অবিকৃত রাখতে চাইলে হাইফেনের পর বিভক্তিচিহ্ন ব্যবহার করতে পারেন। যেমন: এশিয়াটিক সোসাইটি-র কথা স্বতন্ত্র।
৪.৫পরিভাষা
৪.৫.১একই বিষয়ে একই পরিভাষা সর্বত্র একই অর্থে ব্যবহার করতে হবে।
৪.৫.২একটি পরিভাষার একাধিক বাংলা প্রতিশব্দ একই পাণ্ডুলিপিতে ব্যবহার করবেন না।
৪.৫.৩বাংলা পরিভাষা প্রচলিত থাকলে সেটিই ব্যবহার করতে হবে।
৪.৫.৪নতুন বা অপ্রচলিত পরিভাষা ব্যবহৃত হলে প্রথম উল্লেখের সময় মূল লেখায় তার ব্যাখ্যা দিতে পারেন; এজন্য অন্ত্যটীকাও ব্যবহার করতে পারেন। তবে খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া নতুন বা অপ্রচলিত পরিভাষা ব্যবহার করবেন না।
৪.৫.৫প্রযুক্তিগত ও বিশেষ পরিভাষার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শাস্ত্রে প্রচলিত রীতি অনুসরণ করতে হবে।
৪.৬সংক্ষিপ্ত রূপ
৪.৬.১সুপ্রচলিত সংক্ষিপ্ত রূপ প্রচলিত নিয়মে লিখতে হবে।
৪.৬.২অপ্রচলিত সংক্ষিপ্ত রূপ প্রথম ব্যবহারের সময় প্রথম বন্ধনীর মধ্যে তার পূর্ণরূপ উল্লেখ করতে হবে।
৪.৬.৩একই সংক্ষিপ্ত রূপ সর্বত্র একই অর্থে ব্যবহার করতে হবে।
৪.৬.৪অপ্রয়োজনীয় সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহার পরিহার করতে হবে।
৪.৬.৫বাংলা ও ইংরেজি সংক্ষিপ্ত রূপ একই প্রসঙ্গে ব্যবহৃত হলে তাদের উপস্থাপনার রীতি সর্বত্র একইরকম রাখতে হবে।
পঞ্চম অধ্যায়
বিরামচিহ্নের প্রয়োগ
“লেখার মধ্যে শান্তি ও সংযম হচ্চে রচনার আভিজাত্য। হৃদয়ের ভাবকে অতিমাত্র বেগের সঙ্গে প্রকাশের একান্ত চেষ্টা করাটা ঠিক নয়। তোমার লেখার মধ্যে প্রায় মাঝে মাঝে দুটো তিনটে ‘!!’ বিস্ময়চিহ্ন ব্যবহার করেছ দেখেছি। তুমি কোনো যথার্থ ভাল লেখকের লেখার মধ্যে এরকম অতিক্ষুব্ধতার চিহ্ন দেখেছ কি? এ সমস্ত ত বিজ্ঞাপনেই দেখা যায়—কারণ বিজ্ঞাপনে লোকে চিৎকার করে কথা কয়—কিন্তু সাহিত্যে চিৎকার করাটা একেবারেই শোভন নয়।”
—১৫ বৈশাখ, ১৩১৫ বঙ্গাব্দে নগেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়কে লেখা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চিঠি।
অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যভাগের আগে চিঠিপত্র, আদালতের রায় বা জমির দলিলে বাংলা গদ্যের চর্চা শুরু হলেও তখন তাতে বিরামচিহ্নের ব্যবহার ছিল না বললেই চলে। উনিশ শতকের প্রথম দশকে রামরাম বসু তাঁর ‘রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র’ গ্রন্থে প্রথম সচেতনভাবে বিরামচিহ্নের ব্যবহার শুরু করেন, তবে তা প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা কাব্যসাহিত্যে বহুল ব্যবহৃত ‘এক দাঁড়ি’ (।) এবং ‘দুই দাঁড়ি’ (॥)-র মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। উইলিয়াম কেরির ‘কথোপকথন’ গ্রন্থে প্রথম ইংরেজি বাক্যের বিরামচিহ্নের অনুসরণে বাংলা বাক্যের শেষে পূর্ণচ্ছেদের মতো দাঁড়ির ব্যবহার করা হয়। খ্রিস্টান মিশনারিরা তাঁদের ইংরেজি থেকে অনূদিত রচনায় নানা ধরনের বিরামচিহ্ন ব্যবহার করলেও, মৌলিক বাংলা রচনায় তখনো কেবল দাঁড়িই ব্যবহৃত হতো। রামমোহন রায়-ই প্রথম মৌলিক বাংলা গদ্যে ইংরেজি বিরামচিহ্ন প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। ১৮১৯ সালের আগে তিনি কেবল এক দাঁড়ি ও দুই দাঁড়ি ব্যবহার করলেও, ১৮১৯ সালে প্রকাশিত তাঁর একটি রচনায় তিনি প্রথমবার প্রশ্নচিহ্ন ও সেমিকোলন ব্যবহার করেন। পরবর্তীকালে ১৮৩৩ সালের ‘গৌড়ীয় ব্যাকরণ’ গ্রন্থে বিস্ময়সূচক চিহ্নেরও ব্যবহারও করেন তিনি। বাংলা গদ্যকে সরল, ছন্দোময় ও গতিময় করার পাশাপাশি বিরামচিহ্নের যথাযথ প্রয়োগে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান অসামান্য। ১৮৪৭ সালে ‘বেতালপঞ্চবিংশতি’ নামক প্রথম মুদ্রিত গ্রন্থে তিনি কেবল দাঁড়ি ব্যবহার করলেও, এই গ্রন্থেই ১৮৭৬ সালের দশম সংস্করণে তিনি নানা রকম ইংরেজি বিরামচিহ্ন ব্যবহার করেন। ১৮৬৫ সালে প্রকাশিত ‘বহুবিবাহ রহিত হওয়া উচিত কিনা এতদ্বিষয়ক বিচার’ শীর্ষক পুস্তিকায় তিনি কমা ও সেমিকোলনের সুচারু প্রয়োগ দেখিয়েছেন এবং পরবর্তীকালে প্রশ্নসূচক চিহ্ন ও বিস্ময়সূচক চিহ্নেরও ব্যাপক ব্যবহার করেছেন। বিদ্যাসাগরের পর বাংলা বিরামচিহ্নের ব্যবহারক্ষেত্র ক্রমশ বিস্তার লাভ করে।
বিরামচিহ্নের ব্যবহার, ব্যাকরণের নিয়ম এবং লেখকের ব্যক্তিগত বোধ—দুইয়ের ওপরই নির্ভরশীল, তবে দুইয়ের মাত্রা ও প্রয়োগক্ষেত্র ভিন্ন। এই দুটি বিষয়ের ভারসাম্য নিয়ে ইংরেজ লেখক জি. ভি. কেরি (G. V. Carey)-র একটি বিখ্যাত মত হলো—বিরামচিহ্নের প্রয়োগ দুই-তৃতীয়াংশ নির্ভর করে নিয়মের ওপর এবং এক-তৃতীয়াংশ নির্ভর করে ব্যক্তিগত রুচির ওপর (“I should define punctuation as being governed two-thirds by rule and one-third by personal taste”)। বাক্যের মধ্যে সূক্ষ্ম ভাবগত, অভিব্যক্তিগত, বা আলংকারিক পার্থক্য ফুটিয়ে তোলার ক্ষেত্রে বিভিন্ন লেখকের মত ভিন্ন হয়ে থাকে। এই ধরনের সূক্ষ্ম অনুভূতির প্রকাশের ক্ষেত্রে নিয়ম বা সূত্রের চেয়ে লেখকের ব্যক্তিগত রুচিই বেশি প্রাধান্য পায়। আর সব ক্ষেত্রে কেবল নিয়ম দিয়ে বিরামচিহ্ন বসানো যায় না। যেমন, কমা ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাধারণ কিছু সূত্র দেওয়া গেলেও শেষ কথাটি বলে দেওয়া যায় না; এর প্রয়োগে লেখকের ‘কাণ্ডজ্ঞান’-এর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। খ্যাতিমান লেখকদের রচনাতেও এই ব্যক্তিগত রুচির ভিন্নতা স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে। হয়তো যেখানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সেমিকোলন ব্যবহার করেছেন, সেখানে রাজশেখর বসুর পছন্দ ছিল দাঁড়ি। আবার, সমজাতীয় বিশেষ্য বা বিশেষণের পরপর প্রয়োগে রাজশেখর বসু প্রায়ই কমা দিতেন না, অন্যদিকে বুদ্ধদেব বসুর রচনায় কমার বহুল প্রয়োগ লক্ষ করা যায়।
তাছাড়া ইংরেজিতে যাকে Punctuation mark বলা হয়, বাংলায় ঢালাওভাবে তাকে ‘বিরামচিহ্ন’ বলা হলেও আক্ষরিক অর্থে সব চিহ্নই বিরামচিহ্ন নয়। ‘বিরাম’ শব্দের অর্থ হলো থামা বা বিরতি নেওয়া। বাক্যে পড়ার সময় কোথায় কতটা থামতে হবে বা শ্বাস নেওয়ার জন্য কোথায় স্বল্প ও কোথায় পূর্ণ বিরতি দিতে হবে, তা বোঝানোর জন্যই মূলত কমা, দাঁড়ি, সেমিকোলন ইত্যাদির উদ্ভাবন হয়েছিল। তাই এদের বিরামচিহ্ন বলাটা যুক্তিসংগত। কিন্তু প্রশ্নসূচক চিহ্ন (?) এবং বিস্ময়সূচক চিহ্নকে (!) ঠিক বিরামচিহ্ন বলা যায় না কারণ এগুলো বাক্যে শুধু বিরতি বোঝায় না, বাক্য বা উক্তির সুর ও ভাবকেও দ্যোতিত করে। এরা একটি বাক্যের সঙ্গে পরের বাক্যের ছেদ বা সমাপ্তি সূচিত করে বটে, তবু এদের প্রাথমিক কাজ কেবল বিরাম নির্দেশ করা নয়। আবার হাইফেনকে (-) কোনোভাবেই বিরামচিহ্ন বলা যায় না কারণ এটি প্রধানত দুটি বা তার বেশি শব্দকে জুড়ে যুগ্মশব্দ তৈরি করার কাজে ব্যবহৃত হয়; এখানে থামার কোনো প্রশ্নই নেই। একইভাবে বন্ধনী, উদ্ধৃতিচিহ্ন এবং ড্যাশকেও আক্ষরিক অর্থে বিরামচিহ্ন বলা সংগত নয় কারণ এরা বাক্যের অভ্যন্তরীণ গঠন, কারও উক্তি হুবহু তুলে ধরা বা কোনো ব্যাখ্যামূলক অংশকে আলাদা করার মতো অন্যান্য কাজও করে থাকে। সুতরাং কমা বা দাঁড়ির মতো কয়েকটি চিহ্ন ছাড়া বাকি অনেক চিহ্নই শ্বাসবিরতির পরিবর্তে বাক্যের সুর, অর্থগত সংগঠন বা অন্যান্য প্রয়োজনে ব্যবহৃত হয় বলে সব চিহ্নকে প্রকৃত অর্থে ‘বিরামচিহ্ন’ বলা যায় না।
এই অধ্যায়ে আমরা প্রকৃত বিরামচিহ্নের পাশাপাশি হাইফেন, বন্ধনী, উদ্ধৃতিসূচক চিহ্ন প্রভৃতির প্রয়োগগত কয়েকটি নিয়ম সংক্ষেপে আলোচনা করব কিন্তু এ-বিষয়ে এই নিয়মগুলি শেষ কথা নয়। প্রয়োজনে সুভাষ ভট্টাচার্যের লেখা ‘তিষ্ঠ ক্ষণকাল: বিরামচিহ্ন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ’ (প্রকাশক: আনন্দ) অথবা জুন কাসাগ্রান্ডের (June Casagrande) লেখা ‘The Best Punctuation Book, Period: A Comprehensive Guide for Every Writer, Editor, Student, and Businessperson’ গ্রন্থদুটি আপনারা অনুসরণ করতে পারেন। ইংরেজিতে এই বিষয়ে অনেক গ্রন্থই আছে। তবে বাংলা ভাষার স্বাতন্ত্র্যের দিকটি বিরামচিহ্নের ব্যবহারের ক্ষেত্রে মাথায় রাখা জরুরি।
৫.১দুই দাঁড়ির ব্যবহার
৫.১.১আধুনিক বাংলা ভাষায় দুই দাঁড়ির প্রয়োগ বিরল। প্রাচীন মধ্যযুগের বাংলা পদ্যে এর বিপুল ব্যবহার ছিল। সাধারণত কবিতার এক চরণ বা সাধারণ বাক্যের শেষে ‘এক দাঁড়ি’ এবং সম্পূর্ণ শ্লোক, স্তবক বা বৃহত্তর অংশের সমাপ্তি বোঝাতে ‘দুই দাঁড়ি’ ব্যবহৃত হতো। উনিশ শতকের প্রথমদিকে কোনো কোনো গদ্যগ্রন্থে এর প্রয়োগ দেখা যায়।
৫.১.২আধুনিককালে পদ্যবন্ধে লেখা কবিতায় অতীত ঐতিহ্য অনুসরণ করে কবি দুই দাঁড়ি ব্যবহার করতে চাইলে করতে পারেন।
৫.১.৩মূল লেখায় উদ্ধৃত রচনাংশের ক্ষেত্রে উদ্ধৃতিচিহ্নের মধ্যে মূল রচনার বিরামচিহ্ন অবিকৃত রাখার জন্য দুই দাঁড়ি ব্যবহার করতে হবে।
৫.২এক দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদের ব্যবহার
৫.২.১সম্পূর্ণ বাক্যের শেষে: যে-কোনো সম্পূর্ণ বিবৃতিমূলক (declarative), নির্দেশাত্মক বা অনুজ্ঞাবাচক (imperative) বাক্যের শেষে দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ বসাতে হয়। বাক্যটি দীর্ঘ হতে পারে, আবার কেবল একটি শব্দ নিয়ে গঠিতও হতে পারে।
উদাহরণ
(১) অবশেষে আমরা পৌঁছলাম। আবার হিমালয়। কাঞ্চনজঙ্ঘা। (২) যাও। গোলমাল করো না।
৫.২.২পরোক্ষ প্রশ্ন বা বিস্ময়ের ক্ষেত্রে: একটি বিবৃতিমূলক বাক্যের মধ্যে যদি কোনো পরোক্ষ প্রশ্ন বা বিস্ময় থাকে, তবে বাক্যের শেষে প্রশ্নচিহ্নের বা বিস্ময়চিহ্নের বদলে দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ দিয়ে বাক্য শেষ করতে হবে।
উদাহরণ
(১) পরোক্ষ প্রশ্ন: আপনি নিশ্চয় জানেন না কবে তারা আবার এখানে আসবে। (২) পরোক্ষ বিস্ময়: সেই জ্যোৎস্না-ধোয়া রাতে দাঁড়িয়ে গভীর বিস্ময়ে ভাবছিলাম মানুষ কী অসাধ্যই না সাধন করেছে।
৫.২.৩বন্ধনী বা ব্র্যাকেটের (Parentheses) সঙ্গে প্রয়োগ: যদি সম্পূর্ণ একটি স্বাধীন বাক্য বন্ধনীর ভেতরে থাকে, তবে পূর্ণচ্ছেদটি বন্ধনীর ভেতরেই বসবে। কিন্তু বন্ধনীর ভেতরের অংশটি যদি অন্য কোনো বড় বাক্যের অংশ হয়, তবে পূর্ণচ্ছেদটি বন্ধনীর বাইরে বসবে।
উদাহরণ
(১) পূর্ণচ্ছেদ ভেতরে: সভা নির্ধারিত সময়েই শুরু হল। (তবে কয়েকজন সদস্য কিছুটা দেরিতে পৌঁছেছিলেন।) (২) পূর্ণচ্ছেদ বাইরে: সম্পাদক পাণ্ডুলিপিটি ফেরত দিলেন (কারণ তাতে এখনও অনেক ভুল ছিল)।
৫.২.৪আশ্রিত খণ্ডবাক্য: আশ্রিত খণ্ডবাক্য স্বাধীন বাক্য নয়। তাই এর আগে বা পরে অযথা দাঁড়ি ব্যবহার করা উচিত নয়। মূল বাক্যের সঙ্গে এটি সাধারণত কমা দিয়ে যুক্ত হয় (অথবা অনেক ক্ষেত্রে কোনো বিরামচিহ্ন ছাড়াই যুক্ত হতে পারে)।
উদাহরণ
ভুল প্রয়োগ: আমি বইটি কিনব। যদি আগামী সপ্তাহে ছাড় দেওয়া হয়। ঠিক প্রয়োগ: আমি বইটি কিনব, যদি আগামী সপ্তাহে ছাড় দেওয়া হয়।
৫.২.৫উদ্ধৃতিচিহ্নের সঙ্গে পূর্ণচ্ছেদের প্রয়োগ: বাংলা ভাষায় পূর্ণচ্ছেদের অবস্থান উদ্ধৃতিচিহ্নের ভেতরে বা বাইরে বসানোর কোনো যান্ত্রিক নিয়ম নেই। উদ্ধৃত অংশটি যদি একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন বাক্য হয়, তবে পূর্ণচ্ছেদ উদ্ধৃতিচিহ্নের ভেতরে থাকবে। কিন্তু উদ্ধৃত অংশটি যদি মূল বাক্যের একটি অংশমাত্র হয়, তবে পূর্ণচ্ছেদ মূল বাক্যের শেষে, অর্থাৎ উদ্ধৃতিচিহ্নের বাইরে বসবে।
উদাহরণ
(১) উদ্ধৃত অংশটি যদি সম্পূর্ণ বাক্য হয় তবে পূর্ণচ্ছেদ উদ্ধৃতিচিহ্নের ভেতরে থাকবে: তিনি বলেছিলেন, “সত্যের পথ কখনো সহজ নয়।” (২) উদ্ধৃত অংশটি যদি বড় বাক্যের একটি অংশমাত্র হয় তবে পূর্ণচ্ছেদ মূল বাক্যের শেষে, অর্থাৎ উদ্ধৃতিচিহ্নের বাইরে বসবে: তিনি ‘আমি কাল আসব’ কথাটি বলেই চলে গেলেন।
৫.২.৬বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া খুব বেশি পূর্ণচ্ছেদ ব্যবহার না করা ভালো।
৫.২.৭বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া পূর্ণচ্ছেদ ব্যবহার না করে বাক্যকে দীর্ঘ না করা উচিত।
৫.২.৮শুধু ব্যাকরণগতভাবে পূর্ণ বা স্বাধীন বাক্য হলেই যে দাঁড়ি ব্যবহৃত হবে এমন কোনো মানে নেই (প্রয়োজনে সেখানে সেমিকোলন ব্যবহৃত হতে পারে); অর্থগতভাবেও বাক্যটি পূর্ণ হলে তবেই পূর্ণচ্ছেদ ব্যবহার করা উচিত।
৫.২.৯দাঁড়ি ব্যবহারের পর পরের বাক্য শুরুর আগে একটি ফাঁক (স্পেস) ব্যবহার করুন।
৫.৩প্রশ্নচিহ্নের ব্যবহার
৫.৩.১প্রত্যক্ষ প্রশ্নে প্রশ্নচিহ্নের ব্যবহার: যে-কোনো প্রত্যক্ষ বা সরাসরি প্রশ্নবোধক বাক্যের শেষে প্রশ্নচিহ্ন (?) বসে। বাক্যটি সরল, জটিল বা ক্রিয়াহীন—যে ধরনেরই হোক না কেন, যদি তার উদ্দেশ্য প্রশ্ন করা হয়, তবে শেষে প্রশ্নচিহ্ন ব্যবহার করতে হবে।
উদাহরণ
(১) তুমি কি আজ আসবে? (২) সভা কখন শুরু হবে? (৩) এবার? (৪) কেন?
৫.৩.২পরোক্ষ প্রশ্নে প্রশ্নচিহ্ন বর্জনীয়: পরোক্ষ প্রশ্ন স্বাধীন প্রশ্ন নয়; এটি অন্য একটি বাক্যের অংশমাত্র। তাই এর শেষে প্রশ্নচিহ্ন বসে না; বাক্যের প্রকৃতি অনুযায়ী পূর্ণচ্ছেদ বা অন্য উপযুক্ত বিরামচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ
(১) আমি জানি না সে কখন আসবে। (২) তিনি জানতে চাইলেন কেন সবাই এত দেরি করল। (৩) আমরা বুঝতে পারিনি কারা এ কাজ করেছে।
৫.৩.৩উদ্ধৃত প্রশ্নের সঙ্গে প্রশ্নচিহ্ন: উদ্ধৃত অংশটি যদি নিজেই একটি প্রশ্ন হয়, তবে প্রশ্নচিহ্ন উদ্ধৃতিচিহ্নের ভেতরে বসবে। কিন্তু উদ্ধৃত অংশটি প্রশ্ন না হয়ে পুরো বাক্যটি যদি প্রশ্নবোধক হয়, তবে প্রশ্নচিহ্ন উদ্ধৃতিচিহ্নের বাইরে বসবে।
উদাহরণ
(১) যেখানে প্রশ্ন উদ্ধৃতির অংশ: তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি কোথায় যাচ্ছ?” (২) যেখানে প্রশ্ন সম্পূর্ণ বাক্যটির অংশ : তিনি কি ‘আমি কাল আসব’ কথাটি সত্যিই বলেছিলেন?
৫.৩.৪প্রশ্নচিহ্নের পরে অন্য বিরামচিহ্ন বর্জনীয়: প্রশ্নচিহ্ন একইসঙ্গে প্রশ্নের ভাবপ্রকাশক এবং সমাপ্তিসূচক বিরামচিহ্ন। তাই এর পরে কমা, পূর্ণচ্ছেদ, কোলন, সেমিকোলন ইত্যাদি বসানো উচিত নয়।
উদাহরণ
শুদ্ধ: তুমি কোথায় যাচ্ছ? অশুদ্ধ: তুমি কোথায় যাচ্ছ?।
৫.৩.৫সন্দেহ বা অনিশ্চয়তা প্রকাশে প্রশ্নচিহ্ন: কোনো তথ্য, সংখ্যা, তারিখ বা শব্দের নির্ভুলতা সম্পর্কে লেখকের সন্দেহ থাকলে সংশ্লিষ্ট তথ্যের পরে বন্ধনীর মধ্যে প্রশ্নচিহ্ন (?) ব্যবহার করা যেতে পারে।
উদাহরণ
(১) সভায় প্রায় দশ হাজার (?) মানুষ উপস্থিত ছিলেন। (২) ঘটনাটি সম্ভবত ১৮৯৮ (?) সালে ঘটেছিল।
৫.৩.৬অলঙ্কারিক (কাকুবক্রোক্তি) বা ছদ্ম প্রশ্নবাক্য: অনেক সময় প্রশ্নবোধক বাক্যের রূপ ব্যবহার করা হলেও প্রকৃত উদ্দেশ্য প্রশ্ন করা নয়; বরং বিস্ময়, আক্ষেপ, বিদ্রূপ বা দৃঢ় বক্তব্য প্রকাশ করা। এ ধরনের বাক্যকে অলঙ্কারিক বা ছদ্ম-প্রশ্নবাক্য বলা হয়। এই ছদ্মপ্রশ্নের গর্ভেই ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’-বাচক উত্তরটি অনুক্ত থাকে।
উদাহরণ
কে আর এমন সুযোগ হাতছাড়া করতে চায়? মানুষ কি কখনো সম্পূর্ণ নির্ভুল হতে পারে?
৫.৩.৭প্রশ্ন ও বিস্ময়চিহ্নের ব্যবহার পৃথক: প্রশ্নবোধক বাক্যে প্রশ্নচিহ্ন এবং বিস্ময়সূচক বাক্যে বিস্ময়চিহ্ন ব্যবহার করতে হবে। কেবল বিস্ময়, বিস্মিত ভাব বা জোর প্রকাশের জন্য প্রশ্নচিহ্ন ব্যবহার করা উচিত নয়।
উদাহরণ
(১) শুদ্ধ: তুমি নাকি এখন বিদেশে কাজ করছ! (২) অশুদ্ধ: তুমি নাকি এখন বিদেশে কাজ করছ? (এখানে বাক্যটি প্রশ্ন নয়; বিস্ময়সূচক।) (৩) শুদ্ধ: কী অসাধারণ দৃশ্য! (৪) শুদ্ধ: তুমি কি সত্যিই বিদেশে যাচ্ছ? (৫) অশুদ্ধ: তুমি কি সত্যিই বিদেশে যাচ্ছ! (৬) শুদ্ধ: তুমি সত্যিই বিদেশে যাচ্ছ!
৫.৪বিস্ময়চিহ্নের ব্যবহার
বিস্ময়চিহ্ন (!) মূলত বিস্ময়সূচক অনুভূতি প্রকাশের জন্য ব্যবহৃত হয়। তবে এর ব্যবহার কেবল বিস্ময় প্রকাশেই সীমাবদ্ধ নয়; আনন্দ, উল্লাস, দুঃখ, বেদনা, ক্রোধ, ভয়, সতর্কতা, প্রতিবাদ, প্রার্থনা, কামনা, আশঙ্কা এবং অন্যান্য তীব্র আবেগ প্রকাশেও এই চিহ্ন ব্যবহৃত হয়। যেহেতু বিস্ময়চিহ্ন বাক্যের আবেগগত তীব্রতা বৃদ্ধি করে, তাই এর অতিরিক্ত বা অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার লেখার সংযম ও সৌন্দর্য নষ্ট করতে পারে। ফলে এর প্রয়োগ সর্বদা পরিমিত, উদ্দেশ্যপূর্ণ এবং প্রসঙ্গসঙ্গত হওয়া উচিত।
৫.৪.১অবিশ্বাস্য, অপ্রত্যাশিত বা অসম্ভব কোনো ঘটনা বা বক্তব্য প্রকাশ করতে বিস্ময়চিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ
(১) অ্যাঁ! এর দাম পাঁচশো টাকা! (২ ) বল কী! পাঁচ বছরের মেয়ে এই কবিতা লিখেছে!
৫.৪.২তীব্র আপত্তি বা প্রতিবাদ বোঝাতে বিস্ময়চিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ
কী বললে, আমি পাগল!
৫.৪.৩সতর্কবাণী, নিষেধ বা তিরস্কার প্রকাশে বিস্ময়চিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ
(১) সাবধান! ওখানে গর্ত আছে! (২) আর একবার এমন করলে কিন্তু রেহাই পাবে না!
৫.৪.৪গভীর শ্রদ্ধা, মুগ্ধতা বা আবেগপূর্ণ অনুভূতি প্রকাশে বিস্ময়চিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ
ঠাকুরুন, তুমি সাক্ষাৎ দেবী!
৫.৪.৫কোনো ইচ্ছে কামনা, আশীর্বাদ বা শুভেচ্ছা প্রকাশে বিস্ময়চিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ
(১) ঈশ্বর তোমার মঙ্গল করুন! (২) তাই যেন হয়, বাবা!
৫.৪.৬ক্রোধ, তর্জন-গর্জন, ধমক বা হুমকিসূচক বক্তব্যে বিস্ময়চিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ
চোখ পাকিয়ে বলল, ‘বদমায়েশ!’
৫.৪.৭অপ্রত্যাশিত কোনো ঘটনা বা দৃশ্য দেখে বিস্ময় প্রকাশে বিস্ময়চিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ
আরে, এ যে নজরুলের গলা!
৫.৪.৮শারীরিক কষ্ট, ভয় বা আতঙ্ক প্রকাশে বিস্ময়চিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ
(১) উঃ মা গো! লাগছে! (২) ওরে বাবা রে! মা রে! ছেড়ে দে রে!
৫.৪.৯আনন্দ, সাফল্য বা উচ্ছ্বাস প্রকাশে বিস্ময়চিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ
বাহ, দারুণ খেলেছে তো!
৫.৪.১০দুঃখ, হতাশা বা আক্ষেপ প্রকাশে বিস্ময়চিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ
(১) হায়, এ আমার কী হলো! (২) এই দুর্ভোগ আর সহ্য হয়!
৫.৪.১১উদ্বেগ কাটার পর স্বস্তি বা আশ্বস্ত হওয়ার অনুভূতি প্রকাশে বিস্ময়চিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ
(১) ও, তাই বলুন! (২) যাক, বাঁচালে!
৫.৪.১২প্রার্থনা, মিনতি বা আরাধনা প্রকাশে বিস্ময়চিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ
হে ভগবান, রক্ষা কর, রক্ষা কর!
৫.৪.১৩সম্ভাব্য বিপদ, অনিশ্চয়তা বা উদ্বেগ প্রকাশে বিস্ময়চিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ
আকাশে কী মেঘই না করেছে!
৫.৪.১৪বিস্ময়চিহ্নের পরে কমা (,), পূর্ণচ্ছেদ (।), কোলন (:) বা সেমিকোলন (;) বসানো উচিত নয়; বিস্ময়চিহ্ন নিজেই বাক্যের সমাপ্তি নির্দেশ করতে সক্ষম।
৫.৪.১৫পরবর্তী বাক্য নতুন করে শুরু হবে; বিস্ময়চিহ্নের পরে অতিরিক্ত কোনো বিরামচিহ্নের প্রয়োজন নেই।
৫.৪.১৬উদ্ধৃত বাক্যের অংশ হিসেবে বিস্ময়চিহ্ন থাকলে তা উদ্ধৃতিচিহ্নের ভেতরেই থাকবে।
উদাহরণ
সে বলল, “সাবধান!”
৫.৪.১৭বিস্ময়চিহ্ন বন্ধনীর অন্তর্গত বক্তব্যের অংশ হলে সেটি বন্ধনীর ভেতরেই থাকবে।
উদাহরণ
তিনি শেষ পর্যন্ত রাজি হলেন (যা প্রায় অবিশ্বাস্য!)।
৫.৪.১৮একটি বাক্যে একাধিক বিস্ময়চিহ্ন (যেমন !!!) ব্যবহার করার কোনো অর্থ নেই। সাধারণত একটি বিস্ময়চিহ্নই যথেষ্ট।
৫.৪.১৯সাহিত্যিক বা সৃজনশীল লেখায় বিশেষ শৈল্পিক প্রয়োজনে বিস্ময়চিহ্নের ব্যবহার কিছুটা নমনীয় হতে পারে; তবে প্রবন্ধ, গবেষণা, প্রতিবেদন, সংবাদ ও প্রাতিষ্ঠানিক লেখায় এর ব্যবহার সংযত রাখা উচিত।
৫.৫কমার ব্যবহার
৫.৫.১বাক্যের স্বাভাবিক বিরাম ও অর্থের স্বচ্ছতা নির্দেশে: বাক্যের বিভিন্ন অংশকে পৃথক করে অর্থ স্পষ্ট করতে এবং পাঠের স্বাভাবিক বিরাম নির্দেশ করতে কমা ব্যবহৃত হয়। বিশেষত দীর্ঘ বাক্যে এটি বাক্যের গঠন ও অর্থ অনুধাবনে সহায়তা করে।
উদাহরণ
দীর্ঘ আলোচনার শেষে, সবাই সিদ্ধান্তে পৌঁছাল।
৫.৫.২সমজাতীয় পদ বা তালিকা নির্দেশে: পরপর একাধিক সমজাতীয় বিশেষ্য, বিশেষণ, ক্রিয়াবিশেষণ বা বাক্যাংশের তালিকায় প্রতিটি পদের পরে কমা বসে। তবে শেষ পদের আগে ‘এবং’, ‘ও’, ‘বা’, ‘আর’ থাকলে সাধারণত কমা বসে না।
উদাহরণ
সাহিত্য, ইতিহাস, দর্শন এবং বিজ্ঞান—সব বিষয়েই তাঁর আগ্রহ ছিল।
৫.৫.৩সমজাতীয় পদ বা তালিকা নির্দেশে অক্সফোর্ড কমার ব্যবহার: যদি লিখি—‘আমার বাবা-মা, রাজা ও রানি।’; তাহলে কমার অনুপস্থিতির কারণে পাঠকের মনে হতে পারে, আমার বাবা আর মা-ই রাজা ও রানি। কিন্তু যদি লিখি—‘আমার বাবা-মা, রাজা, এবং রানি।’ তাহলে চারজন পৃথক ব্যক্তির কথা বলা হয়ে—(১) আমার বাবা (২) আমার মা, (৩) রাজা এবং (৪) রানি। ফলে আমার বাবা-মাকে রাজপরিবারের সদস্য বলে ধরে নেওয়ার আর কোনো সুযোগ থাকে না। একইভাবে তালিকার ক্ষেত্রে এই কমার গুরুত্ব অনস্বীকার্য। ‘আপেল, কলা অথবা কমলা’ এবং ‘আপেল, কলা, অথবা কমলা’। প্রথম বাক্যটি থেকে এমন ধারণা হতে পারে যে আপেল অবশ্যই প্রয়োজন, আর তার সঙ্গে কলা অথবা কমলার মধ্যে যেকোনো একটি প্রয়োজন। কিন্তু দ্বিতীয় বাক্যে অক্সফোর্ড কমা ব্যবহারের ফলে তালিকার তিনটি ফলই সমমানের বিকল্প হিসেবে প্রতীয়মান হয়। অর্থাৎ আপেল, কলা কিংবা কমলা—এই তিনটির মধ্যে যে-কোনো একটি হলেই চলবে। এই ক্ষেত্রগুলিতে, যেখানে অর্থ স্পষ্ট করা দরকার বলে মনে হবে, সেক্ষেত্রে ‘এবং’, ‘ও’, ‘বা’, ‘আর’-এর আগে কমা ব্যবহার করতে হবে।
৫.৫.৪প্রত্যক্ষ উক্তির পূর্বে: কোনো প্রত্যক্ষ উক্তি বা সংলাপ উদ্ধৃত করার আগে কমা ব্যবহৃত হয়। এক্ষেত্রে কোলন নয়, কমাই ব্যবহার করা উচিত।
উদাহরণ
শিক্ষক বললেন, ‘আজ সবাই সময়মতো কাজ জমা দেবে।’
৫.৫.৫সম্বোধনসূচক পদের পরে: কাউকে সরাসরি সম্বোধন করলে, সম্বোধিত শব্দ বা পদকে মূল বাক্য থেকে পৃথক করার জন্য সম্বোধিত শব্দ বা পদটির পরে কমা বসে।
উদাহরণ
বন্ধু, তুমি আজ একটু আগে এসো।
৫.৫.৬সূচনামূলক অব্যয় বা ক্রিয়াবিশেষণের পরে: বাক্যের শুরুতে অব্যয়, সংযোগসূচক বা ক্রিয়াবিশেষণধর্মী শব্দ থাকলে তার পরে কমা বসিয়ে মূল বক্তব্য থেকে পৃথক করা হয়।
উদাহরণ
অন্যদিকে, এই প্রস্তাবেরও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
৫.৫.৭অর্থগত বিভ্রান্তি দূর করতে: যেখানে কমা না দিলে বাক্যের অর্থ দ্ব্যর্থক বা বিভ্রান্তিকর হয়ে যেতে পারে, সেখানে কমা ব্যবহার করা উচিত।
উদাহরণ
তাদের মতে, খাওয়াই এখন ভালো। (কমা না দিলে বাক্যটির অর্থ বিভ্রান্তিকর হয়ে যেতে পারে। ‘তাদের মতে খাওয়াই এখন ভালো।’ এই বাক্যটির অর্থ হল—খেতে হবে, তাদের মতে/পছন্দে। তাদের মতে, খাওয়াই এখন ভালো। এই বাক্যটির অর্থ হল—তাদের মত এই যে, খাওয়াই এখন ভালো।)
৫.৫.৮ব্যাখ্যামূলক বা অতিরিক্ত তথ্য পৃথক করতে: বাক্যের মধ্যে এমন কোনো ব্যাখ্যামূলক বা অতিরিক্ত তথ্য যদি থাকে, যা বাদ দিলেও মূল অর্থ অক্ষুণ্ণ থাকে তখন সেই বাক্যটিকে কমা দিয়ে পৃথক করা হয়। এ ধরনের অংশের শুরু ও শেষে উভয় স্থানেই কমা বসবে। একে বলে প্যারানথিসিস (Parenthesis)। বাংলায় একে ‘গর্ভিত বাক্য’ বা ‘অনুবাক্য’ বলেও কেউ কেউ অভিহিত করেছেন। ‘গর্ভিত বাক্য’ বা ‘অনুবাক্য’-এর ক্ষেত্রে বাক্যটির আগে-পরে ড্যাশ (‘—’) ব্যবহার করা যায়, আমরা ড্যাশ (‘—’) ব্যবহারের পক্ষপাতী; তবে কমার ব্যবহার সুপ্রচলিত।
উদাহরণ
যতিচিহ্ন বা বিরামচিহ্নের প্রয়োগের বিষয়টি, আমরা আগেই বলেছি, কিছুটা ব্যক্তিগত কাণ্ডজ্ঞানের উপর নির্ভরশীল।
৫.৫.৯সমপদ বিশেষ্য (Apposition) নির্দেশে: কোনো বিশেষ্যের পরে তার পরিচয় বা ব্যাখ্যা হিসেবে আরেকটি বিশেষ্য এলে এবং সেটি অতিরিক্ত তথ্য হিসেবে ব্যবহৃত হলে কমা দিয়ে পৃথক করা হয়। এর ব্যবহার প্যারানথিসিসের মতোই। তবে এক্ষেত্রে অপ্রয়োজনে প্যারানথিসিস ব্যবহার না করাই ভালো।
উদাহরণ
কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী, দেশের প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র। (এটি অপ্রয়োজনীয়। কেননা, ‘পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতা দেশের প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র।’ অনায়াসে এমন লেখা যায়। তবে লেখার মধ্যে নাটকীয়তা আনার জন্য, কথোপকথনের ভঙ্গি সঞ্চারিত করার জন্য বা অন্য কারণে যদি কেউ প্যারানথিসিস ব্যবহার করতে চান তাহলে সেকথা স্বতন্ত্র।)
৫.৫.১০কারণ, ফল বা বিপরীত সম্পর্কসূচক খণ্ডবাক্য পৃথক করতে: জটিল বাক্যে কারণ, ফল, তুলনা বা বিপরীত সম্পর্ক নির্দেশকারী খণ্ডবাক্য পৃথক করতে প্রয়োজনমতো কমা ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ
কাজটি কঠিন ছিল, তবু সবাই শেষ পর্যন্ত সফল হয়েছে।
৫.৫.১১বাক্যের আগে অবস্থানকারী নির্ভরশীল খণ্ডবাক্যের পরে: যদি কোনো নির্ভরশীল খণ্ডবাক্য মূল বাক্যের আগে থাকে, তবে তার শেষে কমা বসে।
উদাহরণ
যদি বৃষ্টি থেমে যায়, আমরা বাইরে বের হব।
৫.৫.১২দুটি স্বাধীন খণ্ডবাক্য সংযোগে: ‘এবং’, ‘কিন্তু’, ‘অথবা’, ‘তাই’ ইত্যাদি সংযোজক দ্বারা দুটি স্বাধীন খণ্ডবাক্য যুক্ত হলে সংযোজকের আগে কমা বসার রীতি আছে। যদিও সংযোজক থাকায় কমার ব্যবহার অপ্রয়োজনীয়। তাই এক্ষেত্রে কমার ব্যবহার জরুরি নয়।
উদাহরণ
(১) সে অনেক চেষ্টা করেছে, কিন্তু সফল হয়নি। (২) সে অনেক চেষ্টা করেছে কিন্তু সফল হয়নি। আমরা দ্বিতীয় উদাহরণটির পক্ষে।
৫.৫.১৩সমজাতীয় বিশেষণের মধ্যে: একটি বিশেষ্যের আগে সমমর্যাদার একাধিক বিশেষণ থাকলে তাদের মধ্যে কমা বসে। তবে বিশেষণগুলি যদি একত্রে একটি নির্দিষ্ট অর্থ গঠন করে, তাহলে কমা বসে না।
উদাহরণ
(১) তিনি একজন শান্ত, বিনয়ী, পরিশ্রমী মানুষ। (২) তিনি একটি পুরোনো কাঠের আলমারি কিনেছেন। (এখানে বিশেষণগুলি একত্রে একটি নির্দিষ্ট অর্থ গঠন করেছে।)
৫.৫.১৪সংখ্যা লেখায়: বড় সংখ্যা বিভিন্ন অংশে পৃথক করতে কমা ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ
(১) দেশটির মোট জনসংখ্যা ২১,৫৬,৭৮৯ জন।
৫.৫.১৫নির্দেশক বা ব্যাখ্যাসূচক শব্দের পরে: ‘অর্থাৎ’, ‘যেমন’, ‘উদাহরণস্বরূপ’ ইত্যাদি নির্দেশক বা ব্যাখ্যাসূচক শব্দের পরে কমা বসে।
উদাহরণ
যেমন, এই নিয়মটি প্রায় সব ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
৫.৫.১৬সূচক ‘যে’ ও বিশেষণ ‘যে’-এর পার্থক্য নির্দেশ: বাক্যে সংযোজক বা সূচক ‘যে’ এবং নির্দেশক/বিশেষণ ‘যে’ পাশাপাশি এলে অর্থের বিভ্রান্তি এড়াতে প্রথম ‘যে’-এর পরে কমা বসানো হয়। অনেক ক্ষেত্রে একটি মাত্র সূচক ‘যে’ থাকলেও তার পরে কমা দিলে মূল বক্তব্যের সূচনা স্পষ্ট হয়।
উদাহরণ
তিনি বললেন যে, যে বইটি তুমি খুঁজছ সেটি এখানে নেই।
৫.৫.১৭সূচক ‘যে’-এর পরিবর্তে কমার ব্যবহার: অনেক সময় সংযোজক ‘যে’ শব্দটি না লিখে তার পরিবর্তে কমা ব্যবহার করে দুটি খণ্ডবাক্য যুক্ত করা হয়। এ রীতি বিশেষত সাহিত্যিক বা বর্ণনামূলক গদ্যে দেখা যায়।
উদাহরণ
সে জানালা খুলে বাইরে তাকাল, চারদিকে ঘন কুয়াশা নেমেছে।(অর্থাৎ: সে জানালা খুলে বাইরে তাকিয়ে দেখল যে চারদিকে ঘন কুয়াশা নেমেছে।)
৫.৫.১৮বাক্যের শুরুতে সম্মতি বা অসম্মতিসূচক অব্যয়ের পরে: বাক্যের শুরুতে ‘হ্যাঁ’, ‘না’, ‘আচ্ছা’, ‘বেশ’, ‘ঠিক আছে’ ইত্যাদি অব্যয়বাচক শব্দ থাকলে সেগুলোর পরে কমা বসিয়ে মূল বাক্য থেকে পৃথক করা হয়।
উদাহরণ
আচ্ছা, তাহলে আগামীকালই আমরা কাজটি শুরু করি।
৫.৫.১৯গ্রন্থপঞ্জি বা তথ্যসূত্রে উপাদান পৃথক করতে: গ্রন্থ, প্রবন্ধ বা অন্যান্য তথ্যসূত্রের উল্লেখে লেখকের নাম, গ্রন্থের নাম, প্রকাশস্থান, প্রকাশক, প্রকাশকাল ইত্যাদি পৃথক করতে কমা ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ
আহমদ শরীফ, ‘বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস’, ঢাকা: বাংলা একাডেমি, ১৯৮৭।
৫.৫.২০উহ্য শব্দ বা পদ নির্দেশে (Elision): বাক্যের কোনো অংশে পূর্বোক্ত কোনো শব্দ বা পদ, সাধারণত ক্রিয়াপদ, উহ্য থাকলে সেই শূন্যস্থান নির্দেশ করতে কমা ব্যবহৃত হতে পারে।
উদাহরণ
অশোক বাংলায় লিখেছে; শুভ ইংরেজিতে। (অর্থাৎ, শুভ ইংরেজিতে লিখেছে।)
৫.৫.২১একাধিক বাক্যাংশ বা খণ্ডবাক্যের বিবৃতিতে: পরপর একাধিক বাক্যাংশ বা খণ্ডবাক্য ধারাবাহিকভাবে উল্লেখ করলে প্রতিটি অংশের পরে কমা বসিয়ে সেগুলোকে পৃথক করা হয়।
উদাহরণ
কোথায় আবেদন করতে হবে, কী কী কাগজ লাগবে, কখন ফল প্রকাশ হবে—এসব আগে জেনে নাও।
৫.৫.২২অপ্রয়োজনীয় কমা
৫.৫.২২.১যেখানে কমা বসালে বাক্যের স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয় বা অর্থের কোনো প্রয়োজন পূরণ করে না, সেখানে কমা ব্যবহার করা উচিত নয়। বিশেষত অবিচ্ছেদ্য দ্বিরুক্ত শব্দ, সম্বন্ধবাচক যুগ্ম সর্বনাম এবং একই কর্তার যৌগিক বিধেয়ের মধ্যে কমা বসে না।
উদাহরণ
যারা আসে তারা সবাই অংশ নেয়।
৫.৫.২২.২সম্বন্ধবাচক যুগ্ম সর্বনামে: ‘যে-সে’, ‘যারা-তারা’, ‘যেখানে-সেখানে’, ‘যিনি-তিনি’ ইত্যাদি সংগতিসূচক যুগ্ম সর্বনাম বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সম্পর্ক রক্ষা করে। এক্ষেত্রে মাঝখানে কমা দেওয়া সম্পূর্ণ নিষ্প্রয়োজন।
উদাহরণ
যে সহে সে রহে। (মাঝখানে কমা হবে না।)
৫.৫.২২.৩অবিচ্ছেদ্য দ্বিরুক্ত শব্দে: যেখানে দুটি শব্দ একই সঙ্গে ব্যবহৃত হয়ে দূরত্বের বদলে জোর বা বিশেষ অর্থ তৈরি করে, সেখানে মাঝে কমা দেওয়া অনুচিত।
উদাহরণ
প্রজারা কেবল টাকা টাকা করছে। (এখানে ‘টাকা, টাকা’ হবে না)।
৫.৫.২২.৪ঠিকানা লেখার ক্ষেত্রে: বাড়ির ঠিকানায় বাড়ির নম্বরের পরে কমা দেওয়া নিষ্প্রয়োজন। যেমন: ১২১ যোধপুর পার্ক। কিন্তু একই ছত্রে শহরের নাম থাকলে, শহরের নামের আগে কমা ব্যবহার করতে হবে। যেমন: ১২১ যোধপুর পার্ক, কলকাতা।
৫.৫.২২.৫দিন-তারিখ লেখার ক্ষেত্রে: তারিখ (সংখ্যায়), মাস (কথায়) এবং বছর (সংখ্যায়)—এই ক্রমে পরপর লিখলে তাদের মাঝে কোনও কমার প্রয়োজন নেই। যেমন: ২৫ চৈত্র ১৩৯৮।
৫.৫.২২.৬অপরিহার্য বা পরিচিতিমূলক শব্দগুচ্ছে: যে উপবাক্য বা পরিচিতিমূলক শব্দগুচ্ছ মূল বিশেষ্যকে নির্দিষ্ট করে এবং বাক্যের অর্থের জন্য অপরিহার্য, তাকে কমা দিয়ে পৃথক করা হয় না।
উদাহরণ
যে ছাত্রটি প্রথম হয়েছে সে পুরস্কার পাবে। (এখানে ‘সে’-কে নির্দিষ্ট করছে ‘যে ছাত্রটি প্রথম হয়েছে’ শব্দগুচ্ছ।)
৫.৫.২২.৭নামের উপাধি বা কোম্পানির নামের ক্ষেত্রে: ব্যক্তির নামের সঙ্গে যুক্ত উপাধি বা প্রতিষ্ঠানের নামের অংশ হিসেবে ব্যবহৃত শব্দের আগে কমা বসে না।
উদাহরণ
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ বাংলা ভাষাবিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।
৫.৫.২২.৮একই কর্তার যৌগিক বিধেয়ে (Compound Predicate): একই কর্তার অধীনে পরপর দুটি বা ততোধিক ক্রিয়া থাকলে তাদের মধ্যে সাধারণত কমা বসে না।
উদাহরণ
তিনি দরজা খুলে ঘরে ঢুকলেন।
৫.৫.২২.৯ক্রিয়াবিশেষণীয় পদগুচ্ছে (Absolute/Adverbial Phrase): বাক্যের শুরুতে ‘লে’, ‘ইলে’, ‘তেই’, ‘করলে’ ইত্যাদি প্রত্যয়যুক্ত অসমাপিকা ক্রিয়ার পদগুচ্ছ স্বাভাবিকভাবে মূল বাক্যের সঙ্গে যুক্ত থাকলে সাধারণত তার পরে কমা বসে না।
উদাহরণ
তুমি সময়মতো এলে কাজটি সহজেই শেষ হবে। (‘এলে’-র পর কমা দেবার দরকার নেই।)
৫.৫.২৩প্রতিটি কমা ব্যবহারের পর একটি ফাঁক বা স্পেস দিতে হবে।
৫.৬সেমিকোলনের ব্যবহার
বাংলা ও ইংরেজি ব্যাকরণে সেমিকোলন (Semicolon) হলো কমা (,) এবং দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ (।)-এর মধ্যবর্তী একটি বিরামচিহ্ন। এর একটি অচলিত বাংলা নাম হলো ‘অর্ধচ্ছেদ’। সেমিকোলন মূলত কমার চেয়ে বেশি এবং দাঁড়ির চেয়ে কম বিরতি বা ছেদ নির্দেশ করে।
৫.৬.১অর্থের ঘনিষ্ঠ যোগ থাকলে: পরপর দুটি স্বাধীন বাক্যের মধ্যে যদি অর্থের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকে এবং একটি বাক্যের ভাব অন্যটির সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত থাকে, কিন্তু তাদের মধ্যে কোনো সংযোজক অব্যয় (যেমন—এবং, কিন্তু, তাই, কারণ) না থাকে, তবে পূর্ণচ্ছেদের পরিবর্তে সেমিকোলন (;) ব্যবহার করা যায়। এতে বাক্যদুটির পারস্পরিক সম্পর্ক স্পষ্ট থাকে এবং পাঠের ধারাও বজায় থাকে।
উদাহরণ
(১) এটা তাঁর কথা হতেই পারে না; তিনি তখন বেঁচেই ছিলেন না। (২) সূর্য ডুবে গেছে; গ্রামের পথগুলো ইতিমধ্যে অন্ধকারে ঢেকে গেছে। (৩) আমি তাকে অনেকবার সতর্ক করেছি; সে কোনো কথাই শোনেনি। (৪) এটা তাঁর কথা হতেই পারে না। তিনি তখন বেঁচেই ছিলেন না। (পূর্ণচ্ছেদ দিলেও ভুল নয়; তবে সেমিকোলন দুই বাক্যের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে বেশি স্পষ্ট করে।)
৫.৬.২তুলনামূলক বা বৈপরীত্যমূলক বাক্যে: দুটি স্বাধীন বাক্যের মধ্যে তুলনা, বৈসাদৃশ্য বা বিপরীত অর্থ প্রকাশিত হলে সেমিকোলন ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে দুটি বক্তব্যের পার্থক্য আরও সুস্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।
উদাহরণ
(১) তিনি গরম খাবার পছন্দ করেন; আমি ঠান্ডাই ভালোবাসি। (২) কেউ সমস্যাকে ভয় পায়; কেউ আবার সমস্যাকেই সুযোগে পরিণত করে। (৩) তার লক্ষ্য স্বল্পমেয়াদি; আমাদের পরিকল্পনা দীর্ঘমেয়াদি।
৫.৬.৩দীর্ঘ বাক্যাংশ বা জটিল তালিকায়: একই শ্রেণির বিভিন্ন বিষয়কে বড় বড় দলে ভাগ করে উপস্থাপন করতে কিংবা এমন তালিকায়, যেখানে প্রতিটি উপাদানের মধ্যেই কমা ব্যবহৃত হয়েছে, সেখানে মূল উপাদানগুলো পৃথক করতে সেমিকোলন ব্যবহৃত হয়। এতে তালিকাটি সহজে বোঝা যায়।
উদাহরণ
(১) পাঠশালা, প্রাথমিক বিদ্যালয়; জুনিয়র হাই ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়; কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়। (২) সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা, বাংলাদেশ; কলকাতা, ভারত; কাঠমান্ডু, নেপাল; এবং থিম্পু, ভুটান থেকে আগত প্রতিনিধিরা। (৩) গবেষণার বিষয় ছিল ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি; ইতিহাস, প্রত্নতত্ত্ব ও নৃতত্ত্ব; এবং শিক্ষা ও সমাজনীতি।
৫.৬.৪একাধিক দীর্ঘ খণ্ডবাক্য পৃথক করতে: একটি দীর্ঘ বাক্যের মধ্যে যদি একাধিক দীর্ঘ খণ্ডবাক্য বা সমমানের অংশ পরপর আসে, তবে সেগুলোকে স্পষ্টভাবে পৃথক করতে সেমিকোলন ব্যবহার করা যায়। এতে বাক্যের গঠন ও অর্থ উভয়ই পরিষ্কার থাকে।
উদাহরণ
(১) যাঁরা নির্ধারিত সময়ে আবেদন করেছেন, তাঁদের নাম প্রথম তালিকায় থাকবে; যাঁরা পরে আবেদন করেছেন, তাঁদের নাম অপেক্ষমাণ তালিকায় রাখা হবে; আর যাঁরা আবেদনপত্র অসম্পূর্ণ জমা দিয়েছেন, তাঁদের আবেদন পুনর্বিবেচনার জন্য ফেরত পাঠানো হবে। (২) প্রথম দলটি তথ্য সংগ্রহ করবে; দ্বিতীয় দলটি তথ্য যাচাই করবে; তৃতীয় দলটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করবে।
৫.৬.৫বাক্যের কোনো অংশ বিশদ করতে বা সমার্থক বক্তব্য উপস্থাপন করতে: বাক্যের কোনো বক্তব্যকে আরও বিশদভাবে ব্যাখ্যা করতে, পূর্ববর্তী বক্তব্যকে স্পষ্ট করতে অথবা পরবর্তী বাক্যে তার সমার্থক বা ব্যাখ্যামূলক রূপ দিতে সেমিকোলন ব্যবহার করা যেতে পারে।
উদাহরণ
(১) সিদ্ধান্তটি ছিল যথার্থ; অর্থাৎ পরিস্থিতি বিবেচনায় এর চেয়ে ভালো বিকল্প ছিল না। (২) তিনি নীরব ছিলেন; কারণ বলার মতো নতুন কিছু তাঁর কাছে ছিল না।
৫.৬.৬কারণ, ফলাফল ও যুক্তির বিবৃতিতে: পরপর একাধিক কারণ, ফলাফল বা যুক্তি উপস্থাপন করতে সেমিকোলন কার্যকর। বিশেষ করে প্রতিটি বক্তব্য যদি স্বাধীন বাক্য হয় এবং একই মূল বক্তব্যকে সমর্থন করে, তবে সেমিকোলন ব্যবহার করা যায়।
উদাহরণ
(১) সে পরীক্ষায় সফল হয়েছে কারণ সে নিয়মিত অনুশীলন করেছে; সময়মতো প্রস্তুতি নিয়েছে; এবং নিজের দুর্বলতাগুলো সংশোধন করেছে। (২) এই পরিকল্পনা বাস্তবসম্মত; প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে; সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সমর্থনও পাওয়া গেছে।
৫.৬.৭বিশেষ অব্যয় বা সংযোজকের সঙ্গে: কখনও কখনও ‘কিন্তু’, ‘অথচ’, ‘তবু’, ‘তবে’ ইত্যাদি সংযোজক অব্যয় ব্যবহৃত হলেও, যদি উভয় অংশই স্বাধীন বাক্য হয় এবং তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকে, তবে সেমিকোলন ব্যবহার করা যেতে পারে।
উদাহরণ
(১) সবাই তাকে নিরুৎসাহিত করেছিল; কিন্তু সে নিজের সিদ্ধান্তে অটল ছিল। (২) তথ্যগুলো অসম্পূর্ণ ছিল; তবু প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
৫.৬.৮সেমিকোলনের ব্যবহার সম্পর্কে সতর্কতা: সেমিকোলনের অতিরিক্ত বা অযথা ব্যবহার বাক্যকে জটিল ও দুর্বোধ্য করে তোলে। তাই যেখানে পূর্ণচ্ছেদ বা কমাই যথেষ্ট সেখানে সেমিকোলন ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। যদি দুটি বাক্য অর্থের দিক থেকে সম্পূর্ণ স্বাধীন হয় এবং একটির অর্থ বোঝার জন্য অন্যটির প্রয়োজন না হয়, তবে সেমিকোলনের পরিবর্তে পূর্ণচ্ছেদ ব্যবহার করা উচিত। যদি বাক্যের দ্বিতীয় অংশ স্বাধীন বাক্য না হয়ে প্রথম অংশেরই পরিপূরক বা সম্প্রসারণ হয়, তবে সেমিকোলন নয়, কমা ব্যবহার করা উচিত।
উদাহরণ
(১) ঠিক: আজ প্রচণ্ড বৃষ্টি হচ্ছে। কাল আবহাওয়া পরিষ্কার থাকতে পারে। (২) অপ্রয়োজনীয়: আজ প্রচণ্ড বৃষ্টি হচ্ছে; কাল আবহাওয়া পরিষ্কার থাকতে পারে। (৩) ঠিক: সে দ্রুত উঠে দাঁড়িয়ে, কোনো কথা না বলে চলে গেল। (৪) অপ্রয়োজনীয়: সে দ্রুত উঠে দাঁড়িয়ে; কোনো কথা না বলে চলে গেল।
৫.৬.৯প্রতিটি সেমিকোলন ব্যবহারের পর একটি ফাঁক বা স্পেস দিতে হবে।
৫.৭কোলনের ব্যবহার
কোলন (:) এমন একটি বিরামচিহ্ন, যা সাধারণত পূর্ববর্তী বক্তব্যকে ব্যাখ্যা, বিশদ, উদাহরণ, উদ্ধৃতি বা তালিকার মাধ্যমে প্রসারিত করতে ব্যবহৃত হয়। কোলনের আগে থাকা অংশটি সাধারণভাবে একটি অর্থপূর্ণ ও ব্যাকরণগতভাবে সম্পূর্ণ বাক্য হওয়া উচিত।
৫.৭.১বাক্যের প্রথম অংশে উল্লিখিত কোনো বক্তব্য, ধারণা বা শব্দকে পরবর্তী অংশে ব্যাখ্যা, বিশদ বিবরণ বা দৃষ্টান্ত দিয়ে স্পষ্ট করতে হলে কোলন ব্যবহৃত হয়ে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে এটি ‘যথা’, ‘অর্থাৎ’, ‘এই হলো’, ‘নিম্নরূপ’ ইত্যাদি অর্থ প্রকাশ করে।
উদাহরণ
সভার সিদ্ধান্ত স্পষ্ট: আগামী সপ্তাহেই প্রকল্প শুরু হবে। তবে এক্ষেত্রে আমরা কোলনের বদলে কমা ব্যবহারেরই পক্ষপাতী।
৫.৭.২কোনো বক্তব্যের পর সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর তালিকা বা ধারাবিবরণী উপস্থাপন করতে কোলন ব্যবহৃত হয়। তবে কোলনের আগে অবশ্যই একটি সম্পূর্ণ বাক্য থাকতে হবে।
উদাহরণ
সরকারের কাছে জনগণের তিনটি দাবি: কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা এবং সামাজিক ন্যায়।
৫.৭.৩উদ্ধৃতি, উক্তি ও সংলাপ উপস্থাপনে: কোনো ব্যক্তির সরাসরি উক্তি, সংলাপ বা আনুষ্ঠানিক উদ্ধৃতি উপস্থাপনের আগে কোলন ব্যবহৃত হয়। এক্ষেত্রে কমা ব্যবহারও করা যেতে পারে। তবে যাই ব্যবহার করুন, যে-কোনো একটি নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।
উদাহরণ
ইভান চিৎকার করে বলল: “আমার হাতদুটো জমে যাচ্ছে।”
৫.৭.৪প্রশ্ন, মন্তব্য বা বিশেষ বক্তব্য উপস্থাপনে
মূল বক্তব্যের পর বক্তার প্রশ্ন, মন্তব্য বা বিশেষ পর্যবেক্ষণ পৃথকভাবে তুলে ধরতে কোলন ব্যবহার করা যায়। এক্ষেত্রেও কমা ব্যবহারের বিকল্প রয়েছে।
উদাহরণ
তাদের কাছে আমাদের একটাই প্রশ্ন: এর কি সত্যিই কোনো প্রয়োজন ছিল?
৫.৭.৫গ্রন্থ, রচনা ও শিরোনামের উপশিরোনাম: মূল শিরোনামের সঙ্গে উপশিরোনাম (subtitle) যুক্ত করতে কোলন ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ
‘ভারতের অর্থনীতি: উনিশ শতক’
৫.৭.৬অধ্যায়, পরিচ্ছেদ, শ্লোক ও সময় নির্দেশ: অধ্যায়, পরিচ্ছেদ, শ্লোক, পঙ্ক্তি, সময় বা অনুরূপ সংখ্যাগত বিভাজন বোঝাতে কোলন ব্যবহৃত হয়। সময়, অধ্যায়-শ্লোক বা অনুরূপ সংখ্যাগত নির্দেশে কোলনের আগে বা পরে কোনো স্পেস ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই।
উদাহরণ
অথর্ববেদ ৪:৩৮
৫.৭.৭গ্রন্থপঞ্জি ও প্রকাশনা-তথ্য: গ্রন্থপঞ্জি, সূত্রনির্দেশ বা প্রকাশনা-তথ্যে প্রকাশস্থান ও প্রকাশকের মধ্যে কোলন ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ
ঢাকা: বাংলা একাডেমি
৫.৭.৮শিরোনামের পরে কোলন: শিরোনাম ও তার ব্যাখ্যামূলক অংশকে পৃথক করার জন্য কোলন ব্যবহৃত হতে পারে। অর্থাৎ যেখানে শিরোনাম ও মূল লেখা একই ছত্রে বিন্যস্ত হবে সেখানে শিরোনামের পরে, মূল আলোচনা শুরুর আগে কোলন ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি মূলত ব্যাখ্যা-সূচক কোলন। নির্দেশিকা, অভিধান, আইন, পাঠ্যপুস্তক ইত্যাদিতে এ ব্যবহার খুবই প্রচলিত।
৫.৭.৯উদাহরণ বা দ্রষ্টব্যের পরে কোলন: ‘উদাহরণ’ বা ‘দৃষ্টান্ত’ উপস্থাপনের আগে, মূলত ব্যাখ্যা/দৃষ্টান্ত উপস্থাপনের জন্য কোলন ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে কোলনটি ‘নিম্নে উদাহরণ দেওয়া হলো’—এই অর্থ প্রকাশ করে থাকে।
৫.৭.১০সাধারণত কোলন ব্যবহারের পর একটি ফাঁক (স্পেস) ব্যবহার করা হয়ে থাকে; তবে ক্ষেত্রবিশেষে কোলন ব্যবহারের আগে-পরে কোনো ফাঁক বা স্পেস ব্যবহার করা হয় না।
৫.৭.১০.১গাণিতিক অনুপাত (Ratio) বোঝাতে সংখ্যার মাঝে কোলন বসলে কোনো স্পেস হবে না। যেমন: ৫:১০।
৫.৭.১০.২ধ্রুপদী গ্রন্থের/ধর্মগ্রন্থের ক্ষেত্রে অধ্যায় ও ছত্র/শ্লোক-এর সংখ্যাদুটির মাঝে কোলন ব্যবহার করা হলে কোনো ফাঁক বা স্পেস ব্যবহার করা হয় না।
৫.৭.১০.৩গ্রন্থপঞ্জি বা তথ্যসূত্রে পত্রিকার সংখ্যা (volume) ও পৃষ্ঠাসংখ্যার (page number) মধ্যে কোলন (:) ব্যবহৃত হলে কোলনের আগে বা পরে কোনো স্পেস থাকবে না।
৫.৭.১১বাংলা ছন্দের আলোচনার সময় উপযতি হিসেবে কোলন ব্যবহার করা হয়।
উদাহরণ
মুদ্রিত ছত্র: সারা শরীর জুড়ে তোমার বিষ পিঁপড়ে ছড়িয়ে দিলুম আস্তে যেমন জামরুলে ঐ নীল ভিজানো গাছের ছালে ছন্দযতি: সা . রা : শ. রীর | জু . ড়ে : তো . মার || বিষ : পিঁপ . ড়ে | ছড় . ইয়ে : দি . লুম I আস . তে : যে . মন | জাম . রু . লে : ঐ || নীল : ভি . জা . নো | গা . ছের : ছা . লে I
৫.৮হাইফেনের ব্যবহার
বাংলায় হাইফেনকে সাধারণত পদ-সংযোগ চিহ্ন বা শব্দ-বিশ্লেষ চিহ্ন বলা হয়। এটি দুটি শব্দ, শব্দাংশ বা সংখ্যাকে যুক্ত করতে ব্যবহৃত হয়, যাতে অর্থের সম্পর্ক স্পষ্ট থাকে এবং পাঠে বিভ্রান্তি না ঘটে।
৫.৮.১সমাসবদ্ধ ও যৌগিক শব্দে: দুটি শব্দ মিলিয়ে একটি সমাসবদ্ধ বা যৌগিক পদ গঠিত হলে হাইফেন বসতে পারে, বিশেষত যখন দুটি অংশের সম্পর্ক স্পষ্টভাবে দেখানো প্রয়োজন হয়। এ ধরনের হাইফেন দুটি সমমানের শব্দকে যুক্ত করে একটি সমষ্টিগত অর্থ প্রকাশ করে।
উদাহরণ
দেশ-বিদেশ দেনা-পাওনা
৫.৮.২অনুসর্গ বা বিভক্তি-জাত সম্পর্ক বোঝাতে: কোনো বিশেষ্য বা নামের সঙ্গে পরবর্তী অংশের সম্পর্ক স্পষ্ট করতে হাইফেন ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ
স্কুল-পালানো ছেলে শরৎচন্দ্র-বর্ণিত উপন্যাস
৫.৮.৩পুনরুক্তি ও দ্বিত্বে: একই শব্দ বা কাছাকাছি অর্থের শব্দ পুনরুক্ত হয়ে বিশেষ ভাব প্রকাশ করলে হাইফেন বসে। এতে ভাবের সূক্ষ্মতা ও কথ্যরীতি প্রকাশ পায়।
উদাহরণ
হাসি-হাসি মুখ জ্বর-জ্বর ভাব
৫.৮.৪সর্বনামজাত যৌগে: ‘যে’, ‘যা’, ‘যিনি’, ‘যেখানে’ ইত্যাদি সর্বনামজাত শব্দের সঙ্গে পরবর্তী শব্দ যুক্ত হলে হাইফেন ব্যবহৃত হতে পারে।
উদাহরণ
যে-কেউ যা-কিছু
৫.৮.৫বিশেষ্যের আগে যৌগিক বিশেষণে: দুটি বা ততোধিক শব্দ মিলে একটি বিশেষণ গঠন করে এবং তা বিশেষ্যের আগে বসলে হাইফেন দেওয়া যেতে পারে। তবে একই বিশেষণ যদি বিশেষ্যের পরে আসে, সাধারণত হাইফেন দেওয়া হয় না।
উদাহরণ
বহু-প্রতীক্ষিত ঘোষণা স্বল্প-ব্যয়ী প্রকল্প
৫.৮.৬সংখ্যা, পরিসর ও ফলাফল নির্দেশে: সংখ্যার পরিসর, স্কোর বা ফলাফল বোঝাতে হাইফেন ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ
১০-১৫ বছরের শিক্ষার্থী ২০২৪-২০২৬ অর্থবছর বাংলাদেশ ৩-১ গোলে জয়ী হয়েছে। তিনি ৬-৩, ৭-৫ সেটে ম্যাচ জিতেছেন।
৫.৮.৭বয়স নির্দেশে: বয়স বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হলে হাইফেন দেওয়া যেতে পারে।
উদাহরণ
পাঁচ-বছর-বয়সী শিশু
৫.৮.৮উপসর্গের পরে বিভ্রান্তি এড়াতে: উপসর্গ যুক্ত শব্দে সাধারণত হাইফেন লাগে না; তবে উচ্চারণ বা অর্থে বিভ্রান্তির আশঙ্কা থাকলে হাইফেন ব্যবহার করা যায়।
উদাহরণ
অতি-আধুনিক
৫.৮.৯দিক নির্দেশক শব্দে: দুটি দিক মিলিয়ে যৌগিক দিক নির্দেশ করলে হাইফেন বসে।
উদাহরণ
উত্তর-পূর্ব
৫.৮.১০দেশ, অঞ্চল বা জাতিসত্তার নাম যুক্ত করতে: দুটি দেশ, অঞ্চল বা জাতিসত্তার নাম মিলিয়ে সম্পর্ক বোঝালে হাইফেন ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ
ভারত-রুশ মৈত্রী ইন্দো-জাপান চুক্তি
৫.৮.১১যৌগিক শব্দের দ্বিতীয় অংশ উহ্য থাকলে: একই দ্বিতীয় অংশ একাধিক শব্দের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলে প্রথম শব্দের পরে হাইফেন দিয়ে তা উহ্য রাখা যায়।
উদাহরণ
চেহারা- বা মূর্তিবৈশিষ্ট্য স্বল্প- ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণ
৫.৮.১২টেলিফোন, কোড ও ধারাবিহীন সংখ্যায়: ধারাবিহীন সংখ্যা বা কোডের বিভিন্ন অংশ পৃথক করতে হাইফেন ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ
০৩৩-২৫৬৭-৮৯০১ ৯৮৪৫-১২৩৪-৭৬ ISBN 978-93-12345-67-8
৫.৮.১৩শব্দাংশ বা অক্ষর আলাদা করে দেখাতে: কোনো শব্দের বানান বা উচ্চারণ বিশ্লেষণ করে দেখাতে হাইফেন ব্যবহার করা যায়।
উদাহরণ
ক-খ-গ বাংলা = ব-আ-ঙ-ল-আ
৫.৮.১৪হাইফেন ব্যবহারে সতর্কতা
৫.৮.১৪.১অতিরিক্ত হাইফেন শব্দকে দৃষ্টিকটু করে তোলে।
উদাহরণ
অপ্রয়োজনীয়: বাংলা-ভাষা-ও-সাহিত্য-গবেষণা-কেন্দ্র
৫.৮.১৪.২স্বাভাবিকভাবে যুক্ত শব্দে হাইফেন নয়: যেসব শব্দ বাংলা বানানে প্রতিষ্ঠিত, সেখানে হাইফেন ব্যবহার করা অনুচিত।
উদাহরণ
(১) ‘বিশ্ববিদ্যালয়-শিক্ষক’ নয়, ‘বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক’। (২) ‘সাহিত্য-সমালোচনা’ নয় ‘সাহিত্য সমালোচনা’।
৫.৮.১৪.৩ইউআরএল (URL) বা ই-মেইল ভাঙতে কৃত্রিম হাইফেন ব্যবহার করা যাবে না।
৫.৮.১৫একাধিক শব্দ মিলিয়ে একটি যৌগিক বিশেষণ গঠন: কখনও একাধিক শব্দ বা শব্দগুচ্ছ মিলিয়ে একটি বিশেষ্যকে বিশেষিত করা হয়। এ ধরনের দীর্ঘ যৌগিক বিশেষণকে একটি একক বিশেষণ হিসেবে বোঝাতে প্রতিটি অংশের মধ্যে হাইফেন ব্যবহৃত হতে পারে। এতে শব্দগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক স্পষ্ট হয় এবং পাঠ বিভ্রান্তি কমে। তবে, এ ধরনের হাইফেনের ব্যবহার মূলত তখনই যুক্তিযুক্ত, যখন পুরো শব্দগুচ্ছটি বিশেষ্যের আগে বসে একটি একক বিশেষণ হিসেবে কাজ করে। অপ্রয়োজনে দীর্ঘ শব্দগুচ্ছে প্রতিটি শব্দের মধ্যে হাইফেন ব্যবহার করা উচিত নয়, কারণ এতে পাঠে অস্বস্তি সৃষ্টি হতে পারে।
উদাহরণ
তিনি তাঁর অতি-যত্নে-গড়ে-তোলা সাধের প্রতিষ্ঠানটি ছেড়ে দিলেন।
৫.৯ড্যাশচিহ্নের ব্যবহার
ড্যাশ (— বা –) এমন একটি যতিচিহ্ন, যা বাক্যের প্রবাহে ইচ্ছাকৃত বিরতি, ব্যাখ্যা, সংযোজন, আকস্মিক পরিবর্তন, বিশেষ জোর বা সময়ের বিস্তৃতি প্রকাশের জন্য ব্যবহৃত হয়। ড্যাশ হাইফেন (-) নয়; উভয়ের ব্যবহার পৃথক। ড্যাশ দুরকমের হয় En Dash (–) এবং Em Dash (—)। এর ইউনিকোড যথাক্রমে U+2013 এবং U+2014। এম ড্যাশের দৈর্ঘ্য সাধারণত দুটি হাইফেনের সমান। এন ড্যাশ হাইফেনের তুলনায় একটু বড়ো। এম ড্যাশ সাধারণত কমা, কোলন বা বন্ধনীর বিকল্প হিসেবে কাজ করতে পারে, তবে এম ড্যাশের ব্যবহার বাক্যে তুলনামূলকভাবে বেশি জোর, নাটকীয়তা বা তাৎক্ষণিকতার অনুভূতি সৃষ্টি করে। বাংলা লেখায় এম ড্যাশের ব্যবহার সংযত ও উদ্দেশ্যমূলক হওয়া উচিত; অপ্রয়োজনীয় এম ড্যাশ বাক্যের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত করে। ক্ষেত্রবিশেষে এন ড্যাশ ও এম ড্যাশ দুই-ই ব্যবহার করুন। যেখানে ‘এন ড্যাশ’ ব্যবহার বাধ্যতামূলক নিচে তা পৃথকভাবে উল্লেখ করা হল, বাকি ক্ষেত্রে ড্যাশ বলতে এম ড্যাশ-ই বুঝতে হবে।
৫.৯.১ব্যাখ্যামূলক বা অতিরিক্ত অংশ পৃথক করতে: বাক্যের মধ্যে কোনো ব্যাখ্যা, সংযোজন বা অতিরিক্ত তথ্য যুক্ত করতে ড্যাশ ব্যবহার করা যাবে। এ ক্ষেত্রে ড্যাশ কমা, কোলন বা বন্ধনীর বিকল্প হতে পারে। গর্ভিত বাক্য বা অনুবাক্যে কমার বদলে প্যারানথিসিস হিসেবে বাক্যটির আগে-পরে ড্যাশ চিহ্ন ব্যবহার করা যেতে পারে।
উদাহরণ
(১) সভার প্রধান অতিথি—বিশিষ্ট ভাষাবিদ অধ্যাপক সুনীতিকুমার—অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। (২) পাণ্ডুলিপি নির্মাণের এইসব খুঁটিনাটি নিয়ে বাঙালি লেখক-প্রকাশকেরা যে কোনো-কালে ভাবেন নি—এমনটা আদৌ নয়।
৫.৯.২আকস্মিক বিরতি বা অসম্পূর্ণ বক্তব্য বোঝাতে: বক্তব্য হঠাৎ থেমে গেলে, চিন্তার আকস্মিক পরিবর্তন ঘটলে অথবা সংলাপ ইচ্ছাকৃতভাবে অসম্পূর্ণ রেখে শেষ করতে ড্যাশ ব্যবহার করতে হবে।
উদাহরণ
আর এক পা এগোলে— যদি সে আজ আসে—না, থাক, পরে বলব।
৫.৯.৩প্রত্যক্ষ উক্তি বা সংলাপ শুরু করতে: সংলাপ বা প্রত্যক্ষ উক্তি উপস্থাপনের ক্ষেত্রে উদ্ধৃতি চিহ্নের পরিবর্তে ড্যাশ ব্যবহার করা যেতে পারে, যদি পুরো রচনায় একই রীতি ধারাবাহিকভাবে অনুসৃত হয়। কোনো বক্তব্য উদ্ধৃত করার আগে কোলনের পরিবর্তেও ড্যাশ ব্যবহার করা যেতে পারে। একই রচনায় উদ্ধৃতি চিহ্ন ও সংলাপসূচক ড্যাশের রীতি অকারণে মিশ্রিত করা যাবে না।
উদাহরণ
তিনি শুধু একটি কথাই বললেন—‘সময়কে সম্মান করো।’ —আপনি কেমন আছেন? —ভালো আছি।
৫.৯.৪তালিকা, সারাংশ বা বিশেষ ব্যাখ্যার আগে: বাক্যের শেষে কোনো সারাংশ, ব্যাখ্যা, উদাহরণ বা তালিকা উপস্থাপন করতে ড্যাশ ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রয়োজনে যেমন, অর্থাৎ, উদাহরণস্বরূপ ইত্যাদি সূচক শব্দের পরিবর্তেও ড্যাশ ব্যবহৃত হতে পারে।
উদাহরণ
সম্পাদক তিনটি বিষয়ের ওপর জোর দিলেন—ভাষা, বানান ও বিন্যাস। সফল লেখকের তিনটি গুণ—পরিশ্রম, শৃঙ্খলা ও ধৈর্য।
৫.৯.৫অপ্রত্যাশিত বা জোরালো মন্তব্যের আগে: বাক্যের শেষে এমন কোনো মন্তব্য যোগ করতে হলে, যা পাঠকের প্রত্যাশা ভেঙে দেয় বা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে, তার আগে ড্যাশ ব্যবহার করা যেতে পারে।
উদাহরণ
এত প্রস্তুতির পরও ফলাফল একেবারেই আশানুরূপ হলো না—বরং আরও খারাপ হলো। সবাই তার প্রশংসা করছিল—শুধু একজন ছাড়া।
৫.৯.৬অন্যান্য যতিচিহ্নের সঙ্গে ড্যাশের ব্যবহার
৫.৯.৬.১ড্যাশের আগে প্রশ্নবোধক (?) বা বিস্ময়সূচক (!) চিহ্ন প্রয়োজন হলে বসতে পারে।
উদাহরণ
(১) তুমি এখনো এখানে?—আমি তো অবাক! (২) কী বললে!—এটা কি সত্যি?
৫.৯.৬.২ড্যাশের সঙ্গে কমা (,), কোলন (:) বা সেমিকোলন (;) একত্রে ব্যবহার করা যাবে না।
উদাহরণ
(১) ভুল: সম্পাদক বললেন,—সবাই প্রস্তুত থাকুন। (২) ঠিক: সম্পাদক বললেন—সবাই প্রস্তুত থাকুন।
৫.৯.৭সময়ের বিস্তৃতি বোঝানোর জন্য ক্ষেত্রবিশেষে (যেমন: লেখকের জীবনকালের বিস্তৃতি) ‘এন ড্যাশ’ ব্যবহার করুন।
উদাহরণ
(১) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৭৬–১৯৩৮) বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক। (২) ১৯২১–১৯৩০ জুড়ে রাশিয়ায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
৫.৯.৮‘এন’ বা ‘এম’ ড্যাশের আগে বা পরে অপ্রয়োজনীয় ফাঁক (space) দেওয়ার দরকার নেই।
৫.১০ঊর্ধ্বকমার ব্যবহার
বাংলা ভাষায় ঊর্ধ্বকমা (’) প্রকৃত অর্থে বিরামচিহ্ন নয়; এটি বাক্যে বিরতি নির্দেশ করে না। মূলত কোনো শব্দের অন্তর্গত ধ্বনি বা বর্ণ লোপ বা উহ্য থাকা বোঝাতে এর ব্যবহার হয়। আধুনিক বাংলা গদ্যে এর ব্যবহার সীমিত এবং কেবল প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রেই করা উচিত।
৫.১০.১অর্থের বিভ্রান্তি এড়াতে: কোনো শব্দের অর্থ বা রূপ নিয়ে বিভ্রান্তির আশঙ্কা থাকলে ঊর্ধ্বকমা ব্যবহার করা যেতে পারে। অসমাপিকা ক্রিয়ার ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বকমা ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। কিন্তু যেখানে ক্রিয়ারূপে ‘ও-কার’ বোঝানোর প্রয়োজন হবে সেখানে ঊর্ধ্বকমা ব্যবহার করা যেতে পারে।
উদাহরণ
(১) তোমরা ভালো করে প’ড়ো। (প’ড়ো = পোড়ো) (২) তোমরা ভালো করে পড়ে পরীক্ষা দিও। (এখানেও উচ্চারণ ‘পোড়ো’, কিন্তু ঊর্ধ্বকমার ব্যবহার নিষ্প্রয়োজন।)
৫.১০.২সংক্ষিপ্ত সাল বা তারিখ লেখায়: শতাব্দী বা দশকের সাল সংক্ষেপে লেখার জন্য ঊর্ধ্বকমা ব্যবহার করা যায়।
উদাহরণ
২০ মার্চ ’৭৫ (এখানে মার্চ-এর পরে একটি স্পেস দিতে হবে কিন্তু ঊর্ধ্বকমা ব্যবহারের পর স্পেস থাকবে না।)
৫.১০.৩সংস্কৃত লুপ্ত অ-কারের বিকল্প হিসেবে: সংস্কৃত লুপ্ত অ-কার চিহ্নটি মাইক্রোসফ্ট ওয়ার্ডের ‘ইনসার্ট’ অংশে পাওয়া যায়, চিহ্নটি এরকম: ‘ঽ’। এটি ব্যবহার করতে বা খুঁজে পেতে অসুবিধে হলে, বাংলা লিপিতে সংস্কৃত ভাষার উদ্ধৃতি বা শব্দ ব্যবহারের সময় ‘ঽ’-এর বিকল্প হিসেবে ঊর্ধ্বকমা ব্যবহার করা যেতে পারে।
উদাহরণ
‘নমোঽস্তু’-র বদলে নমো’স্তু
৫.১১যুগ্ম ও একক উদ্ধৃতিচিহ্নের ব্যবহার
৫.১১.১সরাসরি উদ্ধৃতি (direct quotation): অন্যের লেখা থেকে কোনো অংশ কোনো পরিবর্তন ছাড়া গ্রহণ করলে, গৃহীত অংশটি দুটি বা যুগ্ম উদ্ধৃতিচিহ্ন (“ ”) দিয়ে আবদ্ধ করতে হয়। অর্থাৎ অন্যের বক্তব্য, বই, প্রবন্ধ বা বক্তৃতা থেকে কোনো অংশ হুবহু উদ্ধৃত করলে যুগ্ম উদ্ধৃতিচিহ্নের ব্যবহারই মান্য রীতি।
উদাহরণ
রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন, “চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির।”
৫.১১.২উদ্ধৃতির ভেতরে উদ্ধৃতি (Quotes within quotes): যদি কোনো উদ্ধৃতির ভেতরে আরেকটি উদ্ধৃতি থাকে, তবে বাইরের উদ্ধৃতিটি যুগ্ম উদ্ধৃতিচিহ্নে এবং ভেতরের উদ্ধৃতিটি একক উদ্ধৃতিচিহ্নে (‘’) লেখা হয়। আবার সেই ভেতরের উদ্ধৃতির মধ্যেও যদি তৃতীয় কোনো উদ্ধৃতি থাকে, তবে সেখানে পুনরায় যুগ্ম উদ্ধৃতিচিহ্ন ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ উদ্ধৃতিচিহ্ন পর্যায়ক্রমে যুগ্ম → একক → যুগ্ম এই ক্রমে চলবে। উদ্ধৃতিটি যদি উদ্ধৃতিচিহ্নে শেষ হয় তবে, একক উদ্ধৃতিচিহ্নের পর একটি ফাঁক (স্পেস) ব্যবহার করে, তারপর যুগ্ম উদ্ধৃতিচিহ্ন ব্যবহার করুন।
উদাহরণ
মূল রচনা লোকের সঙ্গে মেলামেশা করবার কলাকৌশল সোহিনীর ভালো করেই জানা আছে। মন্মথ চৌধুরী রেবতীর প্রথম দিককার অধ্যাপক। তাঁকে নিলে বশ করে। কিছুদিন চায়ের সঙ্গে রুটিটোস্ট, অমলেট, কখনো বা ইলিশমাছের ডিমের বড়া খাইয়ে কথাটা পাড়লে। বললে, “আপনি হয়তো ভাবছেন আমি আপনাকে বারে বারে চা খেতে ডাকি কেন।” উদ্ধৃতি ‘ল্যাবরেটরি’ গল্পে সোহিনী কীভাবে মন্মথ চৌধুরীকে ‘বশ’ করল তার বর্ণনায় রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন—“লোকের সঙ্গে মেলামেশা করবার কলাকৌশল সোহিনীর ভালো করেই জানা আছে। মন্মথ চৌধুরী রেবতীর প্রথম দিককার অধ্যাপক। তাঁকে নিলে বশ করে। কিছুদিন চায়ের সঙ্গে রুটিটোস্ট, অমলেট, কখনো বা ইলিশমাছের ডিমের বড়া খাইয়ে কথাটা পাড়লে। বললে, ‘আপনি হয়তো ভাবছেন আমি আপনাকে বারে বারে চা খেতে ডাকি কেন।’ ”
৫.১১.৩যদি গৃহীত অংশের পুরোটাই মূল লেখাতে যুগ্ম উদ্ধৃতিচিহ্নের মধ্যে থাকে তাহলে যুগ্ম উদ্ধৃতিচিহ্নের দ্বিত্ব বর্জন করুন।
উদাহরণ
মূল রচনা “আপনি হয়তো ভাবছেন আমি আপনাকে বারে বারে চা খেতে ডাকি কেন।” উদ্ধৃতি সোহিনী বলেছে—“আপনি হয়তো ভাবছেন আমি আপনাকে বারে বারে চা খেতে ডাকি কেন।”
৫.১১.৪যদি গৃহীত অংশের পুরোটাই মূল লেখাতে একক উদ্ধৃতিচিহ্নের মধ্যে থাকে তাহলে একক উদ্ধৃতিচিহ্নটি তুলে দিয়ে যুগ্ম উদ্ধৃতিচিহ্ন ব্যবহার করুন।
উদাহরণ
মূল রচনা ‘আমাদের পাড়ার ছেলে আমি চিনব না!’ উদ্ধৃতি ক্ষুব্ধকন্ঠে সুশীলা বলেছে—“আমাদের পাড়ার ছেলে আমি চিনব না!”
৫.১১.৫দীর্ঘ উদ্ধৃতি ও একাধিক ছত্রের উদ্ধৃতি: উদ্ধৃতি যদি একাধিক ছত্রের হয় বা দীর্ঘ হয় তাহলেও ইনডেন্ট ব্যবহার করবেন না; উদ্ধৃতিচিহ্নের ব্যবহার করুন। মূল রচনার ভেতরে উদ্ধৃতিচিহ্ন যেভাবে আছে তা অবিকৃত রাখুন। এ সংক্রান্ত নিয়মের জন্য ‘ষষ্ঠ অধ্যায়: উদ্ধৃতি ও অন্ত্যটীকা বিন্যাস’ দেখুন।
৫.১১.৬রচনার নামের ক্ষেত্রে (যথা—গ্রন্থনাম, পত্রিকানাম ইত্যাদি) সর্বত্র (মূল রচনায় বা উৎসপঞ্জিতে) একক উদ্ধৃতিচিহ্ন ব্যবহার করুন। এজন্য বক্রাক্ষর ব্যবহার করবেন না। এ বিষয়ে ‘৪.৩.৬.’ সংখ্যক নিয়মটিও অনুসরণ করুন। (একক উদ্ধৃতিচিহ্নের মধ্যে গ্রন্থ, প্রবন্ধ বা রচনার নামটি অবিকৃত রাখুন; কোনো বিভক্তিচিহ্ন যোগ করবেন না। প্রয়োজনে উদ্ধৃতিচিহ্নের পর একটি হাইফেন দিয়ে বিভক্তিটি যোগ করুন।)
উদাহরণ
রবীন্দ্রনাথের একটি বিখ্যাত উপন্যাস ‘চোখের বালি’। ‘চোখের বালি’-র একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র মহেন্দ্র।
৫.১১.৭কোনো একটি শব্দে নজরটান দেবার জন্য নিম্নরেখ (Underline) বা বক্রাক্ষর (Italics) ব্যবহার করবেন না, পরিবর্তে একক উদ্ধৃতিচিহ্নের মধ্যে শব্দটিকে রাখুন।
উদাহরণ
রবীন্দ্রনাথের একটি বিখ্যাত উপন্যাস ‘চোখের বালি’। ‘চোখের বালি’-র একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র মহেন্দ্র। ‘অপরিণত’ এই ‘ক্যাঙারুশাবক’-এর বিপরীতে রবীন্দ্রনাথ রেখেছেন বিহারী-কে।
৫.১২বন্ধনীর ব্যবহার
৫.১২.১অতিরিক্ত বা ব্যাখ্যামূলক তথ্য প্রদানের জন্য: মূল বাক্যের সঙ্গে ব্যাকরণগতভাবে সম্পর্কিত নয়, কিন্তু পাঠকের জন্য প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত তথ্য, ব্যাখ্যা, মন্তব্য বা সম্পূরক তথ্য যুক্ত করতে প্রথম বন্ধনী ব্যবহার করা যেতে পারে।
উদাহরণ
(১) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৭৬–১৯৩৮) বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক। (২) সভাটি আগামী সোমবার (যদি আবহাওয়া অনুকূলে থাকে) অনুষ্ঠিত হবে। (৩) তিনি অবশেষে প্রস্তাবটি গ্রহণ করেন (যদিও শুরুতে আপত্তি করেছিলেন)।
৫.১২.২অনুবাদ বা শব্দার্থ বোঝাতে: মূল লেখায় কোনো বিদেশি, দুর্লভ বা অপরিচিত শব্দের অর্থ, অনুবাদ বা ব্যাখ্যা সংক্ষেপে জানাতে প্রথম বন্ধনী ব্যবহার করুন।
উদাহরণ
Lingua franca (যোগাযোগের সাধারণ ভাষা) হিসেবে ইংরেজি বহুল ব্যবহৃত।
৫.১২.৩তালিকার ক্রমিক সংখ্যা/বর্ণ নির্দেশে: মূল অনুচ্ছেদের মধ্যে কোনো তালিকা উপস্থাপন করলে, বা যে-কোনো তালিকার ক্রমানুসারে সাজানোর জন্য, অন্ত্যটীকা বা তথ্যসূত্রের ক্রম নির্দেশ করার জন্য প্রতিটি ক্রমিক সংখ্যা/বর্ণ প্রথম বন্ধনীর মধ্যে লেখা হয়।
উদাহরণ ১
গবেষণার প্রধান উদ্দেশ্য তিনটি—(ক) তথ্য সংগ্রহ, (খ) তথ্য বিশ্লেষণ এবং (গ) ফলাফল উপস্থাপন।
উদাহরণ ২
উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলি হল—(১) অসম, (২) অরুণাচল প্রদেশ, (৩) মেঘালয়, (৪) মণিপুর, (৫) মিজোরাম, (৬) নাগাল্যান্ড, (৭) ত্রিপুরা এবং (৮) সিকিম।
৫.১২.৪উদ্ধৃতির ভেতরে সম্পাদকের সংযোজন: কোনো উদ্ধৃতির মধ্যে সম্পাদকের/লেখকের নিজস্ব সংযোজন, ব্যাখ্যা, অনুবাদ, সর্বনাম স্পষ্টীকরণ বা ভুল নির্দেশ করতে তৃতীয় বন্ধনী ব্যবহার করা হয়।
উদাহরণ
(১) রবিজীবনীকারের দেওয়া তথ্য অনুসারে—“তিনি [রবীন্দ্রনাথ] তখন কলকাতায় অবস্থান করছিলেন।” (২) তিনি লিখেছেন—“চর্যাপদের ভাষা আসলে বাংলারই প্রাচিন [যৎ] রূপ মাত্র।” (‘যৎ’ হল ‘যদ্দৃষ্টং’-এর সংক্ষেপণ) (৩) তিনি জানিয়েছেন—“এই সিদ্ধান্ত [অর্থাৎ কমিটির সিদ্ধান্ত] সবাই মেনে নিয়েছিলেন।”
৫.১২.৫সন্দেহ বা বিস্ময় প্রকাশে: বাক্যের অন্তর্গত কোনো উক্তি বা শব্দ সম্পর্কে সন্দেহ বা বিস্ময় থাকলে প্রশ্নচিহ্ন বা বিস্ময়চিহ্নকে প্রথম বন্ধনীর ভেতর রাখা হয়।
উদাহরণ
শোনা গেছে যে, সভায় মাত্র দু’হাজার লোক (!) হয়েছিল।
৫.১২.৬উচ্চারণ বা ধ্বনি বোঝাতে: ভাষাতত্ত্বে বা ধ্বনিতত্ত্বে আন্তর্জাতিক রীতি অনুসারে কোনো শব্দের উচ্চারণ বা ধ্বনি বোঝাতে তৃতীয় বন্ধনী ব্যবহৃত হয়। যেমন—রাম [ra:m]
৫.১২.৭ব্যুৎপত্তি নির্দেশে: বিভিন্ন বাংলা ও ইংরেজি অভিধানে শব্দের ব্যুৎপত্তি বা ব্যুৎপত্তিগত অর্থ নির্দেশের জন্য প্রথম ও তৃতীয় বন্ধনী ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ
চর্চা বি. আলোচনা; অনুশীলন। [সং (চর্চ্ + অ + আ)]
৫.১৩অনুবাক্য বা গর্ভিত বাক্যের যতিচিহ্ন (প্যারেনথিসিস)
মূল বাক্যের ব্যাকরণগত কাঠামো অক্ষুণ্ণ রেখে তার মধ্যে অতিরিক্ত তথ্য, ব্যাখ্যা, মন্তব্য, সংশোধন বা সম্পূরক বক্তব্য সন্নিবেশ করা হলে তাকে অনুবাক্য বা গর্ভিত বাক্য (parenthetical expression) বলা হয়। এ ধরনের অংশ বাদ দিলেও মূল বাক্যের অর্থ ও ব্যাকরণগত গঠন অক্ষুণ্ণ থাকে। অনুবাক্য বা গর্ভিত বাক্যের যতিচিহ্ন প্রসঙ্গে এই নির্দেশিকার নানা স্থানে আলোচনা করা হয়েছে। এখানে সব নিয়মগুলি উল্লেখ ও ব্যাখ্যা করা হল।
৫.১৩.১গর্ভিত বাক্য তিনভাবে প্রকাশ করা যায়:
কমা (,)
ড্যাশ (—)
প্রথম বন্ধনী ( )
এগুলির মধ্যে কোনটি ব্যবহার করবেন, তা নির্ভর করে গর্ভিত অংশটির গুরুত্ব ও বাক্যের প্রবাহের ওপর।
উদাহরণ (কমা)
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি, ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
উদাহরণ (ড্যাশ)
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর—বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি—১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
উদাহরণ (বন্ধনী)
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি) ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
৫.১৩.২প্রথম বন্ধনীর ব্যবহার: গর্ভিত অংশটি মূল বক্তব্যের জন্য অপরিহার্য না হলে এবং কেবল অতিরিক্ত তথ্য হিসেবে যুক্ত হলে প্রথম বন্ধনী ব্যবহার করা উচিত। এতে মূল বাক্যের প্রবাহ ব্যাহত হয় না এবং পাঠক সহজেই বুঝতে পারেন যে অংশটি সম্পূরক তথ্য। বাক্যের শেষে প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত তথ্য, ব্যাখ্যা, মন্তব্য বা সম্পূরক তথ্য যুক্ত করতে প্রথম বন্ধনী ব্যবহার করা উচিত।
উদাহরণ
(১) বইটি (প্রথম সংস্করণ ১৯৮৮ সালে প্রকাশিত) এখন আর বাজারে পাওয়া যায় না। (২) সভাটি (যদি আবহাওয়া অনুকূলে থাকে) আগামী সোমবার অনুষ্ঠিত হবে। (৩) তিনি অবশেষে প্রস্তাবটি গ্রহণ করেন (যদিও শুরুতে আপত্তি করেছিলেন)।
৫.১৩.৩কমা/ ড্যাশ ও বন্ধনীর পার্থক্য: কমা বা ড্যাশ দিয়ে পৃথক করা গর্ভিত অংশ সাধারণত বাক্যের সঙ্গে অপেক্ষাকৃত নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত থাকে। মূলত তা পূর্ণবাক্য হয় না। পক্ষান্তরে প্রথম বন্ধনী ব্যবহার করলে বোঝায় যে তথ্যটি সম্পূরক বা পার্শ্বতথ্য; মূল বক্তব্য বুঝতে এটি অপরিহার্য নয় এবং পূর্ণবাক্যের ক্ষেত্রে প্রথম বন্ধনী বেশি উপযোগী।
উদাহরণ
(১) বইটি, গত বছর প্রকাশিত, এখন আর পাওয়া যায় না। (২) বইটি (গত বছর প্রকাশিত) ইতিমধ্যে দ্বিতীয় মুদ্রণে পৌঁছেছে।
৫.১৩.৪কমা ও ড্যাশের ব্যবহারক্ষেত্র: মূল বাক্যের মধ্যে একটি গর্ভিত বাক্য ব্যবহার করতে গিয়ে যদি দেখা যায় গর্ভিত বাক্যটি মূল বাক্যের সঙ্গে অপেক্ষাকৃত নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত এবং মূল বাক্যের মধ্যে বা গর্ভিত বাক্যের কমার ব্যবহার রয়েছে তাহলে গর্ভিত বাক্যটি বিশেষভাবে চিহ্নিত করার জন্য ড্যাশ চিহ্ন-ই ব্যবহার করতে হবে।
উদাহরণ
(১) সমস্যা: সভাপতি, যিনি নির্ধারিত সময়ের কিছু পরে পৌঁছান, উপস্থিত সদস্যদের স্বাগত জানিয়ে, সভার কার্যক্রম শুরু করেন। (এই উদাহরণে গর্ভিত বাক্যটি চিহ্নিত করা মুশকিল।) (২) সমাধান: সভাপতি—যিনি নির্ধারিত সময়ের কিছু পরে পৌঁছান—উপস্থিত সদস্যদের স্বাগত জানিয়ে সভার কার্যক্রম শুরু করেন। (এই উদাহরণে গর্ভিত বাক্যটি চিহ্নিত করা সহজ।) একইভাবে যদি মূল বাক্য বা গর্ভিত বাক্যে ড্যাশের উপস্থিতির জন্য গর্ভিত বাক্যটি চিহ্নিত করতে সমস্যা হয়, তাহলে বিকল্প হিসেবে কমা ব্যবহার করুন। যদি ড্যাশ ও কমা দুই-এর উপস্থিতির জন্য গর্ভিত বাক্যটি চিহ্নিত করতে সমস্যা হয়, তাহলে অপেক্ষাকৃত নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত হওয়া সত্ত্বেও গর্ভিত বাক্যে প্রথম বন্ধনী ব্যবহার করতে পারেন।
৫.১৩.৫গর্ভিত বাক্যের দৈর্ঘ্য: গর্ভিত বাক্যটি যথাসম্ভব সংক্ষিপ্ত রাখা উচিত। যদি তা দীর্ঘ হয়ে যায়, তবে সেটিকে পৃথক বাক্য বা পৃথক অনুচ্ছেদে রূপান্তর করাই ভালো।
৫.১৩.৬বন্ধনীর ভেতরে বন্ধনী: প্রথম বন্ধনীর মধ্যে আবার কোনো বন্ধনী ব্যবহার করতে হলে ভেতরের বন্ধনী হিসেবে তৃতীয় বন্ধনী [ ] ব্যবহার করা উচিত।
উদাহরণ
লেখক দ্বিতীয় অধ্যায়ে (দ্বিতীয় সংস্করণে [২০২৬] এই অধ্যায়টি পুনর্লিখন করেছেন) অনেক নতুন তথ্য, ব্যাখ্যা-সহযোগে যুক্ত করেছেন। তবে এই জাতীয় ব্যবহার যথাসম্ভব এড়িয়ে চলুন। যেমন এই বাক্যটিকে অনায়াসে এভাবে লেখা সম্ভব: লেখক দ্বিতীয় অধ্যায়ে (২০২৬ সালের দ্বিতীয় সংস্করণে এই অধ্যায়টি পুনর্লিখন করেছেন) অনেক নতুন তথ্য, ব্যাখ্যা-সহযোগে যুক্ত করেছেন।
৫.১৪বিন্দুচিহ্নের ব্যবহার
৫.১৪.১একবিন্দু বা ডট (.): একবিন্দু বা ডট (.) প্রধানত সংক্ষেপণ, দশমিক সংখ্যা, ক্রমিক সংখ্যা এবং বিশেষ সংখ্যাগত প্রকাশে ব্যবহৃত হয়। বাংলা ও ইংরেজিতে এর ব্যবহার সর্বাংশে এক নয়; তাই ভাষাভেদে প্রচলিত রীতি অনুসরণ করা উচিত।
৫.১৪.২সংক্ষিপ্ত শব্দ ও উপাধিতে: কোনো উপাধি বা প্রচলিত সংক্ষিপ্ত রূপ প্রকাশে ডট ব্যবহার করা হয়। যেমন: ‘ড.’। তবে বাংলা লেখায় আদ্যক্ষর বা বিদেশি ডিগ্রির সংক্ষেপণে অপ্রয়োজনীয়ভাবে ডট ব্যবহার না করাই শ্রেয়। যেমন: পিএইচডি, বিএ, এমএ।
৫.১৪.৩দশমিক সংখ্যা ও সংখ্যাগত প্রকাশে: দশমিক সংখ্যা, সময়ের নির্দিষ্ট রূপ এবং অর্থের দশমিক অংশ প্রকাশে ডট ব্যবহৃত হয়। যেমন: ৭.৪৫ মিনিট।
৫.১৪.৪তালিকা ও অধ্যায় নম্বরে: ক্রমিক সংখ্যা, তালিকার নম্বর এবং অধ্যায় বা উপধারার সংখ্যাগত বিভাজনে ডট ব্যবহার করা হয়। যেমন: ৫.১৩.২. বা ১. > ২. > ৩. ইত্যাদি।
৫.১৪.৫ইংরেজি সংক্ষিপ্ত রূপে: ইংরেজিতে ছোট হাতের অক্ষরে লেখা সংক্ষিপ্ত শব্দের শেষে সাধারণত ডট ব্যবহৃত হয়; তবে বড় হাতের অক্ষরে লেখা সংক্ষেপণ বা অধিকাংশ আধুনিক ডিগ্রির ক্ষেত্রে ডট ব্যবহৃত হয় না। যেমন: vol. কিন্তু CEO।
৫.১৪.৬গণিতে ডটের ব্যবহার: গণিতে ডট দশমিক চিহ্ন এবং গুণ নির্দেশক কেন্দ্রস্থিত বিন্দু (·) হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যেমন: ০.৭৩।
৫.১৪.৭বাংলা ছন্দের আলোচনায় অনুযতি বোঝাতে বিন্দুচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ
মুদ্রিত ছত্র: সারা শরীর জুড়ে তোমার বিষ পিঁপড়ে ছড়িয়ে দিলুম আস্তে যেমন জামরুলে ঐ নীল ভিজানো গাছের ছালে ছন্দযতি: সা . রা : শ. রীর | জু . ড়ে : তো . মার || বিষ : পিঁপ . ড়ে | ছড় . ইয়ে : দি . লুম I আস . তে : যে . মন | জাম . রু . লে : ঐ || নীল : ভি . জা . নো | গা . ছের : ছা . লে I
৫.১৪.৮ত্রিবিন্দু (⋯/...): ত্রিবিন্দু (⋯/...) মূলত কোনো শব্দ, বাক্যাংশ বা বাক্যের অংশ বর্জিত হয়েছে, অথবা বক্তব্য অসমাপ্ত রয়েছে—এমন অবস্থা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
৫.১৪.৯ত্রিবিন্দুর রূপ (⋯/...): ইংরেজিতে বর্জনচিহ্ন হিসেবে যে ত্রিবিন্দুর ব্যবহার হয় তাকে বলে অনুভূমিক ত্রিবিন্দু (Horizontal Ellipsis; U+2026)। গদ্যে বর্জনচিহ্নের এটিই মান্য রূপ। গাণিতিক প্রতীক হিসেবে মধ্যরেখাস্থ অনুভূমিক ত্রিবিন্দুর (Midline Horizontal Ellipsis; U+22EF) ব্যবহার সুপ্রচলিত। ইংরেজি গদ্যে বর্জনচিহ্ন হিসেবে এর ব্যবহার অশুদ্ধ। আমরাও বর্জনচিহ্ন হিসেবে অনুভূমিক ত্রিবিন্দু (Horizontal Ellipsis; U+2026) ব্যবহারের পক্ষে।
উদাহরণ
(১) সম্পূর্ণ উদ্ধৃতি: শরৎচন্দ্র লিখেছেন—“নারীত্বের মূল্য কি? অর্থাৎ, কি পরিমাণে তিনি সেবাপরায়ণা, স্নেহশীলা, সতী এবং দুঃখে কষ্টে মৌনা। অর্থাৎ, তাঁহাকে লইয়া কি পরিমাণে মানুষের সুখ ও সুবিধা ঘটিবে। এবং কি পরিমাণে তিনি রূপসী! অর্থাৎ পুরুষের লালসা ও প্রবৃত্তিকে কতটা পরিমাণে তিনি নিবদ্ধ ও তৃপ্ত রাখিতে পারিবেন।” (২) উদ্ধৃতির অংশ বর্জন ও মধ্যরেখাস্থ অনুভূমিক ত্রিবিন্দুর (Midline Horizontal Ellipsis) ব্যবহার: শরৎচন্দ্র লিখেছেন—“নারীত্বের মূল্য কি? অর্থাৎ, কি পরিমাণে তিনি সেবাপরায়ণা, স্নেহশীলা, সতী এবং দুঃখে কষ্টে মৌনা⋯ এবং কি পরিমাণে তিনি রূপসী! অর্থাৎ পুরুষের লালসা ও প্রবৃত্তিকে কতটা পরিমাণে তিনি নিবদ্ধ ও তৃপ্ত রাখিতে পারিবেন।” (৩) উদ্ধৃতির অংশ বর্জন ও অনুভূমিক ত্রিবিন্দুর ব্যবহার (Horizontal Ellipsis): শরৎচন্দ্র লিখেছেন—“নারীত্বের মূল্য কি? অর্থাৎ, কি পরিমাণে তিনি সেবাপরায়ণা, স্নেহশীলা, সতী এবং দুঃখে কষ্টে মৌনা... এবং কি পরিমাণে তিনি রূপসী! অর্থাৎ পুরুষের লালসা ও প্রবৃত্তিকে কতটা পরিমাণে তিনি নিবদ্ধ ও তৃপ্ত রাখিতে পারিবেন।” বর্জনচিহ্নের এই রূপটিই (তৃতীয় নমুনা) আমরা ব্যবহার করব।
৫.১৪.১০অসমাপ্তিসূচক ত্রিবিন্দু (Suspension points): কোনো বক্তব্য, চিন্তা বা বাক্য যদি অসমাপ্ত থেকে যায় (ইচ্ছাকৃতভাবে বা অনিচ্ছাকৃতভাবে) তখন তা নির্দেশ করার জন্যও ত্রিবিন্দু ব্যবহৃত হয়। ‘অসমাপ্তিসূচক ত্রিবিন্দু’ এবং ‘বর্জনচিহ্ন’ একইরকম দেখতে; যদিও এই দুই ব্যবহারের উদ্দেশ্য ভিন্ন। এক্ষেত্রেও আমরা মধ্যরেখাস্থ অনুভূমিক ত্রিবিন্দু (Horizontal Ellipsis; U+2026) ব্যবহার করব।
উদাহরণ
আমি তো ভেবেছিলাম তুমি...
৫.১৪.১১গাণিতিক প্রতীক হিসেবে মধ্যরেখাস্থ অনুভূমিক ত্রিবিন্দুর (Midline Horizontal Ellipsis; U+22EF) ব্যবহার করা যেতে পারে।
৫.১৫বক্রাক্ষর (ইটালিকস): যদি মূল লেখার মধ্যে বা উদ্ধৃতির মধ্যে কোনো একটি বাক্যাংশ, শব্দগুচ্ছের দিকে লেখক পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চান তাহলে সে অংশটির জন্য তিনি বক্রাক্ষর ব্যবহার করবেন। এজন্য নিম্নরেখ (underline) বা মোটা হরফ (bold) ব্যবহার করবেন না। একটি শব্দে নজরটান দেবার জন্য একক উদ্ধৃতিচিহ্ন ব্যবহার করতে হবে, এক্ষেত্রে বক্রাক্ষর ব্যবহৃত হবে না। এছাড়া অন্য কোনো ক্ষেত্রে বক্রাক্ষর ব্যবহার করবেন না।
উদ্ধৃতির মধ্যে বক্রাক্ষর ব্যবহার করলে তৃতীয় বন্ধনীর মধ্যে ‘বক্রাক্ষর সংযোজিত’ কথাটি উল্লেখ করতে হবে।
উদাহরণ
শরৎচন্দ্র লিখেছেন—“নারীত্বের মূল্য কি? অর্থাৎ, কি পরিমাণে তিনি সেবাপরায়ণা, স্নেহশীলা, সতী এবং দুঃখে কষ্টে মৌনা। অর্থাৎ, তাঁহাকে লইয়া কি পরিমাণে মানুষের সুখ ও সুবিধা ঘটিবে। এবং কি পরিমাণে তিনি রূপসী! অর্থাৎ পুরুষের লালসা ও প্রবৃত্তিকে কতটা পরিমাণে তিনি নিবদ্ধ ও তৃপ্ত রাখিতে পারিবেন।” [বক্রাক্ষর সংযোজিত]
৫.১৬কোলন ড্যাশ: বাংলায় কোলন-ড্যাশের ব্যবহার অত্যন্ত সীমিত। মূলত যেখানে কোলনকে ড্যাশের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যায়, কেবল সেখানেই এটি বসতে পারে। প্রধানত কোনো তালিকা (list) উপস্থাপন করতে বা উদাহরণ (যথা) দিতে এর ব্যবহার দেখা যায়। তবে আমরা এর ব্যবহারের পক্ষে নেই।
৫.১৭একক ও দ্বৈত উল্লম্ব দণ্ড: একক উল্লম্ব দণ্ডটি (|) বাংলা পূ্র্ণচ্ছেদের বা এক দাঁড়ির (।) তুলনায় লম্বা; দ্বৈত উল্লম্ব দণ্ডটি দুই দাঁড়ি-র (॥) তুলনায় লম্বা (||)। একক ও দ্বৈত উল্লম্ব দণ্ড দুটি যথাক্রমে বাংলা ছন্দের লঘুযতি ও অর্ধযতি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ
মুদ্রিত ছত্র: সারা শরীর জুড়ে তোমার বিষ পিঁপড়ে ছড়িয়ে দিলুম আস্তে যেমন জামরুলে ঐ নীল ভিজানো গাছের ছালে ছন্দযতি: সা . রা : শ. রীর | জু . ড়ে : তো . মার || বিষ : পিঁপ . ড়ে | ছড় . ইয়ে : দি . লুম I আস . তে : যে . মন | জাম . রু . লে : ঐ || নীল : ভি . জা . নো | গা . ছের : ছা . লে I
৫.১৮ইংরেজি ‘আই’-এর মতো উল্লম্ব দণ্ড: এই চিহ্নটি (‘I’) বাংলা ছন্দের পঙ্ক্তিযতি দেখানোর জন্য ব্যবহৃত হয়। (৫.১৬-র উদাহরণটি দেখুন।) এই চিহ্নটি আসলে একক উল্লম্ব দণ্ডের উচ্চতার সমান; উপরে-নিচে অনুভূমিক মাত্রা থাকবে। ইংরেজি ‘আই’-এর মতো দেখতে এই চিহ্নটির কোনো ইউনিকোড রূপ এখনও নেই। বিকল্প হিসেবে ইংরেজি ‘আই’ ব্যবহার করুন।
৫.১৯বিকল্পচিহ্ন
৫.১৯.১সম্পর্কিত বা নিকট-সম্বন্ধযুক্ত এক বা একাধিক শব্দের বিবৃতিতে বিকল্পচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। কোনো নির্দেশিকায় ঠিক শব্দ বা শব্দগুচ্ছ বেছে নিতে (যেমন: প্রাপ্ত/সীমা, অন্য/অন্ন, নতুন/পুরোনো) কিংবা ‘অথবা’ (or) অর্থে বিকল্প বোঝাতে (যেমন: ছেলে/মেয়ে, স্কুল/কলেজ) এর প্রয়োগ দেখা যায়। দুটি শব্দের মাঝে বিকল্পচিহ্ন ব্যবহার করার পর সাধারণত ফাঁক (স্পেস) ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই। তবে একাধিক শব্দে গঠিত দুটি বাক্যাংশ বা শব্দগুচ্ছের মধ্যে বিকল্পচিহ্ন ব্যবহারের পর একটি ফাঁক (স্পেস) ব্যবহার করা ভালো।
৫.১৯.২কবিতার ছত্রভাগ বোঝাতে: গদ্য রচনার মধ্যে কবিতার অংশ উদ্ধৃত করার প্রয়োজন হলে, এক ছত্র থেকে অন্য ছত্রকে (পঙ্ক্তি নয়) আলাদা করে বোঝানোর জন্য বিকল্পচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। ইংরেজিতে অনেক সময় উল্লম্ব রেখা ব্যবহার করা হলেও, বাংলায় তির্যক দণ্ড বা হেলানো রেখাই (solidus) ব্যবহৃত হয়। এক্ষেত্রে প্রতিটি ছত্রের পর বিকল্পচিহ্ন ব্যবহারের পর একটি করে ফাঁক (স্পেস) ব্যবহার করতে হবে।
উদাহরণ
রবীন্দ্রনাথ তাঁর ‘চিত্রা’ কাব্যগ্রন্থের ‘জীবনদেবতা’ শীর্ষক কবিতায় লিখেছেন—“কী দেখিছ, বঁধু, মরমমাঝারে/ রাখিয়া নয়ন দুটি।/ করেছ কি ক্ষমা যতেক আমার/ স্খলন পতন ত্রুটি।/ পূজাহীন দিন সেবাহীন রাত/ কত বারবার ফিরে গেছে নাথ,/ অর্ঘ্যকুসুম ঝরে পড়ে গেছে/ বিজন বিপিনে ফুটি।/ যে সুরে বাঁধিলে এ বীণার তার/ নামিয়া নামিয়া গেছে বারবার—/ হে কবি, তোমার রচিত রাগিণী/ আমি কি গাহিতে পারি।”
৫.১৯.৩ভগ্নাংশ প্রকাশ করতে: গাণিতিক ক্ষেত্রে বা সাধারণ লেখায় ভগ্নাংশ প্রকাশ করতে এই চিহ্ন ব্যবহার করবেন না। তার বদলে দশমিক ব্যবহার করুন।
৫.১৯.৪ধ্বনিমূল (Phoneme) চিহ্নিত করতে: ভাষাবিজ্ঞানে ধ্বনিতত্ত্বের আলোচনায় ফোনিম বা ধ্বনিমূলকে দুটি বিকল্পচিহ্নের মধ্যে রাখাই স্বীকৃত আন্তর্জাতিক রীতি। (যেমন: /k/, /p/, /ক/, /প/ বা একাধিক ফোনিমের ক্ষেত্রে /তাপ/)।
৫.১৯.৫উচ্চারণ নির্দেশে: কোনো কোনো অভিধানে শব্দের উচ্চারণ নির্দেশে তৃতীয় বন্ধনীর (square brackets) বদলে দুটি বিকল্পচিহ্ন ব্যবহৃত হয় (যেমন: বঙ্কিমচন্দ্র /বোঙ্কিমচন্দ্রো/)।
৫.১৯.৬সময়কাল বা পরপর দুটি বছর বোঝাতে: পরপর দুটি বছর বা কোনো নির্দিষ্ট সময়কালে ‘অথবা’ বোঝাতে বিকল্পচিহ্ন ব্যবহার করতে পারেন। যেমন: ১৯৬৬/৬৭। কিন্তু বিস্তৃতি বোঝাতে বিকল্পচিহ্ন ব্যবহার করবেন না, এন ড্যাশ (En Dash) ব্যবহার করুন। যেমন: ১৯১৭–২১।
৫.১৯.৭একক বোঝাতে: কোনো কিছুর হার (per) বোঝাতে বিকল্পচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। যেমন: ১১০ কিমি/ঘন্টা।
৫.২০উল্লেখচিহ্ন
উল্লেখচিহ্ন হিসেবে পাদটীকার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র একটি বা দুটি তারকাচিহ্ন (* বা **) ব্যবহার করতে পারেন। তবে ওয়েবপৃষ্ঠার ক্ষেত্রে ‘পাদটীকা’-র ব্যবহার সুবিধেজনক নয়, তাই একটি বা দুটি অন্ত্যটীকা থাকলে তবেই তারকাচিহ্ন ব্যবহার করা যেতে পারে। দুয়ের বেশি টীকা হলে, তা ক্রমানুসারে সংখ্যাচিহ্নিত করাই ভালো।
ষষ্ঠ অধ্যায়
উল্লেখপঞ্জির নিয়ম
(উদ্ধৃতি ও অন্ত্যটীকার উৎস-পরিচয়ের বিন্যাস সংক্রান্ত নিয়ম)
গবেষণামূলক রচনা বা যে-কোনো গুরুভার প্রবন্ধের পাদটীকায় বা অন্ত্যটীকায় তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা ও পাঠকের যাচাইয়ের সুবিধার জন্য তথ্যসূত্রের তালিকা সংযোজন করা হয়। আবার প্রবন্ধের শেষে লেখক এমন কিছু মন্তব্য, উদ্ধৃতি বা তথ্যও উল্লেখ করতে পারেন যা প্রসঙ্গসূত্র ও লেখার গতি অবিচ্ছিন্ন রাখার জন্য মূল লেখার মধ্যে দেওয়া যায় নি। সুতরাং এই জাতীয় অতিরিক্ত তথ্য, উদ্ধৃতি নিয়ে যে ‘টীকা’ তাকে আমরা বলছি অন্ত্যটীকা (বৈদ্যুতিন পত্রিকায় পাদটীকা উপযোগী নয়, তবে মুদ্রিত গ্রন্থের ক্ষেত্রে অন্ত্যটীকার বদলে পাদটীকাও ব্যবহার করা যেতে পারে)। (১) অন্ত্যটীকা, এবং (২) মূল লেখার মধ্যে ব্যবহৃত কোনো উদ্ধৃতি, তথ্য বা ব্যাখ্যা; যার উৎসনির্দেশ করা প্রয়োজন এই দুই মিলেই উল্লেখপঞ্জি। এমন হতেই পারে, উল্লেখপঞ্জি-তে কোনো অন্ত্যটীকা ব্যবহারের প্রয়োজন হলো না, শুধু উৎসনির্দেশই করা হল সেক্ষেত্রেও আমরা রচনার শেষে সংযোজিত এই পঞ্জিটিকে উল্লেখপঞ্জি-ই বলব। তথ্যসূত্রপঞ্জি বা সংক্ষেপে তথ্যসূত্রও বলা চলতে পারে। কিন্তু উল্লেখপঞ্জি এবং উৎসপঞ্জি এক নয়; এই দুই-এর উদ্দেশ্য ও পরিধিতে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। উল্লেখপঞ্জি হল ‘Notes and References’ বা ‘List of References’-এর মধ্যে হয় যে-কোনো একটা বা দুটোই।
মূল রচনায় বা টীকায় যে উৎস (গ্রন্থ, প্রবন্ধ, গবেষণাপত্র, নথি ইত্যাদি) থেকে সরাসরি তথ্য, ব্যাখ্যা বা উদ্ধৃতি গ্রহণ করা হয়েছে উল্লেখপঞ্জিতে শুধু সেটুকুই থাকে। কিন্তু উৎসপঞ্জির পরিসর আরো বড়ো। যা সরাসরি লেখকের মূল লেখায় নেই কিন্তু লেখার বা গবেষণার পটভূমি নির্মাণে সহায়ক হয়েছে এমন সব গ্রন্থ ও উপকরণও উৎসপঞ্জি (ইংরেজি: Bibliography)-র অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ উৎসপঞ্জির মধ্যে এমন অনেক উৎস থাকতে পারে, যেগুলি থেকে কোনো প্রত্যক্ষ উদ্ধৃতি বা তথ্য মূল লেখায় ব্যবহৃত হয়নি। উৎসপঞ্জি লেখকের গবেষণার বিস্তৃত পরিধি ও পঠনের পরিচয় বহন করে।
‘উল্লেখপঞ্জি’-তে উল্লেখের ক্রম অনুসারে সংখ্যাসূচকের সাহায্যে উৎসগুলিকে চিহ্নিত করা হয় এবং সেই ধারাবাহিক ক্রমে তা সজ্জিত থাকে। কিন্তু ‘উৎসপঞ্জি’-তে উৎস-পরিচয় থাকে বর্ণানুক্রমিকভাবে।
৬.১অন্ত্যটীকা ব্যবহারের নিয়মাবলি ও তার ব্যতিক্রম
৬.১.১অন্ত্যটীকার ব্যবহার: ‘সমান্তর’ বা ‘অন্যপাতা’-র লেখার জন্য শুধু অন্ত্যটীকাই (Endnote) ব্যবহার করতে হবে; পাদটীকা (Footnote) ব্যবহার করা যাবে না। মূল রচনার শেষে ‘উল্লেখপঞ্জি’ শিরোনামে (বা তথ্যসূত্র/ তথ্যপঞ্জি) সব টীকা ও উৎসনির্দেশ ধারাবাহিক ক্রমে সন্নিবেশিত থাকবে।
৬.১.২উল্লেখপঞ্জির সংখ্যাক্রম: অন্ত্যটীকা ও উৎসনির্দেশ করার জন্য উল্লেখপঞ্জিটি প্রথম বন্ধনীর মধ্যে ধারাবাহিক আরবি সংখ্যা দিয়ে চিহ্নিত করতে হবে। যেমন: (১), (২), (৩)⋯।
৬.১.৩মূল রচনায় শীর্ষলিখন পদ্ধতিতে টীকাচিহ্নের ব্যবহার: মূল রচনার মধ্যে অন্ত্যটীকা নির্দেশ করার জন্য শীর্ষলিখন (Superscript) পদ্ধতি ব্যবহার করা যেতে পারে। শীর্ষলেখনের জন্য বাংলা সংখ্যাচিহ্ন ব্যবহার করতে হবে।
উদাহরণ
ভারতীয় শাস্ত্রকারগণ নাটককে কাব্যেরই একটি অঙ্গ হিসাবে বিচার করেছেন। তাঁদের মতে নাটক হল দৃশ্যকাব্য। মহাকাব্য, খণ্ডকাব্য, চম্পুকাব্য ইত্যাদি যেমন শ্রব্যকাব্য১২, নাটক তেমনি দৃশ্যকাব্য। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্ত্যটীকা রচনার শেষে থাকবে।
৬.১.৪মূল রচনায় পার্শ্বলিখন পদ্ধতিতে টীকাচিহ্নের ব্যবহার: মূল রচনার মধ্যে অন্ত্যটীকা নির্দেশ করার জন্য শীর্ষলিখন (Superscript) পদ্ধতির বদলে পার্শ্বলিখন পদ্ধতিও ব্যবহার করা যেতে পারে। পার্শ্বলেখনের জন্য প্রথম বন্ধনীর মধ্যে দ্রষ্টব্যের সংক্ষেপিত রূপ দ্র. লিখে তারপর ধারাবাহিকভাবে বাংলা সংখ্যাচিহ্ন ব্যবহার করতে পারেন।
উদাহরণ
ভারতীয় শাস্ত্রকারগণ নাটককে কাব্যেরই একটি অঙ্গ হিসাবে বিচার করেছেন। তাঁদের মতে নাটক হল দৃশ্যকাব্য। মহাকাব্য, খণ্ডকাব্য, চম্পুকাব্য ইত্যাদি যেমন শ্রব্যকাব্য (দ্র. ১২) নাটক তেমনি দৃশ্যকাব্য। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্ত্যটীকা রচনার শেষে থাকবে।
৬.১.৫অন্ত্যটীকা ও উৎসনির্দেশের মিশ্র তালিকা: শুধু অন্ত্যটীকা, অন্ত্যটীকা ও উৎসনির্দেশ অথবা শুধু উৎসনির্দেশ সবই ধারাবাহিকভাবে সংখ্যাক্রমচিহ্নিত হয়ে একটি মিশ্র তালিকা হিসেবে রচনার শেষে সন্নিবিষ্ট হবে। এই তালিকাটিকেই আমরা ‘উল্লেখপঞ্জি’ শিরোনাম-চিহ্নিত করছি।
৬.১.৬উৎসপঞ্জি: আমরা আগেই বলেছি, উল্লেখপঞ্জি আর উৎসপঞ্জি এক নয়। ‘সমান্তর’ বা ‘অন্যপাতা’-র প্রকাশিতব্য লেখার জন্য কোনো পৃথক উৎসপঞ্জি তৈরি করার প্রয়োজন নেই। তবে যদি এই উৎসনির্দেশ ও অন্ত্যটীকাপদ্ধতি-টি অন্য কোনো ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে চান তবে গ্রন্থের ক্ষেত্রে প্রতি অধ্যায়ের শেষে পৃথক পৃথক উল্লেখপঞ্জি অথবা একেবারে শেষে অধ্যায়ের শিরোনাম উল্লেখ করে প্রতি অধ্যায়ের পৃথক উল্লেখপঞ্জি তৈরি করতে পারেন এবং সবশেষে নামের বর্ণানুক্রমে (অভিধানের মতো) পৃথক উৎসপঞ্জি দিতে পারেন। প্রবন্ধের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখপঞ্জি ও একটি উৎসপঞ্জি ব্যবহার করতে পারেন।
৬.১.৭অন্ত্যটীকার ব্যবহারক্ষেত্র: মূল আলোচনার পক্ষে অপরিহার্য নয় অথচ প্রাসঙ্গিক ও পরিপূরক সংজ্ঞা, তথ্য, উদ্ধৃতি, পরিসংখ্যান বা মন্তব্য সংযোজন করার জন্য; মূল আলোচনায় উল্লেখ করা কোনো গ্রন্থ, প্রবন্ধ বা অন্য উৎস সম্পর্কে অতিরিক্ত ব্যাখ্যা বা মন্তব্য সংযোজন করার জন্য; উদ্ধৃতির বা উল্লেখের উৎসনির্দেশ করার জন্য এবং ঋণস্বীকার বা কৃতজ্ঞতাস্বীকার করার জন্য অন্ত্যটীকা ব্যবহার করুন।
৬.১.৮অন্ত্যটীকার ব্যতিক্রম: ক্ষেত্রবিশেষে অন্ত্যটীকার বদলে মূল লেখার মধ্যে উৎসনির্দেশ করা যেতে পারে। যেমন, প্রাচীন গ্রন্থের ক্ষেত্রে অন্ত্যটীকায় উৎসনির্দেশ না করে মূল রচনাতেই (intext citation) উৎসনির্দেশ করা যেতে পারে।
উদাহরণ
বিকল্প ১: ‘রামায়ণ’ থেকেই এর সূচনা (আরণ্য ১৫|১৭; কিষ্কিন্ধ্যা ২৭|১৮, ৪০|৪৬, ৫০|১৫)। বিকল্প ২: ‘রামায়ণ’ থেকেই এর সূচনা (আরণ্য ১৫:১৭; কিষ্কিন্ধ্যা ২৭:১৮, ৪০:৪৬, ৫০:১৫)।
আরণ্য ১৫:১৭ বলতে এখানে বোঝানো হচ্ছে যে—রামায়ণের আরণ্য কাণ্ড (বা অরণ্যকাণ্ড)-এর ১৫ নম্বর সর্গ (অধ্যায়)-এর ১৭ নম্বর শ্লোক।
৬.১.৯অন্ত্যটীকায় উৎসনির্দেশ
৬.১.৯.১উদ্ধৃতিচিহ্নসহ উদ্ধৃতি ও উল্লেখ: মূল রচনায় কোনো একটি উদ্ধৃতি/উল্লেখ উদ্ধৃতিচিহ্নের মধ্যে ব্যবহারের পর উদ্ধৃতিটি শেষ হলে শীর্ষলেখন পদ্ধতিতে ক্রম অনুসারে তা সংখ্যাচিহ্নিত করুন এবং তারপর অন্ত্যটীকায় সেই ক্রমসংখ্যাটি প্রথম বন্ধনীর মধ্যে উল্লেখ করে উদ্ধৃতিটির উৎসনির্দেশ করুন। উপাদান অনুসারে উৎসনির্দেশের পদ্ধতির জন্য এই নির্দেশিকার সপ্তম থেকে দশম অধ্যায় দেখুন।
৬.১.৯.২উদ্ধৃতির সারাংশ, উদ্ধৃতিচিহ্নহীন উল্লেখ: এমন হতে পারে যে মূল রচনায়, আলোচনা বা যুক্তির স্বার্থে আসা অন্য কোনো রচনার প্রসঙ্গ এসে পড়েছে; রচনাংশটির মূল ভাষারূপটি লেখক ব্যবহার করেন নি, তাই উদ্ধৃতিচিহ্নের প্রয়োজন হয় নি কিন্তু উৎসনির্দেশের প্রয়োজন রয়েছে। এক্ষেত্রে শীর্ষলেখন পদ্ধতিতে ক্রম অনুসরণ করে টীকাটি সংখ্যাচিহ্নিত করবার পর, আপনার মন্তব্য-সহ বা মন্তব্য-ছাড়া, মূল রচনাংশটির ভাষারূপটি উদ্ধৃতিচিহ্নের মধ্যে উদ্ধার করে পূর্ণচ্ছেদ দিন। তারপর ‘দ্র.’ কথাটি ব্যবহার করে উৎসনির্দেশ করুন।
৬.১.৯.৩মন্তব্য: মূল লেখার মধ্যে অপ্রয়োজনীয় কিন্তু পাঠকের জানা জরুরি এমন যে-কোনো মন্তব্য, প্রাসঙ্গিক ও পরিপূরক তালিকা, মূল লেখায় শীর্ষলেখন পদ্ধতিতে ক্রমচিহ্নিত করবার পর সেই ক্রমে উল্লেখপঞ্জিতে থাকতে পারে।
৬.১.৯.৪অনুবাদ: মূল লেখার মধ্যে অকারণে অন্য ভাষার দীর্ঘ উদ্ধৃতি ব্যবহার করবেন না, প্রয়োজনে নিজে অনুবাদ করে বাংলায় অনূদিত অংশটি রাখুন। এক্ষেত্রে ইনডেন্ট ব্যবহার করবেন না; অনূদিত অংশটি একক বা যুগ্ম (যেমন প্রয়োজন) উদ্ধৃতিচিহ্নের মধ্যে থাকবে। উদ্ধৃতিচিহ্ন শেষ হবার পর বা উদ্ধৃতিচিহ্ন ও বিরামচিহ্নের পর প্রথম বন্ধনীতে লিখুন ‘স্বকৃত অনুবাদ’। তারপর শীর্ষলেখন পদ্ধতিতে অনূদিত উদ্ধৃতিটি ক্রমানুসারে সংখ্যাচিহ্নিত করুন। উল্লেখপঞ্জিতে প্রথমে মূল ভাষার অথবা যে ভাষা থেকে উদ্ধৃতিটি আপনি গ্রহণ করেছেন সেই ভাষার রচনাংশটি লিখুন (ইংরেজি না হলে রোমান বর্ণলিপি ব্যবহার করুন); তারপর উৎসনির্দেশ করুন।
৬.১.৯.৫একটি টীকায় পরপর একাধিক উৎসনির্দেশ: একটি টীকায় একাধিক উৎসনির্দেশ করতে পারেন। পরপর একাধিক উৎসনির্দেশ করতে হলে, প্রথমে ‘দ্র.’ লিখে উৎসনির্দেশ করুন তারপর পূর্ণচ্ছেদ দিয়ে পুনরায় ‘দ্র.’ লিখে আর একটি উৎসনির্দেশ করুন; এইভাবে চলবে।
উদাহরণ
গান্ধীর আত্মজীবনীর জন্য দুটি বাংলা অনুবাদ আমরা ব্যবহার করেছি। কোনো ইংরেজি অনুবাদ ব্যবহার করি নি কেননা মূল আত্মকথার ভাষা গুজরাটি, আর গুজরাটি ভাষাই বাংলার নিকটতর। দ্র. মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী, ‘আত্মকথা’, বীরেন্দ্রনাথ গুহ (অনুবাদক), কলিকাতা: গান্ধী স্মারক নিধি, ১৯৬০। দ্র. মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী, ‘আত্মকথা অথবা সত্যের প্রয়োগ’, গান্ধী-রচনাসম্ভার, প্রথম খণ্ড, সতীশচন্দ্র দাশগুপ্ত (অনুবাদক), মৃত্যুঞ্জয় মাইতি (সম্পাদক), কলিকাতা: গান্ধী শতবার্ষিকী সমিতি, ১৯৫৯।
৬.১.৯.৬তদেব: একই গ্রন্থ বোঝাতে ‘তদেব’ এবং একই গ্রন্থের একই স্থান/পৃষ্ঠা বোঝাতে ‘তত্রৈব’ ব্যবহার করা হয়। ‘তদেব’-র বদলে ‘ঐ’-ও ব্যবহার করতে পারেন। উল্লেখপঞ্জিতে পরপর দুটি উল্লেখের ক্ষেত্রে উৎসনির্দেশ যদি হুবহু এক হয় শুধু পৃষ্ঠাসংখ্যা আলাদা হয় তাহলে ‘তদেব’ ব্যবহার করা উচিত। কোথাও ‘তত্রৈব’ ব্যবহার করবেন না, সবক্ষেত্রেই ‘তদেব’ ব্যবহার করুন। পৃষ্ঠাসংখ্যা এক হলে ‘তদেব’ ব্যবহারের পর একটি পূর্ণচ্ছেদ ব্যবহার করুন। আর পৃষ্ঠাসংখ্যা আলাদা হলে ‘তদেব’-র পর কমা দিয়ে ‘পৃ.’ লিখে পৃষ্ঠাসংখ্যাটি লিখুন তারপর পূর্ণচ্ছেদ ব্যবহার করুন।
৬.১.১০উল্লেখপঞ্জির লিপি-আয়তন: অন্ত্যটীকার লিপি-আয়তন মূল রচনার লিপি-আয়তনের তুলনায় ছোট হবে। উল্লেখপঞ্জির জন্য ‘Noto Serif Bengali’ ব্যবহার করলে লিপির আকার বা ফন্ট সাইজ হবে ১২ পয়েন্ট।
৬.১.১১ঋণস্বীকার ও কৃতজ্ঞতাস্বীকার
ভারতীয় সাহিত্যতাত্ত্বিক রাজশেখরের ‘কাব্যমীমাংসা’ গ্রন্থের একাদশ ও দ্বাদশ অধ্যায়ের নাম যথাক্রমে ‘শব্দহরণম্’ ও ‘অর্থহরণম্’। অন্যের ব্যবহৃত শব্দ ও অর্থকে নিজের রচনায় সন্নিবিষ্ট বা ব্যবহার করাই হলো ‘হরণ’। শব্দহরণ পাঁচ প্রকারের—পদতঃ, পাদতঃ, অর্দ্ধতঃ, বৃত্ততঃ, প্রবন্ধতশ্চ। পদ বা শব্দ হরণ (Word), শ্লোকের এক চরণ বা চতুর্থাংশ হরণ (Quarter of a stanza), শ্লোকের অর্ধাংশ হরণ (Hemistich), সমগ্র ছন্দ বা পুরো শ্লোক হরণ (Metre/ Full verse), সমগ্র দীর্ঘ কাব্য বা রচনা হরণ। কিন্তু রাজশেখর বলেছেন হরণ মাত্রেই দোষের নয়। কীরকম? রাজশেখরের সিদ্ধান্ত এই যে—
দৃষ্টান্ত
“নাস্ত্যচৌরঃ কবিজনো নাস্ত্যচৌরো বণিঞ্জনঃ। স নন্দতি বিনা বাচ্যং যো জানাতি নিগূহিতুম্॥
অর্থাৎ, ‘এমন কোনো কবি নেই যিনি চোর নন, এমন কোনো বণিক নেই যিনি প্রবঞ্চক নন কিন্তু নিন্দা বা তিরস্কারের শিকার না হয়ে কেবল সেই ব্যক্তিই খ্যাতি ও আনন্দ লাভ করেন, যিনি নিজের এই চৌর্যবৃত্তিকে নিপুণভাবে গোপন করতে জানেন।’ তাহলে কি ‘চুরিবিদ্যা মহাবিদ্যা যদি না পড়ে ধরা’—এই প্রবাদের সঙ্গে রাজশেখর এই শ্লোকের কোনো তফাৎ নেই? আছে। এর পরের শ্লোকেই রাজশেখর বলছেন—
দৃষ্টান্ত
“উৎপাদকঃ কবিঃ কশ্চিৎকশ্চিচ্চ পরিবর্তকঃ। আচ্ছাদকস্তথা চান্যস্তথা সংবর্গকোঽপরঃ॥”
অর্থাৎ, ‘কবিদের মধ্যে কেউ হলেন ‘উৎপাদক’ (যিনি সম্পূর্ণ মৌলিক সৃষ্টি করেন বা নতুন ভাব সৃষ্টি করেন); কেউ হলেন ‘পরিবর্তক’ (যিনি অন্যের ভাব বা রচনা গ্রহণ করে সামান্য পরিবর্তন বা রদবদল করেন); কেউ আবার ‘আচ্ছাদক’ (যিনি কৌশলে অন্যের ভাব বা রচনাকে নিজের ভাষায় ঢেকে রাখেন) এবং অপর কেউ হলেন ‘সংবর্গক’ (যিনি অন্যের বহু উপাদানকে একত্র বা সংহত করে নিজের মতো উপস্থাপন করেন)।’ খেয়াল করলে দেখা যাবে, কবি হিসেবে ‘উৎপাদক’ শ্রেষ্ঠ হলেও ‘পরিবর্তক’, ‘আচ্ছাদক’ ও ‘সংবর্গক’-কে রাজশেখর বাতিল করেন নি বরং এর পরের শ্লোকেই বলেছেন—
দৃষ্টান্ত
“শব্দার্থোক্তিক্ষু যঃ পশ্যেদিহ কিঞ্চন নূতনম্। উল্লিখেৎকিঞ্চন প্রাচ্যং মন্যতাং স মহাকবিঃ॥”
শব্দ, অর্থ এবং প্রকাশভঙ্গির ক্ষেত্রে যিনি কিছুটা নতুনত্ব সৃষ্টি করতে পারেন এবং পূর্বসূরি বা প্রাচীন কবিদের কোনো ভাবকে নতুন ব্যঞ্জনায় তুলে ধরতে পারেন, তিনিই প্রকৃত ‘মহাকবি’ হিসেবে গণ্য হন।
সৃজনশীল শিল্পকর্মের ক্ষেত্রেই শুধু নয়, যে-কোনো গবেষণা-কর্মের ক্ষেত্রেও রাজশেখরের এই কথাটি ক্রমশ অধিকতর সত্য হয়ে উঠছে। তাই, একটি রচনা মৌলিক হওয়ার অর্থ সবসময় এই নয় যে একটি বিষয়ে পূর্ববর্তী সমস্ত ধারণাকে উৎখাত করে দিয়ে একেবারে আনকোরা, অত্যাশ্চর্য নতুন ধারণার জন্ম দিতে হবে—সেরকম প্রতিভা তো চিরকালই বিরল; কিন্তু ‘কিঞ্চিৎ’ নতুন কথা, একটু ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি অথবা কোনো নতুন কথা না বলেও শুধু সাজানোর গুণেই একটি রচনা মৌলিক হয়ে উঠতে পারে। তাহলে কখন কোনো রচনা মৌলিক বলে গণ্য হবে না? যখন রচনাটি শুধুই পুরোনো কথার চর্বিত-চর্বন হবে, কোনো নতুন দৃষ্টিকোণ বা বিন্যাস দেখতে পাওয়া যাবে না তাতে—এমনকি ভাষাশৈলীও যখন নেহাত অনুকরণ।
সুতরাং ‘কিঞ্চিৎ নতুনত্ব’ সৃষ্টি করার দাবি করতে হলে এবং ‘কোথায় নতুনত্ব’ তা পাঠককে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে গেলে যথাযথ উৎসনির্দেশ অপরিহার্য। উৎসনির্দেশের মৌলিক উদ্দেশ্য হলো ব্যবহৃত তথ্য, মত, বিশ্লেষণ, ব্যাখ্যা, উদ্ধৃতি বা গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্তের উৎস যথাযথভাবে স্বীকার করা। এর মাধ্যমে একটি গবেষণাকর্মে লেখকের মৌলিক অবদান এবং পূর্ববর্তী গবেষণা বা অন্য গবেষকের অবদান পরস্পর থেকে সুস্পষ্টভাবে পৃথক করা সম্ভব হয়। একই সঙ্গে উৎসনির্দেশ পাঠককে ব্যবহৃত তথ্যের উৎস অনুসরণ ও যাচাই করার সুযোগ দেয় এবং গবেষণার স্বচ্ছতা, নির্ভরযোগ্যতা ও বৌদ্ধিক সততা প্রতিষ্ঠা করে।
তবে প্রতিটি তথ্যের জন্য উৎসনির্দেশ আবশ্যক নয়। যে সব তথ্য সাধারণ জ্ঞান (common knowledge) হিসেবে স্বীকৃত, সুপ্রতিষ্ঠিত এবং সর্বজনবিদিত, সেগুলির ক্ষেত্রে অন্ত্যটীকা অর্থহীন। রাসবিহারী বসুর জন্মসাল যে ১৮৮৬, তা সকলে না-জানলেও তথ্য হিসেবে এটি সুপ্রতিষ্ঠিত, পৃথিবী যে সূর্যকে কেন্দ্র করে পরিভ্রমণ করছে—ধরে নিতে হবে এ সকলেই জানে অথবা মানুষের শরীরে যে মোট ২০৬-টি হাড় আছে তা যে জানে না তারই দায় ঠিক উৎসটি খুঁজে নেওয়ার। এ ধরনের তথ্যের জন্য পৃথক উৎসনির্দেশের প্রয়োজন হয় না। অর্থাৎ বিতর্কিত নয় এমন সুপ্রতিষ্ঠিত তথ্যের উৎসনির্দেশ আবশ্যক নয়। তবে কোন তথ্যকে সাধারণ জ্ঞান হিসেবে গণ্য করা হবে, কোনটিকে হবে না—তা সংশ্লিষ্ট শাস্ত্র, পাঠকসমাজ এবং গবেষণার প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল; সন্দেহের অবকাশ থাকলে উৎসনির্দেশ করাই সমীচীন।
অন্যদিকে, কোনো নির্দিষ্ট গবেষণালব্ধ তথ্য, পরিসংখ্যান, ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণ, মতামত বা প্রত্যক্ষ উদ্ধৃতি ব্যবহার করা হলে তার উৎস অবশ্যই অন্ত্যটীকায় নির্দেশ করতে হবে। বিশেষত গ্রন্থ, গবেষণাপত্র, সাময়িকপত্র, আর্কাইভ, পাণ্ডুলিপি, সরকারি নথি, ব্যক্তিগত সংগ্রহ অথবা নির্ভরযোগ্য অনলাইন উৎস থেকে সংগৃহীত উপাদান ব্যবহারের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অন্ত্যটীকায় তথ্য প্রদান করা আবশ্যক।
অপ্রকাশিত কোনো মৌলিক তথ্য, ধারণা, ব্যাখ্যা বা গবেষণাগত অন্তর্দৃষ্টি যদি অন্য কোনো ব্যক্তির কাছে পাওয়া যায় এবং তা গবেষণাকর্মে বা রচনায় ব্যবহৃত হয়, তবে সংশ্লিষ্ট অন্ত্যটীকায় সেই ব্যক্তির প্রতি যথাযথ ঋণস্বীকার করতে হবে। প্রয়োজনবোধে সংক্ষেপে উল্লেখ করা যেতে পারে যে গবেষণার কোন বিশেষ দিক বা তথ্যের জন্য লেখক তাঁর কাছে ঋণী। একইভাবে, গবেষক যদি নিজের পূর্বপ্রকাশিত গ্রন্থ, প্রবন্ধ, গবেষণাপত্র, বক্তৃতা বা অন্য কোনো রচনা থেকে তথ্য, বিশ্লেষণ বা বক্তব্য পুনর্ব্যবহার করেন, তবে সেই পূর্ববর্তী রচনারও যথাযথ উৎসনির্দেশ প্রদান করতে হবে। নিজের পূর্বপ্রকাশিত কাজের ক্ষেত্রেও উৎসনির্দেশ বর্জন করা বিদ্যাচর্চার রীতি নয়।
গবেষণার পরিকল্পনা, প্রকল্পনা, তথ্যসংগ্রহ, উপাদান প্রাপ্তি বা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিশেষ সহযোগিতা পেলে সেই স্বীকৃতি অন্ত্যটীকায় করা যেতে পারে; পৃথকভাবে উল্লেখপঞ্জির পরে ‘কৃতজ্ঞতাস্বীকার’ বা ‘ঋণস্বীকার’ অংশেও করা যেতে পারে। যথাযথ উৎসনির্দেশ ও ঋণস্বীকার জ্ঞানচর্চা ও গবেষণার মৌলিক নীতির অন্তর্ভুক্ত। এর মাধ্যমে গবেষক অন্যের বৌদ্ধিক অবদানকে স্বীকৃতি দেবার সুযোগ পান, নিজের অবদান স্পষ্ট করেন এবং পাঠককে ব্যবহৃত উৎস যাচাই করার সুযোগ করে দেন। এর ব্যত্যয় অসদাচরণ (academic misconduct) হিসেবে গণ্য হতে পারে এবং গুরুতর ক্ষেত্রে তা কুম্ভিলকবৃত্তি (plagiarism) হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।
উপরের কথাগুলি নিশ্চিতভাবেই প্রবন্ধে, বিশেষত গবেষণামূলক প্রবন্ধের জন্য প্রযোজ্য। কিন্তু সৃজনশীল সাহিত্যের ক্ষেত্রে কীভাবে এ প্রযোজ্য হবে? সেরকম প্রথা তো নেই। বস্তুত যিনি সৃজনশীল তিনি যদি কৌশলে অন্যের ভাব বা রচনাকে নিজের ভাষায় ঢেকে রাখতে পারেন তাহলে তো কথাই নেই কিন্তু যদি তা না পারেন তাহলে তাঁর অপযশ অবধারিত। উৎসনির্দেশ তাঁর পদ্ধতি নয়। ঢেকে রাখতে পারার ক্ষমতাতেই প্রতিভাবানের পরিচয়।
৬.১.১২‘দ্র.’ ব্যবহারের নিয়ম
‘দ্র.’ হল ‘দ্রষ্টব্য’ শব্দের সংক্ষিপ্ত রূপ। ইংরেজিতে এর কাছাকাছি অর্থ ‘See’, ‘See also’ বা প্রসঙ্গভেদে ‘Cf.’ (compare)। গবেষণামূলক লেখায় কোনো তথ্য, বক্তব্য বা উদ্ধৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত অন্য কোনো গ্রন্থ, প্রবন্ধ বা সূত্রের দিকে পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে ‘দ্র.’ ব্যবহার করা হয়ে থাকে। যদি মূল রচনার মধ্যে কোনো একটি উদ্ধৃতি ব্যবহার করা হয় এবং সংখ্যাসূচক অন্ত্যটীকাটি শুধুমাত্র ঐ উদ্ধৃতির তথ্যসূত্র হিসেবেই ব্যবহৃত হয় এবং উদ্ধৃতিটি যে ব্যক্তির রচনা থেকে গৃহীত তাঁর নামই যদি তথ্যসূত্রের শুরুতে থাকে তবে অন্ত্যটীকায় ‘দ্র.’ ব্যবহার করার দরকার নেই। অন্য সবক্ষেত্রে ‘দ্র.’ ব্যবহার করতে হবে। ধরা যাক, এমন একটি উদ্ধৃতি ব্যবহার করা হল যেটি মূল উপাদান-গ্রন্থটিতেও উদ্ধৃত হয়েছে সেক্ষেত্রে দ্র. ব্যবহার না করলে উদ্ধৃতিটি কার রচনা থেকে গৃহীত তা নিয়ে ভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।
৬.১.১২.১‘দ্র.’-এর অর্থ : ‘দ্র.’ শব্দটি সাধারণত পাঠককে জানায় যে, উল্লিখিত বিষয়টি আরও ভালোভাবে বোঝার জন্য সংশ্লিষ্ট কোনো উৎস বা সূত্র দেখা যেতে পারে।
উদাহরণ
মূল রচনায়: রবীন্দ্রনাথ কলাকৈবল্যবাদী ছিলেন না। তাঁর কাছে প্রকাশ খুব গুরুত্বপূর্ণ।১ অন্ত্যটীকায়: (১) দ্র. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ‘সাহিত্যের সামগ্রী’, ‘সাহিত্য’, কলকাতা: বিশ্বভারতী গ্রন্থনবিভাগ, ১৪১১ বঙ্গাব্দ, চতুর্থ সংস্করণ ১৩৮৮, পৃ. ১৩।
এখানে ‘দ্র.’ ব্যবহারের অর্থ—উপরের বক্তব্যের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়টির আলোচনা রবীন্দ্রনাথের ‘সাহিত্যের সামগ্রী’ প্রবন্ধে রয়েছে।
৬.১.১২.২সরাসরি উদ্ধৃতির ক্ষেত্রে ‘দ্র.’ প্রয়োজন নেই: এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য বুঝতে হবে। ধরা যাক, মূল রচনায় আপনি কোনো লেখকের গ্রন্থ থেকে সরাসরি একটি উদ্ধৃতি ব্যবহার করেছেন এবং সেই উদ্ধৃতির শেষে একটি অন্ত্যটীকা দিয়েছেন। যদি সেই অন্ত্যটীকার শুরুতেই যাঁর লেখা থেকে উদ্ধৃতিটি নেওয়া হয়েছে, তাঁর নাম থাকে, তাহলে সেখানে ‘দ্র.’ দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
উদাহরণ
মূল রচনায়: রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন—“প্রকাশই কবিত্ব, মনের তলার মধ্যে কী আছে বা না আছে তাহা আলোচনা করিয়া বাহিরের লোকের কোনো ক্ষতিবৃদ্ধি নাই।”১ অন্ত্যটীকায়: (১) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ‘সাহিত্যের সামগ্রী’, ‘সাহিত্য’, কলকাতা: বিশ্বভারতী গ্রন্থনবিভাগ, ১৪১১ বঙ্গাব্দ, চতুর্থ সংস্করণ ১৩৮৮, পৃ. ১৩।
এখানে ‘দ্র.’ হবে না।
৬.১.১২.৩সরাসরি কোনো উদ্ধৃতি ব্যবহার না করা হলে, কোনো একটি বিষয়ের সমর্থন/ তুলনা/ ব্যাখ্যার জন্য অন্য কোনো গ্রন্থের দিকে পাঠককে নির্দেশ করতে চাইলে ‘দ্র.’ ব্যবহার করতে হবে।
ধরা যাক, আপনি চিন্মোহন সেহানবীশের ‘রবীন্দ্রনাথ ও বিপ্লবীসমাজ’ গ্রন্থ থেকে আপনি রবীন্দ্রনাথের একটি রচনাংশ নিজের লেখায় ব্যবহার করতে চান সেক্ষেত্রে ‘দ্র.’ কথাটি ব্যবহার করতে হবে।
উদাহরণ
মূল রচনায়: রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন—“সম্প্রতি রাশিয়া থেকে এসেছি—দেশের গৌরবের পথ যে কত দুর্গম তা অনেকটা স্পষ্ট করে দেখলুম।”১ অন্ত্যটীকায়: (১) দ্র. চিন্মোহন সেহানবীশ, ‘রবীন্দ্রনাথ ও বিপ্লবীসমাজ’, কলিকাতা: বিশ্বভারতী গ্রন্থনবিভাগ, ১৩৯২ বঙ্গাব্দ, পৃ. ৬৫।
এখানে ‘দ্র.’ হবে দেওয়া জরুরি। ‘দ্র.’ সংক্ষেপণটি পাঠককে বুঝিয়ে দিচ্ছে যে উদ্ধৃত বক্তব্যটির উৎস বা সংশ্লিষ্ট আলোচনাটি উক্ত গ্রন্থে পাওয়া যাবে।
৬.১.১২.৪একই তথ্যসূত্র পুনরায় এলে: একই গ্রন্থ বা প্রবন্ধের তথ্যসূত্র বারবার ব্যবহার হলে প্রতিবার সম্পূর্ণ তথ্যসূত্র লেখার প্রয়োজন নেই। সেক্ষেত্রে সংক্ষিপ্তভাবে ‘তদেব’ বা ‘ঐ’ ব্যবহার করা যায়। পুনরুল্লেখ এড়াতে সম্পূর্ণ তথ্যসূত্রটিকে পুনরায় উল্লেখ না করে, পৃষ্ঠাসংখ্যা সহ বা ছাড়া তদেব বা ঐ লিখুন। ‘তদেব’-কে আসলে একটি বাক্য ধরতে হবে। অন্ত্যটীকায় কখনও তথ্যসূত্রটিকে কোনো বন্ধনীর মধ্যে রাখার দরকার নেই। ‘তদেব’ অর্থ—ঠিক আগের অন্ত্যটীকায় যে গ্রন্থ বা সূত্রের উল্লেখ করা হয়েছে, এটিও সেই একই গ্রন্থ বা সূত্র।
উদাহরণ
(১) দ্র. চিন্মোহন সেহানবীশ, ‘রবীন্দ্রনাথ ও বিপ্লবীসমাজ’, কলিকাতা: বিশ্বভারতী গ্রন্থনবিভাগ, ১৩৯২ বঙ্গাব্দ, পৃ. ৬৫। (২) তদেব। (৩) তদেব, পৃ. ৬৬। এখানে ২ ও ৩ সংখ্যক অন্ত্যটীকায় সম্পূর্ণ বইয়ের নাম আবার লেখার প্রয়োজন হয়নি। কারণ ১ নম্বর অন্ত্যটীকাতেই গ্রন্থটির সম্পূর্ণ পরিচয় দেওয়া হয়েছে। ৩ সংখ্যক টীকায় একই গ্রন্থের পরবর্তী পৃষ্ঠাটি থেকে তথ্যসূত্র নেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে তথ্যসূত্রটি হয়েছে তদেব + নতুন পৃষ্ঠাসংখ্যা। কিন্তু মাঝখানে অন্য কোনো সূত্র এসে গেলে ‘তদেব’ ব্যবহার করা ঠিক হবে না।
উদাহরণ
(১) দ্র. চিন্মোহন সেহানবীশ, ‘রবীন্দ্রনাথ ও বিপ্লবীসমাজ’, কলিকাতা: বিশ্বভারতী গ্রন্থনবিভাগ, ১৩৯২ বঙ্গাব্দ, পৃ. ৬৫। (২) সজনীকান্ত দাস, ‘রবীন্দ্রনাথ: জীবন ও সাহিত্য’, ২০০১, প্রথম প্রকাশ ১৩৯৫ বঙ্গাব্দ, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি, পৃ. ৩২। (৩) চিন্মোহন সেহানবীশ, ‘রবীন্দ্রনাথ ও বিপ্লবীসমাজ’, কলিকাতা: বিশ্বভারতী গ্রন্থনবিভাগ, ১৩৯২ বঙ্গাব্দ, পৃ. ৬৬। (৪) তদেব।
সপ্তম অধ্যায়
উদ্ধৃতির নিয়ম
৭.১উদ্ধৃতির ব্যবহার
৭.১.১বাক্যে কোনো শব্দ, শব্দগুচ্ছ বা বাক্যাংশ উদ্ধৃত হলে ঐ শব্দ, শব্দগুচ্ছ, বা বাক্যাংশ–টি একক উদ্ধৃতিচিহ্নের (‘----’) মধ্যে রাখতে হবে। কোনো শব্দ, শব্দবন্ধ, বাক্যাংশের ওপর বিশেষভাবে গুরুত্ব আরোপ করতে চাইলে একক উদ্ধৃতিচিহ্ন ব্যবহার করুন।
৭.১.২এক বা একাধিক বাক্যের উদ্ধৃতি ব্যবহৃত হলে ঐ বাক্যটি বা বাক্যগুলি যুগ্ম উদ্ধৃতিচিহ্নের (“---------”) মধ্যে রাখতে হবে।
৭.১.৩বাক্যে কোনো গ্রন্থ, পত্রিকা, ছবি, ভাস্কর্য, আলোকচিত্র, চলচ্চিত্র প্রভৃতির শিরোনাম ব্যবহৃত হলে ঐ শিরোনামটি একক উদ্ধৃতিচিহ্নের মধ্যে রাখুন।
উদাহরণ
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘তালনবমী’ গল্পের শুরু হয়েছে দু’টি শব্দ দিয়ে তৈরি সংক্ষিপ্ত একটি বাক্যে—‘ঝমঝম বর্ষা।’৩ তারপরই আছে মাসের উল্লেখ—“ভাদ্র মাসের দিন। আজ দিন পনেরো ধরে বর্ষা নেমেছে, তার আর বিরামও নেই, বিশ্রামও নেই। ক্ষুদিরাম ভটচাজের বাড়িতে আজ দু-দিন হাঁড়ি চড়েনি।”৪
৭.১.৪উদ্ধৃতিচিহ্নের ব্যবহার বিষয়ে বিস্তারে জানার জন্য পঞ্চম অধ্যায় (৫.১০. যুগ্ম ও একক উদ্ধৃতিচিহ্নের ব্যবহার) দেখুন।
৭.১.৫উদ্ধৃতির বিন্যাস ও যতিচিহ্ন ব্যবহারের নিয়ম
৭.১.৫.১উদ্ধৃতি দেবার পূর্বে অর্থাৎ উদ্ধৃতিচিহ্নের আগে একটি এম ড্যাশ (—) চিহ্ন ব্যবহার করুন। এম ড্যাশ (—), এন ড্যাশ (–) ও হাইফেনের (-) তফাৎ খেয়াল রাখতে হবে।
৭.১.৫.২পূর্ণচ্ছেদ বা অন্য কোন সমাপ্তিসূচক যতিচিহ্ন দিয়ে যদি উদ্ধৃতিটি শেষ হয় এবং লেখকের মূল বাক্যটিও সেই ভাব অনুসরণ করে তাহলে পূর্ণ উদ্ধৃতিচিহ্ন ব্যবহারের পর পুনর্বার ঐ একই সমাপ্তিসূচক যতিচিহ্ন (পূর্ণচ্ছেদ, বিস্ময়সূচক চিহ্ন বা প্রশ্নসূচক চিহ্ন) ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। এক্ষেত্রে উদ্ধৃতিচিহ্ন ব্যবহারের পর উল্লেখপঞ্জির সংখ্যা নির্দেশ করে পরবর্তী বাক্যটি আরম্ভ করুন।
উদাহরণ
‘রবীন্দ্রনাথ ও উত্তরসাধক’ প্রবন্ধে বুদ্ধদেব বসুর প্রশ্ন—“এ-কথা বললে কি ভুল হয় যে বিশ শতকের আরম্ভকালে যারা বাংলার কবিকিশোর ছিলেন, স্বভাবকবিত্ব তাঁদের পক্ষে ঐতিহাসিক ছিলো, বলতে গেলে বিধিলিপি? কেন?”৩
৭.১.৫.৩উদ্ধৃতিটি যদি পূর্ণচ্ছেদ বা অন্য কোন সমাপ্তিসূচক যতিচিহ্ন দিয়েই শেষ হয় কিন্তু লেখকের মূল বাক্যটি ভাব এবং ঐ যতিচিহ্নের ভাব বা ভাষাভঙ্গি এক না হয় তাহলে লেখক তাঁর অভিপ্রেত যতিচিহ্নটি উদ্ধৃতিচিহ্নের পর ব্যবহার করতে পারেন। উদ্ধৃতিচিহ্ন ব্যবহারের পর উল্লেখপঞ্জির সংখ্যা নির্দেশ করে পরবর্তী বাক্যটি আরম্ভ করুন।
উদাহরণ
আমরা অবশ্যই যুক্তি দিয়ে প্রতিষ্ঠা করব যে, ‘রবীন্দ্রনাথ ও উত্তরসাধক’ প্রবন্ধে বুদ্ধদেব বসুর সেই ‘বিখ্যাত’ প্রশ্নটির পিছনে একটি পূর্বনিরূপিত সিদ্ধান্ত ক্রিয়াশীল—“এ-কথা বললে কি ভুল হয় যে বিশ শতকের আরম্ভকালে যারা বাংলার কবিকিশোর ছিলেন, স্বভাবকবিত্ব তাঁদের পক্ষে ঐতিহাসিক ছিলো, বলতে গেলে বিধিলিপি?”।৩
৭.১.৫.৪দীর্ঘ উদ্ধৃতির জন্যও ইনডেন্ট ব্যবহার করবেন না।। এ বিষয়ে বিস্তারে জানার জন্য পঞ্চম অধ্যায় (৫.১০. যুগ্ম ও একক উদ্ধৃতিচিহ্নের ব্যবহার) দেখুন।
৭.১.৫.৫কবিতার উদ্ধৃতি একটি ছত্রের হলে, উদ্ধৃতিটি পূর্ণ উদ্ধৃতিচিহ্নের মধ্যে থাকবে। যদি কবিতার উদ্ধৃতিটি দুই বা তার বেশি ছত্রের হয় অথচ কোন একটি বাক্যের অংশ হিসেবে টানা গদ্যেই বিন্যস্ত হয় তবে কবিতার দুটি ছত্রের মাঝে একটি বিকল্পচিহ্ন (/) ব্যবহার করুন। পঞ্চম অধ্যায়ের ৫.১৮.২ সংখ্যক নিয়মটি দেখুন।
৭.১.৬উদ্ধৃতির শুদ্ধতা রক্ষার নিয়ম
৭.১.৬.১উদ্ধৃতির বানান মূল রচনার অনুরূপ হবে। তবে প্রয়োজনে লেখক মুদ্রণপ্রমাদ বা ভুল নির্দেশ করার জন্য তৃতীয় বন্ধনীর মধ্যে ‘যৎ’ ব্যবহার করতে পারেন। ইংরেজিতে ‘যৎ’ এর বদলে ‘sic’ ব্যবহার করুন।
৭.১.৬.২কোনো সম্পাদিত গ্রন্থের ক্ষেত্রে, সম্পাদক গ্রন্থের মূলপাঠের অনেক অংশে নিজস্ব ব্যাখ্যা সংযোজন করবার জন্য টীকার ব্যবহার করে থাকেন। টীকাগুলিকে চিহ্নিত করবার জন্য তিনি টীকানির্দেশক সংখ্যার বা চিহ্নের ব্যবহার করতে পারেন বা মূল পাঠটিতে ভ্রান্তিনির্দেশ ও মন্তব্যও সংযোজন করতে পারেন। সম্পাদককৃত এই সংযোজনগুলি বর্জন করে মূল পাঠের অংশবিশেষ উদ্ধৃত করতে হবে।
৭.১.৬.৩উদ্ধৃতিভুক্ত উদ্ধৃতির শুদ্ধতা রক্ষার ক্ষেত্রে উদ্ধৃতিচিহ্নের ব্যবহার কীরকম হবে, সে সম্পর্কে বিস্তারে জানার জন্য পঞ্চম অধ্যায় (৫.১০. যুগ্ম ও একক উদ্ধৃতিচিহ্নের ব্যবহার) দেখুন।
৭.১.৭উদ্ধৃতির কোনো অংশে, শব্দে বা শব্দগুচ্ছে অতিরিক্ত গুরুত্ব আরোপ: উদ্ধৃতির মধ্যের কোনো অংশে, শব্দে বা শব্দগুচ্ছে লেখক বিশেষ গুরুত্ব দিতে চাইলে সেই অংশটিতে বক্রাক্ষর ব্যবহৃত হবে এবং উদ্ধৃতিবন্ধটির শেষে এবং উল্লেখপঞ্জির সংখ্যা নির্দেশ করার পর প্রথম বন্ধনীর মধ্যে ‘বক্রাক্ষর সংযোজিত’ এই মন্তব্যটি যুক্ত করুন। ইংরেজি উদ্ধৃতির ক্ষেত্রেও বাংলাতেই ‘বক্রাক্ষর সংযোজিত’ কথাটি তৃতীয় বন্ধনীর মধ্যে লিখতে হবে।
উদাহরণ
বুদ্ধদেব বসু লিখেছেন—“বাঙালি কবির পক্ষে, বিশ শতকের প্রথম দুই দশক বড়ো সংকটের সময় গেছে। এই অধ্যায়ের কবিরা—যতীন্দ্রমোহন, করুণানিধান, কিরণধন, এবং আরো অনেকে, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত যাঁদের কুলপ্রদীপ, যাঁরা রবীন্দ্রনাথের মধ্যবয়সে উদ্গত হয়ে নজরুল ইসলামের উত্থানের পরে ক্ষয়িত হলেন—তাঁদের রচনা যে এমন সমতলরকম সদৃশ, এমন আশুক্লান্ত, পাণ্ডুর, মৃদুল, কবিতে-কবিতে ভেদচিহ্ন যে এত অস্পষ্ট, একমাত্র সত্যেন্দ্র দত্ত ছাড়া কাউকেই যে আলাদা করে চেনা যায় না—আর সত্যেন্দ্র দত্তও শেষ পর্যন্ত শুধু ‘ছন্দোরাজ’ই হয়ে থাকলেন—এর কারণ আমি বলতে চাই, শুধুই ব্যক্তিগত নয়, বহুলাংশে ঐতিহাসিক।”৭ (বক্রাক্ষর সংযোজিত)
৭.১.৮উদ্ধৃতির মধ্যে মন্তব্য সংযোজন: যদি উদ্ধৃতির মধ্যে কোনো মন্তব্য সংযোজন করতে চান তাহলে তৃতীয় বন্ধনীর মধ্যে সেই মন্তব্য সংযোজন করুন এবং উদ্ধৃতিবন্ধটির শেষে, উল্লেখপঞ্জির সংখ্যা নির্দেশ করার পর তৃতীয় বন্ধনীর মধ্যে ‘বন্ধনীভুক্ত মন্তব্য সংযোজিত’/ ‘বন্ধনীভুক্ত মন্তব্যগুলি সংযোজিত’ এই বাক্যাংশটি উল্লেখ করবেন। ইংরেজির ক্ষেত্রেও এই কথাগুলি বাংলাতেই লিখুন।
৭.১.৯উদ্ধৃতির মধ্যে বর্জনচিহ্নের (ellipsis) ব্যবহার: এ সম্পর্কে জানার জন্য পঞ্চম অধ্যায় (৫.১৩. বিন্দুচিহ্নের ব্যবহার) দেখুন।
অষ্টম অধ্যায়
মুদ্রিত গ্রন্থের উৎসনির্দেশরীতি
৮.১উৎসনির্দেশক-ক্রম
লেখকের নাম পদবি, ‘রচনার নাম’, ‘গ্রন্থনাম’, গ্রন্থসংগ্রহের নাম, খণ্ডসংখ্যা, সম্পাদক/ সংকলকের/ অনুবাদকের নাম পদবি (সম্পাদক/ সংকলক/ অনুবাদক), প্রকাশনাস্থান: প্রকাশনার নাম, মুদ্রণকাল/ প্রকাশকাল, সর্বশেষ সংস্করণ পরিচিতি ও প্রকাশকাল, বিশেষ সংস্করণ পরিচিতি ও তার প্রকাশকাল, পৃ. <পৃষ্ঠাসংখ্যা>।
৮.২উৎসনির্দেশের সাধারণ নিয়ম
৮.২.১উৎসনির্দেশক হিসেবে কোনো তথ্য না পাওয়া গেলে তা বাদ দিয়েই উৎসনির্দেশ করুন। শুধু লেখকের নাম না জানা থাকলে লিখুন ‘লেখক অজ্ঞাত’। ইংরেজিতে লিখুন ‘Anonymous’ বা ‘Unknown Author’।
৮.২.২প্রকাশনার নাম না জানা গেলে/ না থাকলে প্রকাশকের নাম পদবি লিখুন, তারপর প্রথম বন্ধনীর মধ্যে লিখুন ‘প্রকাশক’। ইংরেজিতে লিখুন ‘publisher’।
৮.২.৩বাংলা ও ইংরেজি ছাড়া অন্য ভাষার উপাদান সম্পর্কিত উৎসনির্দেশ বাংলা লিপিতে দিতে হবে। এক্ষেত্রে গ্রন্থটির ভাষিক পরিচিতি দিতে হবে। কাঠামোটি হবে এরকম—
লেখকের নাম পদবি, ‘রচনার নাম’, ‘গ্রন্থনাম’, গ্রন্থসংগ্রহের নাম, খণ্ডসংখ্যা, সম্পাদক/ সংকলকের/ অনুবাদকের নাম পদবি (সম্পাদক/ সংকলক/ অনুবাদক), প্রকাশনাস্থান: প্রকাশনার নাম, প্রকাশকাল, প্রকাশকাল/ মুদ্রণকাল, সংস্করণ পরিচিতি, বিশেষ সংস্করণ পরিচিতি, গ্রন্থটির ভাষা, পৃ. <পৃষ্ঠাসংখ্যা>।
উদাহরণ
আলব্যের কামু, ‘লাবসুরদ এতে ল্য সিয়ুইসিদ’, ‘ল্য মিথ দ্য সিজিফ: এসেই স্যুর লাবসুরদ’, কোলেকসিওঁ লেজেসে, প্যারিস: এদিসিওঁ গালিমার, ১৯৪২, ফরাসি ভাষা, পৃ. ১৫।
৮.২.৪লেখক/লেখিকা, কবি, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, সম্পাদক, সংকলক, অনুবাদক, প্রকাশক, প্রচ্ছদশিল্পী, অলঙ্করণশিল্পী, গ্রন্থের অঙ্গসজ্জাকারী, অনুলেখক/অনুলেখিকা, প্রতিষ্ঠান (নাম) ইত্যাদি যে-কারও অবদান উল্লেখ করার জন্য আপনি উল্লেখপঞ্জিতে উৎসনির্দেশ করতে পারেন। কিন্তু সেজন্য যাঁর অবদান উল্লেখ করছেন তাঁর নাম উৎসনির্দেশক-ক্রমতালিকার শুরুতে উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই। আপনি টীকায় তাঁর নাম ও অবদান উল্লেখ করবেন এবং তারপর উৎসনির্দেশক্রমের শুরুতে ‘দ্র.’ কথাটা যোগ করে দেবেন।
উদাহরণ
(১) এই গ্রন্থের প্রচ্ছদ এঁকেছিলেন আশু বন্দ্যোপাধ্যায়। দ্র. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, ‘পদ্মানদীর মাঝি’, কলকাতা: বেঙ্গল পাবলিশার্স, ২০১৬, প্রথম প্রকাশ ১৯৩৬। (২) সুকুমার রায়ের চিত্র অবলম্বনে সত্যজিৎ রায় এই গ্রন্থাবলীর প্রচ্ছদটি এঁকেছেন। দ্র. সুকুমার রায়, সুকুমার সাহিত্যসমগ্র, দ্বিতীয় খণ্ড, সত্যজিৎ রায় ও পার্থ বসু (সম্পাদক), কলকাতা: আনন্দ, ২০২৩, জন্মশতবার্ষিকী সংস্করণ ১৯৮৯।
৮.২.৫দুজন লেখকের ক্ষেত্রে ‘প্রথম লেখকের নাম পদবি ও দ্বিতীয় লেখকের নাম পদবি’ লিখবেন। ইংরেজিতে ‘ও’ এর বদলে ‘&’ লিখুন।
৮.২.৬দুইয়ের বেশি লেখকের ক্ষেত্রে প্রথম লেখকের নাম পদবি লেখার পর ‘প্রমুখ’ লিখুন। ইংরেজিতে ‘প্রমুখ’ এর বদলে ‘et al.’ (বক্রাক্ষরে) লিখুন।
৮.২.৭ইংরেজি গ্রন্থের ক্ষেত্রে লেখকের নাম আগে তারপর পদবি লিখুন; অর্থাৎ বাংলার রীতিই অনুসরণ করুন।
৮.২.৮প্রতিটি উৎসনির্দেশকে ব্যবহৃত গ্রন্থে লভ্য বানান অবিকৃত রাখুন। এ ব্যাপারে আপনার ব্যবহৃত উপাদানটিকেই অনুসরণ করুন।
৮.২.৯সম্পাদক/ সংকলক/ অনুবাদক/ প্রকাশকের শুধু নাম, নাম-পদবি, নাম-মধ্যনাম-পদবি—গ্রন্থটিতে যেভাবে পাবেন সেভাবে লিখুন; তবে দু-একটি ব্যতিক্রমী ক্ষেত্র ছাড়া (যেমন: ‘মহাত্মা গান্ধী’ এবং ‘মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী’ দুই-ই লিখতে পারেন) নামের আগে ব্যবহৃত উপাধি বর্জন করুন।
৮.২.১০যেখানে লেখকের অস্তিত্ব নেই, শুধু সম্পাদক/ সংকলকের অস্তিত্ব আছে সেখানে উৎসনির্দেশক-ক্রমে সম্পাদক/ সংকলকের নাম পদবি প্রথমে লিখতে হবে।
কাঠামো
সম্পাদক/ সংকলকের নাম পদবি (সম্পাদক/ সংকলক), ‘রচনার নাম’, ‘গ্রন্থনাম’, গ্রন্থসংগ্রহের নাম, খণ্ডসংখ্যা, প্রকাশনাস্থান: প্রকাশনানাম, প্রকাশকাল (মুদ্রণকাল), সংস্করণ পরিচিতি-সহ প্রকাশকাল, পৃষ্ঠাসংখ্যা।
উদাহরণ
মোহাম্মদ হারুন রশিদ (সংকলক ও সম্পাদক), ‘বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত আরবি ফারসি উর্দু শব্দের অভিধান’, দ্বিতীয় খণ্ড (ট - ব), ঢাকা: বাংলা একাডেমি, ২০১৮, প্রথম প্রকাশ ২০১৫, পৃ. ৬১।
৮.২.১১গ্রন্থভুক্ত রচনার শিরোনাম, গ্রন্থনাম একক উদ্ধৃতিচিহ্নের মধ্যে লিখুন। কিন্তু রচনাবলী/ গ্রন্থসংগ্রহের ক্ষেত্রে উদ্ধৃতিচিহ্ন ব্যবহারের প্রয়োজন নেই।
৮.২.১২খণ্ডসংখ্যা মূল উপাদানে যেভাবে লেখা হয়েছে সেভাবেই লিখুন।
৮.২.১৩সম্পাদক/সংকলকের/অনুবাদকের নাম পদবির ক্ষেত্রেও লেখকের নাম পদবি সংক্রান্ত পূর্বোক্ত নিয়ম অনুসরণ করুন। শুধু এক্ষেত্রে প্রথম বন্ধনীর মধ্যে ‘সম্পাদক/সংকলক/অনুবাদক’ (ইংরেজিতে editor/ compiler/ translator) কথাটি লিখে দিতে হবে।
৮.২.১৪প্রকাশনাস্থান উল্লেখ করবার পর কোলন চিহ্ন দিয়ে প্রকাশনার নাম লিখুন। প্রকাশনার নাম প্রয়োজনে সংক্ষেপে লিখতে পারেন। অর্থাৎ ‘আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড’-এর বদলে শুধু ‘আনন্দ’ লিখলেও চলবে।
৮.২.১৫প্রকাশকাল হিসেবে গ্রন্থের সর্বশেষ মুদ্রণকাল লিখুন। প্রথম প্রকাশের ক্ষেত্রে প্রথম প্রকাশকাল লিখুন। সর্বশেষ মুদ্রণকালটিই প্রথম প্রকাশকাল বা সর্বশেষ সংস্করণকাল হলে প্রকাশকালের স্থানে তা লিখে একটি পূর্ণচ্ছেদ ব্যবহার করে সংস্করণ-পরিচিতি হিসেবে ‘প্রথম প্রকাশ’ বা ‘দ্বিতীয়/তৃতীয় সংস্করণ’ কথাটি উল্লেখ করুন। ফ্যাকসিমিলি সংস্করণ বা পাণ্ডুলিপির মুদ্রিত রূপ হলে তা সংস্করণ-পরিচিতি হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
৮.২.১৬পৃষ্ঠাসংখ্যা/ পত্রসংখ্যা/ শ্লোকসংখ্যা/ অধ্যায়সংখ্যা উল্লেখ করার জন্য শেষ উৎসনির্দেশক ব্যবহার করুন। ধরা যাক একইসঙ্গে পত্রসংখ্যা ও পৃষ্ঠাসংখ্যা দুই-ই উল্লেখ করার প্রয়োজন হল তখন পৃষ্ঠাসংখ্যাটি পরে থাকবে। পত্রসংখ্যা তার আগে থাকবে। সংখ্যাটি উল্লেখ করার আগে এগুলির শব্দসংক্ষেপ ব্যবহার করুন। যথা: অধ্যায়, পত্র, শ্লোক, পৃ.। এইক্ষেত্রে উৎসনির্দেশ ক্রমসজ্জাটি হবে এরকম: অধ্যায় > শ্লোক > পৃ. বা অধ্যায় > পত্র > পৃ.।
৮.২.১৭ইংরেজির ক্ষেত্রে উৎসনির্দেশে পূর্ণচ্ছেদের বদলে ফুলস্টপ ব্যবহার করুন।
৮.২.১৮গ্রন্থসংগ্রহের নাম বা রচনাবলীর নাম শুধুমাত্র বক্রাক্ষরে দিতে পারেন।
৮.৩উদাহরণ
৮.৩.১একজন লেখকের লেখা গ্রন্থ
(১) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ‘বৌ ঠাকুরানীর হাট’, কলকাতা: বিশ্বভারতী গ্রন্থনবিভাগ, ১৪১৭ বঙ্গাব্দ, রবীন্দ্র-রচনাবলী সংস্করণ আশ্বিন ১৩৪৬, পৃ. ১২৭।
(২) William Dalrymple, ‘The Last Mughal’, London: Bloomsbury, 2007, First published 2006, p. 215.
৮.৩.২দুজন লেখকের লেখা গ্রন্থ
(৩) মুহম্মদ আবদুল হাই ও সৈয়দ আলী আহসান, ‘বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত (আধুনিক যুগ)’, ঢাকা: আহমদ পাবলিশিং হাউস, ২০১০, প্রথম সংস্করণ ১৯৭৯, পৃ. ২৩৪।
(৪) Pierre Bourdieu & Jean-Claude Passeron, ‘Reproduction in Education’, Society and Culture, London: Sage, 1977, p. 58.
৮.৩.৩দুইয়ের বেশি লেখকের লেখা গ্রন্থ
(৫) সৈয়দ আজিজুল হক প্রমুখ (সম্পাদক), ‘বঙ্গবিদ্যা উৎসনির্দেশরীতি’, কলকাতা: আন্তর্জাতিক বঙ্গবিদ্যা পরিষৎ, ২০১৮, প্রথম প্রকাশ, পৃ. ৩৯।
(৬) Richard Eckersley et al., ‘Glossary of Typesetting Terms’, Chicago: The University of Chicago Press, 1994, First Published, p. 91.
৮.৩.৪সম্পাদিত গ্রন্থ
(৭) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ‘কল্যাণীয়েষু প্রশান্ত’, প্রশান্তকুমার পাল (সম্পাদক), কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি, ২০২৫, প্রথম প্রকাশ, পৃ. ২৩।
(৮) Thomas De Quincey, ‘The Knocking at the Gate in Macbeth’, ‘The Oxford Book of Essays’, John Gross (editor) Oxford: Oxford University Press, 1991, First Published, p. 132.
যদি সম্পাদিত গ্রন্থ থেকে সম্পাদকের লেখা ভূমিকা উল্লেখ করতে হয় তাহলে উল্লেখপঞ্জিতে উদাহরণদুটি বিন্যস্ত হবে এভাবে:
(৯) দ্র. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ‘কল্যাণীয়েষু প্রশান্ত’, প্রশান্তকুমার পাল (সম্পাদক), কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি, ২০২৫, প্রথম প্রকাশ, পৃ. ২৩।
(১০) দ্র. Thomas De Quincey, ‘The Knocking at the Gate in Macbeth’, ‘The Oxford Book of Essays’, John Gross (editor) Oxford: Oxford University Press, 1991, First Published, p. 132.
‘সম্পাদকের লেখা ভূমিকা’ থেকেই যে আপনি অংশবিশেষ উদ্ধৃত করেছেন বা সম্পাদনাই আপনার আলোচ্য বিষয় তা অবশ্যই মূল লেখার মধ্যে বা টীকায় উল্লেখ করে দিতে হবে।
৮.৩.৫সংকলিত গ্রন্থ
(১১) মোহাম্মদ হারুন রশিদ (সংকলক), ‘বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত আরবি-ফারসি-উর্দু শব্দের অভিধান’, দ্বিতীয় খণ্ড (ট–ব), ঢাকা: বাংলা একাডেমি, ২০১৮, প্রথম প্রকাশ ২০১৫, পৃ. ৬১।
(১২) Homi K. Bhaba, ‘Signs Taken for Wonders’, The Post-colonial Studies Reader, Bill Ashcroft et. al. (compiler), London: Routledge, 2002, First Published 1995, p. 30.
৮.৩.৬অনূদিত গ্রন্থ
(১৩) ল্যেভ্ তলস্তোয়, ‘যুদ্ধ ও শান্তি’, প্রথম খণ্ড, অরুণ সোম (অনুবাদক), কলকাতা: সাহিত্য অকাদেমি, ২০১১, প্রথম প্রকাশ, পৃ. ৮৬।
(১৪) Fyodor Dostoevsky, ‘Crime and Punishment’, David McDuff (translator), London: Penguin Books, 2003, First published 2002, p. 184.
৮.৩.৭গ্রন্থসংগ্রহের অন্তর্ভুক্ত রচনা
(১৫) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ‘জাপানযাত্রী’, রবীন্দ্র-রচনাবলী, দশম খণ্ড, কলকাতা: বিশ্বভারতী, আশ্বিন ১৪২১ বঙ্গাব্দ, সুলভ সংস্করণ পৌষ ১৩৯৬ বঙ্গাব্দ, পত্র ৬, পৃ. ৪০৬।
(১৬) Ruskin Bond, ‘Rain in the Mountains: Notes from the Himalayas’, Classic Ruskin Bonds, Vol 2, 2012, First Published, 19.
৮.৩.৮অভিধান/কোশগ্রন্থ
(১৭) সুধীরচন্দ্র সরকার (সংকলক), ‘পৌরাণিক অভিধান’, কলকাতা: এম সি সরকার এন্ড সন্স, ১৪২২ বঙ্গাব্দ, প্রথম সংস্করণ ১৩৩৫ বঙ্গাব্দ।
(১৮) Angus Stevenson (editor), ‘Oxford Dictionary of English’, Oxford: Oxford University Press, 2010, Third edition 2010, p. 1245.
৮.৩.৯প্রতিষ্ঠানের নামে প্রকাশিত গ্রন্থ
(১৯) বাংলা একাডেমি, ‘প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম’, ঢাকা: বাংলা একাডেমি, ২০১৫, পরিমার্জিত সংস্করণ ২০১২, পৃ. ২৮।
(২০) World Health Organization, ‘World Health Statistics 2024’, Geneva: World Health Organization, 2024, First published, p. 41.
৮.৩.১০লেখক অজ্ঞাত
(২১) লেখক অজ্ঞাত, ‘বৈষ্ণব পদাবলি’, কলকাতা: সংস্কৃত বুক ডিপো, ১৯৩২, প্রথম প্রকাশ, পৃ. ১২৯।
(২২) Author Unknown, ‘The Cloud of Unknowing’, A. C. Spearing (translator) London: Penguin Classics, 2005, First Published, p. 18.
৮.৩.১১প্রকাশনার নাম অজ্ঞাত
(২৩) সুকুমার সেন, ‘বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস’, কলকাতা: সুবোধ কুমার মুখোপাধ্যায় (প্রকাশক), ১৯৭৮, পঞ্চম সংস্করণ ১৯৭৮, পৃ. ৪৫।
(২৪) Amanda Hocking, ‘Fate’, St. Cloud MN: Amanda Hocking (publisher), 2010, First Published, p. 45
নবম অধ্যায়
পত্র-পত্রিকার উৎসনির্দেশরীতি
৯.১উৎসনির্দেশক-ক্রম
লেখকের নাম পদবি, ‘রচনার নাম’, ‘পত্রিকার নাম’, সংরূপ (সাপ্তাহিক/পাক্ষিক/মাসিক/ত্রৈমাসিক ইত্যাদি), বর্ষ, সংখ্যা, প্রকাশকাল (সম্পূর্ণ তারিখ বা সাল ও মাস/ঋতু), প্রকাশনাস্থান: প্রকাশকের নাম, পৃষ্ঠাসংখ্যা।
যদি লেখকের নাম না থাকে, তবে সম্পাদক/সংকলকের নাম (সম্পাদক) প্রথমে লিখতে হবে। সম্পাদকও অনুল্লিখিত হলে প্রয়োজনমতো পত্রিকার নাম থেকেই উৎসনির্দেশ শুরু করা যেতে পারে। কিন্তু এক্ষেত্রে উৎসনির্দেশ অবশ্যই ‘দ্র.’ দিয়ে শুরু করতে হবে। লেখকের নামহীন সম্পাদকীয় হলে, ‘সম্পাদকীয়’ লিখেই উৎসনির্দেশ শুরু করুন।
৯.২উৎসনির্দেশের সাধারণ নিয়ম
৯.২.১যেখানে লেখকের নাম পাওয়া যায়, উৎসনির্দেশ লেখকের নাম দিয়েই শুরু হবে।
৯.২.২লেখকের নাম না থাকলে সম্পাদক/সম্পাদকের নাম প্রথম উৎসনির্দেশক হবে। সম্পাদকও অনুল্লিখিত হলে প্রয়োজনমতো পত্রিকার নাম ব্যবহার করা যেতে পারে।
৯.২.৩সাময়িক পত্রের সংরূপ (সাপ্তাহিক, পাক্ষিক, মাসিক, দ্বিমাসিক, ত্রৈমাসিক, চতুর্মাসিক, ষাণ্মাসিক ইত্যাদি) জানা থাকলে উল্লেখ করুন। জানা না থাকলে ‘অজ্ঞাত’ লেখার প্রয়োজন নেই।
৯.২.৪যেসব সাময়িক পত্রে সম্পূর্ণ প্রকাশতারিখ (দিন–মাস–সাল) দেওয়া থাকে, সেখানে উৎসনির্দেশে সেই সম্পূর্ণ প্রকাশতারিখ ব্যবহার করুন।
৯.২.৫যেসব পত্রিকায় সম্পূর্ণ প্রকাশতারিখ থাকে না, সেখানে প্রকাশসালের আগে মাস, মাসব্যাপ্তি অথবা ঋতুর নাম উল্লেখ করুন। যেমন: বৈশাখ ২০২৪; জুলাই–আগস্ট, ২০২৫; শরৎ, ২০২২।
৯.২.৬পত্রিকার পুজোসংখ্যা, ঈদসংখ্যা ইত্যাদি বিশেষ সংখ্যাকে প্রকাশকাল হিসেবে নয়, সংখ্যার পরিচিতি হিসেবে বিবেচনা করুন।
৯.২.৭যুগ্ম সংখ্যা (যেমন জানুয়ারি–ফেব্রুয়ারি সংখ্যা) হলে সেই যুগ্ম সংখ্যাই উল্লেখ করুন।
৯.২.৮অনিয়মিত পত্রিকা বা অতিরিক্ত বিশেষ সংখ্যার ক্ষেত্রে সংরূপ উল্লেখ করা আবশ্যক নয়।
৯.২.৯বার্ষিক সাময়িক পত্র বা গবেষণা পত্রিকার ক্ষেত্রে সংরূপ উল্লেখের প্রয়োজন নেই। সংখ্যাক্রম থাকলে উল্লেখ করুন। বিদ্যায়তনিক পত্রিকার ক্ষেত্রে শিক্ষাবর্ষকে প্রকাশকাল হিসেবে লিখুন।
৯.২.১০পত্রিকার গ্রন্থিত রূপ ব্যবহার করলে সংরূপ হিসেবে ‘বার্ষিক সংকলন’, ‘ষাণ্মাসিক সংকলন’ ইত্যাদি লিখুন। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট মাসব্যাপ্তিও উল্লেখ করুন।
৯.২.১১একাধিক লেখক/ সম্পাদকের ক্ষেত্রে মুদ্রিত গ্রন্থের নিয়ম অনুসরণ করুন।
৯.২.১২বাংলা ও ইংরেজি ছাড়া অন্য ভাষার পত্রিকার তথ্য বাংলা লিপিতে লিখুন।
৯.২.১৩পত্রিকার নাম বক্রাক্ষরে (italics) লেখার দরকার নেই, একক উদ্ধৃতিচিহ্নের মধ্যে লিখুন।
৯.২.১৪রচনার নাম একক উদ্ধৃতিচিহ্নের মধ্যে লিখুন।
৯.২.১৫শেষে প্রয়োজন অনুযায়ী পৃষ্ঠাসংখ্যা উল্লেখ করুন।
৯.৩উদাহরণ
৯.৩.১সম্পূর্ণ প্রকাশতারিখযুক্ত সাময়িক পত্রে লেখকের রচনা
(১) সুমন রহমান, ‘বাংলা গদ্যের নতুন প্রবণতা’, ‘কালি ও কলম’, মাসিক, ১৫ মার্চ ২০২৪, ঢাকা: কাজী পাবলিশিং, পৃ. ৪২–৪৮।
(২) Amartya Sen, ‘The Idea of Justice Revisited’, ‘The New York Review of Books’, Monthly, 12 May 2023, New York, p. 18.
৯.৩.২সম্পূর্ণ প্রকাশতারিখবিহীন সাময়িক পত্র
(৩) আহমদ রফিক, ‘ভাষা আন্দোলনের সাংস্কৃতিক তাৎপর্য’, ‘উত্তরাধিকার’, ত্রৈমাসিক, শরৎ ২০২৩, ঢাকা, পৃ. ৮১।
(৪) Terry Eagleton, ‘Literature and Ideology’, ‘Critical Quarterly’, Vol. 42, No. 3, 2000 (Autumn), p. 34.
৯.৩.৩লেখকের নামহীন সম্পাদকীয়
(৫) সম্পাদকীয়, ‘কবিতা’, ত্রৈমাসিক, আষাঢ়–ভাদ্র ২০২২, পৃ. ৩।
(৬) Editorial, ‘The Future of Democracy’, ‘The Economist’, Vol. 460, No. 9447, September 2021, p. 10.
৯.৩.৪যুগ্ম সংখ্যা
(৭) আবুল হাসান, ‘নদী ও মানুষের জীবন’, ‘দেশ’, মাসিক, জানুয়ারি–ফেব্রুয়ারি ২০২৪, পৃ. ৬৭।
৯.৩.৫বিশেষ সংখ্যা
(৮) শঙ্খ ঘোষ, ‘বাংলা কবিতার বর্তমান’, ‘দেশ’, পুজোসংখ্যা, ২০২৩, পৃ. ১১২।
৯.৩.৬বার্ষিক গবেষণা পত্রিকা
(৯) গোলাম মুরশিদ, ‘ঊনবিংশ শতকের বাংলা মুদ্রণসংস্কৃতি’, ‘বাংলা একাডেমি গবেষণা পত্রিকা’, সংখ্যা ১২, ২০২৩, পৃ. ৭৫।
৯.৩.৭বিদ্যায়তনিক পত্রিকা
(১০) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, ‘প্রাচীন বাংলা ভাষা’, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা বিভাগ পত্রিকা’, শিক্ষাবর্ষ ২০২২–২০২৩, পৃ. ১৫।
৯.৩.৮সাময়িক পত্রের গ্রন্থিত রূপ
(১১) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ‘সাহিত্যের পথে’, ‘ভারতী’, বার্ষিক সংকলন (বৈশাখ–চৈত্র), কলকাতা, ১৩২২ বঙ্গাব্দ, পৃ. ২১৪।
(১২) T. S. Eliot, ‘The Metaphysical Poets’, ‘The Times Literary Supplement’, Annual Volume, London, 1921, p. 15.
দশম অধ্যায়
অনলাইন উপাদানের উৎসনির্দেশরীতি
১০.১উৎসনির্দেশক-ক্রম
লেখকের নাম পদবি, ‘রচনার নাম’, ‘ওয়েবসাইট/ডিজিটাল প্রকাশনার নাম’, প্রকাশকাল বা সর্বশেষ সংস্কারের তারিখ, প্রবেশতারিখ, [URL অথবা DOI]।
যদি লেখকের নাম না থাকে, তবে প্রতিষ্ঠান বা ওয়েবসাইটের নাম প্রথমে লিখতে হবে। প্রতিষ্ঠানও অনুল্লিখিত হলে প্রয়োজনমতো ওয়েবপৃষ্ঠার শিরোনাম থেকেই উৎসনির্দেশ শুরু করা যেতে পারে। অনেকসময় একটি ওয়েবসাইটের একাধিক অংশ (Section) থাকে, লেখকের নাম পদবি না থাকলে প্রথম উৎসনির্দেশকটি সেই অংশের নামেও হতে পারে।
১০.২উৎসনির্দেশের সাধারণ নিয়ম
১০.২.১যেখানে লেখকের নাম পাওয়া যায়, উৎসনির্দেশ লেখকের নাম দিয়েই শুরু হবে।
১০.২.২লেখকের নাম না থাকলে প্রতিষ্ঠানের নাম প্রথম উৎসনির্দেশক হবে। প্রতিষ্ঠানও অনুল্লিখিত হলে প্রয়োজনমতো ওয়েবপৃষ্ঠার শিরোনাম ব্যবহার করা যেতে পারে।
১০.২.৩রচনার শিরোনাম একক উদ্ধৃতিচিহ্নের মধ্যে লিখুন।
১০.২.৪ওয়েবসাইট, অনলাইন পত্রিকা, তথ্যভান্ডার, ডিজিটাল গ্রন্থাগার, সরকারি ওয়েবপোর্টাল, ব্লগ, গবেষণাভান্ডার ইত্যাদির নাম মূলরূপে লিখুন; বক্রাক্ষরে (italics) লেখার প্রয়োজন নেই, একক উদ্ধৃতিচিহ্নের মধ্যে লিখুন।
১০.২.৫প্রকাশকাল জানা থাকলে তা উল্লেখ করুন। যদি প্রকাশকাল না থেকে কেবল সর্বশেষ সংস্কারের (Last Updated) তারিখ দেওয়া থাকে, তবে সেটিই প্রকাশকাল হিসেবে ব্যবহার করুন।
১০.২.৬প্রকাশকাল বা সংস্কার সংক্রান্ত কোনো তথ্য না পাওয়া গেলে তা বাদ দিয়েই উৎসনির্দেশ করুন। ‘তারিখ অজ্ঞাত’ লেখার প্রয়োজন নেই।
১০.২.৭যে ওয়েবপৃষ্ঠার স্থায়ী শনাক্তকারী (DOI) আছে, সেখানে URL-এর পরিবর্তে DOI ব্যবহার করুন।
১০.২.৮DOI না থাকলে সম্পূর্ণ URL ব্যবহার করুন। URL সংক্ষিপ্ত (shortened) আকারে নয়, মূল (canonical) আকারে লিখুন।
১০.২.৯অনলাইন উৎস সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত বা অপসারিত হতে পারে। তাই প্রতিটি উৎসনির্দেশের শেষে প্রবেশতারিখ (Accessed) উল্লেখ করুন।
১০.২.১০প্রবেশতারিখ দিন–মাস–সাল ক্রমে লিখুন। যেমন: প্রবেশ ১২ জুলাই ২০২৬।
১০.২.১১একাধিক লেখকের ক্ষেত্রে মুদ্রিত গ্রন্থের নিয়ম অনুসরণ করুন। দুজন লেখকের ক্ষেত্রে ‘ও’ ব্যবহার করুন; দুইয়ের বেশি লেখকের ক্ষেত্রে ‘প্রমুখ’ ব্যবহার করুন। ইংরেজিতে যথাক্রমে ‘&’ এবং et al. লিখুন।
১০.২.১২বাংলা ও ইংরেজি ছাড়া অন্য ভাষার অনলাইন উৎসের তথ্য বাংলা লিপিতে লিখুন; তবে URL ও DOI অপরিবর্তিত থাকবে।
১০.২.১৩একই উপাদানের মুদ্রিত ও অনলাইন—উভয় সংস্করণ থাকলে আপনি যে সংস্করণ ব্যবহার করেছেন, তার উৎসনির্দেশ দিন।
১০.২.১৪PDF, EPUB বা অন্য কোনো ডাউনলোডযোগ্য সংস্করণে পৃষ্ঠাসংখ্যা থাকলে প্রয়োজনমতো পৃ. উল্লেখ করুন। পৃষ্ঠাসংখ্যা না থাকলে অনুচ্ছেদ, অধ্যায় বা বিভাগসংখ্যা উল্লেখ করা যেতে পারে।
১০.২.১৫উইকি-ধরনের সম্পাদনাযোগ্য ওয়েবসাইট ব্যবহার করলে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধের সর্বশেষ সংস্কার ও প্রবেশতারিখ উল্লেখ করা আবশ্যক।
১০.২.১৬সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট উদ্ধৃত করলে লেখক/অ্যাকাউন্টের নাম, পোস্টের প্রথম কয়েকটি শব্দ (বা পোস্টের শিরোনাম থাকলে তা), প্ল্যাটফর্মের নাম, প্রকাশতারিখ, URL এবং প্রবেশতারিখ উল্লেখ করুন।
১০.২.১৭ভিডিও, অডিও বা পডকাস্ট উদ্ধৃত করলে নির্মাতা/প্রকাশকের নাম, শিরোনাম, প্ল্যাটফর্মের নাম, প্রকাশকাল, URL এবং প্রবেশতারিখ উল্লেখ করুন। প্রয়োজন হলে সময়চিহ্ন (timestamp) টীকায় উল্লেখ করুন।
১০.২.১৮সরকারি ওয়েবসাইট, আন্তর্জাতিক সংস্থা বা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের অনলাইন নথির ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের নামই লেখক হিসেবে গণ্য হবে, যদি পৃথক লেখকের নাম উল্লেখ না থাকে।
১০.২.১৯ইউআরএল-এর শেষে ফুলস্টপ, পূর্ণচ্ছেদ বা দাঁড়ি দিলে অনেক ক্ষেত্রে তা ইউআরএল-এর অংশ হিসেবে গণ্য হয়ে হাইপারলিংককে ত্রুটিপূর্ণ করতে পারে। এই সমস্যা এড়ানোর জন্য উৎসনির্দেশে ইউআরএল-টি তৃতীয় বন্ধনীর মধ্যে দিন। ইউআরএল-এর শেষে কোনো দাঁড়ি দেওয়া হবে না; দাঁড়ি থাকলে তা তৃতীয় বন্ধনীর বাইরে বসবে।
১০.৩উদাহরণ
১০.৩.১একজন লেখকের ওয়েবপ্রবন্ধ
(১) অরুণাভ সিংহ, ‘বাংলা ভাষার বিবর্তন ও বর্তমান’, ‘আনন্দবাজার অনলাইন’, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, প্রবেশ ১৫ জুলাই ২০২৬, [https://www.anandabazar.com/]।
(২) Udayon Misra, ‘Language, Identity and the North-East’, ‘The Telegraph Online’, 18 February 2023, Accessed 15 July 2026, [https://www.telegraphindia.com/].
১০.৩.২প্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবপৃষ্ঠা
(৩) পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি, ‘প্রমিত বাংলা বানান’, ‘পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি’, ২০২৪, প্রবেশ ১৫ জুলাই ২০২৬, https://banglaacademywb.org/।
(৪) Sahitya Akademi, ‘Awards and Honours’, ‘Sahitya Akademi’, 2025, Accessed 15 July 2026, [https://sahitya-akademi.gov.in/].
১০.৩.৩অনলাইন সংবাদ
(৫) আনন্দবাজার অনলাইন, ‘কলকাতায় দেশের প্রথম “শব্দ সংগ্রহশালা” উদ্বোধন’, ‘আনন্দবাজার অনলাইন’, ২০২৬, প্রবেশ ১৫ জুলাই ২০২৬, [https://www.anandabazar.com/]।
(৬) The Hindu, ‘Preserving India's Linguistic Diversity’, ‘The Hindu’, 3 September 2024, Accessed 15 July 2026, [https://www.thehindu.com/].
১০.৩.৪গবেষণাপত্র বা গবেষণাভান্ডার
(৭) বিশ্বভারতী, ‘রবীন্দ্রভবন ডিজিটাল সংগ্রহ’, বিশ্বভারতী, প্রবেশ ১৫ জুলাই ২০২৬, [https://www.visvabharati.ac.in/]।
(৮) Indian Council of Historical Research, ‘Research Publications’, Indian Council of Historical Research, 2025, Accessed 15 July 2026, [https://ichr.ac.in/].
১০.৩.৫ডিজিটাল গ্রন্থাগার
(৯) National Digital Library of India, ‘বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচনাবলি’, ‘National Digital Library of India’, প্রবেশ ১৫ জুলাই ২০২৬, [https://ndl.iitkgp.ac.in/]।
(১০) Digital Library of India, ‘A History of Sanskrit Literature’, ‘Digital Library of India’, Accessed 15 July 2026, [https://dli.gov.in/].
১০.৩.৬সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম
(১১) সাহিত্য অকাদেমি, ‘রবীন্দ্রজয়ন্তী উপলক্ষে বিশেষ আলোচনা’, ‘ফেসবুক’, ৮ মে ২০২৫, প্রবেশ ১৫ জুলাই ২০২৬, [https://www.facebook.com/SahityaAkademiIndia/]।
(১২) Press Information Bureau, ‘National Education Policy Update’, X, 14 June 2025, Accessed 15 July 2026, [https://x.com/PIB_India].
১০.৩.৭ভিডিও
(১৩) পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি, ‘বাংলা ভাষা ও বানান: একটি আলোচনা’, ‘ইউটিউব’, ২০২৫, প্রবেশ ১৫ জুলাই ২০২৬, [https://www.youtube.com/]।
(১৪) Sahitya Akademi, ‘Literary Forum: Indian Languages’, ‘YouTube’, 2024, Accessed 15 July 2026, [https://www.youtube.com/@SahityaAkademiIndia].
১০.৩.৮লেখকবিহীন ওয়েবপৃষ্ঠা
(১৫) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ, ‘সংগ্রহশালা’, বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ, প্রবেশ ১৫ জুলাই ২০২৬, [https://bangiyasahityaparishat.org/]।
(১৬) National Archives of India, ‘Collections’, National Archives of India, Accessed 15 July 2026, [https://nationalarchives.nic.in/].
একাদশ অধ্যায়
অমুদ্রিত উপাদানের উৎসনির্দেশরীতি
১১.১উৎসনির্দেশক-ক্রম
স্রষ্টা বা প্রণেতার নাম, ‘উপাদানের শিরোনাম’ (যদি থাকে), উপাদানের ধরন, সংরক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান বা সংগ্রহশালার নাম, সংগ্রহ বা নথি নম্বর (যদি থাকে), স্থান, সাল বা তারিখ (যদি জানা থাকে)।
যদি স্রষ্টার নাম জানা না থাকে, তবে প্রতিষ্ঠান, সংগ্রহশালা বা সংগ্রহের নাম থেকেই উৎসনির্দেশ শুরু করতে হবে।
১১.২উৎসনির্দেশের সাধারণ নিয়ম
১১.২.১অমুদ্রিত উপাদানের উৎসনির্দেশ স্রষ্টা, প্রণেতা, শিল্পী, আলোকচিত্রী বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম দিয়ে শুরু হবে।
১১.২.২স্রষ্টার নাম জানা না থাকলে সংরক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান, সংগ্রহশালা, আর্কাইভ বা ব্যক্তিগত সংগ্রহের নাম প্রথমে লিখতে হবে।
১১.২.৩উপাদানের শিরোনাম থাকলে তা একক উদ্ধৃতিচিহ্নের মধ্যে লিখুন। শিরোনাম না থাকলে সংক্ষিপ্ত বর্ণনামূলক শিরোনাম দেওয়া যেতে পারে।
১১.২.৪উপাদানের প্রকৃতি অবশ্যই উল্লেখ করুন। যেমন—পুথি, পাণ্ডুলিপি, আলোকচিত্র, চিত্রকর্ম, ভাস্কর্য, মানচিত্র, আর্কাইভের নথি, ব্যক্তিগত চিঠি, সাক্ষাৎকার ইত্যাদি।
১১.২.৫উপাদানটি যে প্রতিষ্ঠান, আর্কাইভ, জাদুঘর, গ্রন্থাগার বা ব্যক্তিগত সংগ্রহে সংরক্ষিত আছে, তার নাম উল্লেখ করতে হবে।
১১.২.৬সংগ্রহসংখ্যা, নথি নম্বর, পাণ্ডুলিপি নম্বর বা নিবন্ধন নম্বর থাকলে তা উল্লেখ করা উচিত।
১১.২.৭রচনাকাল, নির্মাণকাল, আলোকচিত্র গ্রহণের তারিখ বা নথির তারিখ জানা থাকলে তা উল্লেখ করুন।
১১.২.৮তারিখ জানা না থাকলে অনুমানভিত্তিক সাল ব্যবহার করা উচিত নয়; তথ্যটি অনুল্লিখিত রাখা যেতে পারে।
১১.২.৯একটি বৃহৎ সংগ্রহের নির্দিষ্ট উপাদান উদ্ধৃত করলে সংগ্রহের নামের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ফাইল, খণ্ড, পত্র বা নথি নম্বর উল্লেখ করুন।
১১.২.১০পুথি বা পাণ্ডুলিপির ক্ষেত্রে প্রয়োজন হলে পত্রসংখ্যা (folio) বা পৃষ্ঠাসংখ্যা উল্লেখ করুন।
১১.২.১১চিত্রকর্ম, ভাস্কর্য বা আলোকচিত্রের ক্ষেত্রে মাধ্যম, নির্মাণসাল বা সংরক্ষণস্থল উল্লেখ করা যেতে পারে।
১১.২.১২ব্যক্তিগত সংগ্রহ থেকে সংগৃহীত উপাদানের ক্ষেত্রে সংগ্রহের মালিকের নাম উল্লেখ করুন।
১১.২.১৩আর্কাইভের নথির ক্ষেত্রে আর্কাইভের নাম, সংগ্রহের নাম, ফাইল নম্বর এবং তারিখ উল্লেখ করা উচিত।
১১.২.১৪একই স্রষ্টার একাধিক অমুদ্রিত উপাদান উদ্ধৃত হলে কালানুক্রম অনুসারে সাজানো উচিত।
১১.২.১৫ডিজিটাল প্রতিলিপি ব্যবহার করলেও, সম্ভব হলে মূল সংরক্ষণস্থলের তথ্য উল্লেখ করুন।
১১.২.১৬গোপনীয় বা সীমিত-প্রবেশাধিকারসম্পন্ন উপাদান উদ্ধৃত করার আগে প্রয়োজনীয় অনুমতি গ্রহণ করা উচিত।
১১.২.১৭অমুদ্রিত উপাদান পরে মুদ্রিত বা অনলাইনে প্রকাশিত হলে, প্রয়োজনে সেই প্রকাশিত সংস্করণের তথ্যও উল্লেখ করা যেতে পারে।
১১.২.১৮উৎসনির্দেশে ব্যবহৃত তথ্য মূল উপাদানের সঙ্গে হুবহু মিলিয়ে নেওয়া উচিত; অনিশ্চিত তথ্য অনুমান করে যোগ করা উচিত নয়।
১১.৩উদাহরণ
১১.৩.১পুথি
(১) ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’, পুথি, বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ, কলকাতা, পুথি নং ৪৫৮।
(২) ‘Bhagavata Purana’, Palm-leaf Manuscript, Government Oriental Manuscripts Library, Chennai, Manuscript No. D.125.
১১.৩.২পাণ্ডুলিপি
(৩) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ‘চিঠিপত্র’, পাণ্ডুলিপি, রবীন্দ্রভবন, বিশ্বভারতী, শান্তিনিকেতন।
(৪) Mahatma Gandhi, ‘Selected Correspondence’, Manuscript, National Gandhi Museum, New Delhi.
১১.৩.৩ব্যক্তিগত সংগ্রহ
(৫) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পত্র, ব্যক্তিগত সংগ্রহ, সৌমেন বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা।
(৬) Personal Papers of Verrier Elwin, Private Collection, New Delhi.
১১.৩.৪চিত্রকর্ম
(৭) নন্দলাল বসু, ‘সতী’, জলরং, কলাভবন সংগ্রহশালা, বিশ্বভারতী।
(৮) Raja Ravi Varma, ‘Shakuntala’, Oil on Canvas, National Gallery of Modern Art, New Delhi.
১১.৩.৫ভাস্কর্য
(৯) রামকিঙ্কর বেইজ, ‘সাঁওতাল পরিবার’, ভাস্কর্য, বিশ্বভারতী, শান্তিনিকেতন।
(১০) Ram Sutar, ‘Statue of Mahatma Gandhi’, Sculpture, Parliament House Complex, New Delhi.
১১.৩.৬আলোকচিত্র
(১১) সুনীল জানা, ‘দুর্ভিক্ষ, ১৯৪৩’, আলোকচিত্র, দিল্লি।
(১২) Raghu Rai, ‘Mother Teresa’, Photograph, New Delhi.
১১.৩.৭আর্কাইভের নথি
(১৩) পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য মহাফেজখানা, শিক্ষা বিভাগ, ফাইল নং ৪৫/১৯২১, কলকাতা।
(১৪) National Archives of India, Home Department Records, File No. 18/1932, New Delhi.
১১.৩.৮ব্যক্তিগত চিঠি ও সাক্ষাৎকার
(১৫) বিনয় মজুমদার, কবির সঙ্গে সাক্ষাৎকার, কলকাতা, ১৫ মার্চ ১৯৯০।
(১৬) অন্নদাশঙ্কর রায়, লেখকের নিকট পত্র, ১২ জুলাই ১৯৮১।
(১৭) Romila Thapar, Interview with the author, New Delhi, 12 January 2024.
(১৮) Amartya Sen, Letter to the author, 5 June 2019.
দ্বাদশ অধ্যায়
অন্যান্য উপাদানের উৎসনির্দেশরীতি
১২.১মানচিত্র
১২.১.১মানচিত্র গবেষণা, ইতিহাস, ভূগোল, প্রত্নতত্ত্ব ও সমাজবিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিষয়ের উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
১২.১.২প্রণেতা বা প্রতিষ্ঠানের নাম দিয়ে উৎসনির্দেশ শুরু করুন।
১২.১.৩মানচিত্রের শিরোনাম একক উদ্ধৃতিচিহ্নের মধ্যে লিখুন।
১২.১.৪প্রয়োজন হলে মানচিত্রের সংস্করণ, স্কেল ও প্রকাশসাল উল্লেখ করুন।
১২.১.৫প্রকাশক বা সংস্থার নাম উল্লেখ করুন।
১২.১.৬উদাহরণ
(১) Survey of India, ‘Political Map of India’, Survey of India, ২০২৪।
(২) পশ্চিমবঙ্গ ভূমি ও ভূমিসংস্কার দপ্তর, ‘পশ্চিমবঙ্গের জেলা মানচিত্র’, ২০২৩।
১২.২আইন, বিধি ও সরকারি গেজেট
১২.২.১আইন, বিধি, অধ্যাদেশ, প্রজ্ঞাপন ও সরকারি গেজেট সরকারি তথ্যের প্রামাণ্য উৎস।
১২.২.২আইন বা বিধির সরকারি নাম লিখুন।
১২.২.৩আইন প্রণয়নের সাল উল্লেখ করুন।
১২.২.৪প্রয়োজনে ধারা, উপধারা বা বিধি নম্বর উল্লেখ করুন।
১২.২.৫সরকারি গেজেট হলে প্রকাশের তারিখ উল্লেখ করুন।
১২.২.৬উদাহরণ
(১) তথ্যের অধিকার আইন, ২০০৫, ধারা ৬।
(২) The Digital Personal Data Protection Act, 2023, Section 8.
১২.৩আদালতের রায়
১২.৩.১বিচারকের সিদ্ধান্ত উদ্ধৃত করার ক্ষেত্রে মামলার সরকারি নাম ব্যবহার করতে হবে।
১২.৩.২মামলার নাম লিখুন, আদালতের নাম উল্লেখ করুন, রায়ের সাল উল্লেখ করুন।
১২.৩.৩প্রয়োজন হলে মামলা নম্বর বা উদ্ধৃতি (citation) যোগ করুন।
উদাহরণ
(১) ‘কেশবানন্দ ভারতী বনাম কেরল রাজ্য’, ভারতের সর্বোচ্চ আদালত, ১৯৭৩। (২) ‘Maneka Gandhi v. Union of India’, Supreme Court of India, 1978.
১২.৪মানদণ্ড (Standard)
১২.৪.১জাতীয় বা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড গবেষণা ও প্রযুক্তিগত লেখায় প্রায়ই উদ্ধৃত হয়।
১২.৪.২মানদণ্ড প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠানের নাম লিখুন, মানদণ্ডের নম্বর উল্লেখ করুন, শিরোনাম ও প্রকাশসাল লিখুন।
উদাহরণ
(১) Bureau of Indian Standards, IS 16093:2021, ‘Information and Documentation—Bibliographic References’। (২) International Organization for Standardization, ISO 690:2021, ‘Guidelines for Bibliographic References’।
১২.৫প্রদর্শনী
১২.৫.১জাদুঘর বা শিল্পপ্রদর্শনী থেকে সংগৃহীত তথ্য উদ্ধৃত করার ক্ষেত্রেও উৎসনির্দেশ প্রয়োজন।
১২.৫.২শিল্পকর্ম বা প্রদর্শনীর নাম লিখুন, শিল্পীর নাম (যদি জানা থাকে) উল্লেখ করুন, প্রদর্শনীর স্থান ও প্রতিষ্ঠান উল্লেখ করুন এবং প্রদর্শনের সাল লিখুন।
১২.৫.৩উদাহরণ
(১) ‘বাংলার লোকশিল্প’, ভারতীয় জাদুঘর, কলকাতা, ২০২৪।
(২) ‘Modern Indian Art’, National Gallery of Modern Art, New Delhi, 2023.
১২.৬বস্তু বা নিদর্শন (Artefact)
১২.৬.১জাদুঘর, প্রত্নস্থল বা ব্যক্তিগত সংগ্রহে সংরক্ষিত নিদর্শনও গবেষণার উৎস হতে পারে।
১২.৬.২নিদর্শনের নাম লিখুন, সংগ্রহশালা বা সংরক্ষণস্থলের নাম উল্লেখ করুন, সংগ্রহ নম্বর থাকলে তা উল্লেখ করুন।
১২.৬.৩উদাহরণ
(১) ‘মহাস্থান ব্রাহ্মী শিলালিপি’, ভারতীয় জাদুঘর, কলকাতা।
(২) ‘Harappan Seal’, National Museum, New Delhi.
১২.৭শব্দ বা দৃশ্যরেকর্ড
১২.৭.১অডিও রেকর্ডিং, গ্রামোফোন রেকর্ড বা তথ্যচিত্রের মূল রেকর্ডিং কখনও কখনও গবেষণার উৎস হয়।
১২.৭.২নির্মাতা বা শিল্পীর নাম লিখুন, রেকর্ডিংয়ের শিরোনাম, মাধ্যম (অডিও/ভিডিও) উল্লেখ করুন এবং প্রকাশক বা সংরক্ষণকারী প্রতিষ্ঠানের নাম লিখুন।
১২.৭.৩উদাহরণ
(১) পঙ্কজ কুমার মল্লিক, ‘রবীন্দ্রসংগীত’, অডিও রেকর্ডিং, আকাশবাণী।
(২) Satyajit Ray, ‘Rabindranath Tagore’, Documentary Film, Films Division of India, 1961.
১২.৮চলচ্চিত্র, ওয়েব সিরিজ ও নাটক
১২.৮.১উৎসনির্দেশ পরিচালক বা প্রধান স্রষ্টার নাম দিয়ে শুরু করুন।
১২.৮.২চলচ্চিত্র, ওয়েব সিরিজ বা নাটকের নাম একক উদ্ধৃতিচিহ্নের মধ্যে লিখুন।
১২.৮.৩উপাদানের ধরন (চলচ্চিত্র, ওয়েব সিরিজ, টেলিভিশন নাটক বা মঞ্চনাটক) উল্লেখ করুন।
১২.৮.৪প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান বা পরিবেশকের নাম উল্লেখ করুন।
১২.৮.৫মুক্তি বা প্রথম মঞ্চায়নের সাল উল্লেখ করুন।
১২.৮.৬ওয়েব সিরিজের ক্ষেত্রে প্রয়োজনে মরশুম (Season), পর্ব (Episode) এবং স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের নাম উল্লেখ করুন।
১২.৮.৭নাটকের ক্ষেত্রে নির্দেশক, নাট্যদল, মঞ্চায়নের স্থান ও তারিখ উল্লেখ করা যেতে পারে।
১২.৮.৮অনলাইন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে দেখা হলে প্রয়োজনে প্ল্যাটফর্মের নাম ও প্রবেশতারিখ উল্লেখ করুন।
১২.৮.৯উদাহরণ (চলচ্চিত্র)
(১) সত্যজিৎ রায়, ‘পথের পাঁচালী’, চলচ্চিত্র, পশ্চিমবঙ্গ সরকার, ১৯৫৫।
(২) Christopher Nolan, ‘Oppenheimer’, Motion Picture, Universal Pictures, 2023.
১২.৮.১০উদাহরণ (ওয়েব সিরিজ)
(৩) ঋত্বিক চক্রবর্তী, ‘শ্রীকান্ত’, ওয়েব সিরিজ, মরশুম ১, হইচই, ২০২২।
(৪) The Duffer Brothers, ‘Stranger Things’, Season 4, Web Series, Netflix, 2022.
১২.৮.১১উদাহরণ (টেলিভিশন নাটক)
(৫) রাজা সেন, ‘গল্প হলেও সত্যি’, টেলিভিশন নাটক, দূরদর্শন, ১৯৯৮।
(৬) David Lynch, ‘Twin Peaks’, Television Series, ABC, 1990.
১২.৮.১২উদাহরণ (মঞ্চনাটক)
(৭) বিভাস চক্রবর্তী (নির্দেশক), ‘রক্তকরবী’, মঞ্চনাটক, বহুরূপী, কলকাতা, ২০২৩।
(৮) Peter Brook (Director), ‘The Mahabharata’, Stage Production, Théâtre des Bouffes du Nord, Paris, 1985.